একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, থাকছে ৭% কোটা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ১৮
এসএসসির ফল প্রকাশের পর উল্লসিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: বাসস
এসএসসির ফল প্রকাশের পর উল্লসিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: বাসস

কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে। অনলাইনে এই আবেদন করা যাবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করে বলেছে, কলেজগুলোর মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বাকি ৭ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটায় সংরক্ষিত থাকবে।

এবার একাদশে ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে ভর্তি করা হবে।

আবেদনের দিন-তারিখ

নীতিমালা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নে পূর্বে প্রকাশিত ফলাফল পরিবর্তন হলে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আবেদন করা যাবে। একই সময়ে পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকবে।

একাদশে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। নির্বাচিতদের ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে।

৯৩ শতাংশ আসন মেধায়, ৭ শতাংশ কোটা

নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। ভর্তির সময় মূল কপিও দেখাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই করে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট আসন খালি রাখা যাবে না। মেধাতালিকা থেকে ওই আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটায় আবেদন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দপ্তরপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত কোটার আসনের চেয়ে বেশি হলে সংশ্লিষ্ট কোটার প্রার্থীদের মধ্যেই মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

জিপিএ সমান হলে যেভাবে হবে ভর্তির মেধাক্রম

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করা হবে। বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বরও একইভাবে সমতুল্য করে বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগে সমান মোট নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে প্রথমে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও জটিলতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান মোট নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

এক বিভাগের শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ সমান হলে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। এরপরও জটিলতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত