কাজী নিশাত তাবাসসুম

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এ জন্য একটি স্বতন্ত্র পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ঢাকায় একটি রুশ ব্যাংকের শাখা খোলারও প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।
সম্প্রতি দেশের গণমাধ্যমগুলোতে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-রাশিয়া ‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিশন অন ট্রেড, ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কোঅপারেশন’-এর বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হবে।
২০২৩ সালে ভারতের সঙ্গে রুপিতে লেনদেন করেছিল বাংলাদেশ। তখন দুই দেশের সরকারই এই বন্দোবস্তকে মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। তারা বলেছিল, এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে এবং ডলারের আধিপত্য পাশ কাটিয়ে নিজ মুদ্রায় বাণিজ্য করা সম্ভব হবে।
এর এক বছর পর গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেরিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাশিয়া নতুন করে রুপিতে বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রস্তাব দেয়।
বাংলাদেশের বৈশ্বিক লেনদেন ব্যবস্থাটি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এবং আমাদের ব্যাংকগুলোর ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ (বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্ট, যা একটি দেশীয় ব্যাংক বিদেশের কোনো ব্যাংকে সেই দেশের মুদ্রায় খোলে) আমেরিকান ব্যাংকগুলোতে অবস্থিত।
বিকল্প উপায়ে তথা ভিন্ন মুদ্রায় লেনদেন করতে গেলে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ওপর সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসার ভয় থাকে। নিষেধাজ্ঞা এলে ব্যাংকগুলো আর কোনো এলসি খুলতে পারবে না।
এমন পরিস্থিতিতে চীন, রাশিয়া বা ইরানের মতো শক্তিশালী দেশগুলো কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তিগুলো রাশিয়ার আর্থিক খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করলে রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিজেদের কিংবা স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে মনোযোগ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় চীন, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বিকল্প মুদ্রাব্যবস্থায় লেনদেনের চুক্তি কার্যকর করেছে মস্কো।

এখন বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আগ্রহ দেখাচ্ছে রাশিয়া। তাদের প্রস্তাব— বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যের অর্থ পরিশোধ ভারতীয় রুপির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। দুই দেশ মিলে একটি স্বাধীন পেমেন্ট নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যার উদ্দেশ্য পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে এই লেনদেনকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখা। সঙ্গে বিশ্ববাণিজ্যে পেট্রোডলারের আধিপত্য কিছুটা হলেও কমানো।
১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি কৌশলগত চুক্তি হয়। এর আওতায় সৌদি আরব আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির দাম ডলারে নিতে রাজি হয় এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক নিরাপত্তা জোগানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে ওপেকভুক্ত অন্যান্য দেশও একই পথ অনুসরণ করে। এর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় পেট্রোডলারের ধারণা।
এতে বিশ্বজুড়ে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর কাছে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রিজার্ভে বেশি বেশি ডলার রাখতে শুরু করে। একই সঙ্গে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো ডলার আয়ের বড় অংশ মার্কিন ব্যাংক ও সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে থাকে। এ প্রক্রিয়াটিকে বলে পেট্রোডলার রিসাইক্লিং।
বেশির ভাগ তেল বাণিজ্য এখনো ডলারেই হয়। তবে আগের তুলনায় স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বেড়েছে। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার পর দেশটি চীন ও ভারতের সঙ্গে অন্য মুদ্রায় লেনদেন বাড়িয়েছে। চীন অনেক দিন ধরেই ইউয়ানে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ভারতও কয়েকটি দেশের সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্য চালু করেছে। এমনকি সৌদি আরব বলেছে, প্রয়োজনে ডলারের পাশাপাশি অন্য মুদ্রায় বাণিজ্য করতে তারা প্রস্তুত।
রিসার্চ গেটের একটি গবেষণা ‘ডি-ডলারাইজেশন অ্যান্ড গ্লোবাল সভরেনটি: ব্রিকস কোয়েস্ট ফর আ নিউ ফিন্যান্সিয়াল প্যারাডাইম’-এ থেরিন ডসন আর্নল্ড ডলারের বদলে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো, রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো, লেনদেনের খরচ কমানো ও ভূরাজনৈতিক কৌশল।
থেরিন ডসনের মতে, ডলারে লেনদেনের অর্থই হলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক বিধিনিষেধ অনেক দেশের জন্যই ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা বিকল্প ব্যবস্থা গড়তে আগ্রহী। যেসব দেশ প্রচুর তেল আমদানি করে, তাদের বিশাল ডলার মজুত রাখতে হয়। স্থানীয় মুদ্রায় কেনাবেচা হলে সেই চাপ অনেকটাই কমে। কোনো দেশের মুদ্রাকে প্রথমে ডলার এবং পরে বিক্রেতা দেশের মুদ্রায় রূপান্তর করতে অতিরিক্ত ফিও গুনতে হয়। সরাসরি রুপি, ইউয়ান বা রিয়ালে লেনদেন করলে সেই খরচ বেঁচে যাবে। তা ছাড়া বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে বহুমুখী করতে হলে একটি মাত্র দেশের ওপর নির্ভর করাটা চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এটি নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও ব্রিকস এখনো ইউরোর মতো নতুন কোনো একক মুদ্রা চালু করেনি। অতীতে একটি যৌথ মুদ্রা চালুর বিষয়ে আলোচনা এবং প্রতীকী নোট দেখানো হলেও ব্রিকস দেশগুলো সেই পরিকল্পনা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। নতুন মুদ্রার বদলে তারা এখন ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদ জিম ও’ নিলের মতে, একক মুদ্রা থেকে সরে আসার মূল কারণ—ব্রিকস দেশগুলোর (চীন, ভারত, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা) অর্থনৈতিক কাঠামো, জিডিপি ও মুদ্রানীতি সম্পূর্ণ আলাদা। এ কারণে জোটের সভাপতি ব্রাজিল ২০২৫ সালে যৌথ মুদ্রার ধারণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করে দেয়।
ভারতও জানিয়েছে, মার্কিন ডলারের বিকল্প হিসেবে নতুন মুদ্রা আনার নীতিগত পরিকল্পনা নেই। তবে চীন ও ভারত—উভয় দেশেরই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য মার্কিন ডলারের ওপর একচ্ছত্র নির্ভরতা কমানো। তারা ব্রিকসের সাধারণ মুদ্রা চালুর চেয়ে নিজেদের মুদ্রাকেই আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী।

নতুন মুদ্রার বদলে ব্রিকস ২০২৬ সালে এসে ‘ব্রিকস পে’ নামে একটি স্বাধীন পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর দিকে এগিয়েছে। এটি পশ্চিমা দেশগুলোর নিয়ন্ত্রিত ‘সুইফট’ ব্যবস্থার বিকল্প হবে। এর মাধ্যমে ভারতের ইউপিআই, ব্রাজিলের পিক্স এবং চীনের সিআইপিএস-এর মতো নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করা হবে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনে এই ‘ব্রিকস পে’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
ডিজিটাল মুদ্রাগুলোর সংযুক্তি (সিবিডিসি ইন্টারঅপারেবিলিটি) নিয়েও কাজ চলছে। ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (আরবিআই) একটি বড় প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রাগুলোকে (যেমন ভারতের ই-রুপি ও চীনের ডিজিটাল ইউয়ান) একটি সাধারণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এটি সফল হলে ডলার ছাড়াই দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য করতে পারবে।
পুরোপুরি সাধারণ মুদ্রা না হলেও জোটের ভেতরে বাণিজ্যের হিসাব মেটাতে ‘দ্য ইউনিট’ নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল টোকেনের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালানো হয়েছে। এটি পকেটে রাখার মতো মুদ্রা নয়। এটি এমন একটি হিসাবের মাধ্যম, যার মূল্যের ৪০ শতাংশ নির্ধারিত হবে সোনার দামে এবং বাকি ৬০ শতাংশ ব্রিকস দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রার মানের ওপর ভিত্তি করে।
বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদের মতে, ডলারের আধিপত্য দ্রুত শেষ হচ্ছে না। কারণ বিশ্বে রিজার্ভের বড় অংশ এখনো ডলারেই রাখা হয়। বাণিজ্যের বড় অংশের লেনদেনও ডলারে মেটানো হয়। এছাড়া মার্কিন ট্রেজারি বন্ড এখনো বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের একটি। বিশ্ববাজারে ডলারের তারল্য ও গ্রহণযোগ্যতার বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পেট্রোডলারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতে যদি বিভিন্ন মুদ্রায় তেল কেনাবেচা বাড়ে, তবে আমদানিকারক দেশগুলো অর্থ পরিশোধের নতুন বিকল্প পাবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, বিনিময় হার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতেও পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তন শুধু রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
বাংলাদেশের রিজার্ভ এখনো মূলত ডলারভিত্তিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি আমদানি, বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং বিদেশি সহায়তার বড় অংশই ডলারে লেনদেন হয়। ফলে বিশ্ববাজারে ডলার নিয়ে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে তার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসে লাগে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বাস্তবতা কয়েকবারই দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পণ্য সরবরাহে বাধা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশও বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকটে পড়ে। আমদানি খরচ বেড়ে যায়, রিজার্ভ কমতে থাকে এবং মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, দীর্ঘমেয়াদে একটিমাত্র মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল হওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম ও’ নিলের মতে, আগামী কয়েক বছরের জন্য তিনটি সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। প্রথমত, বাণিজ্যে ডলারের পাশাপাশি ইউয়ান, রুপি, দিরহাম ও ইউরোর ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্রিকস জোটে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়লেও তা বিশ্বজুড়ে দ্রুত ডলারের জায়গা দখল করতে পারবে না। তৃতীয়ত, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল মুদ্রা ও বিকল্প আন্তঃদেশীয় পেমেন্ট নেটওয়ার্কের যদি দ্রুত বিস্তার ঘটে, তবে ডলারের ওপর নির্ভরতা আরও কমবে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স , রিসার্চ গেট, রিও টাইমস, ওআরএফ অনলাইন, ফিন্যান্স ডট ইয়াহু ডটকম

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এ জন্য একটি স্বতন্ত্র পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ঢাকায় একটি রুশ ব্যাংকের শাখা খোলারও প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।
সম্প্রতি দেশের গণমাধ্যমগুলোতে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-রাশিয়া ‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিশন অন ট্রেড, ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কোঅপারেশন’-এর বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হবে।
২০২৩ সালে ভারতের সঙ্গে রুপিতে লেনদেন করেছিল বাংলাদেশ। তখন দুই দেশের সরকারই এই বন্দোবস্তকে মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। তারা বলেছিল, এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে এবং ডলারের আধিপত্য পাশ কাটিয়ে নিজ মুদ্রায় বাণিজ্য করা সম্ভব হবে।
এর এক বছর পর গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেরিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাশিয়া নতুন করে রুপিতে বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রস্তাব দেয়।
বাংলাদেশের বৈশ্বিক লেনদেন ব্যবস্থাটি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এবং আমাদের ব্যাংকগুলোর ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ (বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্ট, যা একটি দেশীয় ব্যাংক বিদেশের কোনো ব্যাংকে সেই দেশের মুদ্রায় খোলে) আমেরিকান ব্যাংকগুলোতে অবস্থিত।
বিকল্প উপায়ে তথা ভিন্ন মুদ্রায় লেনদেন করতে গেলে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ওপর সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসার ভয় থাকে। নিষেধাজ্ঞা এলে ব্যাংকগুলো আর কোনো এলসি খুলতে পারবে না।
এমন পরিস্থিতিতে চীন, রাশিয়া বা ইরানের মতো শক্তিশালী দেশগুলো কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তিগুলো রাশিয়ার আর্থিক খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করলে রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিজেদের কিংবা স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে মনোযোগ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় চীন, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বিকল্প মুদ্রাব্যবস্থায় লেনদেনের চুক্তি কার্যকর করেছে মস্কো।

এখন বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আগ্রহ দেখাচ্ছে রাশিয়া। তাদের প্রস্তাব— বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যের অর্থ পরিশোধ ভারতীয় রুপির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। দুই দেশ মিলে একটি স্বাধীন পেমেন্ট নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যার উদ্দেশ্য পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে এই লেনদেনকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখা। সঙ্গে বিশ্ববাণিজ্যে পেট্রোডলারের আধিপত্য কিছুটা হলেও কমানো।
১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি কৌশলগত চুক্তি হয়। এর আওতায় সৌদি আরব আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির দাম ডলারে নিতে রাজি হয় এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক নিরাপত্তা জোগানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে ওপেকভুক্ত অন্যান্য দেশও একই পথ অনুসরণ করে। এর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় পেট্রোডলারের ধারণা।
এতে বিশ্বজুড়ে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর কাছে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রিজার্ভে বেশি বেশি ডলার রাখতে শুরু করে। একই সঙ্গে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো ডলার আয়ের বড় অংশ মার্কিন ব্যাংক ও সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে থাকে। এ প্রক্রিয়াটিকে বলে পেট্রোডলার রিসাইক্লিং।
বেশির ভাগ তেল বাণিজ্য এখনো ডলারেই হয়। তবে আগের তুলনায় স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বেড়েছে। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার পর দেশটি চীন ও ভারতের সঙ্গে অন্য মুদ্রায় লেনদেন বাড়িয়েছে। চীন অনেক দিন ধরেই ইউয়ানে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ভারতও কয়েকটি দেশের সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্য চালু করেছে। এমনকি সৌদি আরব বলেছে, প্রয়োজনে ডলারের পাশাপাশি অন্য মুদ্রায় বাণিজ্য করতে তারা প্রস্তুত।
রিসার্চ গেটের একটি গবেষণা ‘ডি-ডলারাইজেশন অ্যান্ড গ্লোবাল সভরেনটি: ব্রিকস কোয়েস্ট ফর আ নিউ ফিন্যান্সিয়াল প্যারাডাইম’-এ থেরিন ডসন আর্নল্ড ডলারের বদলে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো, রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো, লেনদেনের খরচ কমানো ও ভূরাজনৈতিক কৌশল।
থেরিন ডসনের মতে, ডলারে লেনদেনের অর্থই হলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক বিধিনিষেধ অনেক দেশের জন্যই ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা বিকল্প ব্যবস্থা গড়তে আগ্রহী। যেসব দেশ প্রচুর তেল আমদানি করে, তাদের বিশাল ডলার মজুত রাখতে হয়। স্থানীয় মুদ্রায় কেনাবেচা হলে সেই চাপ অনেকটাই কমে। কোনো দেশের মুদ্রাকে প্রথমে ডলার এবং পরে বিক্রেতা দেশের মুদ্রায় রূপান্তর করতে অতিরিক্ত ফিও গুনতে হয়। সরাসরি রুপি, ইউয়ান বা রিয়ালে লেনদেন করলে সেই খরচ বেঁচে যাবে। তা ছাড়া বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে বহুমুখী করতে হলে একটি মাত্র দেশের ওপর নির্ভর করাটা চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এটি নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও ব্রিকস এখনো ইউরোর মতো নতুন কোনো একক মুদ্রা চালু করেনি। অতীতে একটি যৌথ মুদ্রা চালুর বিষয়ে আলোচনা এবং প্রতীকী নোট দেখানো হলেও ব্রিকস দেশগুলো সেই পরিকল্পনা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। নতুন মুদ্রার বদলে তারা এখন ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদ জিম ও’ নিলের মতে, একক মুদ্রা থেকে সরে আসার মূল কারণ—ব্রিকস দেশগুলোর (চীন, ভারত, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা) অর্থনৈতিক কাঠামো, জিডিপি ও মুদ্রানীতি সম্পূর্ণ আলাদা। এ কারণে জোটের সভাপতি ব্রাজিল ২০২৫ সালে যৌথ মুদ্রার ধারণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করে দেয়।
ভারতও জানিয়েছে, মার্কিন ডলারের বিকল্প হিসেবে নতুন মুদ্রা আনার নীতিগত পরিকল্পনা নেই। তবে চীন ও ভারত—উভয় দেশেরই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য মার্কিন ডলারের ওপর একচ্ছত্র নির্ভরতা কমানো। তারা ব্রিকসের সাধারণ মুদ্রা চালুর চেয়ে নিজেদের মুদ্রাকেই আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী।

নতুন মুদ্রার বদলে ব্রিকস ২০২৬ সালে এসে ‘ব্রিকস পে’ নামে একটি স্বাধীন পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর দিকে এগিয়েছে। এটি পশ্চিমা দেশগুলোর নিয়ন্ত্রিত ‘সুইফট’ ব্যবস্থার বিকল্প হবে। এর মাধ্যমে ভারতের ইউপিআই, ব্রাজিলের পিক্স এবং চীনের সিআইপিএস-এর মতো নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করা হবে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনে এই ‘ব্রিকস পে’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
ডিজিটাল মুদ্রাগুলোর সংযুক্তি (সিবিডিসি ইন্টারঅপারেবিলিটি) নিয়েও কাজ চলছে। ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (আরবিআই) একটি বড় প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রাগুলোকে (যেমন ভারতের ই-রুপি ও চীনের ডিজিটাল ইউয়ান) একটি সাধারণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এটি সফল হলে ডলার ছাড়াই দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য করতে পারবে।
পুরোপুরি সাধারণ মুদ্রা না হলেও জোটের ভেতরে বাণিজ্যের হিসাব মেটাতে ‘দ্য ইউনিট’ নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল টোকেনের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালানো হয়েছে। এটি পকেটে রাখার মতো মুদ্রা নয়। এটি এমন একটি হিসাবের মাধ্যম, যার মূল্যের ৪০ শতাংশ নির্ধারিত হবে সোনার দামে এবং বাকি ৬০ শতাংশ ব্রিকস দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রার মানের ওপর ভিত্তি করে।
বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদের মতে, ডলারের আধিপত্য দ্রুত শেষ হচ্ছে না। কারণ বিশ্বে রিজার্ভের বড় অংশ এখনো ডলারেই রাখা হয়। বাণিজ্যের বড় অংশের লেনদেনও ডলারে মেটানো হয়। এছাড়া মার্কিন ট্রেজারি বন্ড এখনো বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের একটি। বিশ্ববাজারে ডলারের তারল্য ও গ্রহণযোগ্যতার বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পেট্রোডলারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতে যদি বিভিন্ন মুদ্রায় তেল কেনাবেচা বাড়ে, তবে আমদানিকারক দেশগুলো অর্থ পরিশোধের নতুন বিকল্প পাবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, বিনিময় হার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতেও পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তন শুধু রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
বাংলাদেশের রিজার্ভ এখনো মূলত ডলারভিত্তিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি আমদানি, বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং বিদেশি সহায়তার বড় অংশই ডলারে লেনদেন হয়। ফলে বিশ্ববাজারে ডলার নিয়ে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে তার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসে লাগে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বাস্তবতা কয়েকবারই দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পণ্য সরবরাহে বাধা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশও বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকটে পড়ে। আমদানি খরচ বেড়ে যায়, রিজার্ভ কমতে থাকে এবং মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, দীর্ঘমেয়াদে একটিমাত্র মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল হওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম ও’ নিলের মতে, আগামী কয়েক বছরের জন্য তিনটি সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। প্রথমত, বাণিজ্যে ডলারের পাশাপাশি ইউয়ান, রুপি, দিরহাম ও ইউরোর ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্রিকস জোটে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়লেও তা বিশ্বজুড়ে দ্রুত ডলারের জায়গা দখল করতে পারবে না। তৃতীয়ত, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল মুদ্রা ও বিকল্প আন্তঃদেশীয় পেমেন্ট নেটওয়ার্কের যদি দ্রুত বিস্তার ঘটে, তবে ডলারের ওপর নির্ভরতা আরও কমবে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স , রিসার্চ গেট, রিও টাইমস, ওআরএফ অনলাইন, ফিন্যান্স ডট ইয়াহু ডটকম
.png)

গত ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের নিয়োগ দেওয়া ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
দেশের ছাত্ররাজনীতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির—দুটি বহুল আলোচিত সংগঠন। কখনো তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে পাশাপাশি অবস্থান নিয়েছে, কখনো একই রাজনৈতিক জোটের অংশ হয়েছে, আবার কখনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
০৭ আগস্ট ২০২৬
কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান একাধিকবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের রাজনৈতিক সমস্যা এতদিন আড়ালেই ছিল। এখন সেই চিত্র বদলেছে, মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা পাকিস্তান সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
০৪ আগস্ট ২০২৬
বিহারের বাঙ্কিপুর বিধানসভা আসনে ১৯৯৫ সালের পর একবারও হারেনি বিজেপি। তবে ৩০ বছর পর সেই ছন্দে পতন হয়েছে। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতীন নবীনের ছেড়ে দেওয়া আসনটিতে উপনির্বাচনে হেরে গেছে তারই দলের প্রার্থী নীরাজ কুমার। অথচ কেন্দ্রের পাশাপাশি বিহার রাজ্যসভায়ও ক্ষমতায় বিজেপি।
০৪ আগস্ট ২০২৬