বিশ্বকাপের নক্ষত্র–২৬
স্ট্রিম প্রতিবেদক

ফুটবলে প্রায় এমন কোনো শিরোপা নেই, যা তাঁর নেই। তিনি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। এলএম-১০। প্রতিপক্ষের বক্সের মাথায় যে ছোট্ট ‘ডি’, তাঁর নিশ্বাস লাগোয়া দূরত্বে বসানো বল। কয়েক পা দূরে দাঁড়িয়ে গোলাপি কিংবা আকাশি-সাদা জার্সির রক্তমাংসের মানুষ মেসির আর একটিই নাম হতে পারে, তা ‘অমরত্ব’।
৩৮ বছরের মেসি ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। তিনি যখন বার্সেলোনায়, তৎকালীন কোচ পেপ গার্দিওলা বলেছিলেন, ‘ও কীভাবে খেলে স্রেফ তাকিয়ে তাকিয়ে উপভোগ কর। ও মাঠে যা করে, তা অন্য কোনো মানুষের পক্ষে করা অসম্ভব। ও এক শতাব্দীতে একবার জন্ম নেওয়া অলৌকিক এক বিস্ময়!’
যাঁর সংস্পর্শে মেসি হয়ে ওঠা, তাঁকে নিয়ে ব্রাজিলের সুপারস্টার রোনালদিনহো বলেছেন, ‘আমি নিজের ক্যারিয়ারের দিকে যখন পিছে ফিরে তাকাব, সেখানে লিও মেসির বার্সার জার্সি গায়ে আগের সময়গুলোই বেশি এনজয় করব।’
মেসির আর্জেন্টাইন সাবেক সতীর্থ ডিফেন্ডার জ্যাভিয়ার ম্যাশচারানো বলেছেন, ‘আমি যদিও মনে করি না সে একজন মানুষ। কিন্তু এটি ভালো দিক যে, সে এটি চিন্তা করে।’
ট্রফি ক্যাবিনেট, অর্জন ও পরিসংখ্যান
মেসির ক্যাবিনেট সাজানো অর্জনের স্মারকে, যা পূর্ণতা পেয়েছে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ে। ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি ৮ বার ব্যালন ডি’অর, ৬ বার ইউরোপীয় গোল্ডেন সু এবং রেকর্ড দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের ‘ফিফা গোল্ডেন বল’ জয় করেছেন।
৯ বার লা লিগার বর্ষসেরা খেলোয়াড়, ২৫ বার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের টপ গোল স্কোরার। তিনবার উয়েফা দ্য বেস্ট পুরস্কার, চারবার ফিফার ম্যানস বেস্ট প্লেয়ারসহ অর্জনে নিজেকে মেসি নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এছাড়া তিনি ১০ বার লা লিগা, চারবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, তিনবার ক্লাব বিশ্বকাপ, তিনবার সুপার কাপ ও দুবার ফরাসি লিগ ওয়ান জয় করেছেন।
আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন মেসি। দেশের হয়ে এ পর্যন্ত মেসি ১৯৮ ম্যাচে ১১৬ গোল করেছেন। কাতার বিশ্বকাপে করেছেন ৭ গোল। বার্সার জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৭৮ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬৭২ গোল ও ৩০৫ অ্যাসিস্টের এক অতিমানবীয় রেকর্ড। আর ফরাসি ক্লাব পিএসজির হয়ে মেসির ঝুলিতে আছে ৩২ গোল ও ৩৫ অ্যাসিস্ট। আর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে মায়ামির হয়ে তিনি করেছেন ৯০ গোল ও ৫১ অ্যাসিস্ট। চলতি মৌসুমে তিনি দলটির হয়ে ১৩ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন।
বিশ্বকাপে মেসি
২০০৬ সালে জার্মান বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির অভিষেক। এরপর থেকে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ খেলেছেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনা রানার্স-আপ এবং ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকে শিরোপা উপহার দেন মেসি। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করেন। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর এনে দেন অধরা বিশ্বকাপ।
এবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং নিশ্চিতভাবেই শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। ‘চিরসবুজ’ এই তরুণ এবার মাঠে নামবেন বিশ্বজয়ী ‘ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন’ এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে।
মেসির জন্ম আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে মধ্যবিত্ত পরিবারে। মাত্র ১১ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সির মতো এক মারাত্মক রোগ ধরা পড়ে। এতে তাঁর শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে গিয়েছিল। আর্জেন্টিনার কোনো ক্লাব সেই চিকিৎসার খরচ বহনে রাজি হয়নি। ঠিক তখনই মেসির জাদুকরী খেলা দেখে এফসি বার্সেলোনার তৎকালীন ডিরেক্টর একটি সাধারণ ন্যাপকিন পেপারে মেসির সঙ্গে চুক্তি করে চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নেন। সেই দিনের ছোটখাটো ছেলেটিই আজ কঠোর সাধনা ও বাম পায়ের জাদু দেখিয়ে সবচেয়ে বড় অ্যাথলেট।
ফুটবল ট্রিভিয়া ও অনন্য রেকর্ড
২০১২ সালে বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলে এক ক্যালেন্ডারে অবিশ্বাস্য ৯১ গোল করেছেন মেসি। এটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী ফুটবল ইতিহাসের এক বছরে করা সর্বকালের সর্বোচ্চ অফিশিয়াল রেকর্ড।

ফুটবলে প্রায় এমন কোনো শিরোপা নেই, যা তাঁর নেই। তিনি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। এলএম-১০। প্রতিপক্ষের বক্সের মাথায় যে ছোট্ট ‘ডি’, তাঁর নিশ্বাস লাগোয়া দূরত্বে বসানো বল। কয়েক পা দূরে দাঁড়িয়ে গোলাপি কিংবা আকাশি-সাদা জার্সির রক্তমাংসের মানুষ মেসির আর একটিই নাম হতে পারে, তা ‘অমরত্ব’।
৩৮ বছরের মেসি ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। তিনি যখন বার্সেলোনায়, তৎকালীন কোচ পেপ গার্দিওলা বলেছিলেন, ‘ও কীভাবে খেলে স্রেফ তাকিয়ে তাকিয়ে উপভোগ কর। ও মাঠে যা করে, তা অন্য কোনো মানুষের পক্ষে করা অসম্ভব। ও এক শতাব্দীতে একবার জন্ম নেওয়া অলৌকিক এক বিস্ময়!’
যাঁর সংস্পর্শে মেসি হয়ে ওঠা, তাঁকে নিয়ে ব্রাজিলের সুপারস্টার রোনালদিনহো বলেছেন, ‘আমি নিজের ক্যারিয়ারের দিকে যখন পিছে ফিরে তাকাব, সেখানে লিও মেসির বার্সার জার্সি গায়ে আগের সময়গুলোই বেশি এনজয় করব।’
মেসির আর্জেন্টাইন সাবেক সতীর্থ ডিফেন্ডার জ্যাভিয়ার ম্যাশচারানো বলেছেন, ‘আমি যদিও মনে করি না সে একজন মানুষ। কিন্তু এটি ভালো দিক যে, সে এটি চিন্তা করে।’
ট্রফি ক্যাবিনেট, অর্জন ও পরিসংখ্যান
মেসির ক্যাবিনেট সাজানো অর্জনের স্মারকে, যা পূর্ণতা পেয়েছে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ে। ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি ৮ বার ব্যালন ডি’অর, ৬ বার ইউরোপীয় গোল্ডেন সু এবং রেকর্ড দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের ‘ফিফা গোল্ডেন বল’ জয় করেছেন।
৯ বার লা লিগার বর্ষসেরা খেলোয়াড়, ২৫ বার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের টপ গোল স্কোরার। তিনবার উয়েফা দ্য বেস্ট পুরস্কার, চারবার ফিফার ম্যানস বেস্ট প্লেয়ারসহ অর্জনে নিজেকে মেসি নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এছাড়া তিনি ১০ বার লা লিগা, চারবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, তিনবার ক্লাব বিশ্বকাপ, তিনবার সুপার কাপ ও দুবার ফরাসি লিগ ওয়ান জয় করেছেন।
আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন মেসি। দেশের হয়ে এ পর্যন্ত মেসি ১৯৮ ম্যাচে ১১৬ গোল করেছেন। কাতার বিশ্বকাপে করেছেন ৭ গোল। বার্সার জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৭৮ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬৭২ গোল ও ৩০৫ অ্যাসিস্টের এক অতিমানবীয় রেকর্ড। আর ফরাসি ক্লাব পিএসজির হয়ে মেসির ঝুলিতে আছে ৩২ গোল ও ৩৫ অ্যাসিস্ট। আর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে মায়ামির হয়ে তিনি করেছেন ৯০ গোল ও ৫১ অ্যাসিস্ট। চলতি মৌসুমে তিনি দলটির হয়ে ১৩ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন।
বিশ্বকাপে মেসি
২০০৬ সালে জার্মান বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির অভিষেক। এরপর থেকে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ খেলেছেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনা রানার্স-আপ এবং ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকে শিরোপা উপহার দেন মেসি। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করেন। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর এনে দেন অধরা বিশ্বকাপ।
এবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং নিশ্চিতভাবেই শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। ‘চিরসবুজ’ এই তরুণ এবার মাঠে নামবেন বিশ্বজয়ী ‘ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন’ এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে।
মেসির জন্ম আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে মধ্যবিত্ত পরিবারে। মাত্র ১১ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সির মতো এক মারাত্মক রোগ ধরা পড়ে। এতে তাঁর শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে গিয়েছিল। আর্জেন্টিনার কোনো ক্লাব সেই চিকিৎসার খরচ বহনে রাজি হয়নি। ঠিক তখনই মেসির জাদুকরী খেলা দেখে এফসি বার্সেলোনার তৎকালীন ডিরেক্টর একটি সাধারণ ন্যাপকিন পেপারে মেসির সঙ্গে চুক্তি করে চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নেন। সেই দিনের ছোটখাটো ছেলেটিই আজ কঠোর সাধনা ও বাম পায়ের জাদু দেখিয়ে সবচেয়ে বড় অ্যাথলেট।
ফুটবল ট্রিভিয়া ও অনন্য রেকর্ড
২০১২ সালে বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলে এক ক্যালেন্ডারে অবিশ্বাস্য ৯১ গোল করেছেন মেসি। এটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী ফুটবল ইতিহাসের এক বছরে করা সর্বকালের সর্বোচ্চ অফিশিয়াল রেকর্ড।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিশ্বজয়ের পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আনন্দে মেতে উঠেছে লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন ইয়ামাল। একই রাতে হাজার মাইল দূরের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও দেখা গেছে ফিলিস্তিনি শিশুদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
১৯ ঘণ্টা আগে
স্প্যানিশ ফরওয়ার্ড নিকো উইলিয়ামস বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবময় অর্জনকে ব্রাজিলের নেইমারকে উৎসর্গ করেছেন। বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও ফুটবলে নিজের প্রেরণা ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারকে ভুললেন না স্পেনের উইঙ্গার।
১ দিন আগে
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ফাইনালের এই মহামঞ্চে গোলপোস্ট থেকে আক্রমণ ভাগ, সব অংশের খেলোয়ারদেরই ছিল দাপট।
২০ জুলাই ২০২৬
টানটান উত্তেজনা, লাল কার্ডের নাটকীয়তা আর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের চোখ ধাঁধানো গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সিংহাসন কেড়ে নিয়েছে স্পেন। এমন থ্রিলিং ম্যাচে আর্জেন্টিনার এমন অসহায় আত্মসমর্পণের কারণ কী? স্পেনই বা কী কৌশলে এভাবে বোতলবন্দি করে রাখল মেসি অ্যান্ড কোং কে? উত্তরটা অতটাও জটিল নয়।
২০ জুলাই ২০২৬