ফারুক আব্দুল্লাহ

আজকের দিনে একটি ভাইরাল ভিডিও, একটি রিয়েলিটি শো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টই যথেষ্ট হতে পারে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু নায়ক রাজ্জাকের সময়ে এই শর্টকাটের কোনো সুযোগ ছিল না। দর্শক প্রথমে তাঁকে একটি চরিত্রে দেখতেন, তারপর আরেকটিতে, তারপর আরও একটিতে—আর এই পুনরাবৃত্তির ভেতর দিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি হতো ‘স্টার ইমেজ’।
চলচ্চিত্রতাত্ত্বিক রিচার্ড ডায়ারের তারকা-তত্ত্ব এখানে মনে করিয়ে দেয় যে তারকা শুধু রক্তমাংসের মানুষ মাত্র নন। সিনেমা, প্রচার, সাক্ষাৎকার, সমালোচনা আর জনস্মৃতির নানা স্তর মিলেই গড়ে ওঠে তাঁর বহুমাত্রিক ভাবমূর্তি। রাজ্জাকের বেলায়ও তা-ই ঘটেছিল। ‘বেহুলা’র লখিন্দর, সামাজিক নাটকের প্রেমিক, সংগ্রামী যুবক কিংবা ‘রংবাজ’-এর জনপ্রিয় নায়ক—এমন অসংখ্য চরিত্র, অসংখ্য গান, পোস্টারে বারবার একই মুখ, সিনেমা হলের সামনে একই নাম—এসব মিলিয়েই ‘রাজ্জাক’ নামের সাংস্কৃতিক প্রতীক গড়ে উঠেছিল।
আজকের ভাষায় বলতে গেলে, এটা ছিল এক দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ড নির্মাণ প্রক্রিয়া। তবে সেই ব্র্যান্ডের নির্মাতা কোনো একক বিজ্ঞাপনদল ছিল না। পরিচালক, প্রযোজক, গীতিকার, পোস্টারশিল্পী, সিনেমা হলের মালিক ও দর্শক মিলেমিশে গড়ে তুলতেন একজন নায়ককে।
আজ একজন তারকার নতুন ছবির খবর প্রথম পৌঁছায় মোবাইলের পর্দায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টার প্রকাশ হয়, মিনিটের মধ্যে হাজারো প্রতিক্রিয়া আসে। এরপর টিজার, ট্রেলার, মিম আর বিতর্কের ঢেউ চলতেই থাকে। রাজ্জাকের যুগে এই একই কাজটা করত শহরের দেয়াল, সিনেমা হলের সামনের বোর্ড, বাজারের মোড়, পত্রিকার বিজ্ঞাপন। পোস্টার তখন শুধু একটা ছবির প্রচার ছিল না, ছিল দর্শকের কল্পনার সঙ্গে নায়কের প্রথম সাক্ষাৎ।
তবে পোস্টার আর আজকের পোস্টের মধ্যে একটা মৌলিক তফাত আছে। পোস্টার কথা বলে না, সে অপেক্ষা করায়—বলে, এই মানুষটিকে দেখতে হলে সিনেমা হলে আসতে হবে। আজকের পোস্ট বলে উল্টো কথা—এই মানুষটি এখানেই আছেন, এখনই দেখুন, মন্তব্য করুন। পুরোনো তারকা-ব্যবস্থার শক্তি ছিল দূরত্বে, নতুন ব্যবস্থার শক্তি তাৎক্ষণিকতায়।
গ্রিক পুরাণের দেবতারা মানুষের মতো নন, আবার পুরোপুরি অদৃশ্যও নন। তারা কখনো বজ্রপাতে, কখনো স্বপ্নে হাজির হতেন, কিন্তু তাঁদের সম্পর্কে সবকিছু জানা যায় না। এই অজানাই তাঁদের ক্ষমতার একটা অংশ। পুরোনো চলচ্চিত্রের তারকাও অনেকটা সেই দেবতুল্য দূরত্ব নিয়েই বাঁচতেন।
রাজ্জাককে দর্শক প্রতিদিন দেখতেন না। তিনি কী খাচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করছেন, এসব জানার উপায় ছিল সীমিত। ফলে দর্শকের চেনা রাজ্জাকের বড় অংশটাই ছিল আসলে পর্দার রাজ্জাক। জার্মান দার্শনিক ওয়াল্টার বেনিয়ামিনের ভাষায় বলা যায়, এই দূরত্বই তৈরি করত এক ধরনের ‘অরা’ বা অনন্য উপস্থিতির অনুভূতি।
আজকের তারকা সেই অর্থে দেবতা কম, প্রতিবেশী বেশি। তিনি লাইভে আসেন, নিজের ছবি দেন, ভুল করলে ব্যাখ্যা দেন, পুরোনো ভিডিও আবার ভাইরাল হয়ে ফিরে আসে। দর্শক তাই আজ শুধু তারকাকে দেখেন না, তাঁকে পর্যবেক্ষণও করেন। রাজ্জাককে চেনা যেত তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্য দিয়ে; আজকের তারকাকে দর্শক চিনতে চান চরিত্রের বাইরেও। তিনি বাস্তবে কেমন, কী বলেন, কাকে অনুসরণ করেন ইত্যাদি সব দৃশ্যমান। ফলে অভিনেতা আর ব্যক্তিমানুষের মাঝের দেয়ালটাই কার্যত ভেঙে গেছে।
রাজ্জাকের তারকাখ্যাতি তৈরি হয়েছিল বছরের পর বছর ধরে। একটা ছবি সফল হলো, তারপর আরেকটা, একটা জুটি জনপ্রিয় হলো আর দর্শক বারবার সেই জুটিকে দেখতে চাইল, একটা গান মুখে মুখে ফিরল, আর ধীরে ধীরে অভিনেতার নাম পোস্টারে ছবির নামের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগত ঠিকই, কিন্তু সেই সময়ের বিনিময়ে তৈরি হতো স্থায়িত্ব।

আজকের ডিজিটাল সংস্কৃতিতে জনপ্রিয়তার গতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন একটা ক্লিপ রাতারাতি কাউকে পরিচিত করে তুলতে পারে। কিন্তু দ্রুত পরিচিতি আর দীর্ঘস্থায়ী তারকাখ্যাতি এক জিনিস নয়। ড্যানিয়েল বুর্স্টিনের ‘পসুডো-ইভেন্ট’ ধারণাটি এখানে প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতে, আধুনিক সেলিব্রিটি অনেক সময় এমন একজন মানুষ, যিনি মূলত ‘পরিচিত হওয়ার কারণেই পরিচিত’। এই প্রবণতা ডিজিটাল যুগে আরও বিস্তৃত হয়েছে। একজন অভিনেতার কাজের পাশাপাশি তাঁর বিয়ে, বিচ্ছেদ, পোশাক, একটা মন্তব্য, এমনকি নীরবতাও এখন কনটেন্ট হয়ে ওঠে। তাই রাজ্জাকের যুগে প্রশ্ন ছিল—নায়ক পরের ছবিতে কী করছেন? আর এই সময়ের প্রশ্ন—নায়ক আজ কী পোস্ট করলেন?
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চরিত্র বদলে যাওয়া। রাজ্জাকের যুগে একজন নায়ককে লড়তে হতো মূলত অন্য নায়কের সঙ্গে। আজ তাঁকে লড়তে হয় অন্য অভিনেতা, ইনফ্লুয়েন্সার, গায়ক, কনটেন্ট নির্মাতা, ভাইরাল ভিডিও—এমনকি অ্যালগরিদমের সঙ্গেও। পুরোনো ব্যবস্থায় অনুপস্থিতি কখনো কখনো শক্তি ছিল, দর্শক অপেক্ষা করত। আজ দীর্ঘ অনুপস্থিতি বিপজ্জনক, কারণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জায়গা কখনো খালি থাকে না। ফলে আধুনিক তারকার কাজের একটা বড় অংশই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে দৃশ্যমান থাকা।
রাজ্জাকের যুগের তারকা-ব্যবস্থা ছিল ধীর, সীমিত ও অনেকটাই একচেটিয়া। আজকের ব্যবস্থা দ্রুত, উন্মুক্ত ও নির্মমভাবে প্রতিযোগিতামূলক। তবু নায়ক তৈরির পুরোনো কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। দর্শকের আবেগ এখনো দরকার, স্মরণীয় পর্দা-ব্যক্তিত্ব এখনো দরকার, বারবার ফিরে আসার মতো চরিত্র এখনো দরকার। পার্থক্যটা শুধু গতি আর মাধ্যমের। তখন সিনেমা হল ছিল একমাত্র প্রবেশদ্বার, এখন প্রবেশদ্বার অসংখ্য। তখন পোস্টার ছিল একটা ঘোষণা, এখন ঘোষণা আসে প্রতি মিনিটে। তখন রহস্য ছিল তারকার সম্পদ, এখন দৃশ্যমানতাই তারকার পুঁজি।
শেষ পর্যন্ত একটা পুরোনো প্রশ্নই থেকে যায়—কে সত্যিকারের তারকা, যিনি এক সপ্তাহ আলোচনায় থাকেন, নাকি যাঁর মুখ প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিতে থেকে যায়?

আজকের দিনে একটি ভাইরাল ভিডিও, একটি রিয়েলিটি শো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টই যথেষ্ট হতে পারে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু নায়ক রাজ্জাকের সময়ে এই শর্টকাটের কোনো সুযোগ ছিল না। দর্শক প্রথমে তাঁকে একটি চরিত্রে দেখতেন, তারপর আরেকটিতে, তারপর আরও একটিতে—আর এই পুনরাবৃত্তির ভেতর দিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি হতো ‘স্টার ইমেজ’।
চলচ্চিত্রতাত্ত্বিক রিচার্ড ডায়ারের তারকা-তত্ত্ব এখানে মনে করিয়ে দেয় যে তারকা শুধু রক্তমাংসের মানুষ মাত্র নন। সিনেমা, প্রচার, সাক্ষাৎকার, সমালোচনা আর জনস্মৃতির নানা স্তর মিলেই গড়ে ওঠে তাঁর বহুমাত্রিক ভাবমূর্তি। রাজ্জাকের বেলায়ও তা-ই ঘটেছিল। ‘বেহুলা’র লখিন্দর, সামাজিক নাটকের প্রেমিক, সংগ্রামী যুবক কিংবা ‘রংবাজ’-এর জনপ্রিয় নায়ক—এমন অসংখ্য চরিত্র, অসংখ্য গান, পোস্টারে বারবার একই মুখ, সিনেমা হলের সামনে একই নাম—এসব মিলিয়েই ‘রাজ্জাক’ নামের সাংস্কৃতিক প্রতীক গড়ে উঠেছিল।
আজকের ভাষায় বলতে গেলে, এটা ছিল এক দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ড নির্মাণ প্রক্রিয়া। তবে সেই ব্র্যান্ডের নির্মাতা কোনো একক বিজ্ঞাপনদল ছিল না। পরিচালক, প্রযোজক, গীতিকার, পোস্টারশিল্পী, সিনেমা হলের মালিক ও দর্শক মিলেমিশে গড়ে তুলতেন একজন নায়ককে।
আজ একজন তারকার নতুন ছবির খবর প্রথম পৌঁছায় মোবাইলের পর্দায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টার প্রকাশ হয়, মিনিটের মধ্যে হাজারো প্রতিক্রিয়া আসে। এরপর টিজার, ট্রেলার, মিম আর বিতর্কের ঢেউ চলতেই থাকে। রাজ্জাকের যুগে এই একই কাজটা করত শহরের দেয়াল, সিনেমা হলের সামনের বোর্ড, বাজারের মোড়, পত্রিকার বিজ্ঞাপন। পোস্টার তখন শুধু একটা ছবির প্রচার ছিল না, ছিল দর্শকের কল্পনার সঙ্গে নায়কের প্রথম সাক্ষাৎ।
তবে পোস্টার আর আজকের পোস্টের মধ্যে একটা মৌলিক তফাত আছে। পোস্টার কথা বলে না, সে অপেক্ষা করায়—বলে, এই মানুষটিকে দেখতে হলে সিনেমা হলে আসতে হবে। আজকের পোস্ট বলে উল্টো কথা—এই মানুষটি এখানেই আছেন, এখনই দেখুন, মন্তব্য করুন। পুরোনো তারকা-ব্যবস্থার শক্তি ছিল দূরত্বে, নতুন ব্যবস্থার শক্তি তাৎক্ষণিকতায়।
গ্রিক পুরাণের দেবতারা মানুষের মতো নন, আবার পুরোপুরি অদৃশ্যও নন। তারা কখনো বজ্রপাতে, কখনো স্বপ্নে হাজির হতেন, কিন্তু তাঁদের সম্পর্কে সবকিছু জানা যায় না। এই অজানাই তাঁদের ক্ষমতার একটা অংশ। পুরোনো চলচ্চিত্রের তারকাও অনেকটা সেই দেবতুল্য দূরত্ব নিয়েই বাঁচতেন।
রাজ্জাককে দর্শক প্রতিদিন দেখতেন না। তিনি কী খাচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করছেন, এসব জানার উপায় ছিল সীমিত। ফলে দর্শকের চেনা রাজ্জাকের বড় অংশটাই ছিল আসলে পর্দার রাজ্জাক। জার্মান দার্শনিক ওয়াল্টার বেনিয়ামিনের ভাষায় বলা যায়, এই দূরত্বই তৈরি করত এক ধরনের ‘অরা’ বা অনন্য উপস্থিতির অনুভূতি।
আজকের তারকা সেই অর্থে দেবতা কম, প্রতিবেশী বেশি। তিনি লাইভে আসেন, নিজের ছবি দেন, ভুল করলে ব্যাখ্যা দেন, পুরোনো ভিডিও আবার ভাইরাল হয়ে ফিরে আসে। দর্শক তাই আজ শুধু তারকাকে দেখেন না, তাঁকে পর্যবেক্ষণও করেন। রাজ্জাককে চেনা যেত তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্য দিয়ে; আজকের তারকাকে দর্শক চিনতে চান চরিত্রের বাইরেও। তিনি বাস্তবে কেমন, কী বলেন, কাকে অনুসরণ করেন ইত্যাদি সব দৃশ্যমান। ফলে অভিনেতা আর ব্যক্তিমানুষের মাঝের দেয়ালটাই কার্যত ভেঙে গেছে।
রাজ্জাকের তারকাখ্যাতি তৈরি হয়েছিল বছরের পর বছর ধরে। একটা ছবি সফল হলো, তারপর আরেকটা, একটা জুটি জনপ্রিয় হলো আর দর্শক বারবার সেই জুটিকে দেখতে চাইল, একটা গান মুখে মুখে ফিরল, আর ধীরে ধীরে অভিনেতার নাম পোস্টারে ছবির নামের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগত ঠিকই, কিন্তু সেই সময়ের বিনিময়ে তৈরি হতো স্থায়িত্ব।

আজকের ডিজিটাল সংস্কৃতিতে জনপ্রিয়তার গতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন একটা ক্লিপ রাতারাতি কাউকে পরিচিত করে তুলতে পারে। কিন্তু দ্রুত পরিচিতি আর দীর্ঘস্থায়ী তারকাখ্যাতি এক জিনিস নয়। ড্যানিয়েল বুর্স্টিনের ‘পসুডো-ইভেন্ট’ ধারণাটি এখানে প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতে, আধুনিক সেলিব্রিটি অনেক সময় এমন একজন মানুষ, যিনি মূলত ‘পরিচিত হওয়ার কারণেই পরিচিত’। এই প্রবণতা ডিজিটাল যুগে আরও বিস্তৃত হয়েছে। একজন অভিনেতার কাজের পাশাপাশি তাঁর বিয়ে, বিচ্ছেদ, পোশাক, একটা মন্তব্য, এমনকি নীরবতাও এখন কনটেন্ট হয়ে ওঠে। তাই রাজ্জাকের যুগে প্রশ্ন ছিল—নায়ক পরের ছবিতে কী করছেন? আর এই সময়ের প্রশ্ন—নায়ক আজ কী পোস্ট করলেন?
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চরিত্র বদলে যাওয়া। রাজ্জাকের যুগে একজন নায়ককে লড়তে হতো মূলত অন্য নায়কের সঙ্গে। আজ তাঁকে লড়তে হয় অন্য অভিনেতা, ইনফ্লুয়েন্সার, গায়ক, কনটেন্ট নির্মাতা, ভাইরাল ভিডিও—এমনকি অ্যালগরিদমের সঙ্গেও। পুরোনো ব্যবস্থায় অনুপস্থিতি কখনো কখনো শক্তি ছিল, দর্শক অপেক্ষা করত। আজ দীর্ঘ অনুপস্থিতি বিপজ্জনক, কারণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জায়গা কখনো খালি থাকে না। ফলে আধুনিক তারকার কাজের একটা বড় অংশই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে দৃশ্যমান থাকা।
রাজ্জাকের যুগের তারকা-ব্যবস্থা ছিল ধীর, সীমিত ও অনেকটাই একচেটিয়া। আজকের ব্যবস্থা দ্রুত, উন্মুক্ত ও নির্মমভাবে প্রতিযোগিতামূলক। তবু নায়ক তৈরির পুরোনো কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। দর্শকের আবেগ এখনো দরকার, স্মরণীয় পর্দা-ব্যক্তিত্ব এখনো দরকার, বারবার ফিরে আসার মতো চরিত্র এখনো দরকার। পার্থক্যটা শুধু গতি আর মাধ্যমের। তখন সিনেমা হল ছিল একমাত্র প্রবেশদ্বার, এখন প্রবেশদ্বার অসংখ্য। তখন পোস্টার ছিল একটা ঘোষণা, এখন ঘোষণা আসে প্রতি মিনিটে। তখন রহস্য ছিল তারকার সম্পদ, এখন দৃশ্যমানতাই তারকার পুঁজি।
শেষ পর্যন্ত একটা পুরোনো প্রশ্নই থেকে যায়—কে সত্যিকারের তারকা, যিনি এক সপ্তাহ আলোচনায় থাকেন, নাকি যাঁর মুখ প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিতে থেকে যায়?
.png)

কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুর নয় বছর পূর্ণ হলো আজ ২১ আগস্ট। এই বিশেষ দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। পোস্টে শাকিব খান লেখেন, নায়করাজকে হারানোর শূন্যতা আজও তিনি সমানভাবে অনুভব করেন। তাঁর ভাষায়, রাজ্জাক শুধু একজন কিংবদন্তি
২৫ মিনিট আগে
১৯৬৪ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে যে তরুণটি চলচ্চিত্রে জায়গা খুঁজছিলেন, মাত্র দুই বছরের মধ্যে তিনিই হয়ে উঠলেন ‘বেহুলা’র নায়ক। এরপর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশ, নতুন চলচ্চিত্রের ভাষা, বাণিজ্যিক সিনেমার উত্থান—সবকিছুর মধ্য দিয়েই রাজ্জাকের ক্যারিয়ার এগিয়েছে। প্রায়
৪ ঘণ্টা আগে
‘আশা ছিল ভালোবাসা ছিল’, ‘সেই রাতে রাত ছিল পূর্ণিমা’, ‘মেরে সপ্নো কি রানি’, ‘রূপ তেরা মস্তানা’ কিংবা ‘জিন্দেগি এক সফর হ্যায় সুহানা’—এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের কণ্ঠশিল্পী বলিউডের কিংবদন্তি কিশোর কুমার। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তাঁর গান আজও মানুষের মনে একই রকম জনপ্রিয়। রোমান্টিক গানে যেমন শ্রোত