এক্সপ্লেইনার
স্ট্রিম ডেস্ক

মাঝেমধ্যেই দেখা যায় কেউ বাসায় টিয়া পাখি পুষছেন, কেউ পুষছেন বানর বা কচ্ছপ। আবার অভিযানে উদ্ধার হচ্ছে অজগর, পেঁচা কিংবা শকুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রায়ই বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। অনেকেই মনে করেন, ‘একটা পাখি বা কচ্ছপ পুষলে সমস্যা কোথায়?’
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সব প্রাণী এক শ্রেণির নয়। কিছু প্রাণী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী, যাদের ধরা, পোষা, কেনাবেচা বা হত্যা আইনত অপরাধ। আবার গরু, ছাগল, হাঁস বা মুরগির মতো গৃহপালিত প্রাণী এই আইনের আওতায় পড়ে না।
তাই কোন প্রাণীকে আইন বন্যপ্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে, আর কোনটিকে করে না—এটি জানা জরুরি।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী, প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাসকারী বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি (অতিথি পাখিসহ), সরীসৃপ, উভচর এবং আইনের তফসিলভুক্ত অন্যান্য প্রাণী বন্যপ্রাণী হিসেবে বিবেচিত। শুধু প্রাণী নয়, অনেক ক্ষেত্রে তাদের ডিম, বাসা, প্রজননস্থল এবং দেহের অংশও আইনি সুরক্ষার আওতায় আসে।
অর্থাৎ কোনো প্রাণী ছোট বা বড়—এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেটি প্রকৃতিতে স্বাধীনভাবে বসবাসকারী বন্য প্রজাতি কি না।
বাংলাদেশের বাঘ, এশীয় হাতি, মেছোবাঘ, চিতা বিড়াল, বনরুই, উল্লুক গিবন, লজ্জাবতী বানর, রেসাস বানর, হনুমান, উদবিড়াল, শিয়াল, শুশুকসহ অসংখ্য স্তন্যপায়ী প্রাণী আইন অনুযায়ী সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী।
অনেকেই মনে করেন, বানর বা হনুমান বাসার কাছে দেখা যায় বলে এগুলো পোষা বৈধ। বাস্তবে অনুমতি ছাড়া কোনো বন্য বানর বা হনুমান ধরে রাখা বা পোষা আইনত অপরাধ। একইভাবে বনরুই, বুনো বিড়াল, মেছোবাঘ কিংবা শুশুকও সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
বাংলাদেশে টিয়া পাখি, পেঁচা, ঈগল, বাজ, শকুন, ধনেশ, মাছরাঙা, বক, সারস এবং প্রতিবছর শীতে আসা বিভিন্ন অতিথি পাখিও আইনের সুরক্ষায় রয়েছে।
এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল করেন মানুষ। বাজারে টিয়া পাখি বিক্রি হতে দেখেই অনেকেই মনে করেন এগুলো পোষা বৈধ। অথচ দেশীয় টিয়া প্রজাতি ধরা, কেনাবেচা বা বাসায় পোষা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
একইভাবে আহত পেঁচা বা শিকার করা বন্য পাখি নিজের কাছে রেখে দেওয়াও আইন লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের প্রাণী উদ্ধার হলে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে হয়।
অনেকেই সরীসৃপকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বাংলাদেশে অজগর, গোখরা, কিং কোবরা, গুইসাপ, বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ এবং কুমিরও বন্যপ্রাণী হিসেবে আইনি সুরক্ষা পায়।
বিশেষ করে কচ্ছপ পাচার এবং অজগর ধরে বিক্রির ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে। এসব কাজ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
গৃহপালিত প্রাণী যেমন গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, গৃহপালিত কবুতর, কুকুর ও বিড়াল এই আইনের আওতায় পড়ে না।
তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—গৃহপালিত কবুতর বন্যপ্রাণী নয়, কিন্তু বন্য কবুতরের কিছু প্রজাতি বা অন্য কোনো দেশীয় বন্য পাখি এই আইনের সুরক্ষার আওতায় থাকতে পারে। তাই শুধু দেখতে একই রকম হলেই সব প্রাণীর আইনি অবস্থান এক নয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অধিকাংশ মানুষ আইন ভাঙেন অজান্তেই। কেউ শখ করে টিয়া পাখি কেনেন, কেউ বানরের বাচ্চা পালন করেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কচ্ছপ, পেঁচা কিংবা সাপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন।
কেউ কেউ আহত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে দীর্ঘদিন নিজের কাছেই রেখে দেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী নিজের কাছে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে যত দ্রুত সম্ভব বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হয়।
অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ মনে করেন, প্রাণীটিকে ভালোবেসে পুষছেন, তাই এতে কোনো অপরাধ নেই। কিন্তু বন্যপ্রাণী প্রকৃতির জন্য, মানুষের ঘরের জন্য নয়—এই নীতির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন।
অনেক সময় কোনো বন্যপ্রাণী আহত অবস্থায় গ্রামে, শহরে বা বাড়ির আশপাশে চলে আসে। আবার অবৈধ বাণিজ্য বা পাচারকারীদের কাছ থেকেও প্রাণী উদ্ধার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণীটিকে নিজের কাছে রেখে চিকিৎসা করাতে বা পোষার চেষ্টা করেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী সেটি সঠিক পদ্ধতি নয়।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, আহত বা বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধার হলে যত দ্রুত সম্ভব বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। প্রয়োজন হলে বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা প্রাণীটিকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। কারণ বন্যপ্রাণীর সঠিক খাদ্য, চিকিৎসা ও পুনরায় প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
অনেকেই ভাবেন, শুধু বন্যপ্রাণী হত্যা করলেই অপরাধ হয়। বাস্তবে আইনের পরিধি আরও বিস্তৃত। অনুমতি ছাড়া কোনো সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী ধরা, আটকে রাখা, পোষা, কেনাবেচা করা, উপহার দেওয়া, পরিবহন করা কিংবা বিদেশে পাচার করা—সবই দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে প্রাণীর চামড়া, দাঁত, শিং, হাড়, পালক, ডিম বা শরীরের অন্য কোনো অংশ সংগ্রহ, বিক্রি বা সংরক্ষণ করাও আইন লঙ্ঘন।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বন্যপ্রাণী বেচাকেনার প্রবণতা বেড়েছে। দেশের বাইরে থেকে লাগেজে লুকিয়ে আনা হচ্ছে এসব প্রাণী। ফেসবুক বা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিয়া, কচ্ছপ, সাপ, বানর কিংবা বিরল পাখি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া বা এসব কেনাবেচায় অংশ নেওয়াও আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২–এ প্রাণীর সংরক্ষণগত গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তির মাত্রাও ভিন্ন।
বাঘ ও হাতির মতো উচ্চমাত্রায় সুরক্ষিত প্রাণী (সিডিউল-১) হত্যা করলে দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের মামলা অজামিনযোগ্য।
গিবন, হরিণ, কুমির, শুশুকসহ অন্যান্য উচ্চমাত্রায় সুরক্ষিত (সিডিউল-১) স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ হত্যার জন্যও কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। একইভাবে সুরক্ষিত পাখি বা অতিথি পাখি হত্যা, শিকার বা পাচার করলেও আইনের আওতায় শাস্তি হতে পারে।
এ ছাড়া বন্যপ্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বেচাকেনা, ভুয়া পারমিট ব্যবহার বা অবৈধ পরিবহনের মতো অপরাধেও কারাদণ্ড, জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
২০২৫ সালে সরকার একটি খসড়া বন্যপ্রাণী সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রস্তাব করেছে। এটি এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি, তবে এতে বিদ্যমান আইনের কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খসড়ায় আরও বেশি প্রজাতিকে সুরক্ষার আওতায় আনা, অধিক সংখ্যক অপরাধকে অজামিনযোগ্য করা এবং বন্যপ্রাণী নির্যাতনের ভিডিও ধারণ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কাজকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য আইন থাকলেও বাস্তবে এখনো অবৈধ শিকার, পাচার এবং অনলাইনে বেচাকেনার ঘটনা ঘটে। এর অন্যতম কারণ সচেতনতার অভাব। অনেক মানুষই জানেন না যে, দেশি টিয়া পাখি, পেঁচা, বানর কিংবা কচ্ছপ ঘরে পুষে রাখাও আইন লঙ্ঘন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইন ভাঙার অনেক ঘটনাই ঘটে অজ্ঞতার কারণে।

মাঝেমধ্যেই দেখা যায় কেউ বাসায় টিয়া পাখি পুষছেন, কেউ পুষছেন বানর বা কচ্ছপ। আবার অভিযানে উদ্ধার হচ্ছে অজগর, পেঁচা কিংবা শকুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রায়ই বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। অনেকেই মনে করেন, ‘একটা পাখি বা কচ্ছপ পুষলে সমস্যা কোথায়?’
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সব প্রাণী এক শ্রেণির নয়। কিছু প্রাণী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী, যাদের ধরা, পোষা, কেনাবেচা বা হত্যা আইনত অপরাধ। আবার গরু, ছাগল, হাঁস বা মুরগির মতো গৃহপালিত প্রাণী এই আইনের আওতায় পড়ে না।
তাই কোন প্রাণীকে আইন বন্যপ্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে, আর কোনটিকে করে না—এটি জানা জরুরি।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী, প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাসকারী বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি (অতিথি পাখিসহ), সরীসৃপ, উভচর এবং আইনের তফসিলভুক্ত অন্যান্য প্রাণী বন্যপ্রাণী হিসেবে বিবেচিত। শুধু প্রাণী নয়, অনেক ক্ষেত্রে তাদের ডিম, বাসা, প্রজননস্থল এবং দেহের অংশও আইনি সুরক্ষার আওতায় আসে।
অর্থাৎ কোনো প্রাণী ছোট বা বড়—এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেটি প্রকৃতিতে স্বাধীনভাবে বসবাসকারী বন্য প্রজাতি কি না।
বাংলাদেশের বাঘ, এশীয় হাতি, মেছোবাঘ, চিতা বিড়াল, বনরুই, উল্লুক গিবন, লজ্জাবতী বানর, রেসাস বানর, হনুমান, উদবিড়াল, শিয়াল, শুশুকসহ অসংখ্য স্তন্যপায়ী প্রাণী আইন অনুযায়ী সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী।
অনেকেই মনে করেন, বানর বা হনুমান বাসার কাছে দেখা যায় বলে এগুলো পোষা বৈধ। বাস্তবে অনুমতি ছাড়া কোনো বন্য বানর বা হনুমান ধরে রাখা বা পোষা আইনত অপরাধ। একইভাবে বনরুই, বুনো বিড়াল, মেছোবাঘ কিংবা শুশুকও সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
বাংলাদেশে টিয়া পাখি, পেঁচা, ঈগল, বাজ, শকুন, ধনেশ, মাছরাঙা, বক, সারস এবং প্রতিবছর শীতে আসা বিভিন্ন অতিথি পাখিও আইনের সুরক্ষায় রয়েছে।
এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল করেন মানুষ। বাজারে টিয়া পাখি বিক্রি হতে দেখেই অনেকেই মনে করেন এগুলো পোষা বৈধ। অথচ দেশীয় টিয়া প্রজাতি ধরা, কেনাবেচা বা বাসায় পোষা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
একইভাবে আহত পেঁচা বা শিকার করা বন্য পাখি নিজের কাছে রেখে দেওয়াও আইন লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের প্রাণী উদ্ধার হলে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে হয়।
অনেকেই সরীসৃপকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বাংলাদেশে অজগর, গোখরা, কিং কোবরা, গুইসাপ, বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ এবং কুমিরও বন্যপ্রাণী হিসেবে আইনি সুরক্ষা পায়।
বিশেষ করে কচ্ছপ পাচার এবং অজগর ধরে বিক্রির ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে। এসব কাজ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
গৃহপালিত প্রাণী যেমন গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, গৃহপালিত কবুতর, কুকুর ও বিড়াল এই আইনের আওতায় পড়ে না।
তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—গৃহপালিত কবুতর বন্যপ্রাণী নয়, কিন্তু বন্য কবুতরের কিছু প্রজাতি বা অন্য কোনো দেশীয় বন্য পাখি এই আইনের সুরক্ষার আওতায় থাকতে পারে। তাই শুধু দেখতে একই রকম হলেই সব প্রাণীর আইনি অবস্থান এক নয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অধিকাংশ মানুষ আইন ভাঙেন অজান্তেই। কেউ শখ করে টিয়া পাখি কেনেন, কেউ বানরের বাচ্চা পালন করেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কচ্ছপ, পেঁচা কিংবা সাপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন।
কেউ কেউ আহত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে দীর্ঘদিন নিজের কাছেই রেখে দেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী নিজের কাছে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে যত দ্রুত সম্ভব বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হয়।
অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ মনে করেন, প্রাণীটিকে ভালোবেসে পুষছেন, তাই এতে কোনো অপরাধ নেই। কিন্তু বন্যপ্রাণী প্রকৃতির জন্য, মানুষের ঘরের জন্য নয়—এই নীতির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন।
