স্ট্রিম ডেস্ক

মুসলিম বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তিকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় যুক্ত করেছে সৌদি আরব। গত শুক্রবার পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদির সঙ্গে ন্যাটো-ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক।
এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ক যৌথ-প্রতিরক্ষা জোটে পরিণত হলো। এখন থেকে এই তিন দেশের কেউ আক্রান্ত হলে, তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এই প্রতিশ্রুতির ফলে পাকিস্তান-তুরস্ক এমন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা থেকে এতদিন তারা নিরাপদ দূরত্বে ছিল।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির ওমরাহ পালন ও সরকারি সফরে সৌদি আরব পৌঁছানোর এক দিন পরই এই চুক্তি হয়।
তিন দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ জোরদার করতেই এই চুক্তি। এ ছাড়া তিন রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও উন্নত করাও চুক্তির লক্ষ্য।
মক্কাকে চুক্তির জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়ার বিশেষ কারণ রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের কাছে এই স্থানের আলাদা গুরুত্ব আছে। সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ প্রতিরক্ষা ছাদের নিচে এল। এর আগে এই অঞ্চলে এমন জোটের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
আগের সেই চেষ্টার নাম ‘বাগদাদ চুক্তি’। স্নায়ুযুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যকে সোভিয়েত প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ওই জোট তৈরি করেছিল। তুরস্ক, ইরাক, ইরান ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে নিয়ে পশ্চিমা পৃষ্ঠপোষকতায় জোট হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যেই জোট ভেঙে পড়ে। আরব জাতীয়তাবাদ, ১৯৫৮ সালে ইরাকের রাজতন্ত্র পতন এবং পশ্চিমাদের স্বার্থ রক্ষার দ্বন্দ্বে জোট টেকেনি।
মক্কা চুক্তির চিত্র আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের ফগি বটম বা পররাষ্ট্র দপ্তর এর খসড়া তৈরি করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় দুই বছর ধরে এর আলোচনা চলেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছিল না। এই অনুপস্থিতিই চুক্তির সবচেয়ে বড় চমক। মুসলিম বিশ্বের তিনটি বৃহৎ শক্তি প্রথমবারের মতো এক ছাদের নিচে এল। বিদেশি কোনো শক্তির বদলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজতন্ত্র এবার কলম ধরেছে।
জোটে তিন দেশের অবদান শুধু লোকদেখানো নয়। ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী তুরস্কের হাতে রয়েছে। তাদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প খাত আছে। লিবিয়া, সিরিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে তাদের বায়রাকতার ড্রোন ও নৌ প্ল্যাটফর্মগুলো পরীক্ষিত। পাকিস্তানের হাতে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার রয়েছে। তাদের কাছে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে। তাদের সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞ। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াজুড়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার নেটওয়ার্ক রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ফিল্ড মার্শাল মুনিরের উপস্থিতি বিশেষ বার্তা দেয়। কোনো পেশাদার সামরিক বাহিনী শুধু কাগজে সই দেখার জন্য তাদের সেনাপতিকে পাঠায় না। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল আর্থিক সক্ষমতা। তারা মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক। বাকি দুই দেশকে এক টেবিলে আনার মতো কূটনৈতিক ক্ষমতাও তাদের আছে।
সৌদি আরবের জন-কূটনীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন, চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা সাম্প্রদায়িক বলয় তৈরির চেষ্টা নয়। কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। এই অঞ্চলের নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করেও চুক্তি হয়নি।
তুর্কি কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন। তারা এই চুক্তিকে পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে দাবি করছেন। নতুন সদস্যদের জন্য চুক্তির দরজা খোলা থাকবে জানিয়ে তুর্কি কর্মকর্তারা বলেন, ন্যাটো বা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সঙ্গে এর কোনো বিরোধ নেই।
এসব ব্যাখ্যার আড়ালে চুক্তির আসল উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। মূল বিষয় হলো, সৌদি কেবল আমেরিকার নিরাপত্তার ওপর নির্ভর থাকতে চাইছে না। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো দেখেছে, আমেরিকার সহায়তা আগের চেয়ে অনেক ধীর এবং অনিশ্চিত।
ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজাই সৌদিকে সতর্ক করেছেন। তিনি এক্সে লেখেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগুজে চুক্তি তাদের (সৌদি) নিরাপত্তা দিতে পারবে না। দশকের পর দশক যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে তারা নিরাপত্তা পায়নি। অন্যদের কাছে নিরাপত্তা ভিক্ষার চেয়ে নিজেদের নীতি সংস্কার করা উচিত।
কথাগুলো কড়া হলেও একেবারে অযৌক্তিক নয়। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন কেন্দ্রের বিশ্লেষক মনসুর আহমেদ বলেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি মূলত ভারতের দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবিলার জন্য তৈরি। উপসাগরীয় অঞ্চলে পারমাণবিক ছাতা বিস্তার করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
তিনি আরও বলেন, মক্কা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিগত সুবিধার চেয়ে মানসিক চাপ বেশি তৈরি করবে। পাকিস্তানের মিসাইল সত্যিই সৌদিকে রক্ষা করতে ছুটে আসবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই।
ইসরায়েলের জন্যও এই চুক্তি সমস্যা তৈরি করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে একতরফা কোনো অভিযান চালানোর আগে ইসরায়েলকে এখন বৃহত্তর প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবতে হবে।
এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নীরব দর্শক। তবে নীরবতাই অনেক কিছু বলে দেয়। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বিভিন্ন দিকে নিজেদের সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে। তারা বেইজিংয়ের দিকেও ঝুঁকছে।
পশ্চিমা বিশ্লেষকরা চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখেন। ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে নিজেদের দায়িত্ব কমাতে চায়। স্থানীয় শক্তিগুলো সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছে।
দুটি বিষয়ই একই সঙ্গে সত্য হতে পারে। আমেরিকার নির্ভরতার ওপর সংশয় থেকে জন্ম নেওয়া চুক্তি শেষ পর্যন্ত আমেরিকারই কাজে আসতে পারে।
মক্কা চুক্তি সম্প্রসারিত হয়ে মিসর, কাতার, সিরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে কি না, তা এখনো অস্পষ্ট।
মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো প্রায়শই বিভক্ত থেকেছে। ইসরায়েল ও ইরানের মতো বিপদ মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ তাদের ঐক্যের অভাব।
তুর্কি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে নতুন সদস্যদের যোগের সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামো আমেরিকা-পরবর্তী উপসাগরীয় ব্যবস্থায় স্থায়ী স্তম্ভ হয়ে উঠবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। যে যুদ্ধের কারণে চুক্তির জন্ম, সেই যুদ্ধ শেষ হলে বাগদাদ চুক্তির মতো এরও পতন হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন ও মিডিল ইস্ট আই।

মুসলিম বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তিকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় যুক্ত করেছে সৌদি আরব। গত শুক্রবার পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদির সঙ্গে ন্যাটো-ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক।
এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ক যৌথ-প্রতিরক্ষা জোটে পরিণত হলো। এখন থেকে এই তিন দেশের কেউ আক্রান্ত হলে, তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এই প্রতিশ্রুতির ফলে পাকিস্তান-তুরস্ক এমন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা থেকে এতদিন তারা নিরাপদ দূরত্বে ছিল।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির ওমরাহ পালন ও সরকারি সফরে সৌদি আরব পৌঁছানোর এক দিন পরই এই চুক্তি হয়।
তিন দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ জোরদার করতেই এই চুক্তি। এ ছাড়া তিন রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও উন্নত করাও চুক্তির লক্ষ্য।
মক্কাকে চুক্তির জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়ার বিশেষ কারণ রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের কাছে এই স্থানের আলাদা গুরুত্ব আছে। সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ প্রতিরক্ষা ছাদের নিচে এল। এর আগে এই অঞ্চলে এমন জোটের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
আগের সেই চেষ্টার নাম ‘বাগদাদ চুক্তি’। স্নায়ুযুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যকে সোভিয়েত প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ওই জোট তৈরি করেছিল। তুরস্ক, ইরাক, ইরান ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে নিয়ে পশ্চিমা পৃষ্ঠপোষকতায় জোট হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যেই জোট ভেঙে পড়ে। আরব জাতীয়তাবাদ, ১৯৫৮ সালে ইরাকের রাজতন্ত্র পতন এবং পশ্চিমাদের স্বার্থ রক্ষার দ্বন্দ্বে জোট টেকেনি।
মক্কা চুক্তির চিত্র আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের ফগি বটম বা পররাষ্ট্র দপ্তর এর খসড়া তৈরি করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় দুই বছর ধরে এর আলোচনা চলেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছিল না। এই অনুপস্থিতিই চুক্তির সবচেয়ে বড় চমক। মুসলিম বিশ্বের তিনটি বৃহৎ শক্তি প্রথমবারের মতো এক ছাদের নিচে এল। বিদেশি কোনো শক্তির বদলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজতন্ত্র এবার কলম ধরেছে।
জোটে তিন দেশের অবদান শুধু লোকদেখানো নয়। ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী তুরস্কের হাতে রয়েছে। তাদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প খাত আছে। লিবিয়া, সিরিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে তাদের বায়রাকতার ড্রোন ও নৌ প্ল্যাটফর্মগুলো পরীক্ষিত। পাকিস্তানের হাতে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার রয়েছে। তাদের কাছে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে। তাদের সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞ। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াজুড়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার নেটওয়ার্ক রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ফিল্ড মার্শাল মুনিরের উপস্থিতি বিশেষ বার্তা দেয়। কোনো পেশাদার সামরিক বাহিনী শুধু কাগজে সই দেখার জন্য তাদের সেনাপতিকে পাঠায় না। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল আর্থিক সক্ষমতা। তারা মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক। বাকি দুই দেশকে এক টেবিলে আনার মতো কূটনৈতিক ক্ষমতাও তাদের আছে।
