কাজী নিশাত তাবাসসুম
-f65f09-720x405.webp)
নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই আগ্নেয়াস্ত্র কাছে রাখেন। কিন্তু বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা কোনো সাধারণ অধিকার নয়। চাইলেই অস্ত্র রাখা যায় না। লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রাখা বা বহন করা বেআইনি। এর জন্য গুরুতর ফৌজদারি শাস্তির বিধান রয়েছে। ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্টের ১৩ ও ১৪ নম্বর ধারায় লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র বহন এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিজের দখলে রাখার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বর্তমানে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’। ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয় এবং এটি আগের ২০১৬ সালের নীতিমালাকে প্রতিস্থাপন করেছে।
নীতিমালার মূল বিষয় হলো শুধু অস্ত্র রাখার ইচ্ছা থাকলেই লাইসেন্স পাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা থাকতে হবে এবং আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম হওয়াও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের রেকর্ড থাকলে তাঁর লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে।
বয়সের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। প্রচলিত নীতিমালার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শর্ট-ব্যারেল অস্ত্রের ক্ষেত্রে সাধারণত ন্যূনতম বয়স ৩০ বছর এবং লং-ব্যারেল অস্ত্রের ক্ষেত্রে ২৫ বছর; সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৭০ বছর। তবে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ শ্রেণির ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়স ও করসংক্রান্ত শর্তে ছাড়ের বিধান রয়েছে।
লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বয়স বা নাগরিকত্ব যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট মাত্রায় আয়কর পরিশোধের প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৫ সালের নীতিমালায় এই আর্থিক শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে।
পিস্তল, রিভলবার ও রাইফেলের ক্ষেত্রে আগের তিন বছরের ধারাবাহিক কর পরিশোধের ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের নীতিমালায় শটগানের ক্ষেত্রে তা ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু আয়কর রিটার্ন জমা দিলেই হবে না; নির্ধারিত পরিমাণ কর পরিশোধের প্রমাণও থাকতে হবে। আবেদন করার সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রত্যয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে অস্ত্রের সংখ্যার ওপরও সীমা রয়েছে। প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণভাবে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে পারেন—একটি পিস্তল বা রিভলবার এবং একটি শটগান বা রাইফেল।
তবে নিবন্ধিত শ্যুটারদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ তিনটি অস্ত্রের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, লাইসেন্স পাওয়া মানেই ইচ্ছেমতো একাধিক অস্ত্র কেনার সুযোগ নয়, বরং প্রতিটি অস্ত্রের জন্য আলাদা অনুমোদন ও লাইসেন্স থাকতে হবে।
ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয় সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের জন্য পুলিশ তদন্ত করে। এরপর আবেদনকারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, অস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান এবং অস্ত্রটির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হয়।
প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং যেখানে প্রযোজ্য সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তির পর লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় লাইসেন্সের রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়।
লাইসেন্সের অর্থ হলো নির্দিষ্ট শর্তে অস্ত্র রাখা ও বহনের অনুমতি। ইচ্ছেমতো ব্যবহার করার অধিকার নেই এখানে। আর্মস অ্যাক্টের ১৩ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, লাইসেন্সে যেভাবে এবং যতটুকু অনুমতি দেওয়া হয়েছে তার বাইরে অস্ত্র বহন করা যাবে না।
ব্যক্তিগত অস্ত্রের ব্যবহার মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে অস্ত্র প্রদর্শন, ভয় দেখানো কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কাজে ব্যবহার করলে লাইসেন্স থাকলেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি কোনো ব্যক্তির কাছে বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও জননিরাপত্তার জন্য তাকে অস্ত্রসহ রাখা বিপজ্জনক বলে মনে হলে ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুযায়ী অস্ত্র জব্দ করে নিরাপদ হেফাজতে রাখতে পারেন।
অস্ত্রের লাইসেন্স একবার পেলেই হয় না। নির্ধারিত সময়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয় এবং এর জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। ২০২৫ সালের নীতিমালায় নবায়ন ফি বাড়ানো হয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে পিস্তল ও রিভলবারের নবায়ন ফি ২০ হাজার টাকা আর বন্দুক, শটগান ও রাইফেলের নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর সঙ্গে ভ্যাট ও উৎসের কর যুক্ত থাকবে। নতুন নীতিমালায় লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র ক্রয় না করলে লাইসেন্স বাতিল হওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্মস অ্যাক্টের ১৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র নিজের দখলে রাখা নিষিদ্ধ। আর ১৯ নম্বর ধারায় এর লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বর্তমান আইনে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কমপক্ষে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পিস্তল, রিভলবার, রাইফেল, শটগান বা অন্য আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে ১৯ক ধারায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
এমনকি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করাও অপরাধ। আর্মস অ্যাক্টের ২১ নম্বর ধারায় লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধান রয়েছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র রাখা সম্ভব হলেও এটি কোনো অবাধ অধিকার নয়। নাগরিকত্ব, বয়স, শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা, কর পরিশোধ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বাস্তব প্রয়োজন, পুলিশি যাচাই এবং সরকারি অনুমোদন সবকিছু মিলিয়েই এটি লাইসেন্সের ভিত্তির উপর নির্ভর করে। আর লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পরও অস্ত্রটি নির্ধারিত শর্তের বাইরে ব্যবহার বা বহন করা যায় না। অর্থাৎ , বাংলাদেশের আইনে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স হলো অস্ত্র রাখা ও বহনের সীমিত ও শর্তসাপেক্ষ অনুমতি, ইচ্ছেমতো অস্ত্র ব্যবহার করার ছাড়পত্র নয়।
-f65f09-480x270.webp)
নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই আগ্নেয়াস্ত্র কাছে রাখেন। কিন্তু বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা কোনো সাধারণ অধিকার নয়। চাইলেই অস্ত্র রাখা যায় না। লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রাখা বা বহন করা বেআইনি। এর জন্য গুরুতর ফৌজদারি শাস্তির বিধান রয়েছে। ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্টের ১৩ ও ১৪ নম্বর ধারায় লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র বহন এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিজের দখলে রাখার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বর্তমানে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’। ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয় এবং এটি আগের ২০১৬ সালের নীতিমালাকে প্রতিস্থাপন করেছে।
নীতিমালার মূল বিষয় হলো শুধু অস্ত্র রাখার ইচ্ছা থাকলেই লাইসেন্স পাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা থাকতে হবে এবং আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম হওয়াও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের রেকর্ড থাকলে তাঁর লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে।
বয়সের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। প্রচলিত নীতিমালার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শর্ট-ব্যারেল অস্ত্রের ক্ষেত্রে সাধারণত ন্যূনতম বয়স ৩০ বছর এবং লং-ব্যারেল অস্ত্রের ক্ষেত্রে ২৫ বছর; সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৭০ বছর। তবে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ শ্রেণির ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়স ও করসংক্রান্ত শর্তে ছাড়ের বিধান রয়েছে।
লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বয়স বা নাগরিকত্ব যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট মাত্রায় আয়কর পরিশোধের প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৫ সালের নীতিমালায় এই আর্থিক শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে।
পিস্তল, রিভলবার ও রাইফেলের ক্ষেত্রে আগের তিন বছরের ধারাবাহিক কর পরিশোধের ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের নীতিমালায় শটগানের ক্ষেত্রে তা ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু আয়কর রিটার্ন জমা দিলেই হবে না; নির্ধারিত পরিমাণ কর পরিশোধের প্রমাণও থাকতে হবে। আবেদন করার সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রত্যয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে অস্ত্রের সংখ্যার ওপরও সীমা রয়েছে। প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণভাবে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে পারেন—একটি পিস্তল বা রিভলবার এবং একটি শটগান বা রাইফেল।
তবে নিবন্ধিত শ্যুটারদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ তিনটি অস্ত্রের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, লাইসেন্স পাওয়া মানেই ইচ্ছেমতো একাধিক অস্ত্র কেনার সুযোগ নয়, বরং প্রতিটি অস্ত্রের জন্য আলাদা অনুমোদন ও লাইসেন্স থাকতে হবে।
ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয় সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের জন্য পুলিশ তদন্ত করে। এরপর আবেদনকারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, অস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান এবং অস্ত্রটির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হয়।
প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং যেখানে প্রযোজ্য সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তির পর লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় লাইসেন্সের রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়।
লাইসেন্সের অর্থ হলো নির্দিষ্ট শর্তে অস্ত্র রাখা ও বহনের অনুমতি। ইচ্ছেমতো ব্যবহার করার অধিকার নেই এখানে। আর্মস অ্যাক্টের ১৩ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, লাইসেন্সে যেভাবে এবং যতটুকু অনুমতি দেওয়া হয়েছে তার বাইরে অস্ত্র বহন করা যাবে না।
ব্যক্তিগত অস্ত্রের ব্যবহার মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে অস্ত্র প্রদর্শন, ভয় দেখানো কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কাজে ব্যবহার করলে লাইসেন্স থাকলেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি কোনো ব্যক্তির কাছে বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও জননিরাপত্তার জন্য তাকে অস্ত্রসহ রাখা বিপজ্জনক বলে মনে হলে ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুযায়ী অস্ত্র জব্দ করে নিরাপদ হেফাজতে রাখতে পারেন।
অস্ত্রের লাইসেন্স একবার পেলেই হয় না। নির্ধারিত সময়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয় এবং এর জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। ২০২৫ সালের নীতিমালায় নবায়ন ফি বাড়ানো হয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে পিস্তল ও রিভলবারের নবায়ন ফি ২০ হাজার টাকা আর বন্দুক, শটগান ও রাইফেলের নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর সঙ্গে ভ্যাট ও উৎসের কর যুক্ত থাকবে। নতুন নীতিমালায় লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র ক্রয় না করলে লাইসেন্স বাতিল হওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্মস অ্যাক্টের ১৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র নিজের দখলে রাখা নিষিদ্ধ। আর ১৯ নম্বর ধারায় এর লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বর্তমান আইনে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কমপক্ষে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পিস্তল, রিভলবার, রাইফেল, শটগান বা অন্য আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে ১৯ক ধারায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
এমনকি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করাও অপরাধ। আর্মস অ্যাক্টের ২১ নম্বর ধারায় লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধান রয়েছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র রাখা সম্ভব হলেও এটি কোনো অবাধ অধিকার নয়। নাগরিকত্ব, বয়স, শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা, কর পরিশোধ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বাস্তব প্রয়োজন, পুলিশি যাচাই এবং সরকারি অনুমোদন সবকিছু মিলিয়েই এটি লাইসেন্সের ভিত্তির উপর নির্ভর করে। আর লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পরও অস্ত্রটি নির্ধারিত শর্তের বাইরে ব্যবহার বা বহন করা যায় না। অর্থাৎ , বাংলাদেশের আইনে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স হলো অস্ত্র রাখা ও বহনের সীমিত ও শর্তসাপেক্ষ অনুমতি, ইচ্ছেমতো অস্ত্র ব্যবহার করার ছাড়পত্র নয়।
.png)

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি স্কুলে হামলায় শতাধিক শিশু নিহত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব
১ দিন আগে
গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদনে ধস, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার অপচয় আর বাসাবাড়িতে নিভু নিভু চুলা—বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই বাস্তবতা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদেরও উদ্বেগের কারণ। এটি সত্য, গ্যাসের সমস্যা নতুন নয়। তবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে ঠিক
২৭ আগস্ট ২০২৬
চীন-তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসের ব্যাপক বিধ্বংসী রূপ দেখা যাচ্ছে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত প্রলয়ঙ্করী এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৬২, বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪ শতাধিক মানুষ। সুবিশাল হিমালয়ের কোলের দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।
২৭ আগস্ট ২০২৬
জেন-জিদের সাম্প্রতিক আন্দোলন ও বিক্ষোভ এশিয়াজুড়ে রাজনীতির প্রচলিত বয়ান বদলে দিচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসছে– রাজপথে তারুণ্যের প্রতিবাদ কী তাহলে শাসন ক্ষমতা ও স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে, নাকি আন্দোলন শেষে তাদের তেজ নিঃশেষ হয়ে যায়?
২৬ আগস্ট ২০২৬