অনেক সময় কোনো বন্যপ্রাণী আহত অবস্থায় গ্রামে, শহরে বা বাড়ির আশপাশে চলে আসে। আবার অবৈধ বাণিজ্য বা পাচারকারীদের কাছ থেকেও প্রাণী উদ্ধার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণীটিকে নিজের কাছে রেখে চিকিৎসা করাতে বা পোষার চেষ্টা করেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী সেটি সঠিক পদ্ধতি নয়।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, আহত বা বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধার হলে যত দ্রুত সম্ভব বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। প্রয়োজন হলে বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা প্রাণীটিকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। কারণ বন্যপ্রাণীর সঠিক খাদ্য, চিকিৎসা ও পুনরায় প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
অনেকেই ভাবেন, শুধু বন্যপ্রাণী হত্যা করলেই অপরাধ হয়। বাস্তবে আইনের পরিধি আরও বিস্তৃত। অনুমতি ছাড়া কোনো সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী ধরা, আটকে রাখা, পোষা, কেনাবেচা করা, উপহার দেওয়া, পরিবহন করা কিংবা বিদেশে পাচার করা—সবই দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে প্রাণীর চামড়া, দাঁত, শিং, হাড়, পালক, ডিম বা শরীরের অন্য কোনো অংশ সংগ্রহ, বিক্রি বা সংরক্ষণ করাও আইন লঙ্ঘন।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বন্যপ্রাণী বেচাকেনার প্রবণতা বেড়েছে। দেশের বাইরে থেকে লাগেজে লুকিয়ে আনা হচ্ছে এসব প্রাণী। ফেসবুক বা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিয়া, কচ্ছপ, সাপ, বানর কিংবা বিরল পাখি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া বা এসব কেনাবেচায় অংশ নেওয়াও আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২–এ প্রাণীর সংরক্ষণগত গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তির মাত্রাও ভিন্ন।
বাঘ ও হাতির মতো উচ্চমাত্রায় সুরক্ষিত প্রাণী (সিডিউল-১) হত্যা করলে দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের মামলা অজামিনযোগ্য।
গিবন, হরিণ, কুমির, শুশুকসহ অন্যান্য উচ্চমাত্রায় সুরক্ষিত (সিডিউল-১) স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ হত্যার জন্যও কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। একইভাবে সুরক্ষিত পাখি বা অতিথি পাখি হত্যা, শিকার বা পাচার করলেও আইনের আওতায় শাস্তি হতে পারে।
এ ছাড়া বন্যপ্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বেচাকেনা, ভুয়া পারমিট ব্যবহার বা অবৈধ পরিবহনের মতো অপরাধেও কারাদণ্ড, জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
২০২৫ সালে সরকার একটি খসড়া বন্যপ্রাণী সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রস্তাব করেছে। এটি এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি, তবে এতে বিদ্যমান আইনের কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খসড়ায় আরও বেশি প্রজাতিকে সুরক্ষার আওতায় আনা, অধিক সংখ্যক অপরাধকে অজামিনযোগ্য করা এবং বন্যপ্রাণী নির্যাতনের ভিডিও ধারণ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কাজকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য আইন থাকলেও বাস্তবে এখনো অবৈধ শিকার, পাচার এবং অনলাইনে বেচাকেনার ঘটনা ঘটে। এর অন্যতম কারণ সচেতনতার অভাব। অনেক মানুষই জানেন না যে, দেশি টিয়া পাখি, পেঁচা, বানর কিংবা কচ্ছপ ঘরে পুষে রাখাও আইন লঙ্ঘন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইন ভাঙার অনেক ঘটনাই ঘটে অজ্ঞতার কারণে।
.png)

খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি বা বান্দরবানে সংঘর্ষ, অপহরণ কিংবা গোলাগুলির কোনো ঘটনায় প্রায়ই দুটি নাম শোনা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। তবে অনেকেই জানেন না, দুটি সংগঠনের জন্ম একই প্রেক্ষাপট থেকে হলেও পরে মতপার্থক্যের কারণে তারা আলাদা পথে হাঁটে।
৫ ঘণ্টা আগে
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় জানাজা ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তেহরান থেকে কোম, পরে মাশহাদ এবং ইরাকের শিয়া পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে ইরান।
১৪ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরের শুরুতেও সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আগের হার বহাল রাখা হয়েছিল। বাজেটের আগেও ধারণা করা হচ্ছিল, ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবারও মুনাফার হার কমানো হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি।
০৫ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ৪ জুলাই হচ্ছে গৌরবের দিন। গতকাল শনিবার এই দিনে স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন করেছে দেশটি। কিন্তু একই দিনে বিশ্বের অন্য প্রান্তে, ইরানের রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠান, যা চলবে আগামী সাত দিন পর্যন্ত।
০৫ জুলাই ২০২৬