
অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের খুব প্রচলিত কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন তারা খুব একটা কথা বলে না, কারও চোখে চোখ রাখে না, আর একই কাজ বারবার করে। অটিজমে ভুগছে এমন শিশু দেখলেই আশেপাশের কিছু মানুষ না বুঝেই বলে ফেলেন, ‘ও তো বোবা’ বা ‘মা-বাবা ঠিকমতো লালন-পালন করেননি,’ কিংবা ‘এটা কোনো মানসিক রোগ।’ এই কথাগুলো শুধু ভুলই নয়, বরং একটি শিশুর সম্ভাবনা ও একটি পরিবারের সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তোলে।
অথচ বাস্তবতা হলো, অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার একটি স্নায়বিক বিকাশগত বৈচিত্র্য, যা বোঝার আগে আমাদের সমাজকে ভাঙতে হবে বহু পুরোনো কিছু ভুল ধারণা বা মিথ।
অটিজমকে অনেকেই ‘রোগ’ হিসেবে দেখেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি কোনো অসুখ নয়, বরং মস্তিষ্কের বিকাশের একটি ভিন্ন ধরণ। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে অবস্থিত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি মানুষের মস্তিষ্কের কাজ করার একটি আলাদা পদ্ধতি। ভিন্নভাবে মস্তিষ্ক বেড়ে উঠার কারণে এই আচরণগত পার্থক্য দেখা যায়।
অটিজম একটি মানসিক রোগ—এই ভুল ধারণা সমাজে অপ্রয়োজনীয় ভয় ও স্টিগমা তৈরি করে।
এটি সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি। গবেষণা ও চিকিৎসা-তথ্য অনুযায়ী, অটিজমের সঙ্গে প্যারেন্টিং স্টাইলের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। মিশিগানভিত্তিক সেবা সংস্থা জাডসন সেন্টার এবং অন্যান্য গবেষণাভিত্তিক উৎস দেখায়—অটিজম জেনেটিক ও পরিবেশগত জটিল কারণের সঙ্গে যুক্ত। এই মিথ শুধু ভুলই নয়, এটি অভিভাবকদের অযথা অপরাধবোধে ভোগায় যা তাদের কঠিন জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে।
‘স্পেকট্রাম’ শব্দটাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই শব্দটি ব্যবহার করাই হয়েছে এর বিস্তৃতি বোঝাতে। অটিজমে যেহেতু মস্তিষ্ক ভিন্নভাবে বেড়ে উঠে তাই প্রতিটি শিশুই ভিন্ন ধরনের হয়। অর্থাৎ অটিজমের লক্ষণ ও তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে।
কেউ কথা বলতে পারে না, আবার কেউ খুব সাবলীলভাবে কথা বলে; কেউ সামাজিকতায় দুর্বল, আবার কেউ নির্দিষ্ট বিষয়ে অসাধারণ দক্ষ, কেউ বা একাধিক বিষয়ে দক্ষ হয়ে বেড়ে ওঠে।
এই ধারণা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। সঠিক সহায়তা, থেরাপি, শিক্ষা ও সমর্থন পেলে অটিজমে থাকা শিশুরাও দক্ষতা অর্জন করতে পারে। তাদের শেখার পদ্ধতি ভিন্ন হলেও শেখার সক্ষমতা অস্বীকার করা যায় না। অনেকেই বরং আগ্রহ নিয়ে তার পছন্দের বা দক্ষতার বিষয়ে শেখে। অর্থাৎ, সমস্যা ‘ক্ষমতায়’ নয় বরং ‘পদ্ধতিতে’।
এই মিথটি বহুবার বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাকসিন ও অটিজমের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। জাডসন সেন্টার প্রায় দশ লাখ শিশু নিয়ে গবেষণা করে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবুও এই ভুল তথ্য অনেক সময় শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়, কারণ এতে টিকাদান থেকে বিরত থাকার প্রবণতা তৈরি হয়।
অনেকে মনে করেন এটি এমন কিছু যা একসময় পুরোপুরি চলে যাবে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অটিজম সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য’ এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। অটিজম কোনো রোগ নয় বরং মস্তিষ্কের গঠনের ধরণ, তাই সঠিক সমর্থনের মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই জীবনমান উন্নত করা যায়।
অটিজম থাকলেই যে যোগাযোগে অক্ষমতা তৈরি হয়—এ ধারণা সঠিক নয়; বরং তাদের যোগাযোগের ধরন ভিন্ন হতে পারে। অ্যামেরিকান স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ-হিয়ারিং এ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, কেউ সম্পূর্ণভাবে কথা বলতে পারে না, আবার কেউ স্বাভাবিকভাবেই কথা বলতে সক্ষম। অনেকেই আবার সহায়ক যোগাযোগ প্রযুক্তি (এএসি) ব্যবহার করে নিজের অনুভূতি ও চাহিদা প্রকাশ করে। তাই ‘কথা বলে না’ মানেই ‘বোঝে না’—এই প্রচলিত ধারণা একেবারেই ভুল।
অটিজম নিয়ে ভুল ধারণা শুধু তথ্যের ভুল নয়, এটি সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে।
অস্ট্রেলিয়ান সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির গবেষণায় দেখা যায় ভুল তথ্য পরিবারকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে এবং শিশুর প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে দেরি হয়।
অটিজম নিয়ে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে সত্য তবে সচেতনতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন ভুল ধারণা ভেঙে মানুষ সঠিক ধারণাটি পায়। একটি শিশুকে ‘সমস্যা’ হিসেবে না দেখে ‘ভিন্নতা’ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। কারণ অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, এটি সম্ভাবনার একটি ভিন্ন পথ। সমাজ, পরিবার এবং নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সম্ভব হবে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রতিটি শিশুই—তার ভিন্নতা সত্ত্বেও—সমানভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
তথ্যসূত্র: ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিক ও ওয়েবএমডি
.png)
-8b2e31-256x144.webp)
পার্কে বা গাছপালার মধ্যে একটু হাঁটাহাঁটি করার পর মনটা হালকা লাগে। দুশ্চিন্তাও যেন কমে যায়। এটা কি শুধু মনের অনুভূতি? উত্তর হচ্ছে, না। এর পেছনে রয়েছে শরীরবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা।
৩১ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘায়ু ও সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটার কথা আমরা প্রায়ই শুনি। সংখ্যাটি এমনভাবে পরিচিত হয়েছে, যেন এটি চিকিৎসকদের দেওয়া কোনো দাওয়াই। কিন্তু এই ১০ হাজারের গল্পটা আসলে কী? এই সংখ্যার আসল উৎস কোথায়? উত্তর খুঁজতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৬৪ সালের জাপানে। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, প্রতিদিন ১০
১৯ আগস্ট ২০২৬
হাড় সুস্থ রাখতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিন। এ ছাড়া ভিটামিন কে, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও ফসফরাস হাড় ও পেশি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্যালসিয়ামের কথা উঠলেই সবার আগে আসে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের নাম। ২০০ মিলিলিটার এক গ্লাস দুধে প্রায় ২৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
০৬ আগস্ট ২০২৬
বাজার থেকে টাটকা ফল ও সবজি কিনে আনার পর অনেকেই সেগুলো ফ্রিজে বা রান্নাঘরের এক কোণে রেখে দেন। কিন্তু সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে দেখতে ভালো থাকলেও এ খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আবার ফ্রিজে ফেলে রাখা সবজি বা ফলে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণুও জন্মাতে পারে। সব খাবার যে একই সময়
০৩ আগস্ট ২০২৬