চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর’। আজ প্রকাশিত হলো এর ষষ্ঠ পর্ব। চোখ রাখুন প্রতি রোববার বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
তৌহিন হাসান

স্কটল্যান্ড ঘুরতে যাব। লিডস থেকে এডিনবোরা (আগে উচ্চারণ জানতাম এডিনবার্গ) ট্রেনের টিকিট কাটা হয়েছিল ট্রান্সপেনিন এক্সপ্রেসে। এটি ক্রস-কান্ট্রি রেল সার্ভিস। লিডস থেকে দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটারের বেশি। সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা।
ছোটবেলায় আমি ভিউকার্ড সংগ্রহ করতাম। বেশির ভাগ ভিউকার্ডে থাকত নায়ক-নায়িকার ছবি। তবে কিছু কার্ডে থাকত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ল্যান্ডস্ক্যাপ। সেসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করত স্কটল্যান্ডের বিস্তীর্ণ ভূমি, ভেড়ার খামার আর ঢেউ খেলানো সবুজ পাহাড়। একই ধরনের দৃশ্য দেখা যেত তখনকার দেয়াল ক্যালেন্ডারেও।
বড় হওয়ার পরও সেই ছবিগুলোর দৃশ্য চোখ থেকে মুছে যায়নি। হয়তো নিজের অজান্তেই মনের ভেতর পুষে রেখেছিলাম, কোনো একদিন স্কটল্যান্ড ঘুরতে যাব। আর তা না হলে ট্রেনের কামরায় জানালার ধারে বসে চোখের সামনে যখন একের পর এক সেই দৃশ্য পার হয়ে যাচ্ছিল, এত উত্তেজনা হচ্ছিল কেন? কেন বারবার ছোটবেলার সেই ভিউকার্ডগুলোর কথা মনে পড়ছিল?
এডিনবোরা ট্রেন স্টেশনের নাম ওয়েভারলে। স্টেশন থেকে বের হওয়ার অনেকগুলো পয়েন্ট আছে। আমি যে পয়েন্ট দিয়ে বের হলাম সেটি ওয়েভারলে ব্রিজ। এটি মূলত স্টেশন থেকে বের হওয়ার সবচেয়ে ব্যাস্ততম পয়েন্ট। র্যাম্প বেয়ে ওপরে উঠতেই—মূল স্টেশনটি মাটির নিচে—ব্যস্ত শহরের পরিবেশ যেন আমাকে স্বাগত জানাল। ব্যস্ত আডিনবোরার মুখোমুখি হলাম। স্টেশন থেকে বের হতেই ব্যস্ততম বাসস্টপ, ট্যাক্সি পার্কিং এলাকা আর পর্যটকদের ভিড়।

ডানদিকে তাকাতেই চোখে পড়ল বিখ্যাত বালমোরাল হোটেলের ঘড়ির টাওয়ার। এটি এডিনবোরার অন্যতম পরিচিত ল্যান্ডমার্ক। চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে মনে হলো, যেন একটি ঐতিহাসিক শহরের হৃদয়ে এসে পৌঁছেছি। স্টেশনটি শহরের নিচু উপত্যকায় অবস্থিত। চারদিকে উঁচুতে উঠে গেছে এডিনবোরার বিখ্যাত পুরোনো ও নতুন শহর। স্টেশন চত্বরের উল্টোদিকে চোখে পড়ল এডিনবোরা ক্যাসল। এর খুব কাছেই ন্যাশনাল গ্যালারি, মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ।
স্টেশনে নেমেছি দুপুরের আগে। গুগল ম্যাপে দেখলাম, আমার এয়ারবিএনবি খুব কাছেই। হেঁটেই যাওয়া যাবে। ফলে আর ট্যাক্সি নিলাম না। ভাবলাম, ব্যাকপ্যাক আর লাগেজ অ্যাপার্টমেন্টে রেখে দুপুরের মধ্যেই আবার স্টেশন চত্বরে ফিরে আসব। ন্যাশনাল গ্যালারি তো তার পাশেই। স্টেশন চত্বরে শেষ বিকেলে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। কারণ, এটাই শহরের মূল কেন্দ্র। হাঁটা শুরু করলাম অ্যাপার্টমেন্টের দিকে। সামনে যে একটা বিপদ অপেক্ষা করছিল, ঘুণাক্ষরেও অনুমান করতে পারিনি।
স্টেশন থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে বাঁদিকে তাকাতেই বিশাল যে কালো গথিক স্থাপনাটি চোখে পড়ল, সেটির নাম স্কট মনুমেন্ট। এটি স্কটিশ সাহিত্যিক স্যার ওয়াল্টার স্কটের স্মৃতিস্তম্ভ। এর সুউচ্চ চূড়া এডিনবোরার অন্যতম আইকনিক প্রতীক। যেকোনো পর্যটক স্টেশনে নেমে এই মনুমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুলবেন না—এটা হতেই পারে না।

যাই হোক, রাস্তা পার হলাম। গুগল ম্যাপ ধরে সোজা হাঁটা দিলাম আমার এয়ারবিএনবি অ্যাপার্টমেন্টের দিকে। কিন্তু অর্ধেক যাওয়ার পর থেমে যেতে হলো। আমার চোখ যেন চড়কগাছ! রাস্তার একটা বাঁক ঘুরতেই দেখলাম, রাস্তাটি সোজা উঠে গেছে ওপরের দিকে। এত খাড়া যে, দুবার ঢোক গিললাম। ব্যাকপ্যাক তো আছেই পিঠে, হাতে মাঝারি আকারের একটা লাগেজ। উঠতে পারব না, তা নয়। কিন্তু ওঠার পর পা আর কোমরের অবস্থা কী হবে, সেটাই ভাবছিলাম।
আবার পিছিয়েও যেতে পারছি না। অনেক দূর হেঁটে চলে এসেছি। আশপাশে তাকিয়ে দেখলাম, অনেকেই খুব সাবলীলভাবে সেই রাস্তা দিয়ে ওঠানামা করছেন। ব্যস! খাড়া রাস্তা ধরেই হাঁটা শুরু করলাম। মিনিট বিশেক পর পৌঁছে গেলাম অ্যাপার্টমেন্টে।
খানিকটা ফ্রেশ হয়ে রওনা দিলাম স্কটিশ ন্যাশনাল গ্যালারির উদ্দেশ্যে। খাড়া পথ ধরে উঠতে যতটা কষ্ট হয়েছিল, নামতে একেবারেই কষ্ট হলো না। বরং আরও কম সময়ে পৌঁছে গেলাম গ্যালারির চত্বরে। গ্যালারিটি একটি কৃত্রিম ঢিবির ওপর অবস্থিত। দূর থেকেই এর নিও-ক্ল্যাসিক্যাল স্থাপত্য খুব সহজেই চোখে পড়ে—বেলেপাথরের তৈরি দীর্ঘ সম্মুখভাগ, সারিবদ্ধ আইওনিক স্তম্ভ এবং ত্রিভুজাকৃতির পেডিমেন্ট যেন একটি গ্রিক মন্দিরের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
গ্যালারির প্রবেশমুখে জানানো হলো, ভেতরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। আমার সঙ্গে কোনো মাস্ক ছিল না, কারণ বিষয়টি আগে জানা ছিল না। তবে রিসেপশন থেকে বিনা মূল্যে মাস্ক দেওয়া হচ্ছিল। উল্লেখ্য, স্কটিশ ন্যাশনাল গ্যালারিতে প্রবেশ সবার জন্য ফ্রি।

গ্যালারিতে প্রবেশের পর দেখলাম, সংগ্রহটি মূলত দুটি ভাগে সাজানো। একটি অংশে আন্তর্জাতিক শিল্পকর্মের সংগ্রহ, অন্যটিতে স্কটিশ শিল্পীদের কাজ।
প্রথম গ্যালারিগুলোতেই চোখে পড়ল ইউরোপীয় রেনেসাঁর জগতের বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম। দেয়ালে টিশিয়ান, রাফায়েল, এল গ্রেকো ও বত্তিচেল্লির মতো শিল্পীদের অসাধারণ সব কাজ। সোনালি ফ্রেমে সাজানো ধর্মীয় বিষয়, ম্যাডোনা ও শিশুর প্রতিকৃতি, পৌরাণিক কাহিনি এবং অভিজাত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
পরের গ্যালারির পরিবেশ কিছুটা শান্ত ও গম্ভীর মনে হলো। এখানে দেখা গেল রেমব্রান্ট, ভ্যান গঘ, ভারমেয়ার, পল রুবেন্স, ভ্যান ডাইকসহ ডাচ শিল্পীদের মাস্টারপিস। আলো-আঁধারির অসাধারণ ব্যবহার, বাস্তবধর্মী প্রতিকৃতি এবং দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য এই গ্যালারির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে ভারমেয়ারের সূক্ষ্ম আলোর ব্যবহার, রেমব্রান্টের গভীর আত্মপ্রতিকৃতি এবং রুবেন্সের নাটকীয় ধর্মীয় দৃশ্যের চিত্রকর্মগুলো শিল্পপ্রেমীদের সহজেই টেনে নেয়।

এরপরের গ্যালারি কক্ষে স্প্যানিশ শিল্পীদের কিছু চিত্রকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশেষ করে এখানে দিয়েগো ভেলাজকুয়েজের বিখ্যাত ‘অ্যান ওল্ড ওম্যান কুকিং এগস’ চিত্রকর্মটি গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণ। রান্নাঘরের সাধারণ একটি দৃশ্যকে তিনি যে বাস্তবতা ও আলোর ব্যবহারে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা বারোক শিল্পের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়
পরের গ্যালারি কক্ষটি ফরাসি ইমপ্রেশনিস্ট ও পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের কাজ দিয়ে সাজানো। তাঁদের কাজের সঙ্গে সঙ্গে যেন ঘরটি উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে ক্লদ মোনে, এডগার দেগা, কামিল পিসারো, জর্জ স্যুরাসহ অন্যান্য শিল্পীর কাজ। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এডগার দেগার বিখ্যাত নৃত্যরত রমণীদের সিরিজ ‘বিফোর দ্য পারফরম্যান্স’ এবং জর্জ স্যুরার ‘এ ফিল্ড অব আলফালফা, সাঁ-দেনি’।
স্কটিশ গ্যালারিতে প্রবেশ করেই প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়ল, তা হলো প্রশস্ত ও আলোভরা পরিবেশ। দেয়ালে একটি সময়রেখা ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, কীভাবে নেপোলিয়নিক যুদ্ধ, শিল্পবিপ্লব, হাইল্যান্ডের (স্কটল্যান্ড) সংস্কৃতি, সাম্রাজ্য বিস্তার এবং আধুনিকতার উত্থান স্কটিশ শিল্পকে প্রভাবিত করেছিল। এ যেন শুধু চিত্রকর্মের প্রদর্শনী নয়, বরং স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি পরিচয়মূলক প্রদর্শনী।
তাই গ্যালারি কর্তৃপক্ষ প্রথম কক্ষের মূল বিষয় উপস্থাপন করেছে এভাবে, ‘আমরা কারা?’। এখানে দেখানো হয়েছে স্কটল্যান্ডের অভিজাত পরিবার, বিচারপতি, সাহিত্যিক, সামরিক কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিকৃতি। এর মধ্যে একটি খুব উল্লেখযোগ্য কাজ স্যার হেনরি রেবার্নের ‘দ্য রেভারেন্ড রবার্ট ওয়াকার স্কেটিং অন ডডিংস্টন লোচ (দ্য স্কেটিং মিনিস্টার)’। ১৭৯৫ সালে আঁকা এই চিত্রকর্মটি স্কটিশ শিল্পের অন্যতম পরিচিত কাজ।

এরপরের কক্ষে শিল্পীরা রাজা-রানির বদলে সাধারণ মানুষের জীবনকে তুলে ধরেছেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো চিত্রকর্ম স্যার ডেভিড উইলকির আঁকা ‘পিটলেসি ফেয়ার’ (১৮০৪)। মাত্র ১৯ বছর বয়সে উইলকি নিজের গ্রাম স্কটল্যান্ডের ফাইফের বার্ষিক মেলাকে কেন্দ্র করে এই ছবিটি আঁকেন। এটি তাঁর প্রথম দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম।
পরের গ্যালারি কক্ষে এসে মন যেন শীতল হয়ে যায়। এখানে দেখা যায় স্কটিশ শিল্পীদের আঁকা বিশাল বিশাল ক্যানভাসে নৈসর্গিক প্রকৃতির চিত্রকর্ম—কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়, শান্ত জলের লেক, নদী, পাথুরে উপত্যকা, ঝড়ো আকাশ, একাকী গাছ ইত্যাদি। এখানে বিখ্যাত স্কটিশ শিল্পীদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য উইলিয়াম ম্যাকট্যাগার্ট ও হোরাশিও ম্যাককুলোচ।
তবে যে কয়েকজন স্কটিশ চিত্রশিল্পী আমার নজর কেড়েছেন, তাঁদের মধ্যে স্যামুয়েল জন পেপ্লো, ফ্রান্সিস ক্যাডেল, লেসলি হান্টার ও জে. ডি. ফার্গুসনের নাম মনে আছে। কারণ তাঁদের কাজের ধরন পূর্ববর্তী স্কটিশ শিল্পীদের মতো নয়। তাঁদের ক্যানভাসে যেন রঙের এক মহা বিস্ফোরণ ঘটেছে। ছবিতে ভূমধ্যসাগরের তীব্র আলো, উজ্জ্বল নীল, কমলা, গোলাপি ও সবুজের সাহসী ব্যবহার চোখে পড়ে। ফরাসি ফভিজম ও আধুনিক শিল্পের প্রভাব থাকলেও তাঁরা স্কটিশ শিল্পকে একটি স্বতন্ত্র ও আধুনিক পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন বললে কম বলা হয়।

এঁদের মধ্যে কয়েকজন নারী শিল্পীর কাজও উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে পড়ে। তাঁদের মধ্যে অ্যান রেডপাথ, ফোবি আনা ট্রাকোয়ার ও সেসিল ওয়াল্টনের নাম উল্লেখ করা যায়। তাঁদের ক্যানভাসে ফুল, গৃহস্থালি জীবন, প্রতীকী চিত্র এবং রঙের ব্যবহার স্কটিশ শিল্পের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরে।
স্কটিশ ন্যাশনাল গ্যালারি ভ্রমণের শেষভাগে রয়েছে ১৯৪৫ এর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এখানে এসে স্পষ্ট বোঝা যায়, স্কটিশ শিল্প কীভাবে ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতার দিকে এগিয়েছে। এই অংশে বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের কাজগুলো দেখানো হয়েছে, যেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়, নগরজীবন, বিমূর্ততার বিকাশ এবং নতুন শিল্পভাষার নানা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পুরো গ্যালারি ঘুরে দেখার পর মনে হলো, এটি স্কটল্যান্ডের জাতীয় পরিচয়, প্রকৃতি, সাহিত্য, সমাজ এবং আধুনিকতার বিকাশকে সুসংগঠিত কাহিনির মতো তুলে ধরা হয়েছে। এত অল্প সময়ে কি এত বড় ইতিহাস হজম হয়? চোখ দুটো যেন ঘোলাটে লাগছে আমার, মাথা ঘুরছে বনবন করে। একটু বিশ্রাম দরকার, মাথা আর চোখের তো বটেই-শরীরেও। কারণ, গ্যালারি থেকে বের হয়েই উঠতে হবে এডিনবোরা ক্যাসেলের চূড়ায়। ন্যাশনাল গ্যালারির পাশ দিয়েই ক্যাসেলে যাওয়ার রাস্তা। গুগল থেকে জেনেছি, ভূমি থেকে সাড়ে চার শ ফুট উঁচুতে ক্যাসেলটির অবস্থান। ওঠার রাস্তাও নাকি নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা এবং কিছুটা পাথুরে। উঠতে নাকি আধা ঘণ্টা সময় লাগে।
একটু না জিরিয়ে নিলে এত উঁচুতে উঠতে পারব কি না, মনে সন্দেহ দেখা দিল…

স্কটল্যান্ড ঘুরতে যাব। লিডস থেকে এডিনবোরা (আগে উচ্চারণ জানতাম এডিনবার্গ) ট্রেনের টিকিট কাটা হয়েছিল ট্রান্সপেনিন এক্সপ্রেসে। এটি ক্রস-কান্ট্রি রেল সার্ভিস। লিডস থেকে দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটারের বেশি। সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা।
ছোটবেলায় আমি ভিউকার্ড সংগ্রহ করতাম। বেশির ভাগ ভিউকার্ডে থাকত নায়ক-নায়িকার ছবি। তবে কিছু কার্ডে থাকত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ল্যান্ডস্ক্যাপ। সেসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করত স্কটল্যান্ডের বিস্তীর্ণ ভূমি, ভেড়ার খামার আর ঢেউ খেলানো সবুজ পাহাড়। একই ধরনের দৃশ্য দেখা যেত তখনকার দেয়াল ক্যালেন্ডারেও।
বড় হওয়ার পরও সেই ছবিগুলোর দৃশ্য চোখ থেকে মুছে যায়নি। হয়তো নিজের অজান্তেই মনের ভেতর পুষে রেখেছিলাম, কোনো একদিন স্কটল্যান্ড ঘুরতে যাব। আর তা না হলে ট্রেনের কামরায় জানালার ধারে বসে চোখের সামনে যখন একের পর এক সেই দৃশ্য পার হয়ে যাচ্ছিল, এত উত্তেজনা হচ্ছিল কেন? কেন বারবার ছোটবেলার সেই ভিউকার্ডগুলোর কথা মনে পড়ছিল?
এডিনবোরা ট্রেন স্টেশনের নাম ওয়েভারলে। স্টেশন থেকে বের হওয়ার অনেকগুলো পয়েন্ট আছে। আমি যে পয়েন্ট দিয়ে বের হলাম সেটি ওয়েভারলে ব্রিজ। এটি মূলত স্টেশন থেকে বের হওয়ার সবচেয়ে ব্যাস্ততম পয়েন্ট। র্যাম্প বেয়ে ওপরে উঠতেই—মূল স্টেশনটি মাটির নিচে—ব্যস্ত শহরের পরিবেশ যেন আমাকে স্বাগত জানাল। ব্যস্ত আডিনবোরার মুখোমুখি হলাম। স্টেশন থেকে বের হতেই ব্যস্ততম বাসস্টপ, ট্যাক্সি পার্কিং এলাকা আর পর্যটকদের ভিড়।

ডানদিকে তাকাতেই চোখে পড়ল বিখ্যাত বালমোরাল হোটেলের ঘড়ির টাওয়ার। এটি এডিনবোরার অন্যতম পরিচিত ল্যান্ডমার্ক। চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে মনে হলো, যেন একটি ঐতিহাসিক শহরের হৃদয়ে এসে পৌঁছেছি। স্টেশনটি শহরের নিচু উপত্যকায় অবস্থিত। চারদিকে উঁচুতে উঠে গেছে এডিনবোরার বিখ্যাত পুরোনো ও নতুন শহর। স্টেশন চত্বরের উল্টোদিকে চোখে পড়ল এডিনবোরা ক্যাসল। এর খুব কাছেই ন্যাশনাল গ্যালারি, মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ।
স্টেশনে নেমেছি দুপুরের আগে। গুগল ম্যাপে দেখলাম, আমার এয়ারবিএনবি খুব কাছেই। হেঁটেই যাওয়া যাবে। ফলে আর ট্যাক্সি নিলাম না। ভাবলাম, ব্যাকপ্যাক আর লাগেজ অ্যাপার্টমেন্টে রেখে দুপুরের মধ্যেই আবার স্টেশন চত্বরে ফিরে আসব। ন্যাশনাল গ্যালারি তো তার পাশেই। স্টেশন চত্বরে শেষ বিকেলে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। কারণ, এটাই শহরের মূল কেন্দ্র। হাঁটা শুরু করলাম অ্যাপার্টমেন্টের দিকে। সামনে যে একটা বিপদ অপেক্ষা করছিল, ঘুণাক্ষরেও অনুমান করতে পারিনি।
স্টেশন থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে বাঁদিকে তাকাতেই বিশাল যে কালো গথিক স্থাপনাটি চোখে পড়ল, সেটির নাম স্কট মনুমেন্ট। এটি স্কটিশ সাহিত্যিক স্যার ওয়াল্টার স্কটের স্মৃতিস্তম্ভ। এর সুউচ্চ চূড়া এডিনবোরার অন্যতম আইকনিক প্রতীক। যেকোনো পর্যটক স্টেশনে নেমে এই মনুমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুলবেন না—এটা হতেই পারে না।

যাই হোক, রাস্তা পার হলাম। গুগল ম্যাপ ধরে সোজা হাঁটা দিলাম আমার এয়ারবিএনবি অ্যাপার্টমেন্টের দিকে। কিন্তু অর্ধেক যাওয়ার পর থেমে যেতে হলো। আমার চোখ যেন চড়কগাছ! রাস্তার একটা বাঁক ঘুরতেই দেখলাম, রাস্তাটি সোজা উঠে গেছে ওপরের দিকে। এত খাড়া যে, দুবার ঢোক গিললাম। ব্যাকপ্যাক তো আছেই পিঠে, হাতে মাঝারি আকারের একটা লাগেজ। উঠতে পারব না, তা নয়। কিন্তু ওঠার পর পা আর কোমরের অবস্থা কী হবে, সেটাই ভাবছিলাম।
আবার পিছিয়েও যেতে পারছি না। অনেক দূর হেঁটে চলে এসেছি। আশপাশে তাকিয়ে দেখলাম, অনেকেই খুব সাবলীলভাবে সেই রাস্তা দিয়ে ওঠানামা করছেন। ব্যস! খাড়া রাস্তা ধরেই হাঁটা শুরু করলাম। মিনিট বিশেক পর পৌঁছে গেলাম অ্যাপার্টমেন্টে।
খানিকটা ফ্রেশ হয়ে রওনা দিলাম স্কটিশ ন্যাশনাল গ্যালারির উদ্দেশ্যে। খাড়া পথ ধরে উঠতে যতটা কষ্ট হয়েছিল, নামতে একেবারেই কষ্ট হলো না। বরং আরও কম সময়ে পৌঁছে গেলাম গ্যালারির চত্বরে। গ্যালারিটি একটি কৃত্রিম ঢিবির ওপর অবস্থিত। দূর থেকেই এর নিও-ক্ল্যাসিক্যাল স্থাপত্য খুব সহজেই চোখে পড়ে—বেলেপাথরের তৈরি দীর্ঘ সম্মুখভাগ, সারিবদ্ধ আইওনিক স্তম্ভ এবং ত্রিভুজাকৃতির পেডিমেন্ট যেন একটি গ্রিক মন্দিরের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
গ্যালারির প্রবেশমুখে জানানো হলো, ভেতরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। আমার সঙ্গে কোনো মাস্ক ছিল না, কারণ বিষয়টি আগে জানা ছিল না। তবে রিসেপশন থেকে বিনা মূল্যে মাস্ক দেওয়া হচ্ছিল। উল্লেখ্য, স্কটিশ ন্যাশনাল গ্যালারিতে প্রবেশ সবার জন্য ফ্রি।

গ্যালারিতে প্রবেশের পর দেখলাম, সংগ্রহটি মূলত দুটি ভাগে সাজানো। একটি অংশে আন্তর্জাতিক শিল্পকর্মের সংগ্রহ, অন্যটিতে স্কটিশ শিল্পীদের কাজ।
প্রথম গ্যালারিগুলোতেই চোখে পড়ল ইউরোপীয় রেনেসাঁর জগতের বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম। দেয়ালে টিশিয়ান, রাফায়েল, এল গ্রেকো ও বত্তিচেল্লির মতো শিল্পীদের অসাধারণ সব কাজ। সোনালি ফ্রেমে সাজানো ধর্মীয় বিষয়, ম্যাডোনা ও শিশুর প্রতিকৃতি, পৌরাণিক কাহিনি এবং অভিজাত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
পরের গ্যালারির পরিবেশ কিছুটা শান্ত ও গম্ভীর মনে হলো। এখানে দেখা গেল রেমব্রান্ট, ভ্যান গঘ, ভারমেয়ার, পল রুবেন্স, ভ্যান ডাইকসহ ডাচ শিল্পীদের মাস্টারপিস। আলো-আঁধারির অসাধারণ ব্যবহার, বাস্তবধর্মী প্রতিকৃতি এবং দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য এই গ্যালারির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে ভারমেয়ারের সূক্ষ্ম আলোর ব্যবহার, রেমব্রান্টের গভীর আত্মপ্রতিকৃতি এবং রুবেন্সের নাটকীয় ধর্মীয় দৃশ্যের চিত্রকর্মগুলো শিল্পপ্রেমীদের সহজেই টেনে নেয়।

এরপরের গ্যালারি কক্ষে স্প্যানিশ শিল্পীদের কিছু চিত্রকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশেষ করে এখানে দিয়েগো ভেলাজকুয়েজের বিখ্যাত ‘অ্যান ওল্ড ওম্যান কুকিং এগস’ চিত্রকর্মটি গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণ। রান্নাঘরের সাধারণ একটি দৃশ্যকে তিনি যে বাস্তবতা ও আলোর ব্যবহারে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা বারোক শিল্পের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়
পরের গ্যালারি কক্ষটি ফরাসি ইমপ্রেশনিস্ট ও পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের কাজ দিয়ে সাজানো। তাঁদের কাজের সঙ্গে সঙ্গে যেন ঘরটি উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে ক্লদ মোনে, এডগার দেগা, কামিল পিসারো, জর্জ স্যুরাসহ অন্যান্য শিল্পীর কাজ। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এডগার দেগার বিখ্যাত নৃত্যরত রমণীদের সিরিজ ‘বিফোর দ্য পারফরম্যান্স’ এবং জর্জ স্যুরার ‘এ ফিল্ড অব আলফালফা, সাঁ-দেনি’।
স্কটিশ গ্যালারিতে প্রবেশ করেই প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়ল, তা হলো প্রশস্ত ও আলোভরা পরিবেশ। দেয়ালে একটি সময়রেখা ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, কীভাবে নেপোলিয়নিক যুদ্ধ, শিল্পবিপ্লব, হাইল্যান্ডের (স্কটল্যান্ড) সংস্কৃতি, সাম্রাজ্য বিস্তার এবং আধুনিকতার উত্থান স্কটিশ শিল্পকে প্রভাবিত করেছিল। এ যেন শুধু চিত্রকর্মের প্রদর্শনী নয়, বরং স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি পরিচয়মূলক প্রদর্শনী।
তাই গ্যালারি কর্তৃপক্ষ প্রথম কক্ষের মূল বিষয় উপস্থাপন করেছে এভাবে, ‘আমরা কারা?’। এখানে দেখানো হয়েছে স্কটল্যান্ডের অভিজাত পরিবার, বিচারপতি, সাহিত্যিক, সামরিক কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিকৃতি। এর মধ্যে একটি খুব উল্লেখযোগ্য কাজ স্যার হেনরি রেবার্নের ‘দ্য রেভারেন্ড রবার্ট ওয়াকার স্কেটিং অন ডডিংস্টন লোচ (দ্য স্কেটিং মিনিস্টার)’। ১৭৯৫ সালে আঁকা এই চিত্রকর্মটি স্কটিশ শিল্পের অন্যতম পরিচিত কাজ।

এরপরের কক্ষে শিল্পীরা রাজা-রানির বদলে সাধারণ মানুষের জীবনকে তুলে ধরেছেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো চিত্রকর্ম স্যার ডেভিড উইলকির আঁকা ‘পিটলেসি ফেয়ার’ (১৮০৪)। মাত্র ১৯ বছর বয়সে উইলকি নিজের গ্রাম স্কটল্যান্ডের ফাইফের বার্ষিক মেলাকে কেন্দ্র করে এই ছবিটি আঁকেন। এটি তাঁর প্রথম দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম।
পরের গ্যালারি কক্ষে এসে মন যেন শীতল হয়ে যায়। এখানে দেখা যায় স্কটিশ শিল্পীদের আঁকা বিশাল বিশাল ক্যানভাসে নৈসর্গিক প্রকৃতির চিত্রকর্ম—কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়, শান্ত জলের লেক, নদী, পাথুরে উপত্যকা, ঝড়ো আকাশ, একাকী গাছ ইত্যাদি। এখানে বিখ্যাত স্কটিশ শিল্পীদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য উইলিয়াম ম্যাকট্যাগার্ট ও হোরাশিও ম্যাককুলোচ।
তবে যে কয়েকজন স্কটিশ চিত্রশিল্পী আমার নজর কেড়েছেন, তাঁদের মধ্যে স্যামুয়েল জন পেপ্লো, ফ্রান্সিস ক্যাডেল, লেসলি হান্টার ও জে. ডি. ফার্গুসনের নাম মনে আছে। কারণ তাঁদের কাজের ধরন পূর্ববর্তী স্কটিশ শিল্পীদের মতো নয়। তাঁদের ক্যানভাসে যেন রঙের এক মহা বিস্ফোরণ ঘটেছে। ছবিতে ভূমধ্যসাগরের তীব্র আলো, উজ্জ্বল নীল, কমলা, গোলাপি ও সবুজের সাহসী ব্যবহার চোখে পড়ে। ফরাসি ফভিজম ও আধুনিক শিল্পের প্রভাব থাকলেও তাঁরা স্কটিশ শিল্পকে একটি স্বতন্ত্র ও আধুনিক পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন বললে কম বলা হয়।

এঁদের মধ্যে কয়েকজন নারী শিল্পীর কাজও উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে পড়ে। তাঁদের মধ্যে অ্যান রেডপাথ, ফোবি আনা ট্রাকোয়ার ও সেসিল ওয়াল্টনের নাম উল্লেখ করা যায়। তাঁদের ক্যানভাসে ফুল, গৃহস্থালি জীবন, প্রতীকী চিত্র এবং রঙের ব্যবহার স্কটিশ শিল্পের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরে।
স্কটিশ ন্যাশনাল গ্যালারি ভ্রমণের শেষভাগে রয়েছে ১৯৪৫ এর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এখানে এসে স্পষ্ট বোঝা যায়, স্কটিশ শিল্প কীভাবে ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতার দিকে এগিয়েছে। এই অংশে বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের কাজগুলো দেখানো হয়েছে, যেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়, নগরজীবন, বিমূর্ততার বিকাশ এবং নতুন শিল্পভাষার নানা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পুরো গ্যালারি ঘুরে দেখার পর মনে হলো, এটি স্কটল্যান্ডের জাতীয় পরিচয়, প্রকৃতি, সাহিত্য, সমাজ এবং আধুনিকতার বিকাশকে সুসংগঠিত কাহিনির মতো তুলে ধরা হয়েছে। এত অল্প সময়ে কি এত বড় ইতিহাস হজম হয়? চোখ দুটো যেন ঘোলাটে লাগছে আমার, মাথা ঘুরছে বনবন করে। একটু বিশ্রাম দরকার, মাথা আর চোখের তো বটেই-শরীরেও। কারণ, গ্যালারি থেকে বের হয়েই উঠতে হবে এডিনবোরা ক্যাসেলের চূড়ায়। ন্যাশনাল গ্যালারির পাশ দিয়েই ক্যাসেলে যাওয়ার রাস্তা। গুগল থেকে জেনেছি, ভূমি থেকে সাড়ে চার শ ফুট উঁচুতে ক্যাসেলটির অবস্থান। ওঠার রাস্তাও নাকি নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা এবং কিছুটা পাথুরে। উঠতে নাকি আধা ঘণ্টা সময় লাগে।
একটু না জিরিয়ে নিলে এত উঁচুতে উঠতে পারব কি না, মনে সন্দেহ দেখা দিল…
.png)

(অষ্টম পর্ব পড়ুন এখানে) ১৯৫১ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসে আমি এ-ধরনের কয়েকজন মিলে ভাড়া করা বাসায় কিছুদিন কাটিয়েছিলাম। আমার মায়ের এক জ্ঞাতি ভাই সেখানে চল্লিশের দশকের শেষভাগ থেকেই থাকতেন। তখনও তিনি অবিবাহিত ছিলেন, যদিও সপ্তাহান্তে গ্রামে তাঁর বাবা-মায়ের কাছে বেড়াতে যেতেন। তিনি আমার মায়ের অন্
১৯ ঘণ্টা আগে
কোনো রিসার্চ আর্টিকেল লিখতে গেলে সেখানে কোনো কিছু ক্লেইম করতে হয়। থিসিস স্টেটমেন্ট লিখতে হয়, রিসার্চ গ্যাপ বের করতে হয়, ক্লেইম বা দাবিকে প্রশ্ন বা সমস্যা আকারে হাজির করতে হয়। দাবিটাকে কনটেস্টেবল হতে হয়। একটা সেন্ট্রাল আর্গুমেন্ট থাকতে হয়, বেশ রিপিটিশন থাকতে হয়, কী করব সেটা থাকতে হয় ভূমিকায
২১ আগস্ট ২০২৬
কালজয়ী কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের জীবদ্দশার কোনো স্পষ্ট স্মৃতি তাঁর সন্তানদের মানসপটে নেই। খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারানোর কারণে তাঁদের কারও স্মৃতিতেই বাবার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবে বাবার রক্ত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে পথ চলছেন তাঁর সন্তানেরা।
১৯ আগস্ট ২০২৬
চলচ্চিত্রের জন্ম মুহূর্তে সে নির্বাক ছিল। ছবির পর ছবি তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেত, কিন্তু ওরা কথা বলত না। কথা না বললেও বিভিন্ন অভিব্যক্তির মাধ্যমে নির্বাক ছবি সবাক হয়ে ধরা দিত দর্শকের মনে। তারপর ছবিতে ধ্বনি এলো, শব্দ এলো, সংলাপ এলো। ছায়াছবিতে সংলাপের সংযোজনের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্প তার বনে
১৯ আগস্ট ২০২৬