বিশ্ব ধরিত্রী দিবস আজ
মাইদুল ইসলাম

হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নদী কমিশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। নেওয়া হচ্ছে একের পর এক সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প। তারপরও বুড়িগঙ্গাসহ দেশের নদীগুলো বাঁচানো যাচ্ছে না; পরিবেশ ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার নামে দেশে যা চলছে, তাকে চরম ‘হিপোক্রেটিক বিহেভিয়ার’ (ভণ্ডামি) বলে আখ্যায়িত করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু।
আজ ২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে স্ট্রিম-এর সঙ্গে আলাপকালে দেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, নদী দখল, বৃক্ষরোপণ ও বৈশ্বিক সংকট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এই পরিবেশ বিশেষজ্ঞ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, যেখানে জলজ প্রাণি বাঁচার জন্য ন্যূনতম ৫ মিলিগ্রাম/লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো রক্ষায় কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দূষণের মাত্রা কমেনি, উল্টো বেড়েছে।
এসব প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বুড়িগঙ্গার দূষণের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ‘বুড়িগঙ্গার পানি কালো। এর অর্থ হলো আমাদের শিক্ষা, গবেষণা, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে উপাচার্য, বিচারপতি, সেনাপতি—সবার মন কালো। আমরা সবাই চরম হিপোক্রেটিক (ভণ্ডামিপূর্ণ) আচরণ করছি। নদী রক্ষায় এত টাকা ঢালা হলো, জনবল দেওয়া হলো, এত সব আয়োজনের পরও যেহেতু নদীর পানি কালো, তার মানে এ দেশের সামগ্রিক প্রক্রিয়া কালো। এ দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কালো।’
দেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনার অতীত টানতে গিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন পরিবেশ নিয়ে কেবল আলোচনা বা সিভিল সোসাইটিতে কথাবার্তা শুরু হচ্ছে, ঠিক সে সময়ে ১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ (পলিউশন কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স-১৯৭৭) জারি করেন। যার আওতাতেই আজকের পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) গড়ে উঠেছে।’
অধ্যাপক রুনু বলেন, ‘তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধানের এই দূরদর্শী চিন্তা ছিল যে, আমরা কৃষিপ্রধান দেশ থেকে শিল্পায়নের দিকে যাব। কৃষিতে অধিক উৎপাদনের জন্য সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হবে, যার ফলে পরিবেশের কিছু ক্ষতি হবে। এই ক্ষতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে জন্যই তিনি ওই অধ্যাদেশ করেছিলেন।’
এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদনে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে জিয়াউর রহমানের খাল খনন এবং ভূপৃষ্ঠের পানি (সারফেস ওয়াটার) ব্যবহারের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি।
অতীতের সেই খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনেই অধ্যাপক রুনু সাম্প্রতিক সময়ের নদী ও খাল খনন প্রকল্পগুলো অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে বলে সমালোচনা করেন। নদীতে পানি না থাকার মূল কারণ হিসেবে উজানের দেশ ভারতের বাঁধ নির্মাণকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘নদীতে পানি না থাকলে খাল খনন করে কী লাভ? আমাদের প্রাকৃতিক নদীগুলোতে আজ পানি নেই। কেন নেই? আন্তর্জাতিক সীমানার বাইরে, উজানে ভারতে বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণের ফলে আমাদের নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। নদীতে এর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলায় আগে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। চুক্তি করে নদীতে পানি আনার ব্যবস্থা করতে হবে।’
সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া যত্রতত্র খাল খননের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘পুনর্খনন বা নতুন খাল খননের আগে অবশ্যই ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করতে হবে। এর মাধ্যমে দেখতে হবে প্রকল্পটি পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজের জন্য আদৌ লাভজনক কি না। এটি না করে শুধু খননকাজ চালালে হয়তো একটি দিকে সাময়িক লাভ হবে, কিন্তু অন্য দশটি জায়গায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।’
বিশ্বব্যাপী আধুনিকতা ও সম্পদের প্রতিযোগিতায় মানবসভ্যতা আজ হুমকির মুখে। সুইডেনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বিশ্বে সামরিক ব্যয় রেকর্ড ২ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এখনই গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন না কমালে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানবসভ্যতার জন্য ধ্বংসাত্মক হবে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক রুনু বলেন, ‘মানুষ আজ সম্পদ সংগ্রহের এক অন্ধ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। যেসব দেশের হাতে পারমাণবিক বোমা রয়েছে, তারা যদি ভুলক্রমেও এর ১ থেকে ২ শতাংশের বিস্ফোরণ ঘটায় বা ব্যবহার করে, তাতেই এই পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।’
গাছ লাগানো নিয়ে বনবিভাগের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সঠিক গাছ নির্বাচন করা হয়নি। এই অধ্যাপক বলেন, ‘একসময় বনদস্যুরা পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড় করে ফেলার পর, বন বিভাগ সেখানে ইউক্যালিপটাস ও একাশিয়া জাতীয় গাছ লাগায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ওই শুষ্ক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এটি হয়তো ঠিক ছিল। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এসব গাছকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দেশীয় গাছ লাগানোর যে প্রক্রিয়া, তা কখনোই অনুসরণ করা হয়নি।’
অধ্যাপক জামাল উদ্দিন মনে করেন, শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই পরিবেশ বাঁচে না। তাঁর মতে, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা (পলিটিক্যাল উইলিংনেস) ছাড়া পরিবেশের এই বিপর্যয় ঠেকানো অসম্ভব।’
বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ (যেমন বৃক্ষরোপণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) সফল করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্দেশে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন–
উদ্দেশ্য ও স্থান বুঝে গাছ নির্বাচন: ‘গাছ লাগানো এবং কাটা—দুটিই অত্যন্ত সুচিন্তিত বিষয় হওয়া উচিত। গাছ লাগানোর মূল উদ্দেশ্য তিনটি—উৎপাদনমুখী, নান্দনিক ও পরিবেশগত। কাঠ বা ফলের জন্য, নাকি পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য, নাকি পরিবেশ রক্ষার জন্য গাছ লাগানো হচ্ছে—সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। স্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক গাছ নির্বাচন করাটা জরুরি।’
দেশীয় প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার: ‘আমাদের এই অঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবে যেসব গাছ জন্মায় (দেশীয় প্রজাতি), সেগুলোই লাগাতে হবে। সৌন্দর্যবর্ধনের কথা বলে বিদেশি দামি গাছ হুট করে এনে লাগানো ঠিক হবে না। এতে স্থানীয় বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেমের চেইন ভেঙে যায়, যার বিরূপ প্রভাব পড়ে পরিবেশে। গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর: ‘আমাদের দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মোটেও বিজ্ঞানসম্মত বা পর্যাপ্ত নয়। আধুনিক বিশ্বে বর্জ্যকে শুধু ডাম্পিং করা হয় না, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার প্রযুক্তি এখন সর্বত্র প্রচলিত। বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার এই চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। এতে আমাদের অর্থনীতির যেমন উন্নয়ন হবে, তেমনি পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্যও নির্মূল হবে।’

হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নদী কমিশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। নেওয়া হচ্ছে একের পর এক সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প। তারপরও বুড়িগঙ্গাসহ দেশের নদীগুলো বাঁচানো যাচ্ছে না; পরিবেশ ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার নামে দেশে যা চলছে, তাকে চরম ‘হিপোক্রেটিক বিহেভিয়ার’ (ভণ্ডামি) বলে আখ্যায়িত করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু।
আজ ২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে স্ট্রিম-এর সঙ্গে আলাপকালে দেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, নদী দখল, বৃক্ষরোপণ ও বৈশ্বিক সংকট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এই পরিবেশ বিশেষজ্ঞ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, যেখানে জলজ প্রাণি বাঁচার জন্য ন্যূনতম ৫ মিলিগ্রাম/লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো রক্ষায় কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দূষণের মাত্রা কমেনি, উল্টো বেড়েছে।
এসব প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বুড়িগঙ্গার দূষণের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ‘বুড়িগঙ্গার পানি কালো। এর অর্থ হলো আমাদের শিক্ষা, গবেষণা, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে উপাচার্য, বিচারপতি, সেনাপতি—সবার মন কালো। আমরা সবাই চরম হিপোক্রেটিক (ভণ্ডামিপূর্ণ) আচরণ করছি। নদী রক্ষায় এত টাকা ঢালা হলো, জনবল দেওয়া হলো, এত সব আয়োজনের পরও যেহেতু নদীর পানি কালো, তার মানে এ দেশের সামগ্রিক প্রক্রিয়া কালো। এ দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কালো।’
দেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনার অতীত টানতে গিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন পরিবেশ নিয়ে কেবল আলোচনা বা সিভিল সোসাইটিতে কথাবার্তা শুরু হচ্ছে, ঠিক সে সময়ে ১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ (পলিউশন কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স-১৯৭৭) জারি করেন। যার আওতাতেই আজকের পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) গড়ে উঠেছে।’
অধ্যাপক রুনু বলেন, ‘তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধানের এই দূরদর্শী চিন্তা ছিল যে, আমরা কৃষিপ্রধান দেশ থেকে শিল্পায়নের দিকে যাব। কৃষিতে অধিক উৎপাদনের জন্য সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হবে, যার ফলে পরিবেশের কিছু ক্ষতি হবে। এই ক্ষতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে জন্যই তিনি ওই অধ্যাদেশ করেছিলেন।’
এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদনে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে জিয়াউর রহমানের খাল খনন এবং ভূপৃষ্ঠের পানি (সারফেস ওয়াটার) ব্যবহারের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি।
অতীতের সেই খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনেই অধ্যাপক রুনু সাম্প্রতিক সময়ের নদী ও খাল খনন প্রকল্পগুলো অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে বলে সমালোচনা করেন। নদীতে পানি না থাকার মূল কারণ হিসেবে উজানের দেশ ভারতের বাঁধ নির্মাণকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘নদীতে পানি না থাকলে খাল খনন করে কী লাভ? আমাদের প্রাকৃতিক নদীগুলোতে আজ পানি নেই। কেন নেই? আন্তর্জাতিক সীমানার বাইরে, উজানে ভারতে বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণের ফলে আমাদের নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। নদীতে এর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলায় আগে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। চুক্তি করে নদীতে পানি আনার ব্যবস্থা করতে হবে।’
সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া যত্রতত্র খাল খননের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘পুনর্খনন বা নতুন খাল খননের আগে অবশ্যই ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করতে হবে। এর মাধ্যমে দেখতে হবে প্রকল্পটি পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজের জন্য আদৌ লাভজনক কি না। এটি না করে শুধু খননকাজ চালালে হয়তো একটি দিকে সাময়িক লাভ হবে, কিন্তু অন্য দশটি জায়গায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।’
বিশ্বব্যাপী আধুনিকতা ও সম্পদের প্রতিযোগিতায় মানবসভ্যতা আজ হুমকির মুখে। সুইডেনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বিশ্বে সামরিক ব্যয় রেকর্ড ২ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এখনই গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন না কমালে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানবসভ্যতার জন্য ধ্বংসাত্মক হবে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক রুনু বলেন, ‘মানুষ আজ সম্পদ সংগ্রহের এক অন্ধ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। যেসব দেশের হাতে পারমাণবিক বোমা রয়েছে, তারা যদি ভুলক্রমেও এর ১ থেকে ২ শতাংশের বিস্ফোরণ ঘটায় বা ব্যবহার করে, তাতেই এই পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।’
গাছ লাগানো নিয়ে বনবিভাগের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সঠিক গাছ নির্বাচন করা হয়নি। এই অধ্যাপক বলেন, ‘একসময় বনদস্যুরা পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড় করে ফেলার পর, বন বিভাগ সেখানে ইউক্যালিপটাস ও একাশিয়া জাতীয় গাছ লাগায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ওই শুষ্ক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এটি হয়তো ঠিক ছিল। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এসব গাছকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দেশীয় গাছ লাগানোর যে প্রক্রিয়া, তা কখনোই অনুসরণ করা হয়নি।’
অধ্যাপক জামাল উদ্দিন মনে করেন, শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই পরিবেশ বাঁচে না। তাঁর মতে, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা (পলিটিক্যাল উইলিংনেস) ছাড়া পরিবেশের এই বিপর্যয় ঠেকানো অসম্ভব।’
বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ (যেমন বৃক্ষরোপণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) সফল করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্দেশে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন–
উদ্দেশ্য ও স্থান বুঝে গাছ নির্বাচন: ‘গাছ লাগানো এবং কাটা—দুটিই অত্যন্ত সুচিন্তিত বিষয় হওয়া উচিত। গাছ লাগানোর মূল উদ্দেশ্য তিনটি—উৎপাদনমুখী, নান্দনিক ও পরিবেশগত। কাঠ বা ফলের জন্য, নাকি পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য, নাকি পরিবেশ রক্ষার জন্য গাছ লাগানো হচ্ছে—সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। স্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক গাছ নির্বাচন করাটা জরুরি।’
দেশীয় প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার: ‘আমাদের এই অঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবে যেসব গাছ জন্মায় (দেশীয় প্রজাতি), সেগুলোই লাগাতে হবে। সৌন্দর্যবর্ধনের কথা বলে বিদেশি দামি গাছ হুট করে এনে লাগানো ঠিক হবে না। এতে স্থানীয় বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেমের চেইন ভেঙে যায়, যার বিরূপ প্রভাব পড়ে পরিবেশে। গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর: ‘আমাদের দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মোটেও বিজ্ঞানসম্মত বা পর্যাপ্ত নয়। আধুনিক বিশ্বে বর্জ্যকে শুধু ডাম্পিং করা হয় না, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার প্রযুক্তি এখন সর্বত্র প্রচলিত। বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার এই চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। এতে আমাদের অর্থনীতির যেমন উন্নয়ন হবে, তেমনি পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্যও নির্মূল হবে।’

দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহ এখন আর মৌসুমি অস্বস্তির বিষয় নয়। এটি ধীরে ধীরে বড় ধরনের জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে প্রতি বছরই গরম আরও দীর্ঘ, তীব্র ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। সম্প্রতি পরিবেশ বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় এই পরিবর্তনের পেছনের কারণগুলো নতুনভাবে ব্যাখ্যা
৩ দিন আগে
রাজধানীর উপর দিয়ে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই ঢাকার তাপমাত্রা লাফিয়ে বাড়তে শুরু করবে।
৬ দিন আগে
শহরাঞ্চলে বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা মোকাবিলা বিষয়ে গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াটার রিসোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন অফ দ্য ডেলওয়্যার রিভার বেসিন (ডব্লিউআরএ) অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি ড. আব্দুল্লাহ আল-আমিন। পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।
১৫ দিন আগে
জলবায়ু ঝুঁকির কারণে বর্তমানে দেশের কৃষিখাতে প্রতিবছর প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) বাংলাদেশের কৃষি রূপান্তর শীর্ষক এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
২৩ দিন আগে