রাকসুর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি ছাত্রদলের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৫১
রাকসু তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
রাকসু তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির নেতারা রাকসুর আর্থিক কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে প্যারিস রোড প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয় মিছিল। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনা সামনে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাকসু তহবিল থেকে ৪২টি কর্মসূচির জন্য ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।

তবে রাকসু নেতারা অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেছেন, তথ্যটি অসম্পূর্ণ এবং উত্তোলন করা অর্থের সঙ্গে প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব এক নয়।

ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তির স্বার্থে নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার, অর্থ ও স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন করছি। রাকসুর বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।’

রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, প্রত্যেক ছাত্রসংসদের শেষ দিকে এসে তাদের ব্যর্থ ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়। আমরা জানতাম, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে এমন প্রচেষ্টা আসবে। এজন্য আমাদের সব হিসাব প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাকসু ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা তুলেছে এ তথ্য সঠিক নয়। প্রতিটি টাকা উত্তোলনে রাকসু সভাপতি, কোষাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কয়েক ধাপে স্বাক্ষর নিতে হয়। ছাত্রসংসদের মেয়াদ শেষে সরকারি অডিট হবে এবং সেই রিপোর্ট শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করা হবে।

অডিটে এখতিয়ারবহির্ভূত কোনো ব্যয় প্রমাণিত হলে তা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জাহিদ বলেন, রাকসু প্রতিনিধিদের নামে এক টাকাও ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে এটা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল অভিযোগ করেন, রাকসুর নির্বাচিত নেতারা ৬২ লাখ টাকার হিসাব দিতে পারেননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে তারা কী করেছে? দুইটা কাওয়ালি, কুইজ, ডিবেট আর জুলাই প্রদর্শনীতে কোটি টাকা শেষ?

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

রাকসুর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি ছাত্রদলের