টক্সিক সম্পর্ক মানেই দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস। যখন কেউ নিয়মিত আমাদের অপমান করে, ছোট করে, বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে, তখন দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরে বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে কোষের ক্ষয় দ্রুত হয়, প্রদাহ বাড়ে আর বার্ধক্যও ত্বরান্বিত হয়।
অনন্ত রায়হান

আমরা সবাই জানি, ভালো সম্পর্ক মানুষকে বদলে দিতে পারে। একজন আন্তরিক বন্ধু, যত্নশীল সঙ্গী বা সহানুভূতিশীল পরিবারের সদস্য আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ায়, সাহস দেয়। কিন্তু এর উল্টো দিকটাও আছে।
এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বললেই মন খারাপ হয়ে যায়। সব সময় অভিযোগ, খোঁচা, নেতিবাচক মন্তব্য, অকারণ ঝগড়া। এদেরকে আমরা বলি ‘টক্সিক’ মানুষ।
এখন প্রশ্ন হলো, এরা কি শুধু আমাদের মন খারাপ করে? নাকি শরীরের ওপরও এর প্রভাব পড়ে?
সম্প্রতি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী বাইয়ুংকিউ লি’র নেতৃত্বে একদল গবেষক এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালিয়েছেন। সেটি বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী পিএনএএস-এ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায় দুই হাজার তিন শ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিকূল সামাজিক সম্পর্ক সরাসরি আমাদের শরীরের বার্ধক্য প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। গবেষণার কাজে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁদের জীবনে এমন কেউ আছেন কি না, যিনি নিয়মিত মানসিক চাপ বা ঝামেলার কারণ হন। গবেষণায় এদের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘হ্যাসলার’।
একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের লালা নমুনা হিসেবে নিয়ে তাঁদের ‘জৈবিক বয়স’ নির্ধারণ করা হয়। আমরা সাধারণত যে বয়স জানি, তা হলো জন্মসনদ অনুযায়ী বয়স। কিন্তু শরীরের কোষ কতটা দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে, সেটাই জৈবিক বয়স। এই বয়স অনেক সময় ক্যালেন্ডারের বয়সের চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে।
প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের জীবনে অন্তত একজন টক্সিক ব্যক্তি আছেন। প্রায় ১০ শতাংশের জীবনে দুই বা তার বেশি টক্সিক মানুষ আছে। গড় হিসেবে দেখা গেছে, একজন টক্সিক মানুষ থাকার কারণে বয়স বাড়ার গতি প্রায় ১.৫ শতাংশ বেড়ে যায়। যাদের জীবনে টক্সিক মানুষ আছে, তাঁদের জৈবিক বয়স একই বয়সী অন্যদের তুলনায় গড়ে ৯ মাস বেশি পাওয়া গেছে।
এখানেই শেষ নয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টক্সিক সম্পর্ক শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়। অর্থাৎ টক্সিক মানুষ শুধু মানসিক শান্তিই কেড়ে নেয় না, শরীরের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।
কারণ টক্সিক সম্পর্ক মানেই দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস। যখন কেউ নিয়মিত আমাদের অপমান করে, ছোট করে, বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে, তখন দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরে বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে কোষের ক্ষয় দ্রুত হয়, প্রদাহ বাড়ে আর বার্ধক্যও ত্বরান্বিত হয়।
গবেষকদের মতে, বিয়ের কিছু ইতিবাচক দিক যেমন একাকিত্ব দূর হওয়া বা মানসিক সাহচর্য অনেক সময় বিষাক্ত আচরণের নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে কিছুটা কমিয়ে দেয়। কিন্তু বন্ধু বা আত্মীয়দের ক্ষেত্রে সেই সুরক্ষা পাওয়া যায় না বলে তাদের থেকে আসা চাপ সরাসরি শরীরের জৈবিক ঘড়িতে আঘাত করে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের সামাজিক পরিমণ্ডলে বিষাক্ত মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকে।
সব সময় তা সম্ভব নয়। পরিবার, কর্মক্ষেত্র বা দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকে পুরোপুরি সরে আসা অনেক সময় কঠিন। তবে নিজের সুরক্ষার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়। প্রথমত, নিজের সীমা নির্ধারণ করা জরুরি—কোন আচরণ মেনে নেবেন আর কোনটা নয়, তা স্পষ্ট করা। দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও ঝামেলা এড়িয়ে চলা ভালো। সব কথার জবাব দেওয়া প্রয়োজন নেই। তৃতীয়ত, যেখানে সম্ভব যোগাযোগ কমানো যেতে পারে, বিশেষ করে যদি সেই সম্পর্ক মানসিক চাপ তৈরি করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বোঝা। আমরা শরীরের যত্ন নিই, কিন্তু সম্পর্কের প্রভাবও যে স্বাস্থ্যের অংশ, তা ভুলে যাই। ভালো মানুষ আমাদের শক্তি ও স্বস্তি দেয়, আর টক্সিক মানুষ ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ক্ষয় করে। তাই সবসময় এড়িয়ে যাওয়া না গেলেও, নিজেকে রক্ষা করা অবশ্যই সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়।

আমরা সবাই জানি, ভালো সম্পর্ক মানুষকে বদলে দিতে পারে। একজন আন্তরিক বন্ধু, যত্নশীল সঙ্গী বা সহানুভূতিশীল পরিবারের সদস্য আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ায়, সাহস দেয়। কিন্তু এর উল্টো দিকটাও আছে।
এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বললেই মন খারাপ হয়ে যায়। সব সময় অভিযোগ, খোঁচা, নেতিবাচক মন্তব্য, অকারণ ঝগড়া। এদেরকে আমরা বলি ‘টক্সিক’ মানুষ।
এখন প্রশ্ন হলো, এরা কি শুধু আমাদের মন খারাপ করে? নাকি শরীরের ওপরও এর প্রভাব পড়ে?
সম্প্রতি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী বাইয়ুংকিউ লি’র নেতৃত্বে একদল গবেষক এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালিয়েছেন। সেটি বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী পিএনএএস-এ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায় দুই হাজার তিন শ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিকূল সামাজিক সম্পর্ক সরাসরি আমাদের শরীরের বার্ধক্য প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। গবেষণার কাজে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁদের জীবনে এমন কেউ আছেন কি না, যিনি নিয়মিত মানসিক চাপ বা ঝামেলার কারণ হন। গবেষণায় এদের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘হ্যাসলার’।
একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের লালা নমুনা হিসেবে নিয়ে তাঁদের ‘জৈবিক বয়স’ নির্ধারণ করা হয়। আমরা সাধারণত যে বয়স জানি, তা হলো জন্মসনদ অনুযায়ী বয়স। কিন্তু শরীরের কোষ কতটা দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে, সেটাই জৈবিক বয়স। এই বয়স অনেক সময় ক্যালেন্ডারের বয়সের চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে।
প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের জীবনে অন্তত একজন টক্সিক ব্যক্তি আছেন। প্রায় ১০ শতাংশের জীবনে দুই বা তার বেশি টক্সিক মানুষ আছে। গড় হিসেবে দেখা গেছে, একজন টক্সিক মানুষ থাকার কারণে বয়স বাড়ার গতি প্রায় ১.৫ শতাংশ বেড়ে যায়। যাদের জীবনে টক্সিক মানুষ আছে, তাঁদের জৈবিক বয়স একই বয়সী অন্যদের তুলনায় গড়ে ৯ মাস বেশি পাওয়া গেছে।
এখানেই শেষ নয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টক্সিক সম্পর্ক শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়। অর্থাৎ টক্সিক মানুষ শুধু মানসিক শান্তিই কেড়ে নেয় না, শরীরের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।
কারণ টক্সিক সম্পর্ক মানেই দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস। যখন কেউ নিয়মিত আমাদের অপমান করে, ছোট করে, বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে, তখন দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরে বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে কোষের ক্ষয় দ্রুত হয়, প্রদাহ বাড়ে আর বার্ধক্যও ত্বরান্বিত হয়।
গবেষকদের মতে, বিয়ের কিছু ইতিবাচক দিক যেমন একাকিত্ব দূর হওয়া বা মানসিক সাহচর্য অনেক সময় বিষাক্ত আচরণের নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে কিছুটা কমিয়ে দেয়। কিন্তু বন্ধু বা আত্মীয়দের ক্ষেত্রে সেই সুরক্ষা পাওয়া যায় না বলে তাদের থেকে আসা চাপ সরাসরি শরীরের জৈবিক ঘড়িতে আঘাত করে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের সামাজিক পরিমণ্ডলে বিষাক্ত মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকে।
সব সময় তা সম্ভব নয়। পরিবার, কর্মক্ষেত্র বা দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকে পুরোপুরি সরে আসা অনেক সময় কঠিন। তবে নিজের সুরক্ষার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়। প্রথমত, নিজের সীমা নির্ধারণ করা জরুরি—কোন আচরণ মেনে নেবেন আর কোনটা নয়, তা স্পষ্ট করা। দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও ঝামেলা এড়িয়ে চলা ভালো। সব কথার জবাব দেওয়া প্রয়োজন নেই। তৃতীয়ত, যেখানে সম্ভব যোগাযোগ কমানো যেতে পারে, বিশেষ করে যদি সেই সম্পর্ক মানসিক চাপ তৈরি করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বোঝা। আমরা শরীরের যত্ন নিই, কিন্তু সম্পর্কের প্রভাবও যে স্বাস্থ্যের অংশ, তা ভুলে যাই। ভালো মানুষ আমাদের শক্তি ও স্বস্তি দেয়, আর টক্সিক মানুষ ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ক্ষয় করে। তাই সবসময় এড়িয়ে যাওয়া না গেলেও, নিজেকে রক্ষা করা অবশ্যই সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়।

কেনিয়ার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক শহর হলো নাকুরু। রাজধানী নাইরোবি থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো সাতসকালে। তখন ভোরের প্রথম আলো শহরের কংক্রিটের ভবনগুলোতে সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল গ্রামীণ জীবনের চমৎকার সব দৃশ্য। কেউ গরুর চামড়া মাথায় নিয়ে বাজারে যাচ্ছে, কারও হাতে সবজিভর্তি ব
৪ ঘণ্টা আগে
ভারতের আলোকচিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ এবং লেন্সের জাদুকর রঘু রাই আর নেই। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রোস্টেট এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্যানসার তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও তিনি তাঁর প
৭ ঘণ্টা আগে
আমাদের রান্নাঘরের অনেক জিনিসই প্লাস্টিকের তৈরি। তাই সহজেই এগুলো খাবারে মিশে যেতে পারে। তবে আমরা চাইলেই খাবারে প্লাস্টিকের উপস্থিতি কমানো সম্ভব। রান্নাঘরে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি।
১০ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ফিলিপ আইল্যান্ড’ নামের এক অপূর্ব নৈসর্গিক জায়গায় আমরা এসেছি পেঙ্গুইনের খোঁজে! জি হ্যাঁ, পেঙ্গুইন! পেঙ্গুইন মানেই তো সেই কোট পরা ‘ভদ্রলোক’ পাখি! এর নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে, বরফ মহাদেশে হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।
১ দিন আগে