স্মৃতি
ইউসুফ আলী শিমুল

আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ এলো ২০০৩ সালে। তখন আমার হাইস্কুল যাত্রা শেষের দিকে। কৈশোরের ওই সময়টার আগ পর্যন্ত আমাদের, মানে আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের ভাই-বোনদের ঈদ অভিজ্ঞতা খানিকটা অন্যরকম। স্মৃতি হাতড়ে যা মেলে, তা এ নিমিষেই গল্প করা সম্ভব। তবে সেই আবেগ হয়তো আরব্য রজনীর গল্পের চেয়েও টানটান।
আমার শৈশবের একটা বড় অংশজুড়েই আছে কৃষি। বলা রাখি, আমার শৈশব কেটেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ছোট ঢেপা নদীর তীরে। আর জন্ম নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে। নদী বললে আপনার মনে যা ভেসে উঠছে, এটা হয়তো ঠিক ততটা প্রমত্ত নয়। প্রশস্ততায় কোথাও ৪০ আবার কোথাও ৬০ মিটারের মতো।
ঠাকুরগাঁও সদরের সাসলাপিয়াল বিল থেকে উৎপন্ন সরু এই নালাটি সাপের মতো পেঁচিয়ে কয়েক কিলোমিটার পর বীরগঞ্জ পৌরশহরের পাশে গিয়ে ঢেপা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে; যেটা আবার আত্রাই নদীর একটি শাখা নদী। আমার বাড়ি যেমন এই নদীর তীরে, আবার স্কুলও।
যাই হোক, এই নদী আমার জীবনে যেমন বড় প্রভাব রেখেছে, স্মৃতিতেও গেঁথে আছে অনেকটা অংশজুড়ে। এই নদীর পাড়েই ধানকাটার পর বিস্তীর্ণ শস্যখেতই ছিল আমাদের খেলার মাঠ। আবার এখানেই গরু-ছাগল চড়ানোর সময়টাও ছিল উপভোগ্য। গরু-ছাগলের আলাপ আনছি এ কারণেই যে আমার ছোটবেলার প্রতিটি ঈদ উদযাপন সাজাতে হতো এই পোষা প্রাণীদের ঘিরে।
মায়ের শর্ত হলো, ঈদের দিন মজা করে ঘুরতে হলে গরুর পেট ভরা থাকতে হবে। আর এজন্য ঈদের আগে সপ্তাহব্যাপী সে কি প্রস্তুতি—যা বর্তমানে রাজধানীর যান্ত্রিক পরিবেশে বড় হতে থাকা আমার সন্তান হয়তো কখনো কল্পনাই করতে পারবে না। ঈদের দিনে গরুর পেট ভরাতে সপ্তাহব্যাপী প্রস্তুতিটা হয়তো খটকা তৈরি করতে পারে। একটু ভেঙে বলা যাক।
নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে ঈদুল ফিতর ছিল শীতকালে। আমাদের এলাকার বেশিরভাগ ডাঙা জমিতে তখন দুইটা ফসল হয়। তার একটা ধান, অন্যটা গম বা সরিষা কিংবা মাসকলাই। অন্য সময় এই জমি পতিত পড়ে থাকতো। তো পতিত থাকলে গরু নিয়ে চিন্তা ছিল না। তবে গমের সময়টাতে পড়াশোনার ফাঁকে গরুর ঘাস জোগাড় করাটা ছিল বাড়ির শিশু-কিশোরদের প্রধান কাজ।
বিশেষ করে গম বা সরিষা খেতে হওয়া আগাছা গরুর ভীষণ পছন্দের। আমরা দল বেঁধে ঈদের একসপ্তাহ আগে থেকেই বিভিন্ন শস্যক্ষেত ঘুরে সারের পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘাস জোগাড় করা শুরু করতাম। কে কত ঘাস জোগাড় করতে পারছি, তা নিয়েও চলতো শীতল যুদ্ধ।
আগের তিন-চারদিনে কোনোরকম চার থেকে পাঁচ বস্তা ঘাস জোগাড় হয়েও যেতো। পরের দুদিনের কাজ ছিল সেগুলোকে চার আঙুল লম্বা লম্বা করে কেটে, তার সঙ্গে সম-দৈর্ঘ্যের খড় কেটে তার সঙ্গে একটা ‘মিক্সার’ তৈরি করা। এই মিক্সার আবার প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভরে স্তূপ করে রাখা। যেন ঈদের দিন গরু কোথাও নিয়ে না চড়ালেও চারির (গরুর পানি পানের জন্য সিমেন্টের তৈরি পাত্র) সামনে খুঁটিতে বেঁধে রাখলেই সারাদিন একটু একটু করে দেওয়া যায়।
এত আয়োজনের মূল কারণ শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায় পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র উপভোগ করা। আগেই বলেছি, আমাদের বাড়িতে, কিংবা পাড়ায় বিদ্যুৎ এসেছে অনেক পরে। তবে তখনও যে আশপাশের পাড়াতে টেলিভিশন ঘরে ঘরে, তেমনটাও না।
টিভি দেখতে চাইলে বাড়ি থেকে হাঁটতে হতো আধা কিলোমিটারেরও বেশি। তবে বিদ্যুৎ সংযোগের টিভিতে সিনেমা দেখাটা ঝুঁকিপূর্ণ। সিনেমার ট্র্যাজিক মোমেন্টে বিদ্যুৎ চলে গেলে, তা ছিল বেশ কষ্টের। সেজন্য নির্ধারণ করা থাকতো ব্যাটারিতে সাদাকালো টেলিভিশন দেখা যায় এমন বাড়ি। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সেই সিনেমা শুরু হওয়ার আগেই বাড়ি বারান্দা ভরে আঙিনা পর্যন্ত গড়াতো দর্শক উপস্থিতি।
অবশ্য সেই সিনেমা দেখা ছাড়াও গরুর ঘাস জোগাড়ের আরও একটা উপহারও থাকত। সকালে ঈদগাহে দলবেঁধে নামাজে গিয়ে বাবার কাছ থেকে পাঁচ কিংবা অবস্থা ভালো হলে ১০ টাকা ঈদ সালামি।
এখন কলিগ কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় ঈদের সময় সেলামি পাওয়ার স্মৃতি কথা শুনি। আমার ঝুলিতে এমন কোনো স্মৃতি নেই। যা দিতেন তা বাবাই দিতেন। সেসময় ১০ টাকা হাতে এলেই নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি মনে হতো।
১ টাকায় মিলতো ১০টা নতুন মার্বেল। সিনেমা দেখার আগে মার্বেল খেলাও ছিল আরেকটা রুটিন ওয়ার্ক। মার্বেল খেলার জন্য পাড়ায় পাড়ায় ২২ গজের ক্রিকেট পিচের মতোই যত্ন করে বানানো হতো এক থেকে দেড় গজের ‘পিচ’। যা মাটি আধা ফুট গর্ত করে কয়েকদিন ধরে ইট কিংবা তক্তা দিয়ে পিটিয়ে সমান্তরাল করা হতো।
ঈদের নামাজ পড়া হলেই পাড়ার প্রথম বাড়ি থেকে সেমাই খেতে খেতে সেই পিচ পর্যন্ত গিয়ে থামত আমাদের যাত্রা। এরপর দুপুরে পেটে টান পড়ার আগ পর্যন্ত চলত মার্বেল খেলা। এরপর দুপুরে এসে মাংস দিয়ে গরম ভাত কোনোরকম গো-গ্রাসে গিলে দৌড় টেলিভিশন-বাড়িতে।
সিনেমা শেষ হলে সোজা নানার বাড়ি। সেখানে রাতের খাবার খেয়ে পাশের বাড়িতে রাত পর্যন্ত টিভিতে ঈদের নানা রকম অনুষ্ঠান দেখা। এর ফাঁকে হয়তো মামাতো-খালাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে লুকোচুরি কিংবা দাড়িয়াবান্ধা খেলা থাকতো বোনাস।
অবশ্য ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা পাওয়াটাও ছিল একটা রীতি। গ্রামের হাটে বস্তা বিছিয়ে বসা দোকানগুলো থেকে গজ কাপড় কিনে সব ভাই-বোনকে একরঙের শার্ট কিংবা ফ্রক, সঙ্গে সবার রাবার লাগানো প্যান্ট। বন্ধুদের কেউ কেউ এসময় ইংলিশ প্যান্টও (জিনস কাপড়ের হুকওয়ালা হাফপ্যান্ট, যা আমরা বলতাম ইংলিশ প্যান্ট) যে পেতো না, তা নয়। তবে আমাদের টানাপোড়েনের সংসারে সেটার আবদার কিছুটা বিলাসিতাই ছিল।
এই লেখা যখন লিখছি, তখন আমি স্লিপার বাসে। রওনা দিয়েছি গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে। গ্রামে গিয়েও ঘুমোতে হবে নিচে। আগের সেই খড় ঘন করে বোনা চালের ঘরটাও নেই। গরুর ঘাস রাখার ঘরটাও নেই। মানিব্যাগে টাকার সঙ্গে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডও আছে। কিন্তু নিজেকে সেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি ভাবার মনোভাবটুকু আর নেই।

আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ এলো ২০০৩ সালে। তখন আমার হাইস্কুল যাত্রা শেষের দিকে। কৈশোরের ওই সময়টার আগ পর্যন্ত আমাদের, মানে আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের ভাই-বোনদের ঈদ অভিজ্ঞতা খানিকটা অন্যরকম। স্মৃতি হাতড়ে যা মেলে, তা এ নিমিষেই গল্প করা সম্ভব। তবে সেই আবেগ হয়তো আরব্য রজনীর গল্পের চেয়েও টানটান।
আমার শৈশবের একটা বড় অংশজুড়েই আছে কৃষি। বলা রাখি, আমার শৈশব কেটেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ছোট ঢেপা নদীর তীরে। আর জন্ম নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে। নদী বললে আপনার মনে যা ভেসে উঠছে, এটা হয়তো ঠিক ততটা প্রমত্ত নয়। প্রশস্ততায় কোথাও ৪০ আবার কোথাও ৬০ মিটারের মতো।
ঠাকুরগাঁও সদরের সাসলাপিয়াল বিল থেকে উৎপন্ন সরু এই নালাটি সাপের মতো পেঁচিয়ে কয়েক কিলোমিটার পর বীরগঞ্জ পৌরশহরের পাশে গিয়ে ঢেপা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে; যেটা আবার আত্রাই নদীর একটি শাখা নদী। আমার বাড়ি যেমন এই নদীর তীরে, আবার স্কুলও।
যাই হোক, এই নদী আমার জীবনে যেমন বড় প্রভাব রেখেছে, স্মৃতিতেও গেঁথে আছে অনেকটা অংশজুড়ে। এই নদীর পাড়েই ধানকাটার পর বিস্তীর্ণ শস্যখেতই ছিল আমাদের খেলার মাঠ। আবার এখানেই গরু-ছাগল চড়ানোর সময়টাও ছিল উপভোগ্য। গরু-ছাগলের আলাপ আনছি এ কারণেই যে আমার ছোটবেলার প্রতিটি ঈদ উদযাপন সাজাতে হতো এই পোষা প্রাণীদের ঘিরে।
মায়ের শর্ত হলো, ঈদের দিন মজা করে ঘুরতে হলে গরুর পেট ভরা থাকতে হবে। আর এজন্য ঈদের আগে সপ্তাহব্যাপী সে কি প্রস্তুতি—যা বর্তমানে রাজধানীর যান্ত্রিক পরিবেশে বড় হতে থাকা আমার সন্তান হয়তো কখনো কল্পনাই করতে পারবে না। ঈদের দিনে গরুর পেট ভরাতে সপ্তাহব্যাপী প্রস্তুতিটা হয়তো খটকা তৈরি করতে পারে। একটু ভেঙে বলা যাক।
নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে ঈদুল ফিতর ছিল শীতকালে। আমাদের এলাকার বেশিরভাগ ডাঙা জমিতে তখন দুইটা ফসল হয়। তার একটা ধান, অন্যটা গম বা সরিষা কিংবা মাসকলাই। অন্য সময় এই জমি পতিত পড়ে থাকতো। তো পতিত থাকলে গরু নিয়ে চিন্তা ছিল না। তবে গমের সময়টাতে পড়াশোনার ফাঁকে গরুর ঘাস জোগাড় করাটা ছিল বাড়ির শিশু-কিশোরদের প্রধান কাজ।
বিশেষ করে গম বা সরিষা খেতে হওয়া আগাছা গরুর ভীষণ পছন্দের। আমরা দল বেঁধে ঈদের একসপ্তাহ আগে থেকেই বিভিন্ন শস্যক্ষেত ঘুরে সারের পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘাস জোগাড় করা শুরু করতাম। কে কত ঘাস জোগাড় করতে পারছি, তা নিয়েও চলতো শীতল যুদ্ধ।
আগের তিন-চারদিনে কোনোরকম চার থেকে পাঁচ বস্তা ঘাস জোগাড় হয়েও যেতো। পরের দুদিনের কাজ ছিল সেগুলোকে চার আঙুল লম্বা লম্বা করে কেটে, তার সঙ্গে সম-দৈর্ঘ্যের খড় কেটে তার সঙ্গে একটা ‘মিক্সার’ তৈরি করা। এই মিক্সার আবার প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভরে স্তূপ করে রাখা। যেন ঈদের দিন গরু কোথাও নিয়ে না চড়ালেও চারির (গরুর পানি পানের জন্য সিমেন্টের তৈরি পাত্র) সামনে খুঁটিতে বেঁধে রাখলেই সারাদিন একটু একটু করে দেওয়া যায়।
এত আয়োজনের মূল কারণ শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায় পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র উপভোগ করা। আগেই বলেছি, আমাদের বাড়িতে, কিংবা পাড়ায় বিদ্যুৎ এসেছে অনেক পরে। তবে তখনও যে আশপাশের পাড়াতে টেলিভিশন ঘরে ঘরে, তেমনটাও না।
টিভি দেখতে চাইলে বাড়ি থেকে হাঁটতে হতো আধা কিলোমিটারেরও বেশি। তবে বিদ্যুৎ সংযোগের টিভিতে সিনেমা দেখাটা ঝুঁকিপূর্ণ। সিনেমার ট্র্যাজিক মোমেন্টে বিদ্যুৎ চলে গেলে, তা ছিল বেশ কষ্টের। সেজন্য নির্ধারণ করা থাকতো ব্যাটারিতে সাদাকালো টেলিভিশন দেখা যায় এমন বাড়ি। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সেই সিনেমা শুরু হওয়ার আগেই বাড়ি বারান্দা ভরে আঙিনা পর্যন্ত গড়াতো দর্শক উপস্থিতি।
অবশ্য সেই সিনেমা দেখা ছাড়াও গরুর ঘাস জোগাড়ের আরও একটা উপহারও থাকত। সকালে ঈদগাহে দলবেঁধে নামাজে গিয়ে বাবার কাছ থেকে পাঁচ কিংবা অবস্থা ভালো হলে ১০ টাকা ঈদ সালামি।
এখন কলিগ কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় ঈদের সময় সেলামি পাওয়ার স্মৃতি কথা শুনি। আমার ঝুলিতে এমন কোনো স্মৃতি নেই। যা দিতেন তা বাবাই দিতেন। সেসময় ১০ টাকা হাতে এলেই নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি মনে হতো।
১ টাকায় মিলতো ১০টা নতুন মার্বেল। সিনেমা দেখার আগে মার্বেল খেলাও ছিল আরেকটা রুটিন ওয়ার্ক। মার্বেল খেলার জন্য পাড়ায় পাড়ায় ২২ গজের ক্রিকেট পিচের মতোই যত্ন করে বানানো হতো এক থেকে দেড় গজের ‘পিচ’। যা মাটি আধা ফুট গর্ত করে কয়েকদিন ধরে ইট কিংবা তক্তা দিয়ে পিটিয়ে সমান্তরাল করা হতো।
ঈদের নামাজ পড়া হলেই পাড়ার প্রথম বাড়ি থেকে সেমাই খেতে খেতে সেই পিচ পর্যন্ত গিয়ে থামত আমাদের যাত্রা। এরপর দুপুরে পেটে টান পড়ার আগ পর্যন্ত চলত মার্বেল খেলা। এরপর দুপুরে এসে মাংস দিয়ে গরম ভাত কোনোরকম গো-গ্রাসে গিলে দৌড় টেলিভিশন-বাড়িতে।
সিনেমা শেষ হলে সোজা নানার বাড়ি। সেখানে রাতের খাবার খেয়ে পাশের বাড়িতে রাত পর্যন্ত টিভিতে ঈদের নানা রকম অনুষ্ঠান দেখা। এর ফাঁকে হয়তো মামাতো-খালাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে লুকোচুরি কিংবা দাড়িয়াবান্ধা খেলা থাকতো বোনাস।
অবশ্য ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা পাওয়াটাও ছিল একটা রীতি। গ্রামের হাটে বস্তা বিছিয়ে বসা দোকানগুলো থেকে গজ কাপড় কিনে সব ভাই-বোনকে একরঙের শার্ট কিংবা ফ্রক, সঙ্গে সবার রাবার লাগানো প্যান্ট। বন্ধুদের কেউ কেউ এসময় ইংলিশ প্যান্টও (জিনস কাপড়ের হুকওয়ালা হাফপ্যান্ট, যা আমরা বলতাম ইংলিশ প্যান্ট) যে পেতো না, তা নয়। তবে আমাদের টানাপোড়েনের সংসারে সেটার আবদার কিছুটা বিলাসিতাই ছিল।
এই লেখা যখন লিখছি, তখন আমি স্লিপার বাসে। রওনা দিয়েছি গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে। গ্রামে গিয়েও ঘুমোতে হবে নিচে। আগের সেই খড় ঘন করে বোনা চালের ঘরটাও নেই। গরুর ঘাস রাখার ঘরটাও নেই। মানিব্যাগে টাকার সঙ্গে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডও আছে। কিন্তু নিজেকে সেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি ভাবার মনোভাবটুকু আর নেই।

১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর, শনিবার। বর্ষপঞ্জির চিরায়ত নিয়মে অগ্রহায়ণের কুয়াশামাখা মেঘলা আকাশ আর ভয়ার্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে আকাশে উঠেছিল শাওয়ালের চাঁদ। মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে দিনটি ছিল এক পবিত্র উৎসবের, কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত বদ্বীপ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ওই এক ফালি চাঁদ কোনো আনন্দের বার্তা বয়ে আনেনি।
২ ঘণ্টা আগে
সিকিউরিটি চিফ জানালো বিপদের সমূহ শঙ্কা। মানুষের কলোনিতে এক মশা-বিশেষজ্ঞের আবির্ভাব ঘটেছে—ড. বাশার। এই মশকবিজ্ঞানী পরামর্শ দিয়েছেন যেকোনো মূল্যে ইউনাইটেড স্টেটস অব মস্কোইটোকে ‘ডেস্ট্রয়’ করতে হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
বিশ্বাস করবেন না কথাটা! কিন্তু সত্যিই কেউ আমাকে অলওয়েজ ফলো করে। বাজারের ব্যাগ নিয়ে যখন বের হই, সিঁড়ি দিয়ে নামছি তখন থেকে ফলো করা শুরু। থপথপ করে পিছনের দিকে আওয়াজ হয়। পিছনে হাজারবার তাকিয়েও কিছু দেখতে পারিনি; নাকি চোখের সমস্যা বুঝতে পারি না।
১৪ ঘণ্টা আগে
প্রকৃতিতে কী খেয়াল চলছে কে জানে। মাটি অনুর্বর, পানি-বাতাস দূষিত। গ্রীষ্মের দেশে হঠাৎ করেই তুষারপাতের মতো শহরে ‘সত্যযুগ’ নেমে এল যেন। চারপাশের সবকিছু আগের মতোই আছে, ভৌত-অবকাঠামোর কোনো বদল চোখে পড়ে না। শুধু সবাই যা বলছে, নীরবেই তা ফলে যাচ্ছে, নয়তো উল্টো শোনা যাচ্ছে।
১৫ ঘণ্টা আগে