সৌদি আরবের জন-কূটনীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন, চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা সাম্প্রদায়িক বলয় তৈরির চেষ্টা নয়। কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। এই অঞ্চলের নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করেও চুক্তি হয়নি।
তুর্কি কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন। তারা এই চুক্তিকে পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে দাবি করছেন। নতুন সদস্যদের জন্য চুক্তির দরজা খোলা থাকবে জানিয়ে তুর্কি কর্মকর্তারা বলেন, ন্যাটো বা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সঙ্গে এর কোনো বিরোধ নেই।
এসব ব্যাখ্যার আড়ালে চুক্তির আসল উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। মূল বিষয় হলো, সৌদি কেবল আমেরিকার নিরাপত্তার ওপর নির্ভর থাকতে চাইছে না। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো দেখেছে, আমেরিকার সহায়তা আগের চেয়ে অনেক ধীর এবং অনিশ্চিত।
ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজাই সৌদিকে সতর্ক করেছেন। তিনি এক্সে লেখেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগুজে চুক্তি তাদের (সৌদি) নিরাপত্তা দিতে পারবে না। দশকের পর দশক যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে তারা নিরাপত্তা পায়নি। অন্যদের কাছে নিরাপত্তা ভিক্ষার চেয়ে নিজেদের নীতি সংস্কার করা উচিত।
কথাগুলো কড়া হলেও একেবারে অযৌক্তিক নয়। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন কেন্দ্রের বিশ্লেষক মনসুর আহমেদ বলেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি মূলত ভারতের দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবিলার জন্য তৈরি। উপসাগরীয় অঞ্চলে পারমাণবিক ছাতা বিস্তার করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
তিনি আরও বলেন, মক্কা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিগত সুবিধার চেয়ে মানসিক চাপ বেশি তৈরি করবে। পাকিস্তানের মিসাইল সত্যিই সৌদিকে রক্ষা করতে ছুটে আসবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই।
ইসরায়েলের জন্যও এই চুক্তি সমস্যা তৈরি করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে একতরফা কোনো অভিযান চালানোর আগে ইসরায়েলকে এখন বৃহত্তর প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবতে হবে।
এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নীরব দর্শক। তবে নীরবতাই অনেক কিছু বলে দেয়। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বিভিন্ন দিকে নিজেদের সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে। তারা বেইজিংয়ের দিকেও ঝুঁকছে।
পশ্চিমা বিশ্লেষকরা চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখেন। ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে নিজেদের দায়িত্ব কমাতে চায়। স্থানীয় শক্তিগুলো সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছে।
দুটি বিষয়ই একই সঙ্গে সত্য হতে পারে। আমেরিকার নির্ভরতার ওপর সংশয় থেকে জন্ম নেওয়া চুক্তি শেষ পর্যন্ত আমেরিকারই কাজে আসতে পারে।
মক্কা চুক্তি সম্প্রসারিত হয়ে মিসর, কাতার, সিরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে কি না, তা এখনো অস্পষ্ট।
মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো প্রায়শই বিভক্ত থেকেছে। ইসরায়েল ও ইরানের মতো বিপদ মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ তাদের ঐক্যের অভাব।
তুর্কি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে নতুন সদস্যদের যোগের সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামো আমেরিকা-পরবর্তী উপসাগরীয় ব্যবস্থায় স্থায়ী স্তম্ভ হয়ে উঠবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। যে যুদ্ধের কারণে চুক্তির জন্ম, সেই যুদ্ধ শেষ হলে বাগদাদ চুক্তির মতো এরও পতন হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন ও মিডিল ইস্ট আই।
.png)

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এ জন্য একটি স্বতন্ত্র পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ঢাকায় একটি রুশ ব্যাংকের শাখা খোলারও প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।
৯ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের নিয়োগ দেওয়া ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
১ দিন আগে
দেশের ছাত্ররাজনীতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির—দুটি বহুল আলোচিত সংগঠন। কখনো তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে পাশাপাশি অবস্থান নিয়েছে, কখনো একই রাজনৈতিক জোটের অংশ হয়েছে, আবার কখনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
০৭ আগস্ট ২০২৬
কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান একাধিকবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের রাজনৈতিক সমস্যা এতদিন আড়ালেই ছিল। এখন সেই চিত্র বদলেছে, মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা পাকিস্তান সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
০৪ আগস্ট ২০২৬