সাইফুল ইসলাম

ডলারের মোহময় হাতছানি, মসৃণ পিচঢালা হাইওয়ে আর আকাশছোঁয়া দালান। এই বৈশিষ্ট্যের আমেরিকা বিশ্বের মধ্যবিত্ত ভাবনায় কেবল মানচিত্রের এক টুকরো ভূখণ্ড নয়, পরম আরাধ্য স্বর্গ। কেউ সেখানে যেতে চান কাকার পকেট খালি করে, বাবার জমানো টাকায়। কেউ আবার সোনালি ভবিষ্যতের রঙিন বেলুন উড়িয়ে পাড়ি জমান অজানা আশার খোঁজে।
কিন্তু জাদুর শহরের গল্পগুলো সবার জন্য একরকম হয় না। যে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মানুষ সেখানে যায়, জীবনের কোনো এক বাঁকে এসে তা রূপ নেয় দমবন্ধ করা এক ‘সোনার খাঁচায়’। তখন চেনা কোনো এক সাঁঝে হাহাকার হয়ে বেজে ওঠে, ‘আর যাব না আমেরিকা’।
আজ ৪ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। আড়াই শ বছরের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে আমেরিকাকে শুধু ভৌগোলিক সীমানায় দেখলে এর পূর্ণতা পাওয়া যায় না। একে দেখতে হয় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের লালিত স্বপ্নের চশমায়। অভিবাসনের স্বপ্ন, হাসিমুখের আড়ালের কঠিন সংগ্রাম আর অবশেষে শেকড়ে ফেরার আকুলতা। সবই যুগে যুগে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে দেশ-বিদেশের গানে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্নের সবচেয়ে মজার ও আইকনিক প্রকাশ ঘটেছিল ১৯৮৮ সালে। বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’য় মামুনুল হক টুটু গেয়েছিলেন, ‘আমেরিকা যাব আমি কাকা, বাবাকে দিতে বলো টাকা’।
গানটি শুনলে ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে ঠিকই, কিন্তু এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের খুব চেনা এক বাস্তবতা। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন একজন মানুষের একার থাকে না, তা হয়ে ওঠে পুরো পরিবারের। আমেরিকা যাওয়ার জন্য কাকা বা বাবার কাছে টাকা চাওয়ার এই আকুতি আসলে এক বৃহত্তর সামাজিক আকাঙ্ক্ষারই প্রতিচ্ছবি।
একটু ভিন্ন মেরুর স্বপ্ন দেখা যায় বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার জনপ্রিয় ব্যান্ড দুবিওজা কলেক্টিভের গানে। তাদের বিখ্যাত গান ‘আই অ্যাম ফ্রম বসনিয়া, টেক মি টু আমেরিকা’ শুরুতে ছিল ‘আমেরিকান ড্রিম’ নিয়ে এক দারুণ ব্যঙ্গ ও হতাশার প্রকাশ। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যেন এই গানের অর্থটাই বদলে দিল।
যে গান একসময় অভিবাসনের আক্ষেপ নিয়ে তৈরি হয়েছিল, সেটিই ২০২৬ বিশ্বকাপের সময় হয়ে উঠল বসনিয়ার ফুটবল সমর্থকদের অঘোষিত ‘অ্যান্থেম’। ‘আমাকে আমেরিকায় নিয়ে যাও’ কথাটি বিশ্বকাপে রূপ নিল ‘আমরা আমেরিকায় যাচ্ছি, আমাদের দল খেলতে যাচ্ছে’-তে। অভিবাসনের আক্ষেপ কীভাবে মুহূর্তেই দেশের গর্ব, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের প্রতীকে পরিণত হতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ।
তবে আমেরিকার গল্প সব সময় স্বপ্নের মতো রুপালি হয় না। বাস্তবের জমিন বেশ রূঢ়। মেক্সিকান ব্যান্ড ‘লস টাইগ্রেস দেল নর্টে’র বিখ্যাত স্প্যানিশ গান ‘লা জাউলা দে অরো’ বা ‘সোনার খাঁচা’ সেই কঠিন বাস্তবতার কথাই বলে।
এই গানের মূল চরিত্র এমন একজন অভিবাসী, যার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। বছরের পর বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন, কিন্তু তার মনে সারাক্ষণ তাড়া করে ফেরে পুলিশের ভয়। তিনি দেশে ফিরতে পারেন না, আবার নতুন দেশকেও পুরোপুরি আপন করতে পারেন না। অর্থ আছে, কিন্তু স্বাধীনতা নেই। এমনকি নতুন প্রজন্মের সন্তানরাও বাবার ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে গেছে। দূর থেকে যে আমেরিকাকে ‘সোনার দেশ’ মনে হয়, ভেতরে গিয়ে তা অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে এক দীর্ঘশ্বাসের ‘সোনার খাঁচা’।
আমেরিকা ঘিরে এত যে স্বপ্ন, এত যে আকুলতা, তার শেষ কোথায়? এর এক দারুণ উত্তর মেলে বাংলা সিনেমা ‘অচেনা’র একটি গানে। শিবলী সাদিকের পরিচালনায়, আলম খানের সুরে এবং মনিরুজ্জামান মনিরের কথায় রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া সেই বিখ্যাত গান, ‘আর যাব না আমেরিকা’।
গানটি যেন ‘আমেরিকা যাব’ স্বপ্নের ঠিক উল্টো পিঠ। জীবনের একটা পর্যায়ে এসে মানুষ বুঝতে পারে, সব সুখ আসলে বিদেশে নেই। নিজের মানুষ, শেকড়ের টান, চেনা চারপাশ আর নিজের ঘরের যে প্রশান্তি, তার কাছে আমেরিকার জৌলুশও ফিকে হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির এই ক্ষণে আমেরিকাকে নিয়ে গাওয়া এই গানগুলো যেন নতুন করে অনেক কিছু ভাবায়। কারও কাছে আমেরিকা ভাগ্য বদলের সুযোগ, কারও কাছে মজার কোনো স্বপ্ন, কারও কাছে কেবলই সোনার খাঁচা, আবার কারও কাছে এক মোহভঙ্গের নাম। যে গল্পটা একসময় শুরু হয়েছিল ‘আমেরিকা যাব আমি কাকা’র তুমুল উচ্ছ্বাস দিয়ে, দিনশেষে শেকড়ের টানে তা শেষ হয় ‘আর যাব না আমেরিকা’র পরম তৃপ্তিতে।

ডলারের মোহময় হাতছানি, মসৃণ পিচঢালা হাইওয়ে আর আকাশছোঁয়া দালান। এই বৈশিষ্ট্যের আমেরিকা বিশ্বের মধ্যবিত্ত ভাবনায় কেবল মানচিত্রের এক টুকরো ভূখণ্ড নয়, পরম আরাধ্য স্বর্গ। কেউ সেখানে যেতে চান কাকার পকেট খালি করে, বাবার জমানো টাকায়। কেউ আবার সোনালি ভবিষ্যতের রঙিন বেলুন উড়িয়ে পাড়ি জমান অজানা আশার খোঁজে।
কিন্তু জাদুর শহরের গল্পগুলো সবার জন্য একরকম হয় না। যে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মানুষ সেখানে যায়, জীবনের কোনো এক বাঁকে এসে তা রূপ নেয় দমবন্ধ করা এক ‘সোনার খাঁচায়’। তখন চেনা কোনো এক সাঁঝে হাহাকার হয়ে বেজে ওঠে, ‘আর যাব না আমেরিকা’।
আজ ৪ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। আড়াই শ বছরের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে আমেরিকাকে শুধু ভৌগোলিক সীমানায় দেখলে এর পূর্ণতা পাওয়া যায় না। একে দেখতে হয় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের লালিত স্বপ্নের চশমায়। অভিবাসনের স্বপ্ন, হাসিমুখের আড়ালের কঠিন সংগ্রাম আর অবশেষে শেকড়ে ফেরার আকুলতা। সবই যুগে যুগে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে দেশ-বিদেশের গানে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্নের সবচেয়ে মজার ও আইকনিক প্রকাশ ঘটেছিল ১৯৮৮ সালে। বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’য় মামুনুল হক টুটু গেয়েছিলেন, ‘আমেরিকা যাব আমি কাকা, বাবাকে দিতে বলো টাকা’।
গানটি শুনলে ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে ঠিকই, কিন্তু এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের খুব চেনা এক বাস্তবতা। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন একজন মানুষের একার থাকে না, তা হয়ে ওঠে পুরো পরিবারের। আমেরিকা যাওয়ার জন্য কাকা বা বাবার কাছে টাকা চাওয়ার এই আকুতি আসলে এক বৃহত্তর সামাজিক আকাঙ্ক্ষারই প্রতিচ্ছবি।
একটু ভিন্ন মেরুর স্বপ্ন দেখা যায় বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার জনপ্রিয় ব্যান্ড দুবিওজা কলেক্টিভের গানে। তাদের বিখ্যাত গান ‘আই অ্যাম ফ্রম বসনিয়া, টেক মি টু আমেরিকা’ শুরুতে ছিল ‘আমেরিকান ড্রিম’ নিয়ে এক দারুণ ব্যঙ্গ ও হতাশার প্রকাশ। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যেন এই গানের অর্থটাই বদলে দিল।
যে গান একসময় অভিবাসনের আক্ষেপ নিয়ে তৈরি হয়েছিল, সেটিই ২০২৬ বিশ্বকাপের সময় হয়ে উঠল বসনিয়ার ফুটবল সমর্থকদের অঘোষিত ‘অ্যান্থেম’। ‘আমাকে আমেরিকায় নিয়ে যাও’ কথাটি বিশ্বকাপে রূপ নিল ‘আমরা আমেরিকায় যাচ্ছি, আমাদের দল খেলতে যাচ্ছে’-তে। অভিবাসনের আক্ষেপ কীভাবে মুহূর্তেই দেশের গর্ব, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের প্রতীকে পরিণত হতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ।
তবে আমেরিকার গল্প সব সময় স্বপ্নের মতো রুপালি হয় না। বাস্তবের জমিন বেশ রূঢ়। মেক্সিকান ব্যান্ড ‘লস টাইগ্রেস দেল নর্টে’র বিখ্যাত স্প্যানিশ গান ‘লা জাউলা দে অরো’ বা ‘সোনার খাঁচা’ সেই কঠিন বাস্তবতার কথাই বলে।
এই গানের মূল চরিত্র এমন একজন অভিবাসী, যার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। বছরের পর বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন, কিন্তু তার মনে সারাক্ষণ তাড়া করে ফেরে পুলিশের ভয়। তিনি দেশে ফিরতে পারেন না, আবার নতুন দেশকেও পুরোপুরি আপন করতে পারেন না। অর্থ আছে, কিন্তু স্বাধীনতা নেই। এমনকি নতুন প্রজন্মের সন্তানরাও বাবার ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে গেছে। দূর থেকে যে আমেরিকাকে ‘সোনার দেশ’ মনে হয়, ভেতরে গিয়ে তা অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে এক দীর্ঘশ্বাসের ‘সোনার খাঁচা’।
আমেরিকা ঘিরে এত যে স্বপ্ন, এত যে আকুলতা, তার শেষ কোথায়? এর এক দারুণ উত্তর মেলে বাংলা সিনেমা ‘অচেনা’র একটি গানে। শিবলী সাদিকের পরিচালনায়, আলম খানের সুরে এবং মনিরুজ্জামান মনিরের কথায় রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া সেই বিখ্যাত গান, ‘আর যাব না আমেরিকা’।
গানটি যেন ‘আমেরিকা যাব’ স্বপ্নের ঠিক উল্টো পিঠ। জীবনের একটা পর্যায়ে এসে মানুষ বুঝতে পারে, সব সুখ আসলে বিদেশে নেই। নিজের মানুষ, শেকড়ের টান, চেনা চারপাশ আর নিজের ঘরের যে প্রশান্তি, তার কাছে আমেরিকার জৌলুশও ফিকে হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির এই ক্ষণে আমেরিকাকে নিয়ে গাওয়া এই গানগুলো যেন নতুন করে অনেক কিছু ভাবায়। কারও কাছে আমেরিকা ভাগ্য বদলের সুযোগ, কারও কাছে মজার কোনো স্বপ্ন, কারও কাছে কেবলই সোনার খাঁচা, আবার কারও কাছে এক মোহভঙ্গের নাম। যে গল্পটা একসময় শুরু হয়েছিল ‘আমেরিকা যাব আমি কাকা’র তুমুল উচ্ছ্বাস দিয়ে, দিনশেষে শেকড়ের টানে তা শেষ হয় ‘আর যাব না আমেরিকা’র পরম তৃপ্তিতে।
.png)

(লেখাটির প্রথম পর্ব পড়ুন এখানে) বলা হয়ে থাকে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল পরবর্তী সময়ে আধুনিক বাংলা কবিতায় ত্রিশের ব্যাপক প্রভাব ছিল। আমার মনে হয়, ভাব ও চিন্তাগত জায়গা থেকে ত্রিশের কবিদের গুরু মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ত্রিশের দশক শেষ হলেও ১০০ বছর পর ত্রিশের সেই ধারাবাহিকতা শেষ হয়নি। মধুসূদন রেভ্যুলেশনারি। কে
১০ ঘণ্টা আগে
১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার ডোমতলার (অধুনা এজরা স্ট্রিট) পঁচিশ নম্বর বাড়িতে গেরাসিম স্তেপানোভিচ লেবেদেফ নামে এক রুশ সংগীতজ্ঞ পর্দা তুললেন। মঞ্চস্থ হলো কাল্পনিক সংবদল। রিচার্ড পল জোড্রেলের ইংরেজি প্রহসন দ্য ডিসগাইজ-এর বঙ্গানুবাদ। এশীয় কোনো ভাষায় প্রসেনিয়াম মঞ্চে অভিনীত প্রথম নাটক। দুই শতাব্দী
১৫ ঘণ্টা আগে
কবিতা হলো দুনিয়া দেখার উপায়। যখন কোনো কবিতা থেকে চোখ তুলে দেখবেন আপনার চারপাশের দুনিয়াটাকে আর আগের মতো থাকে না। নতুন অর্থ নিয়ে দুনিয়া জেগে ওঠে। ভালো কবিতা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো কবিতাটা পড়ার পর যদি বুঝতে পারেন, এটা পড়ার পর আপনি আর আগের মানুষটি নেই, তবে তা নতুন কবিতা। এটা পড়ার পর যদি আপনার ম
১৭ আগস্ট ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর শহরটি ঐতিহাসিক ফ্রেডরিক নগর বা ‘দিনেমার নগর’ নামে পরিচিত। কলকাতার হাওড়া থেকে মাত্র ৫ রুপিতে লোকাল ট্রেনে টিকেট কেটে যাওয়া যায় গঙ্গা নদীর ধারঘেঁষা এই ঐতিহাসিক স্থানে। এখানেই রয়েছে ‘কেরি জাদুঘর’। উইলয়াম কেরির নিজের মুখের ভাষা বাংলা ছিল না, তবুও মানুষ
১৭ আগস্ট ২০২৬