জাতিসংঘে প্রস্তাব:
লেখা:

ট্রান্সআটলান্টিক বা আটলান্টিক পাড়ের দাস ব্যবসাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এবং ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) অনুষ্ঠিত ভোটে ১২৩টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোসহ ৫২টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে।
ঘানার আনা এই প্রস্তাবের ওপর ভোট শেষে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমাদের মনে রাখা দরকার, অনেক পশ্চিমা দেশের সম্পদ ‘চুরি করা জীবন এবং চুরি করা শ্রমের’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
আফ্রিকা ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর সমর্থন পাওয়া এই প্রস্তাব আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন এই প্রস্তাব একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বর্ণবাদ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক আলমাজ তেফেরা বিবিসিকে বলেন, জাতিসংঘে এই বিতর্ক হওয়া রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এর প্রতীকী মূল্য অনেক। এই ভোটের ফলে ক্ষতিপূরণ বা কোনো ধরনের আর্থিক অনুদান নিয়ে আলোচনার পথ আরও সুগম হতে পারে।
দাসপ্রথায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
পঞ্চদশ থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ আফ্রিকান পুরুষ, নারী ও শিশুকে বন্দী করে দাস হিসেবে কাজ করার জন্য আমেরিকায় পাচার করা হয়। তাদের স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় দেশ নিয়ন্ত্রিত উপনিবেশগুলোতে পাঠানো হয়। ধারণা করা হয় দাস বহনকারী জাহাজগুলোতেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। শত শত বছরের সেই শোষণের প্রভাব আজও রয়ে গেছে।
ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্য হলো, যাদের পূর্বপুরুষদের দাসত্বে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ঘানা প্রস্তাবিত এই প্রস্তাবে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দাস ব্যবসার জন্য ক্ষমা চাওয়ার ও ক্ষতিপূরণ তহবিলে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ নিজে থেকেই ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচারের বা ‘রিপারেটরি জাস্টিস’ ধারণাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, এই ধরনের বিচার প্রক্রিয়ায় ‘বিভিন্ন রূপের ক্ষতিপূরণ’ থাকতে হবে। তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সদস্য দেশগুলোকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে পারে না।
স্প্যানিশ উপনিবেশবাদের গবেষক মার্টিনেজ বলেন, আন্দোলন এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপের কারণেই অনেক দেশ ক্ষতিপূরণ নীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। কেউ ভয়ে ভয়ে আবার কেউ সাহসের সঙ্গে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন উপ-রাষ্ট্রদূত ড্যান নেগ্রিয়া ভোটের আগে স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র দাস ব্যবসাকে নৈতিকভাবে জঘন্য মনে করে। তবে যখন এইসব ঘটনা ঘটেছে তখনকার আন্তর্জাতিক আইনে তা ‘বেআইনি’ ছিল না। আন্তর্জাতিক আইনে অতীতের ঘটনার জন্য বর্তমানে আইনি দায়ভার চাপানোর সুযোগ নেই। তাই শত শত বছর আগের কোনো ঘটনার জন্য বর্তমান যুগে এসে ক্ষতিপূরণ দাবি করার ‘আইনি অধিকার’ যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে না।
প্রস্তাবে আটলান্টিক দাস ব্যবসাকে মানব ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই শব্দচয়নের বিরোধিতা করেছে। মার্কিন প্রতিনিধি জানান, মানবতার বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধগুলোর মধ্যে এ ধরনের কোনো ‘র্যাঙ্কিং’ বা শ্রেণিবিন্যাস করা একেবারেই অনুচিত। এই ধরনের র্যাঙ্কিং ইতিহাসের অন্যান্য জঘন্য হত্যাযজ্ঞ বা নির্মমতার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের কষ্টকে অবজেক্টিভলি বা দৃশ্যত ছোট করে।
শত শত বছর আগের অপরাধের জন্য বর্তমান প্রজন্মের করদাতাদের অর্থে ক্ষতিপূরণ দেওয়াটা মার্কিন প্রশাসন অযৌক্তিক মনে করে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের আপত্তির মূল জায়গা ছিল প্রস্তাবের ভাষা। ইসরায়েল মনে করে, দাস ব্যবসাকে মানব ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ বলে স্বীকৃতি দিলে তা ইতিহাসের অন্যান্য ভয়ংকর গণহত্যা, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর ‘হলোকাস্ট’-এর ভয়াবহতাকে ম্লান করে দেয়।
ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের মতো মনে করে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অতীতের কোনো ঘটনার জন্য বর্তমান সময়ে এসে রাষ্ট্রগুলোর ওপর ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপানো উচিত নয় এবং অপরাধের তীব্রতা মাপার এই চেষ্টা কূটনৈতিকভাবে সমস্যাজনক। একই কারণে আর্জেন্টিনাও এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়।
যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো সরাসরি বিপক্ষে ভোট না দিলেও তারা ভোটদানে বিরত ছিল। তারাও মনে করে, আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে এমন ক্ষতিপূরণের দাবি মেনে নিলে তা ভবিষ্যতে অন্যান্য ঐতিহাসিক ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণের বিশাল এক আইনি ও আর্থিক দরজা খুলে দেবে।
ক্ষতিপূরণের দাবি শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে নয়, রাষ্ট্রগুলোর কাছেও করা হচ্ছে। ক্যারিকম কমিশনের ভাইস-চেয়ার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভেরিন শেফার্ড বলেন, ‘রাষ্ট্র সবসময়ই দোষী। কারণ রাষ্ট্রই এমন পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিল যেখানে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাগুলো দাসত্ব ও ঔপনিবেশিকতায় অংশ নিতে পেরেছিল।’
দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটলেও এর কাঠামোগত প্রভাব আজও রয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিলে সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪৯ লাখ) আফ্রিকান দাস নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, সেখানে আজও শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের দারিদ্র্যসীমায় বসবাস করার আশঙ্কা দ্বিগুণ। এই বৈষম্য দূর করতেই ক্ষতিপূরণ ও স্বীকৃতি প্রয়োজন।
আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেয়েও পক্ষের দেশগুলো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। অধ্যাপক ভেরিন শেফার্ড জানান, ভুক্তভোগী এবং তাদের বংশধরদের মানসিক শান্তির জন্য ইউরোপীয় সরকারগুলোর পক্ষ থেকে একটি ‘আন্তরিক ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা’ প্রয়োজন।
ঘানাভিত্তিক ডায়াসপোরা আফ্রিকান ফোরামের প্রধান ড. এরিকা বেনেট বলেন, এই স্বীকৃতির ব্যক্তিগত মূল্য রয়েছে। এর মানে হলো দাসত্বের শিকার হওয়া পূর্বপুরুষরা অবশেষে শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবেন।
ক্যারিবীয় দেশগুলোর জোট ‘ক্যারিকম’ ২০১৩ সালেই ক্ষতিপূরণের জন্য ১০-দফা পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তাদের যুক্তি হলো—এই ক্ষতিপূরণ শুধু নগদ অর্থ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি ঋণ মওকুফ করা এবং জনস্বাস্থ্য ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে বিনিয়োগ করা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) কর্মকর্তা সারা হামুদ বলেন, ‘আর্থিক দিক এর অংশমাত্র। আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা, সত্য তুলে ধরা এবং শিক্ষা—এই সবকিছুই হলো ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
যুক্তরাজ্যের কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের আইন বিশেষজ্ঞ লুক মফেট মনে করেন, আইনিভাবে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার আদায় করা হয়তো অসম্ভব । এর মানে এই নয় যে, অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী দুই পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসবে না।

ট্রান্সআটলান্টিক বা আটলান্টিক পাড়ের দাস ব্যবসাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এবং ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) অনুষ্ঠিত ভোটে ১২৩টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোসহ ৫২টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে।
ঘানার আনা এই প্রস্তাবের ওপর ভোট শেষে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমাদের মনে রাখা দরকার, অনেক পশ্চিমা দেশের সম্পদ ‘চুরি করা জীবন এবং চুরি করা শ্রমের’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
আফ্রিকা ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর সমর্থন পাওয়া এই প্রস্তাব আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন এই প্রস্তাব একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বর্ণবাদ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক আলমাজ তেফেরা বিবিসিকে বলেন, জাতিসংঘে এই বিতর্ক হওয়া রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এর প্রতীকী মূল্য অনেক। এই ভোটের ফলে ক্ষতিপূরণ বা কোনো ধরনের আর্থিক অনুদান নিয়ে আলোচনার পথ আরও সুগম হতে পারে।
দাসপ্রথায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
পঞ্চদশ থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ আফ্রিকান পুরুষ, নারী ও শিশুকে বন্দী করে দাস হিসেবে কাজ করার জন্য আমেরিকায় পাচার করা হয়। তাদের স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় দেশ নিয়ন্ত্রিত উপনিবেশগুলোতে পাঠানো হয়। ধারণা করা হয় দাস বহনকারী জাহাজগুলোতেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। শত শত বছরের সেই শোষণের প্রভাব আজও রয়ে গেছে।
ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্য হলো, যাদের পূর্বপুরুষদের দাসত্বে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ঘানা প্রস্তাবিত এই প্রস্তাবে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দাস ব্যবসার জন্য ক্ষমা চাওয়ার ও ক্ষতিপূরণ তহবিলে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ নিজে থেকেই ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচারের বা ‘রিপারেটরি জাস্টিস’ ধারণাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, এই ধরনের বিচার প্রক্রিয়ায় ‘বিভিন্ন রূপের ক্ষতিপূরণ’ থাকতে হবে। তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সদস্য দেশগুলোকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে পারে না।
স্প্যানিশ উপনিবেশবাদের গবেষক মার্টিনেজ বলেন, আন্দোলন এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপের কারণেই অনেক দেশ ক্ষতিপূরণ নীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। কেউ ভয়ে ভয়ে আবার কেউ সাহসের সঙ্গে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন উপ-রাষ্ট্রদূত ড্যান নেগ্রিয়া ভোটের আগে স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র দাস ব্যবসাকে নৈতিকভাবে জঘন্য মনে করে। তবে যখন এইসব ঘটনা ঘটেছে তখনকার আন্তর্জাতিক আইনে তা ‘বেআইনি’ ছিল না। আন্তর্জাতিক আইনে অতীতের ঘটনার জন্য বর্তমানে আইনি দায়ভার চাপানোর সুযোগ নেই। তাই শত শত বছর আগের কোনো ঘটনার জন্য বর্তমান যুগে এসে ক্ষতিপূরণ দাবি করার ‘আইনি অধিকার’ যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে না।
প্রস্তাবে আটলান্টিক দাস ব্যবসাকে মানব ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই শব্দচয়নের বিরোধিতা করেছে। মার্কিন প্রতিনিধি জানান, মানবতার বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধগুলোর মধ্যে এ ধরনের কোনো ‘র্যাঙ্কিং’ বা শ্রেণিবিন্যাস করা একেবারেই অনুচিত। এই ধরনের র্যাঙ্কিং ইতিহাসের অন্যান্য জঘন্য হত্যাযজ্ঞ বা নির্মমতার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের কষ্টকে অবজেক্টিভলি বা দৃশ্যত ছোট করে।
শত শত বছর আগের অপরাধের জন্য বর্তমান প্রজন্মের করদাতাদের অর্থে ক্ষতিপূরণ দেওয়াটা মার্কিন প্রশাসন অযৌক্তিক মনে করে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের আপত্তির মূল জায়গা ছিল প্রস্তাবের ভাষা। ইসরায়েল মনে করে, দাস ব্যবসাকে মানব ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ বলে স্বীকৃতি দিলে তা ইতিহাসের অন্যান্য ভয়ংকর গণহত্যা, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর ‘হলোকাস্ট’-এর ভয়াবহতাকে ম্লান করে দেয়।
ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের মতো মনে করে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অতীতের কোনো ঘটনার জন্য বর্তমান সময়ে এসে রাষ্ট্রগুলোর ওপর ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপানো উচিত নয় এবং অপরাধের তীব্রতা মাপার এই চেষ্টা কূটনৈতিকভাবে সমস্যাজনক। একই কারণে আর্জেন্টিনাও এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়।
যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো সরাসরি বিপক্ষে ভোট না দিলেও তারা ভোটদানে বিরত ছিল। তারাও মনে করে, আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে এমন ক্ষতিপূরণের দাবি মেনে নিলে তা ভবিষ্যতে অন্যান্য ঐতিহাসিক ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণের বিশাল এক আইনি ও আর্থিক দরজা খুলে দেবে।
ক্ষতিপূরণের দাবি শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে নয়, রাষ্ট্রগুলোর কাছেও করা হচ্ছে। ক্যারিকম কমিশনের ভাইস-চেয়ার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভেরিন শেফার্ড বলেন, ‘রাষ্ট্র সবসময়ই দোষী। কারণ রাষ্ট্রই এমন পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিল যেখানে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাগুলো দাসত্ব ও ঔপনিবেশিকতায় অংশ নিতে পেরেছিল।’
দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটলেও এর কাঠামোগত প্রভাব আজও রয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিলে সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪৯ লাখ) আফ্রিকান দাস নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, সেখানে আজও শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের দারিদ্র্যসীমায় বসবাস করার আশঙ্কা দ্বিগুণ। এই বৈষম্য দূর করতেই ক্ষতিপূরণ ও স্বীকৃতি প্রয়োজন।
আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেয়েও পক্ষের দেশগুলো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। অধ্যাপক ভেরিন শেফার্ড জানান, ভুক্তভোগী এবং তাদের বংশধরদের মানসিক শান্তির জন্য ইউরোপীয় সরকারগুলোর পক্ষ থেকে একটি ‘আন্তরিক ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা’ প্রয়োজন।
ঘানাভিত্তিক ডায়াসপোরা আফ্রিকান ফোরামের প্রধান ড. এরিকা বেনেট বলেন, এই স্বীকৃতির ব্যক্তিগত মূল্য রয়েছে। এর মানে হলো দাসত্বের শিকার হওয়া পূর্বপুরুষরা অবশেষে শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবেন।
ক্যারিবীয় দেশগুলোর জোট ‘ক্যারিকম’ ২০১৩ সালেই ক্ষতিপূরণের জন্য ১০-দফা পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তাদের যুক্তি হলো—এই ক্ষতিপূরণ শুধু নগদ অর্থ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি ঋণ মওকুফ করা এবং জনস্বাস্থ্য ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে বিনিয়োগ করা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) কর্মকর্তা সারা হামুদ বলেন, ‘আর্থিক দিক এর অংশমাত্র। আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা, সত্য তুলে ধরা এবং শিক্ষা—এই সবকিছুই হলো ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
যুক্তরাজ্যের কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের আইন বিশেষজ্ঞ লুক মফেট মনে করেন, আইনিভাবে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার আদায় করা হয়তো অসম্ভব । এর মানে এই নয় যে, অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী দুই পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসবে না।

মাইক্রোফোন হাতে তাঁরা একসময় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুলে ধরেছেন সমাজের নানা অসঙ্গতি। তাঁদের গানের তালে মেতেছে তরুণ প্রজন্ম। সেই র্যাপাররা সামলাচ্ছেন রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব।
১ দিন আগে
প্রশ্ন উঠছে—ফেরিঘাটে এত মানুষের প্রাণহানির দায় কার? ঘাট কর্তৃপক্ষ, বাসের চালক, নাকি প্রচলিত আইনের প্রয়োগহীনতা?
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজলেই লেবাননের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বর্তমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধেও সেই নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। লেবানন আবারও জ্বলছে। আল জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
১ দিন আগে
ইরান ভীত হয়নি। তারা সময় চায়নি বা আপসের জন্য তড়িঘড়ি করেনি। তারা প্রতিরোধ দেখিয়েছে এবং আরও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। কোনো হামলা সীমিত পর্যায়ে থাকবে না, তা কোনো নিখুঁত বা নিয়ন্ত্রিত আকারে থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।
১ দিন আগে