কাজী নিশাত তাবাসসুম

‘পদাতিক পদধূলি ঢাকিল আকাশ
দিনে অন্ধকার, নাহি রবির প্রকাশ।’
জৈনুদ্দীনের ‘রসুল বিজয়’ গ্রন্থে যুদ্ধের এমন তীব্র ও জীবন্ত বর্ণনা রয়েছে। যে বাংলা কাব্য একসময় প্রধানত স্থানীয় লোককথা, পুরাণ ও ধর্মীয় আখ্যানকে ঘিরে আবর্তিত হতো, সেই কাব্যেই একসময় আরব-ফারসি উৎসের কাহিনি, ইসলামি ইতিহাস ও নবীজির জীবনকেন্দ্রিক আখ্যান জায়গা করে নেয়। কীভাবে সেই পরিবর্তন ঘটল, আর কোন পথ ধরে বাংলা ভাষায় এসে পৌঁছাল ‘রসুল বিজয়’?
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে কবিতার বিষয়বস্তু বদলাতে শুরু করেছিল নানা সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। স্থানীয় লোককথা, পুরাণ ও ধর্মীয় আখ্যানের পাশাপাশি বাংলা কাব্যে জায়গা করে নেয় আরব-ফারসি উৎসের কাহিনি। মুসলিম শাসনের বিস্তার, সুফি-সাধকদের প্রভাব এবং রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষায় গড়ে ওঠে নতুন এক সাহিত্যধারা। সেই ধারার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর একটি ‘রসুল বিজয়’।
‘রসুল বিজয়’ নামটি মূলত কবি জৈনুদ্দীনের সঙ্গে যুক্ত। জৈনুদ্দীনের পর শা বারিদ খান, শেখ চাঁদ ও অন্যান্য কবিও একই নামে গ্রন্থ লিখেছেন। জৈনুদ্দীন গৌড়ের সুলতান ইউসুফ শাহের (১৪৭৪–১৪৮১) সভাকবি ছিলেন বলে বিভিন্ন সাহিত্য-ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়। কাব্যে কবির ভণিতায় সুলতানের নামের উল্লেখও রয়েছে। শাহ বারিদ খানের ‘রসুল বিজয়’ ষোড়শ শতকের আরবি-ফারসি উৎসনির্ভর কাব্য। তবে বাংলা সাহিত্যে ‘রসুল বিজয়’ মুহম্মদ সগিরউদ্দীন মিয়ার গ্রন্থে বলা হয়েছে, জৈনুদ্দীন ও শা বারিদ খান উভয়েরই ‘রসুল বিজয়’ কাব্যের বিষয়বস্তু প্রায় একই হলেও সমালোচকদের মতে পাণ্ডিত্য ও কাব্যকলায় শা বারিদ খান জৈনুদ্দীন খানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
তবে রসুল বিজয়কে বুঝতে হলে তারও আগে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম কবিদের প্রবেশের পথটি বুঝতে হয়। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতকে বাংলা ছিল রাজনৈতিকভাবে মুসলিম সুলতানদের অধীনে এবং একই সময়ে ফারসি ছিল প্রশাসন ও রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। আরবি ছিল ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার ভাষা। ফলে আরবি-ফারসি ধর্মীয় ও সাহিত্যিক উপাদান বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে থাকে। সেই উপাদান যখন বাংলা ভাষায় রূপ পেতে শুরু করে, তখনই তৈরি হয় নতুন সাহিত্যভুবন।
এই পরিবর্তনের অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁর ‘ইউসুফ-জুলেখা’কে বাংলা ভাষায় মুসলিম কবির রচিত প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধারণা করা হয়, এটি সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের আমলে, অর্থাৎ ১৩৮৯ থেকে ১৪১০ সালের মধ্যে রচিত।
শাহ মুহম্মদ সগীরের হাত ধরে বাংলা কবিতায় শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, আরবি-ফারসি কাহিনি ও প্রেমকেন্দ্রিক আখ্যানও জনপ্রিয় হতে থাকে। তাঁর পরবর্তী কবিরা এই পথ আরও বিস্তৃত করেন। ‘রসুল বিজয়’ সেই ধারারই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। অর্থাৎ, এটি হঠাৎ করে বাংলা কাব্যে আবির্ভূত হয়নি, বরং বাংলা ভাষায় মুসলিম কবিদের সাহিত্যচর্চা বিস্তৃত হওয়ার ধারাবাহিক ফল।
‘রসুল বিজয়ের’ কাহিনি পুরোপুরি মৌলিক নয় বলে গবেষণায় উল্লেখ পাওয়া যায়। একটি ফারসি গ্রন্থের কাহিনি অবলম্বনে জৈনুদ্দীন তা বাংলায় নতুন রূপ দেন। কাব্যের মূল বিষয় মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর ইসলাম প্রচার ও বিজয়ের কাহিনি।
এখানেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে। তখন অনুবাদ মানেই শব্দে ভাষান্তর ছিল না। আরবি বা ফারসি উৎসের গল্পকে কবিরা বাংলার পাঠক-শ্রোতার উপযোগী করে নতুনভাবে পরিবেশন করতেন। স্থানীয় ছন্দ, কাব্যিক অলংকার, পরিচিত শব্দ ও বর্ণনাভঙ্গির সঙ্গে বিদেশি কাহিনিকে মিলিয়ে দেওয়া হতো। ফলে উৎস আরব বা ফারসি হলেও, তার সাহিত্যিক শরীর হয়ে উঠত বাংলা।
‘রসুল বিজয়ের’ ভাষাতেও এই সাংস্কৃতিক মিশ্রণের ছাপ দেখা যায়। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জৈনুদ্দীনের কাব্যে আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা ছিল। যেমন সংস্কৃতঘেঁষা শব্দের পরিবর্তে ‘তাজ’, ‘সওয়ার’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। মধ্যযুগের মুসলিম কবিদের লেখায় এ ধরনের শব্দচয়নই পরবর্তী সময়ে দোভাষী বা মিশ্র ভাষার সাহিত্যধারাকে শক্তিশালী করে তোলে।
কেবল ধর্মীয় বিষয়বস্তুর কারণেই যে ‘রসুল বিজয়ের’ গুরুত্ব তা নয়। বাংলা কাব্যের বিষয় ও আঙ্গিক বিস্তারের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে। মধ্যযুগে মুসলিম কবিরা আরবি-ফারসি উৎস থেকে যুদ্ধ, বীরত্ব, প্রেম, ধর্মীয় আখ্যান ও নৈতিকতার গল্প নিয়ে এসে বাংলা কাব্যের পরিসর বড় করে তুলেছিলেন। সাহিত্য গবেষণায় এই সময়ের মুসলিম কবিদের অবদানকে বাংলা সাহিত্যে আখ্যান ও রোমান্টিক কাব্যের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
‘রসুল বিজয়’ কোনো একক কাব্যের নাম হিসেবে থেমে থাকেনি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি এক ধরনের সাহিত্যিক ধারার নামেও পরিণত হয়। মহানবীর (সা.) জীবন, বিজয়, ধর্মপ্রচার ও মহিমাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কবিরাও একই নাম বা কাছাকাছি বিষয় নিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। চতুর্দশ থেকে ঊনবিংশ শতক পর্যন্ত বাংলায় রাসুলের জীবন ও চরিত্রকেন্দ্রিক বহু কাব্য রচিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
‘রসুল বিজয়’ আবির্ভাব কেবল একটি ধর্মীয় কাব্যের জন্ম নয়। এটি বাংলা ভাষার গ্রহণক্ষমতারও একটি দৃষ্টান্ত। যে ভাষায় তখন স্থানীয় লোকজ ও পুরাণভিত্তিক কাহিনি রচিত হচ্ছিল, সেই ভাষাই আরবি-ফারসি ভাবনা, ইসলামি ইতিহাস ও নবীজির জীবনকেন্দ্রিক আখ্যান প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাহিত্য পত্রিকায়’ প্রকাশিত আহমদ শরীফের গবেষণায় জৈনুদ্দীনের ‘রসুল বিজয়ের’ একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তবে সেটিও খণ্ডিত। তবু যে অংশটুকু পাওয়া গেছে, তা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও মুসলিম কবিদের সাহিত্যচর্চার ইতিহাস বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে ‘রসুল বিজয়’ কোন আকস্মিক ঘটনার ফল নয়। মুসলিম শাসন, আরবি-ফারসি সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ, রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতা, সুফি প্রভাব এবং শাহ মুহম্মদ সগীরের মতো কবিদের তৈরি করে দেওয়া সাহিত্যিক পথ সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছিল এর পটভূমি। ফারসি কাহিনির উপাদান যখন বাংলার ছন্দ, শব্দ ও কাব্যভাষায় নতুন জীবন পেল, তখনই জন্ম নিল ‘রসুল বিজয়’।
‘রসুল বিজয় বাণী সুধারস ধার
শুনি গুণিগণ মন আনন্দ অপার।’
বাংলা কাব্যে রসুল বিজয় প্রশস্তি এবং বহুস্বরিক হয়ে উঠল যেখানে স্থানীয় ঐতিহ্যের পাশে আরব, ফারসি ও ইসলামী জগতের কাহিনিও নিজের জায়গা করে নিল।

‘পদাতিক পদধূলি ঢাকিল আকাশ
দিনে অন্ধকার, নাহি রবির প্রকাশ।’
জৈনুদ্দীনের ‘রসুল বিজয়’ গ্রন্থে যুদ্ধের এমন তীব্র ও জীবন্ত বর্ণনা রয়েছে। যে বাংলা কাব্য একসময় প্রধানত স্থানীয় লোককথা, পুরাণ ও ধর্মীয় আখ্যানকে ঘিরে আবর্তিত হতো, সেই কাব্যেই একসময় আরব-ফারসি উৎসের কাহিনি, ইসলামি ইতিহাস ও নবীজির জীবনকেন্দ্রিক আখ্যান জায়গা করে নেয়। কীভাবে সেই পরিবর্তন ঘটল, আর কোন পথ ধরে বাংলা ভাষায় এসে পৌঁছাল ‘রসুল বিজয়’?
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে কবিতার বিষয়বস্তু বদলাতে শুরু করেছিল নানা সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। স্থানীয় লোককথা, পুরাণ ও ধর্মীয় আখ্যানের পাশাপাশি বাংলা কাব্যে জায়গা করে নেয় আরব-ফারসি উৎসের কাহিনি। মুসলিম শাসনের বিস্তার, সুফি-সাধকদের প্রভাব এবং রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষায় গড়ে ওঠে নতুন এক সাহিত্যধারা। সেই ধারার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর একটি ‘রসুল বিজয়’।
‘রসুল বিজয়’ নামটি মূলত কবি জৈনুদ্দীনের সঙ্গে যুক্ত। জৈনুদ্দীনের পর শা বারিদ খান, শেখ চাঁদ ও অন্যান্য কবিও একই নামে গ্রন্থ লিখেছেন। জৈনুদ্দীন গৌড়ের সুলতান ইউসুফ শাহের (১৪৭৪–১৪৮১) সভাকবি ছিলেন বলে বিভিন্ন সাহিত্য-ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়। কাব্যে কবির ভণিতায় সুলতানের নামের উল্লেখও রয়েছে। শাহ বারিদ খানের ‘রসুল বিজয়’ ষোড়শ শতকের আরবি-ফারসি উৎসনির্ভর কাব্য। তবে বাংলা সাহিত্যে ‘রসুল বিজয়’ মুহম্মদ সগিরউদ্দীন মিয়ার গ্রন্থে বলা হয়েছে, জৈনুদ্দীন ও শা বারিদ খান উভয়েরই ‘রসুল বিজয়’ কাব্যের বিষয়বস্তু প্রায় একই হলেও সমালোচকদের মতে পাণ্ডিত্য ও কাব্যকলায় শা বারিদ খান জৈনুদ্দীন খানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
তবে রসুল বিজয়কে বুঝতে হলে তারও আগে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম কবিদের প্রবেশের পথটি বুঝতে হয়। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতকে বাংলা ছিল রাজনৈতিকভাবে মুসলিম সুলতানদের অধীনে এবং একই সময়ে ফারসি ছিল প্রশাসন ও রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। আরবি ছিল ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার ভাষা। ফলে আরবি-ফারসি ধর্মীয় ও সাহিত্যিক উপাদান বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে থাকে। সেই উপাদান যখন বাংলা ভাষায় রূপ পেতে শুরু করে, তখনই তৈরি হয় নতুন সাহিত্যভুবন।
এই পরিবর্তনের অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁর ‘ইউসুফ-জুলেখা’কে বাংলা ভাষায় মুসলিম কবির রচিত প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধারণা করা হয়, এটি সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের আমলে, অর্থাৎ ১৩৮৯ থেকে ১৪১০ সালের মধ্যে রচিত।
শাহ মুহম্মদ সগীরের হাত ধরে বাংলা কবিতায় শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, আরবি-ফারসি কাহিনি ও প্রেমকেন্দ্রিক আখ্যানও জনপ্রিয় হতে থাকে। তাঁর পরবর্তী কবিরা এই পথ আরও বিস্তৃত করেন। ‘রসুল বিজয়’ সেই ধারারই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। অর্থাৎ, এটি হঠাৎ করে বাংলা কাব্যে আবির্ভূত হয়নি, বরং বাংলা ভাষায় মুসলিম কবিদের সাহিত্যচর্চা বিস্তৃত হওয়ার ধারাবাহিক ফল।
‘রসুল বিজয়ের’ কাহিনি পুরোপুরি মৌলিক নয় বলে গবেষণায় উল্লেখ পাওয়া যায়। একটি ফারসি গ্রন্থের কাহিনি অবলম্বনে জৈনুদ্দীন তা বাংলায় নতুন রূপ দেন। কাব্যের মূল বিষয় মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর ইসলাম প্রচার ও বিজয়ের কাহিনি।
এখানেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে। তখন অনুবাদ মানেই শব্দে ভাষান্তর ছিল না। আরবি বা ফারসি উৎসের গল্পকে কবিরা বাংলার পাঠক-শ্রোতার উপযোগী করে নতুনভাবে পরিবেশন করতেন। স্থানীয় ছন্দ, কাব্যিক অলংকার, পরিচিত শব্দ ও বর্ণনাভঙ্গির সঙ্গে বিদেশি কাহিনিকে মিলিয়ে দেওয়া হতো। ফলে উৎস আরব বা ফারসি হলেও, তার সাহিত্যিক শরীর হয়ে উঠত বাংলা।
‘রসুল বিজয়ের’ ভাষাতেও এই সাংস্কৃতিক মিশ্রণের ছাপ দেখা যায়। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জৈনুদ্দীনের কাব্যে আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা ছিল। যেমন সংস্কৃতঘেঁষা শব্দের পরিবর্তে ‘তাজ’, ‘সওয়ার’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। মধ্যযুগের মুসলিম কবিদের লেখায় এ ধরনের শব্দচয়নই পরবর্তী সময়ে দোভাষী বা মিশ্র ভাষার সাহিত্যধারাকে শক্তিশালী করে তোলে।
কেবল ধর্মীয় বিষয়বস্তুর কারণেই যে ‘রসুল বিজয়ের’ গুরুত্ব তা নয়। বাংলা কাব্যের বিষয় ও আঙ্গিক বিস্তারের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে। মধ্যযুগে মুসলিম কবিরা আরবি-ফারসি উৎস থেকে যুদ্ধ, বীরত্ব, প্রেম, ধর্মীয় আখ্যান ও নৈতিকতার গল্প নিয়ে এসে বাংলা কাব্যের পরিসর বড় করে তুলেছিলেন। সাহিত্য গবেষণায় এই সময়ের মুসলিম কবিদের অবদানকে বাংলা সাহিত্যে আখ্যান ও রোমান্টিক কাব্যের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
‘রসুল বিজয়’ কোনো একক কাব্যের নাম হিসেবে থেমে থাকেনি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি এক ধরনের সাহিত্যিক ধারার নামেও পরিণত হয়। মহানবীর (সা.) জীবন, বিজয়, ধর্মপ্রচার ও মহিমাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কবিরাও একই নাম বা কাছাকাছি বিষয় নিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। চতুর্দশ থেকে ঊনবিংশ শতক পর্যন্ত বাংলায় রাসুলের জীবন ও চরিত্রকেন্দ্রিক বহু কাব্য রচিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
‘রসুল বিজয়’ আবির্ভাব কেবল একটি ধর্মীয় কাব্যের জন্ম নয়। এটি বাংলা ভাষার গ্রহণক্ষমতারও একটি দৃষ্টান্ত। যে ভাষায় তখন স্থানীয় লোকজ ও পুরাণভিত্তিক কাহিনি রচিত হচ্ছিল, সেই ভাষাই আরবি-ফারসি ভাবনা, ইসলামি ইতিহাস ও নবীজির জীবনকেন্দ্রিক আখ্যান প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাহিত্য পত্রিকায়’ প্রকাশিত আহমদ শরীফের গবেষণায় জৈনুদ্দীনের ‘রসুল বিজয়ের’ একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তবে সেটিও খণ্ডিত। তবু যে অংশটুকু পাওয়া গেছে, তা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও মুসলিম কবিদের সাহিত্যচর্চার ইতিহাস বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে ‘রসুল বিজয়’ কোন আকস্মিক ঘটনার ফল নয়। মুসলিম শাসন, আরবি-ফারসি সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ, রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতা, সুফি প্রভাব এবং শাহ মুহম্মদ সগীরের মতো কবিদের তৈরি করে দেওয়া সাহিত্যিক পথ সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছিল এর পটভূমি। ফারসি কাহিনির উপাদান যখন বাংলার ছন্দ, শব্দ ও কাব্যভাষায় নতুন জীবন পেল, তখনই জন্ম নিল ‘রসুল বিজয়’।
‘রসুল বিজয় বাণী সুধারস ধার
শুনি গুণিগণ মন আনন্দ অপার।’
বাংলা কাব্যে রসুল বিজয় প্রশস্তি এবং বহুস্বরিক হয়ে উঠল যেখানে স্থানীয় ঐতিহ্যের পাশে আরব, ফারসি ও ইসলামী জগতের কাহিনিও নিজের জায়গা করে নিল।
.png)

রবিউল আউয়াল বিশ্বের মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় আয়োজন, বিশাল শোভাযাত্রা, পরিবারের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া ও দরিদ্রদের সহায়তার মধ্য দিয়ে মুসলিমরা এই দিন পালন করে। কোনো দেশে আবার সরকারি পর্যায়েও থাকে বড় আ
২ ঘণ্টা আগে
সংগীতই ছিল অতুলপ্রসাদের প্রাণের আরাম। নিজের রচিত গানে নিজেই সুর যোজনা করতেন। বাংলার বাউল ও কীর্তনের সুরের সঙ্গে হিন্দুস্থানি সংগীতের সুর ও ঢং মিশিয়ে তিনি নিজস্ব সংগীতরীতির প্রবর্তন করেছিলেন। অতুলপ্রসাদী সংগীতরীতি তাই এত সুপরিচিত।
২ ঘণ্টা আগে
তখন ইউটিউব ছিল না। স্পটিফাই ছিল না। অন্য কোনো ওয়েব প্লেয়ার ছিল না। এমনকি গান শোনার জন্য হাতের মুঠোয় কোনো মোবাইলও ছিল না। ছিল ছোট্ট একটা ক্যাসেট প্লেয়ার। কালো রঙের ক্যাসেটের ভেতর পেঁচিয়ে থাকা সরু ফিতায় বন্দি থাকত আমাদের শৈশবের কত গান, কত গল্প, কত আবেগ। প্রেমের গান ছিল, বিরহের গান ছিল, ছিল জীবনের
৩ ঘণ্টা আগে
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর’। আজ প্রকাশিত হলো এর ষষ্ঠ পর্ব। চোখ রাখুন প্রতি রোব ছোটবেলায় আমি ভিউকার্ড সংগ্রহ করতাম। বেশির ভাগ ভিউকার্ডে থাকত নায়ক-নায়িকার ছবি
২৩ আগস্ট ২০২৬