বান্দরবানে বাড়িঘরের কাদা সরাতে ব্যস্ততা, রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক এখনও বন্ধ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বান্দরবান

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৪: ১৬
বন্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত একটা ফসলি খেত দেখছেন চাষি পরিবার। সংগৃহীত ছবি

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিও স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে এসেছে। পানি নেমে যাওয়ায় বাড়িঘর ও দোকানপাট পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। যান চলাচল শুরু হয়েছে অধিকাংশ সড়কে। তবে রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনও বন্ধ আছে।

শহরের আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, কাশেমপাড়া, ইসলামপুর, হাফেজঘোনা, ক্যচিংঘাটা ও বালাঘাটা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি কমে যাওয়ায় অনেকেই ঘরে ফিরে কাদামাটি সরিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছেন। জীবিকার তাগিদে ধীরে ধীরে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন লোকজন। বন্ধ দোকানপাট খুলে ঠিকঠাক করছেন ব্যবসায়ীরা। এসব এলাকায় দুই দিন আগেও বুকসমান পানি ছিল।

বান্দরবান শহরের বাড়িঘরের কাদা সরাতে ব্যস্ত লোকজন। স্ট্রিম ছবি
বান্দরবান শহরের বাড়িঘরের কাদা সরাতে ব্যস্ত লোকজন। স্ট্রিম ছবি

আর্মি পাড়ার বাসিন্দা রুমা বেগম বলেন, এখন পানি নেই বললেই চলে। ঘরের ভেতর প্রচুর কাদা। এখনো পরিষ্কার করতছি। সারা দিন সময় লাগবে। উজানিপাড়া বাসিন্দা উসাংমা মারমা বলেন, গতকাল থেকে বাড়ি পরিষ্কার করছি। কাঠের ঘর হওয়ার কারণে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। জিনিসপত্র সব রাস্তার ওপরে আজকে নামাবো।

কাসেমপাড়ার ব্যবসায়ী কালাম হওলাদার বলেন, পাঁচ দিন পানিবন্দি ছিলাম। পাশের বাসায় চারতলায় আশ্রয় নিয়েছি। হঠাৎ পানি ওঠায় দোকানের কোনো জিনিস বের করতে পারিনি। এখন দোকান পরিষ্কার করছি সারারাত ধরে। আরও দুই থেকে তিন দিন লাগবে সব ঠিকঠাক হতে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক এস এ মঞ্জুরুল হক জানান, পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কিছু মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা করছি। অনেকেই ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। এখনও যেহেতু বেশিরভাগ বাড়িঘর পরিষ্কার করছে। তারা রান্না করতে পারবে না। এ কারণে দুপুরে ও রাতে খাবার দেব।

বান্দরবানে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়ক। স্টিম ছবি
বান্দরবানে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়ক। স্টিম ছবি

রাঙামাটির সঙ্গে এখনও সড়ক বন্ধ

বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে রাঙামাটির সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বাঙ্গালহালিয়া সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় একটি সেতু ভেঙে যাওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে জেলা শহরের অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও এখনও সামান্য জলাবদ্ধতা থাকলেও পায়ে হেঁটে পাড় হওয়া যাচ্ছে। রোয়াংছড়ির সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগও সচল রয়েছে। এছাড়া লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নিচু এলাকার পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রুমা ও থানচি উপজেলায় এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, কিছু এলাকায় চাঁদের গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে যাতায়াত করছেন তারা। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কও স্বাভাবিক হয়েছে।

বান্দরবান শহরে বাড়িঘরের কাদা সরাতে ব্যস্ত লোকজন। স্ট্রিম ছবি
বান্দরবান শহরে বাড়িঘরের কাদা সরাতে ব্যস্ত লোকজন। স্ট্রিম ছবি

পরিবহন মালিকরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে দূরপাল্লার বাস চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সড়কেও যান চলাচল শুরু হয়েছে, যদিও কিছু এলাকায় এখনো সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছ। এছাড়া পাহাড়ধসের কারণে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচির সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা চাঁদের গাড়িতে ভেঙে ভেঙে যাতায়াত করছেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তাদের আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তথ্য সংগ্রহ শেষে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানা যাবে।

অন্যদিকে, বন্যায় জেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখনো এর পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। কৃষি বিভাগ পুরো জেলার ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত