চট্টগ্রামে ডেঙ্গু: ৭ মাসের শনাক্ত ছাড়াল আগস্টেই

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২০: ১৫
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের মশারি টানানোতে অনিহা। এতে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি। ২৮ আগস্ট তোলা ছবি
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের মশারি টানানোতে অনিহা। এতে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি। ২৮ আগস্ট তোলা ছবি

চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আগস্টের ২৮ দিনেই ছাড়িয়ে গেছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে মোট শনাক্ত হয়েছিলেন ৮৩৪, সেখানে আগস্টের ২৮ দিনেই আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫।

চলতি বছরের জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৩৬। আগস্ট শেষ হওয়ার তিন দিন বাকি থাকতেও (২৮ আগস্ট পর্যন্ত) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫ জনে৷ এর আগে জুনে ১২২ জন, মে মাসে ৩৭, এপ্রিলে ২৯, মার্চে ২০, ফেব্রুয়ারিতে ২৮ ও জানুয়ারিতে ৭০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে জেলায় মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম মৃত্যুটি ঘটেছিল গত ফেব্রুয়ারিতে এবং বাকি দুজন জুলাইয়ে। আর সর্বশেষ মৃত্যুটি ঘটে গত বুধবার।

ঊর্ধমুখী এই সংক্রমণে মুখে নগরজুড়ে যেমন উন্মুক্ত প্রজননস্থলে এডিস মশার লার্ভা বেড়েছে, তেমনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডেও দেখা গেছে সচেতনতার অভাব।

বৃহস্পতিবার চমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের ডেঙ্গু কর্নারে দেখা যায়, দুপুর পর্যন্ত ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। কিন্তু একটি শয্যাতেও মশারি টানানো ছিল না। কারও মশারি গুটিয়ে মাথার কাছে রাখা, আবার কারও শয্যায় মশারির অস্তিত্বই নেই।

আক্রান্ত রোগীর মাধ্যমে এডিস মশার ডানা ভর করে হাসপাতালজুড়ে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হলেও রোগী ও স্বজনদের অনীহা আর কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকির অভাবে এই ঝুঁকি প্রতিদিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনেরা গরম ও ফ্যানের অভাবকে মশারি না টানানোর অজুহাত হিসেবে তুলে ধরছেন।

লাভলেইন থেকে আসা আশরাফুল আলম কিংবা পাহাড়তলীর ইয়াসিন আরাফাতের দাবি, তীব্র গরম ও টাঙানোর ব্যবস্থা না থাকায় তারা মশারি ব্যবহার করছেন না। তবে দায়িত্বরত নার্সদের দাবি, পর্যাপ্ত মশারি দেওয়া হলেও রোগীরা তা টানাতে চান না, উল্টো বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাম্প্রতিক এক জরিপে নগরীর ৬টি ওয়ার্ডে অন্তত ৯২ স্থানে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজসহ অন্তত ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিত্যক্ত ভবন ও আবাসিক এলাকা রয়েছে।

জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মশার এই ডেরা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে, যেখানে একাই ৩১টি প্রজননস্থল চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া জালালাবাদে ২২টি, পাঁচলাইশে ১৫টি, চকবাজার ও পশ্চিম বাকলিয়ায় ১০টি করে এবং পাথরঘাটায় ৪টি স্পট পাওয়া গেছে। তালিকায় এসব এলাকার ৪টি নির্মাণাধীন ভবন ও বেশ কিছু পরিত্যক্ত ভবনকে মশার স্থায়ী বংশবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে এডিস মশার মাধ্যমে ভাইরাস অন্য সুস্থ মানুষ বা অন্যান্য রোগীর শরীরে দ্রুত ছড়ায়।

চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এর মধ্যে ছয়টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজতে বিস্তৃত জরিপ চালানো হয়েছে। বাকি দুটি ওয়ার্ডেও পর্যায়ক্রমে জরিপ করা হবে।

তিনি জানান, চিহ্নিত ৯২টি স্পটের মধ্যে ইতিমধ্যে অধিকাংশ স্থান সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে এবং বাকিগুলোতে ওষুধ ছিটিয়ে মশার বিস্তার ঠেকানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধী সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। নিজেদের ঘরবাড়ি ও আঙিনায় কোথাও যেন পানি জমে মশার বংশবৃদ্ধি না ঘটে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রাথমিক লক্ষণ দেখামাত্রই ডাক্তারের পরামর্শ ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ছবি: চমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্ণারে কারও মশারী টানানো নেই। স্ট্রিম ছবি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত