স্ট্রিম ডেস্ক

রবিউল আউয়াল বিশ্বের মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় আয়োজন, বিশাল শোভাযাত্রা, পরিবারের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া ও দরিদ্রদের সহায়তার মধ্য দিয়ে মুসলিমরা এই দিন পালন করে। কোনো দেশে আবার সরকারি পর্যায়েও থাকে বড় আয়োজন।
বাংলাদেশে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ নামে পরিচিত এই আয়োজন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘মাওলিদ’, ‘মিলাদ-উন-নবী’ বা ‘মাওলিদুর রাসুল’ নামে পরিচিত। প্রচলিত সুন্নি মত অনুযায়ী, ১২ রবিউল আউয়াল এবং শিয়া মত অনুযায়ী, ১৭ রবিউল আউয়াল নবীজির (সা.) জন্মস্মরণের দিন হিসেবে ধরা হয়। তবে দিনটির পালন-পদ্ধতি দেশ, সমাজ ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী বেশ বদলে যায়।
বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী শুধু এক দিনের অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ, দোয়া, আলোচনা এবং নবীজির জীবন ও শিক্ষার ওপর আলোচনা হয়। সরকারি পর্যায়েও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি আয়োজনের নজির রয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বুধবার ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় সভা, ওয়াজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও নাতে রাসুলের আয়োজনও করা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের উদযাপনে মূল সুরটি থাকে ধর্মীয় আলোচনা ও স্মরণকে ঘিরে।

পাকিস্তানে ঈদে মিলাদুন্নবীর আয়োজন অনেক বেশি দৃশ্যমান। মসজিদ, বাড়ি, রাস্তা ও সরকারি-বেসরকারি ভবন রঙিন আলো ও পতাকায় সাজানো হয়। বিভিন্ন শহরে বের হয় মিলাদ শোভাযাত্রা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা দরুদ পাঠ করেন। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া এবং নবীজির (সা.) জীবন ও শিক্ষার ওপর আলোচনা হয়।
ইসলামাবাদে জাতীয় পর্যায়ে সীরাত সম্মেলনও আয়োজন করা হয়। পাকিস্তানে ২৫ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হয়েছে। এবারের আয়োজনে দেশজুড়ে মিছিল, বিশেষ দোয়া, দান-সদকা ও আলোকসজ্জা ছিল। ইসলামাবাদে সকালে ৩১ বার গান স্যালুট, আর প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে ২১ বার গান স্যালুট দিয়ে দিন শুরু হয়। দেশজুড়ে সরকারি ভবন, বাজার, সড়ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সবুজ পতাকা, ব্যানার ও আলোকসজ্জায় সাজানোর কথাও সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।
মিশরে মাওলিদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রবিউল আউয়াল শুরু হলেই বড় মসজিদগুলোর আশপাশে অস্থায়ী দোকান ও আয়োজন বসে। সেখানে ধর্মীয় বক্তৃতা, নবীপ্রশংসামূলক সংগীত ও নানা ধরনের খাবারের পাশাপাশি থাকে মিষ্টির দোকান এবং শিশুদের জন্য বিনোদনের আয়োজন।
সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহ্যগুলোর একটি হলো ‘হালাওয়াত আল-মাওলিদ’—মাওলিদের বিশেষ মিষ্টি। তিল, চিনাবাদাম, আখরোট, বিভিন্ন বাদাম ও মলবানের তৈরি নানা ধরনের মিষ্টি এই সময়ে বাজারে পাওয়া যায়। পরিবারে পরিবারে এগুলো কেনা ও ভাগ করে খাওয়ার চল রয়েছে। মিশরে মাওলিদের দৃশ্যটা শুধু মসজিদকেন্দ্রিক নয়, ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি এটি স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতি ও পারিবারিক আনন্দের সঙ্গেও মিশে গেছে।
এবছর মিশরে ১২ রবিউল আউয়াল ২৫ আগস্ট পড়লেও সরকার ছুটি সরিয়ে ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার করেছে। প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা মাদবুলি এ দিনটিকে ‘পেইড হলিডে’ ঘোষণা করেছেন।
মরক্কোয় মাওলিদের আয়োজনের ইতিহাস বহু পুরোনো। দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তম হিজরি শতক থেকেই সেখানে নবীজির জন্মস্মরণ ঘিরে আয়োজনের বিকাশ ঘটে। সময়ের সঙ্গে এটি সরকারি ও সামাজিক—দুই পর্যায়েই প্রতিষ্ঠিত হয়।
মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী উদযাপনের বড় অংশজুড়ে থাকে সীরাত পাঠ ও আলোচনা। মসজিদ, জাওয়িয়া, বাড়ি ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে নবীজির জীবন নিয়ে পাঠ এবং নাতে রাসুল পরিবেশন করা হয়। কিছু এলাকায় এই উপলক্ষে শিশুদের খতনার অনুষ্ঠানও আয়োজন করা ঐতিহ্যের অংশ।
মরক্কোতেও ২৫ আগস্ট পালিত হয়েছে ঈদে মিলাদুন্নবী। দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় চাঁদ দেখার পর ১২ রবিউল আউয়ালকে ২৫ আগস্ট নির্ধারণ করে। এর আগের দিন থেকেই স্থানীয় ধর্মীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
তুরস্কে নবীজির জন্মস্মরণ পরিচিত ‘মেভলিদ কান্দিল’ নামে। তুরস্কের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আলোচনা ও স্মরণসভা হয়ে থাকে। ২০২৫ সালে নবীজির জন্মের ১৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তুরস্কের প্রেসিডেন্সির পৃষ্ঠপোষকতায় দেশটির ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর বিশেষ কর্মসূচিও আয়োজন করেছিল। এই উপলক্ষ্যে এবছর সালে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪–২৫ আগস্ট নবীজির জন্মস্মরণ উপলক্ষে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের ক্ষেত্রে মাওলিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য বড় রাস্তার উৎসবের চেয়ে মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সংগঠিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ায় মাওলিদ স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে একাধিক রূপ নিয়েছে। দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নবীজির জন্মস্মরণ উপলক্ষে মানুষ একত্র হয়ে তাঁর জীবন ও সীরাত পাঠ করতে পারে এবং অন্যদের মধ্যে খাবার ও পানীয় বিতরণ করে। তবে স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী আয়োজনের ধরনও বদলায়।
ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৬ সালের মাওলিদ উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সরকারি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অফিসের রিপোর্টে অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট থেকে তাদের আয়োজন শুরু হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় আলোচনা, নবীজির জীবন স্মরণ এবং তাঁর চরিত্র অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় এই দিনটি শুধু ছুটির দিন নয়, স্থানীয় মসজিদ, ধর্মীয় সংগঠন ও কমিউনিটি-ভিত্তিক আয়োজন হিসেবেও দেখা হয়।
-d4ac1b.jpg)
মালয়েশিয়ায় ‘মাওলিদুর রাসুল’ জাতীয় পর্যায়েও বড় আয়োজনের বিষয়। দেশটির ইসলামবিষয়ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শোভাযাত্রা, সালাওয়াত পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মালয়েশিয়ার সারাওয়াকের একটি গ্রামে মাওলিদ উপলক্ষে প্রায় ৮০ বছরের পুরোনো একটি স্থানীয় রীতি এখনও টিকে আছে। ‘তুকার পালাক কুইহ’ নামে সেই আয়োজনে পরিবারগুলো নিজেদের তৈরি কেক ও ঐতিহ্যবাহী খাবার একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করে।
মালয়েশিয়ায় ২৫ আগস্ট ছিল ‘মাওলিদুর রাসুল’। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে এবং দিনটি সরকারি ছুটি। এবারের জাতীয় থিম ঠিক করা হয়েছে ‘মাদানি এম্ব্রেসড, উম্মাহ ব্লেসড’।
ভারতে ঈদে মিলাদুন্নবী দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপলক্ষ। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সাম্প্রতিক বার্তাতেও দিনটিকে নবী মুহাম্মদের শিক্ষা স্মরণের উপলক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের বার্তায় ভারতের রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মু বিশেষভাবে নবীজির (সা.) শিক্ষা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার কথা তুলে ধরেছেন এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য সেই আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মিলাদ মাহফিল, ধর্মীয় আলোচনা ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। তবে ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে স্থানীয় রীতি অনুযায়ী আয়োজনের ধরনও একেক জায়গায় একেক রকম।
বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সবাই যে মাওলিদ পালন করে, এমন নয়। সৌদি আরব এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সৌদি আরবের সরকারি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যে নবীজির (সা.) জন্মদিন উদযাপনকে অনুমোদিত নয় বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই মক্কা-মদিনা যে দেশে, সেই দেশেই রাষ্ট্রীয়ভাবে মাওলিদ উদযাপনের প্রচলন নেই। সৌদি আরবের সরকারি ছুটির তালিকাতেও এই দিন নেই। সেখানে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, জাতীয় দিবস ও প্রতিষ্ঠা দিবসের মতো নির্দিষ্ট ছুটি রয়েছে।
দেশভেদে আয়োজনের দৃশ্য বদলে গেলেও নবীজির (সা.) জীবন ও শিক্ষা স্মরণ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, নাতে রাসুল, ধর্মীয় আলোচনা এবং মানুষের মধ্যে খাবার বা সহায়তা ভাগ করে নেওয়ার প্রচলন প্রায় সব দেশেই আছে। এই বৈচিত্র্য আসলে মুসলিম সমাজগুলোর নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতিফলন। আর এই বৈচিত্র্যই দেখায়, একটি ধর্মীয় স্মরণ কীভাবে একেক সমাজে একেক রকম সাংস্কৃতিক অর্থ তৈরি করতে পারে।

রবিউল আউয়াল বিশ্বের মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় আয়োজন, বিশাল শোভাযাত্রা, পরিবারের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া ও দরিদ্রদের সহায়তার মধ্য দিয়ে মুসলিমরা এই দিন পালন করে। কোনো দেশে আবার সরকারি পর্যায়েও থাকে বড় আয়োজন।
বাংলাদেশে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ নামে পরিচিত এই আয়োজন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘মাওলিদ’, ‘মিলাদ-উন-নবী’ বা ‘মাওলিদুর রাসুল’ নামে পরিচিত। প্রচলিত সুন্নি মত অনুযায়ী, ১২ রবিউল আউয়াল এবং শিয়া মত অনুযায়ী, ১৭ রবিউল আউয়াল নবীজির (সা.) জন্মস্মরণের দিন হিসেবে ধরা হয়। তবে দিনটির পালন-পদ্ধতি দেশ, সমাজ ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী বেশ বদলে যায়।
বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী শুধু এক দিনের অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ, দোয়া, আলোচনা এবং নবীজির জীবন ও শিক্ষার ওপর আলোচনা হয়। সরকারি পর্যায়েও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি আয়োজনের নজির রয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বুধবার ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় সভা, ওয়াজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও নাতে রাসুলের আয়োজনও করা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের উদযাপনে মূল সুরটি থাকে ধর্মীয় আলোচনা ও স্মরণকে ঘিরে।

পাকিস্তানে ঈদে মিলাদুন্নবীর আয়োজন অনেক বেশি দৃশ্যমান। মসজিদ, বাড়ি, রাস্তা ও সরকারি-বেসরকারি ভবন রঙিন আলো ও পতাকায় সাজানো হয়। বিভিন্ন শহরে বের হয় মিলাদ শোভাযাত্রা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা দরুদ পাঠ করেন। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া এবং নবীজির (সা.) জীবন ও শিক্ষার ওপর আলোচনা হয়।
ইসলামাবাদে জাতীয় পর্যায়ে সীরাত সম্মেলনও আয়োজন করা হয়। পাকিস্তানে ২৫ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হয়েছে। এবারের আয়োজনে দেশজুড়ে মিছিল, বিশেষ দোয়া, দান-সদকা ও আলোকসজ্জা ছিল। ইসলামাবাদে সকালে ৩১ বার গান স্যালুট, আর প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে ২১ বার গান স্যালুট দিয়ে দিন শুরু হয়। দেশজুড়ে সরকারি ভবন, বাজার, সড়ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সবুজ পতাকা, ব্যানার ও আলোকসজ্জায় সাজানোর কথাও সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।
মিশরে মাওলিদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রবিউল আউয়াল শুরু হলেই বড় মসজিদগুলোর আশপাশে অস্থায়ী দোকান ও আয়োজন বসে। সেখানে ধর্মীয় বক্তৃতা, নবীপ্রশংসামূলক সংগীত ও নানা ধরনের খাবারের পাশাপাশি থাকে মিষ্টির দোকান এবং শিশুদের জন্য বিনোদনের আয়োজন।
সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহ্যগুলোর একটি হলো ‘হালাওয়াত আল-মাওলিদ’—মাওলিদের বিশেষ মিষ্টি। তিল, চিনাবাদাম, আখরোট, বিভিন্ন বাদাম ও মলবানের তৈরি নানা ধরনের মিষ্টি এই সময়ে বাজারে পাওয়া যায়। পরিবারে পরিবারে এগুলো কেনা ও ভাগ করে খাওয়ার চল রয়েছে। মিশরে মাওলিদের দৃশ্যটা শুধু মসজিদকেন্দ্রিক নয়, ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি এটি স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতি ও পারিবারিক আনন্দের সঙ্গেও মিশে গেছে।
এবছর মিশরে ১২ রবিউল আউয়াল ২৫ আগস্ট পড়লেও সরকার ছুটি সরিয়ে ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার করেছে। প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা মাদবুলি এ দিনটিকে ‘পেইড হলিডে’ ঘোষণা করেছেন।
মরক্কোয় মাওলিদের আয়োজনের ইতিহাস বহু পুরোনো। দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তম হিজরি শতক থেকেই সেখানে নবীজির জন্মস্মরণ ঘিরে আয়োজনের বিকাশ ঘটে। সময়ের সঙ্গে এটি সরকারি ও সামাজিক—দুই পর্যায়েই প্রতিষ্ঠিত হয়।
মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী উদযাপনের বড় অংশজুড়ে থাকে সীরাত পাঠ ও আলোচনা। মসজিদ, জাওয়িয়া, বাড়ি ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে নবীজির জীবন নিয়ে পাঠ এবং নাতে রাসুল পরিবেশন করা হয়। কিছু এলাকায় এই উপলক্ষে শিশুদের খতনার অনুষ্ঠানও আয়োজন করা ঐতিহ্যের অংশ।
মরক্কোতেও ২৫ আগস্ট পালিত হয়েছে ঈদে মিলাদুন্নবী। দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় চাঁদ দেখার পর ১২ রবিউল আউয়ালকে ২৫ আগস্ট নির্ধারণ করে। এর আগের দিন থেকেই স্থানীয় ধর্মীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
তুরস্কে নবীজির জন্মস্মরণ পরিচিত ‘মেভলিদ কান্দিল’ নামে। তুরস্কের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আলোচনা ও স্মরণসভা হয়ে থাকে। ২০২৫ সালে নবীজির জন্মের ১৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তুরস্কের প্রেসিডেন্সির পৃষ্ঠপোষকতায় দেশটির ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর বিশেষ কর্মসূচিও আয়োজন করেছিল। এই উপলক্ষ্যে এবছর সালে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪–২৫ আগস্ট নবীজির জন্মস্মরণ উপলক্ষে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের ক্ষেত্রে মাওলিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য বড় রাস্তার উৎসবের চেয়ে মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সংগঠিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ায় মাওলিদ স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে একাধিক রূপ নিয়েছে। দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নবীজির জন্মস্মরণ উপলক্ষে মানুষ একত্র হয়ে তাঁর জীবন ও সীরাত পাঠ করতে পারে এবং অন্যদের মধ্যে খাবার ও পানীয় বিতরণ করে। তবে স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী আয়োজনের ধরনও বদলায়।
ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৬ সালের মাওলিদ উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সরকারি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অফিসের রিপোর্টে অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট থেকে তাদের আয়োজন শুরু হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় আলোচনা, নবীজির জীবন স্মরণ এবং তাঁর চরিত্র অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় এই দিনটি শুধু ছুটির দিন নয়, স্থানীয় মসজিদ, ধর্মীয় সংগঠন ও কমিউনিটি-ভিত্তিক আয়োজন হিসেবেও দেখা হয়।
-d4ac1b.jpg)
মালয়েশিয়ায় ‘মাওলিদুর রাসুল’ জাতীয় পর্যায়েও বড় আয়োজনের বিষয়। দেশটির ইসলামবিষয়ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শোভাযাত্রা, সালাওয়াত পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মালয়েশিয়ার সারাওয়াকের একটি গ্রামে মাওলিদ উপলক্ষে প্রায় ৮০ বছরের পুরোনো একটি স্থানীয় রীতি এখনও টিকে আছে। ‘তুকার পালাক কুইহ’ নামে সেই আয়োজনে পরিবারগুলো নিজেদের তৈরি কেক ও ঐতিহ্যবাহী খাবার একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করে।
মালয়েশিয়ায় ২৫ আগস্ট ছিল ‘মাওলিদুর রাসুল’। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে এবং দিনটি সরকারি ছুটি। এবারের জাতীয় থিম ঠিক করা হয়েছে ‘মাদানি এম্ব্রেসড, উম্মাহ ব্লেসড’।
ভারতে ঈদে মিলাদুন্নবী দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপলক্ষ। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সাম্প্রতিক বার্তাতেও দিনটিকে নবী মুহাম্মদের শিক্ষা স্মরণের উপলক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের বার্তায় ভারতের রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মু বিশেষভাবে নবীজির (সা.) শিক্ষা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার কথা তুলে ধরেছেন এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য সেই আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মিলাদ মাহফিল, ধর্মীয় আলোচনা ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। তবে ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে স্থানীয় রীতি অনুযায়ী আয়োজনের ধরনও একেক জায়গায় একেক রকম।
বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সবাই যে মাওলিদ পালন করে, এমন নয়। সৌদি আরব এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সৌদি আরবের সরকারি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যে নবীজির (সা.) জন্মদিন উদযাপনকে অনুমোদিত নয় বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই মক্কা-মদিনা যে দেশে, সেই দেশেই রাষ্ট্রীয়ভাবে মাওলিদ উদযাপনের প্রচলন নেই। সৌদি আরবের সরকারি ছুটির তালিকাতেও এই দিন নেই। সেখানে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, জাতীয় দিবস ও প্রতিষ্ঠা দিবসের মতো নির্দিষ্ট ছুটি রয়েছে।
দেশভেদে আয়োজনের দৃশ্য বদলে গেলেও নবীজির (সা.) জীবন ও শিক্ষা স্মরণ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, নাতে রাসুল, ধর্মীয় আলোচনা এবং মানুষের মধ্যে খাবার বা সহায়তা ভাগ করে নেওয়ার প্রচলন প্রায় সব দেশেই আছে। এই বৈচিত্র্য আসলে মুসলিম সমাজগুলোর নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতিফলন। আর এই বৈচিত্র্যই দেখায়, একটি ধর্মীয় স্মরণ কীভাবে একেক সমাজে একেক রকম সাংস্কৃতিক অর্থ তৈরি করতে পারে।
.png)

‘পদাতিক পদধূলি ঢাকিল আকাশ দিনে অন্ধকার, নাহি রবির প্রকাশ।’ জৈনুদ্দীনের ‘রসুল বিজয়’ গ্রন্থে যুদ্ধের এমন তীব্র ও জীবন্ত বর্ণনা রয়েছে। যে বাংলা কাব্য একসময় প্রধানত স্থানীয় লোককথা, পুরাণ ও ধর্মীয় আখ্যানকে ঘিরে আবর্তিত হতো, সেই কাব্যেই একসময় আরব-ফারসি উৎসের কাহিনি, ইসলামি ইতিহাস ও নবীজির জীবনকেন্দ্রিক
২৮ মিনিট আগে
সংগীতই ছিল অতুলপ্রসাদের প্রাণের আরাম। নিজের রচিত গানে নিজেই সুর যোজনা করতেন। বাংলার বাউল ও কীর্তনের সুরের সঙ্গে হিন্দুস্থানি সংগীতের সুর ও ঢং মিশিয়ে তিনি নিজস্ব সংগীতরীতির প্রবর্তন করেছিলেন। অতুলপ্রসাদী সংগীতরীতি তাই এত সুপরিচিত।
১ ঘণ্টা আগে
তখন ইউটিউব ছিল না। স্পটিফাই ছিল না। অন্য কোনো ওয়েব প্লেয়ার ছিল না। এমনকি গান শোনার জন্য হাতের মুঠোয় কোনো মোবাইলও ছিল না। ছিল ছোট্ট একটা ক্যাসেট প্লেয়ার। কালো রঙের ক্যাসেটের ভেতর পেঁচিয়ে থাকা সরু ফিতায় বন্দি থাকত আমাদের শৈশবের কত গান, কত গল্প, কত আবেগ। প্রেমের গান ছিল, বিরহের গান ছিল, ছিল জীবনের
২ ঘণ্টা আগে
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর’। আজ প্রকাশিত হলো এর ষষ্ঠ পর্ব। চোখ রাখুন প্রতি রোব ছোটবেলায় আমি ভিউকার্ড সংগ্রহ করতাম। বেশির ভাগ ভিউকার্ডে থাকত নায়ক-নায়িকার ছবি
২৩ আগস্ট ২০২৬