মধ্যরাতে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাসনাত-এনসিপিকে বয়কট

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ২৫
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যরাতে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এই কর্মসূচি থেকে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে মিছিল বের করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। এটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে। এ সময় এনসিপি ও হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে নানা স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

সমাবেশে বক্তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে সংসদে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। ক্ষমা না চাইলে শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা পালন করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

এনসিপি জানায়, শনিবার বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা রয়েছে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তৃতা দেবেন।

গত ২৭ আগস্ট সংসদ অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে কনসার্ট বন্ধ নিয়ে কথা বলেন। হাসনাত ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি সাংস্কৃতিক অঞ্চল উল্লেখ করে সেখানে গান, বাদ্যযন্ত্র ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সমালোচনা করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শুক্রবার রাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সমাবেশে বক্তারা বলেন, হুজুরদের দোষারোপের সেই পুরোনো সংস্কৃতি আমরা আর দেখতে চাই না। আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন ঘটনায় যেভাবে হুজুরদের দোষারোপ করা হতো, এখনো সেই সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

তারা বলেন, পুলিশ লাইন্সে উচ্চশব্দে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনায় মিথ্যাচার গ্রহণযোগ্য নয়। নৌকাবাইচ বন্ধের ঘটনায় সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ যেভাবে তৌহীদী জনতাকে দোষারোপ করেছেন, সেটি অন্যায়। কারণ, নৌকাবাইচ বন্ধের কারণ হিসেবে এলাকার কৃষকেরা তাদের জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছেন। অথচ বিষয়টি হুজুরদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সমাবেশে হাসনাতের নাম ধরে বক্তারা আরও বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ভাই, আমরা তোমাকে ভালোবাসি। জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কোনো গণ্ডগোলে যেতে চাই না। আমরা ঐক্য চাই, সম্প্রীতি চাই। তবে তোমার বক্তব্যে তৌহীদী জনতা ও আলেম-উলামা অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত হলে, তোমাকে অবশ্যই দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। ইসলাম ও আলেম-উলামাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপের পুরোনো সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত