এক্সপ্লেইনার

আসছে ‘সুপার এল নিনো’, বাংলাদেশের সামনে কত বড় ঝুঁকি

স্ট্রিম গ্রাফিক

প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি শুধু আরেকটি মৌসুমি আবহাওয়ার ঘটনা নয়; আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি বাজার ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করছেন, এর অর্থনৈতিক প্রভাব ২০২৮ সাল পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে।

উদ্বেগের আরও একটি কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে বিশ্ব একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও জলবায়ুগত—দুটি বড় সরবরাহ-সংকটের মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি এখনো অনেকাংশে মৌসুমি বৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সম্ভাব্য সুপার এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর অভিঘাত পড়তে পারে কৃষি উৎপাদন, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, খাদ্যমূল্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশে এল নিনো মানেই খরা নয়। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের উষ্ণতা, ভারত মহাসাগরের জলবায়ুগত পরিবর্তন এবং মৌসুমি বায়ুর পারস্পরিক প্রভাবে একই এল নিনো কোথাও দীর্ঘ শুষ্ক সময়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণ হতে পারে।

সুপার এল নিনোর পথে বিশ্ব

এল নিনো হলো এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন (এনসো)-এর উষ্ণ পর্যায়। এ সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের ধরন বদলে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া)-এর ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর উষ্ণ পরিস্থিতি ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে নিনো-৩.৪ অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে +১.২ ডিগ্রি এবং নিনো-১+২ অঞ্চলে +২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

জলবায়ু মডেলগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে ‘ভেরি স্ট্রং এল নিনো’ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৮১ শতাংশ। এ ধরনের শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতিকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়।

একই সঙ্গে ২০২৭ সালের বসন্তের শুরু পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা ৯৭ শতাংশ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি ১৯৫০ সাল থেকে সংরক্ষিত রেকর্ডের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে।

কেন এত উদ্বেগ

অতীতে এল নিনোকে মূলত একটি আবহাওয়াগত ঘটনা হিসেবে দেখা হতো। এখন অর্থনীতিবিদরা এটিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

ইতালির ইউনিক্রেডিট ব্যাংক বলছে, শক্তিশালী এল নিনো আবারও ‘ক্লাইমেটফ্লেশন’ বা জলবায়ুজনিত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সামনে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে ডয়েচে ব্যাংক সতর্ক করেছে, এটি বৈশ্বিক খাদ্য ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সম্ভাব্য ধাক্কায় পরিণত হতে পারে।

বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দিয়েছে, শক্তিশালী এল নিনোর কারণে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে প্রায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কারণ জলবায়ুর প্রভাব ফসল উৎপাদন, নৌপরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় ধাপে ধাপে পড়ে। তবে এটি একটি মডেলভিত্তিক সম্ভাব্য হিসাব; বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে আবহাওয়া, উৎপাদন, বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর।

কিছু বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভোক্তাপর্যায়ে পুরোপুরি প্রতিফলিত হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এটি সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতির নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডাব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো শুধু খরা নয়, তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনাও বাড়িয়ে দিতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবী এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উষ্ণ। তাই একই মাত্রার এল নিনোও অতীতের তুলনায় বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। যার প্রভাব সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতেও পড়বে।

বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি কেন আলাদা

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো—এল নিনো মানেই খরা। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা সাধারণভাবে এল নিনোকে দুই ভাগে ভাগ করেন—ইস্টার্ন প্যাসিফিক এল নিনো (ইপিই) এবং সেন্ট্রাল প্যাসিফিক এল নিনো (সিপিই বা মোডোকি)।

১৯৮২-৮৩, ১৯৯১-৯২ ও ১৯৯৭-৯৮ সালের শক্তিশালী ইস্টার্ন প্যাসিফিক এল নিনোর সময় বাংলাদেশে কিছু অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তবে এসব পরিস্থিতি শুধু এল নিনোর ধরন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না; ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা, বঙ্গোপসাগরের অবস্থা এবং মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিপরীতে ১৯৮৭, ২০১৫-১৬ ও ২০২৩-২৪ সালের সেন্ট্রাল প্যাসিফিক এল নিনোর সময় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা হয়েছে। অর্থাৎ, এল নিনো থাকলেই বাংলাদেশে খরা হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জলবায়ুবিজ্ঞানী ড. মো. রাশেদ চৌধুরী মনে করেন, এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ব্যতিক্রমী। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইস্টার্ন প্যাসিফিক এল নিনোর মতো হলেও বায়ুমণ্ডলের প্রতিক্রিয়ায় সেন্ট্রাল প্যাসিফিক এল নিনোর বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে। এ কারণেই চলতি বছর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

তার মতে, এল নিনোর সর্বোচ্চ শক্তি যদি বছরের শেষ দিকে পৌঁছায়, তাহলে মৌসুমি বৃষ্টির ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক সীমিত থাকতে পারে। তাই এখনই ১৯৯৭-৯৮ সালের মতো ভয়াবহ খরার আশঙ্কা করার প্রয়োজন নেই।

সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের পরিচালক গোলাম রব্বানী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, দেশের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ ও খরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবার অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে, যা আকস্মিক বন্যার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে বঙ্গোপসাগরের ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা। উষ্ণ সমুদ্র বেশি জলীয়বাষ্প তৈরি করে, যা স্বল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (আইওডি) এবং ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশনের (এমজেও) মতো জলবায়ুগত প্রক্রিয়াও বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতকে প্রভাবিত করে। ফলে বৈশ্বিক পূর্বাভাসের সঙ্গে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সব সময় এক হয় না।

বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তায় ঝুঁকি

দেশের কৃষি এখনো অনেকাংশে মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে আমন ধানের আবাদ বর্ষাকালের বৃষ্টির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মৌসুমি বৃষ্টি কম হলে আমনের চারা রোপণ ব্যাহত হতে পারে। আবার দীর্ঘ তাপপ্রবাহে মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় সেচের প্রয়োজন ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই বাড়বে।

শুধু ধান নয়, গম, ভুট্টা, ডাল, সবজি এবং অন্যান্য তাপমাত্রাসংবেদনশীল ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, তীব্র এল নিনোর সময় দক্ষিণ এশিয়ার কিছু এলাকায় ধান উৎপাদন ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এই ঝুঁকি অঞ্চল, ফসলের ধরন এবং স্থানীয় আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ আঞ্চলিক খাদ্যবাজারে অস্থিরতা। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত গম, চাল ও আখের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর উৎপাদন কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়বে, যার প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়বে।

সম্ভাব্য সুপার এল নিনো নদীর পানিপ্রবাহেও প্রভাব ফেলতে পারে। মৌসুমি বৃষ্টি কমে গেলে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পানিপ্রবাহ কমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা প্রবেশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এর মাত্রা নির্ভর করবে উজানের পানি প্রবাহ, নদী ব্যবস্থাপনা, জোয়ার এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের অবস্থার ওপর।

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক ও বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাজিব কুমার সাহা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ শুষ্ক সময় ও নদীর প্রবাহ কমে গেলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়বে। এতে আমন ধানসহ কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েক মাস পর খাদ্যসংকটের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ

সুপার এল নিনোর প্রভাব কৃষির পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকেও উসকে দিতে পারে। ইউনিক্রেডিট ব্যাংকের ভাষায়, এটি আবারও ‘ক্লাইমেটফ্লেশন’ বা জলবায়ুজনিত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করছে। ডয়েচে ব্যাংকের মতে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম একসঙ্গে বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হতে পারে।

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি, সার ও পরিবহন ব্যয় ইতোমধ্যে বেড়েছে। এর সঙ্গে জলবায়ুর কারণে কৃষি উৎপাদন কমে গেলে বিশ্ব একই সঙ্গে দুটি বড় সরবরাহ-সংকটের মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি বড় ঝুঁকি, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের মূল্যস্ফীতিতে।

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. দীপ্তি সিং বলেন, অতীতের এল নিনোর তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির বড় পার্থক্য হলো—পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্র এখন অনেক বেশি উষ্ণ। ফলে এবারের চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো আরও তীব্র হতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক এবং অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন কর্মসূচি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে একটি সম্ভাব্য সুপার এল নিনো মৌসুমি বৃষ্টিপাত, কৃষি, পানির প্রাপ্যতা ও খাদ্যদ্রব্যের দামের ওপর একসঙ্গে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এমন বহুমুখী চাপে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি পরীক্ষা হয়নি।

বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়িয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের এই নতুন বাস্তবতায় শুধু দুর্যোগ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে আগাম প্রস্তুতিই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।

ড. মো. রাশেদ চৌধুরীর মতে, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে এখনই প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, কৃষকদের আগাম পরামর্শ, খাদ্যশস্যের কৌশলগত মজুত এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প আমদানির পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা জরুরি।

রাজিব কুমার সাহা সুপারিশ করেছেন, কৃষকদের জন্য রোপণের সময়, সেচব্যবস্থা ও বীজ নির্বাচনে পূর্বাভাসভিত্তিক পরামর্শ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার আগাম প্রস্তুতিও জোরদার করা প্রয়োজন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত