গবেষণায় দেখা গেছে, ফোবিয়া তুলনামূলকভাবে চিকিৎসাযোগ্য মানসিক সমস্যাগুলোর একটি। অর্থাৎ, সঠিক চিকিৎসারমাধ্যমে এই ফোবিয়া কাটিয়ে ওঠা যায়।
লেখা:

বিমানে ওঠার আগে অনেকেই প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা করেন। বিশেষ করে যাদের এর আগে বিমানে কোনো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাঁদের কাছে বিমান ভ্রমণ মানেই দুশ্চিন্তা। বিমানের সামান্য শব্দেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কেউ কেউ।
আবার অনেকে আছেন কঠিন সব কাজ একা হাতে সামলাচ্ছেন। কিন্তু চোখের সামনে রক্ত বা ইনজেকশন দেখলেই ভয় পেয়ে যান। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে মাকড়সা দেখা ভয়ের কারণ হতে পারে। কেউ লিফটে উঠতে ভয় পান। কেউ উঁচু স্থানে দাঁড়াতে পারেন না।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই নির্দিষ্ট ভীতিকে ‘স্পেসিফিক ফোবিয়া’ বলা হয়। ধারণা করা হয়, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ ফোবিয়ায় ভুগে থাকেন। অনেকের আবার একই সঙ্গে একাধিক ফোবিয়া থাকতে পারে। অনেক মানুষ বুঝতে পারেন না তাঁরা আসলে সমস্যায় পড়েছেন। নীরবে এই লক্ষণগুলো সহ্য করে জীবনকে যন্ত্রণাদায়ক করে তোলেন। বিশেষ করে যখন ভয়ের এই অনুভূতি এড়ানোর উপায় থাকে না।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ফোবিয়া তুলনামূলকভাবে চিকিৎসাযোগ্য মানসিক সমস্যাগুলোর একটি। অর্থাৎ, সঠিক চিকিৎসারমাধ্যমে এই ফোবিয়া কাটিয়ে ওঠা যায়।
ফোবিয়াকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। এর একটি হলো প্রাণী ভীতি। এখানে সাপ, মাকড়সা বা ইঁদুরের ভয় থাকে। দ্বিতীয়টি হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ ভীতি। এখানে উচ্চতা, ঝড় বা পানির ভয় কাজ করে। এরপর হলো রক্ত, ইনজেকশন বা আঘাত ভীতি। অর্থাৎ রক্ত, সুচ বা কাটাছেঁড়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রতি ভয়। চতুর্থ ফোবিয়া হলো পরিস্থিতিগত ভীতি অর্থাৎ বিমানে ভ্রমণ বা লিফটে ওঠার ভয়। এর বাইরের ফোবিয়াগুলোকে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন কিছু ভয় থাকে যা ওপরের কোনোটিতে পড়ে না। যেমন দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় বা বমি করার ভয়।

অনেকে আবার একাধিক পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অর্থাৎ, যিনি মাকড়সা প্রচণ্ড ভয় পান, তিনি উচ্চতাকেও ভয় পেতে পারেন। কিংবা যিনি লিফটে আটকে পড়ার ভয়ে থাকেন, তিনি সাপ দেখার ভয়েও জড়সড় হয়ে থাকতে পারেন। এসব স্পেসিফিক কোনো ফোবিয়া নয়। একে বলা হয় অ্যাগোরাফোবিয়া।
ফোবিয়াকে সাধারণ ভয় ভাবলে ভুল হবে। এটা আরও বেশি কিছু। তাৎক্ষণিক কোনো বিপদের সময় ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ এই ভয় আমাদের শরীরকে আসন্ন বিপদের বিরুদ্ধে প্রস্তুত করে। তাই টিকে থাকার জন্য এটা জরুরি। একইভাবে মাঝারি মাত্রার উদ্বেগও স্বাভাবিক। যেমন চাকরির ইন্টারভিউয়ের আগে কিছুটা ভয় কাজ করা স্বাভাবিক।
সাধারণ ভয় বা উদ্বেগের সঙ্গে ফোবিয়ার পার্থক্য হলো, এখানে ভয় বা উদ্বেগ থাকে অতিরিক্ত। এই ভয় দীর্ঘস্থায়ী হয় আরমানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
ফোবিয়ায় আক্রান্ত কিছু মানুষের ভয়ের সঙ্গে প্রচণ্ড মাত্রায় বিরক্তি বা ঘৃণাও কাজ করে। ফোবিয়ায় আক্রান্ত কেউ ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে, তাঁর শরীরে বিশেষ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ফলে ব্যক্তির হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে থাকে। শরীরে ঘাম হওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দেয়। সঙ্গে এপিনেফ্রিন ও নর-এপিনেফ্রিনের মতো স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। রক্ত, ইনজেকশন বা আঘাত ভীতি যাদের আছে, শুরুতে তাঁদের হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। পরে তা হঠাৎ কমেও যেতে পারে। শরীরের এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে অনেকে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা ‘স্পেসিফিক’ ফোবিয়া নির্ণয়ের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা ব্যবহার করেন। আপনি ফোবিয়ায় আক্রান্ত কি-না তা নির্ণয়ের জন্য আপনাকে প্রথমেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে এর আগে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন। আপনার ভয় আর উদ্বেগ কি এতই তীব্র যে আপনি অনেক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলেন? এই কারণে কি আপনি জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছেন না? উত্তর হ্যাঁ হলে আপনার থেরাপিস্টের কাছে যাওয়া উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফোবিয়ার জন্য ‘এক্সপোজার থেরাপি’ সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা। এটা ‘কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি’র একটি রূপ। এখানে আপনাকে ধাপে ধাপে ভয়ের মুখোমুখি করা হয়। আপনার কাছে ভয় কমানোর জন্য ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার ধারণাটি ভীতিজনক মনে হতে পারে। তবে রোগীরা থেরাপিতে অংশ নিলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তাঁদের জন্য সহজ হয়ে ওঠে। কারণ সেখানে ভয়ের কারণগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
ভয়ের জিনিস এড়িয়ে চলাকে নিরাপত্তামূলক আচরণ বলা হয়। কুকুরে ফোবিয়া থাকলে রাস্তায় কুকুর এড়িয়ে চললে সাময়িক স্বস্তি মেলে। কিন্তু তা আপনার ফোবিয়াকে কিন্তু জিইয়ে রাখে। আপনি মেনে নিতে পারেন না যে কুকুর সাধারণত নিরাপদ। এই সামান্য অস্বস্তি আপনি সহ্য করতে সক্ষম, সেটাও ফোবিয়ার কারণে আপনি বুঝতে পারেন না।
এই সমস্যা সমাধানে এক্সপোজার থেরাপিতে ধাপে ধাপে ভয়ের মুখোমুখি হতে হয়। ইনজেকশনের ফোবিয়া থাকলে ধাপগুলো এমন হতে পারে—প্রথমে সুচের ছবি দেখা হয়। এরপর মুখ বন্ধ থাকা সুচ ধরা হয়। ইনজেকশন দেওয়ার ভিডিও দেখা হয়। রক্তের শিশি দেখানো হয়। নিজের হাতের কাছে ডামিকে ইনজেকশন দিতে দেখানো হয়। মুখ বন্ধ সুচ ব্যবহার করে নকল ইনজেকশন নেওয়া হয়। সবশেষে রক্তদানের জন্য রোগীকে রক্ত দেওয়ানো হয়।

এই ধাপগুলো প্রমাণ করে ভয়ের মুখোমুখি হলে সবসময় যে খারাপ কিছু ঘটবে এমন না। ফোবিয়ার চিকিৎসায় বেশ কয়েকটি সেশন লাগে। কারও ৬টি সেশন লাগতে পারে। আবার কারও ১২টি সেশন লাগতে পারে।
এক্সপোজার থেরাপি ফোবিয়া সারানোর সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। তবে কেউ কেউ এটাকে অস্বস্তিকর মনে করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কগনিটিভ থেরাপি একটি ভালো বিকল্প। এই পদ্ধতিতে নেতিবাচক বা ভয়ংকর চিন্তাভাবনাগুলোকে শনাক্ত করা হয়। যেমন লিফটে আমি দম আটকে মারা যাব এমন চিন্তা। এরপর যৌক্তিক প্রমাণের সাহায্যে এই চিন্তাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য ওষুধের সীমিত ব্যবহার হতে পারে। যেমন ফ্লাইটে ওঠার আগে ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে ফোবিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ওষুধের কার্যকারিতার প্রমাণ নেই। এ ছাড়া, বর্তমানে ইন্টারনেটভিত্তিক কার্যকরী চিকিৎসাসেবা রয়েছে। থেরাপিস্টের কাছে যাওয়ার বিষয়ে যদি দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে, এগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
যেমন জিরোফোবিয়া নামের একটি অ্যাপ। এটা উচ্চতা ও বিমান ভ্রমণের ভীতি কাটাতে সাহায্য করে। এই অ্যাপটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাহায্যে এক্সপোজার থেরাপি দেয়। আরেকটি অ্যাপ হলো ওভিআরকাম। এটা মাকড়সা, সুচ বা কুকুরের ভীতি কাটাতে সাহায্য করে।
লেখক: ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট

বিমানে ওঠার আগে অনেকেই প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা করেন। বিশেষ করে যাদের এর আগে বিমানে কোনো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাঁদের কাছে বিমান ভ্রমণ মানেই দুশ্চিন্তা। বিমানের সামান্য শব্দেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কেউ কেউ।
আবার অনেকে আছেন কঠিন সব কাজ একা হাতে সামলাচ্ছেন। কিন্তু চোখের সামনে রক্ত বা ইনজেকশন দেখলেই ভয় পেয়ে যান। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে মাকড়সা দেখা ভয়ের কারণ হতে পারে। কেউ লিফটে উঠতে ভয় পান। কেউ উঁচু স্থানে দাঁড়াতে পারেন না।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই নির্দিষ্ট ভীতিকে ‘স্পেসিফিক ফোবিয়া’ বলা হয়। ধারণা করা হয়, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ ফোবিয়ায় ভুগে থাকেন। অনেকের আবার একই সঙ্গে একাধিক ফোবিয়া থাকতে পারে। অনেক মানুষ বুঝতে পারেন না তাঁরা আসলে সমস্যায় পড়েছেন। নীরবে এই লক্ষণগুলো সহ্য করে জীবনকে যন্ত্রণাদায়ক করে তোলেন। বিশেষ করে যখন ভয়ের এই অনুভূতি এড়ানোর উপায় থাকে না।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ফোবিয়া তুলনামূলকভাবে চিকিৎসাযোগ্য মানসিক সমস্যাগুলোর একটি। অর্থাৎ, সঠিক চিকিৎসারমাধ্যমে এই ফোবিয়া কাটিয়ে ওঠা যায়।
ফোবিয়াকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। এর একটি হলো প্রাণী ভীতি। এখানে সাপ, মাকড়সা বা ইঁদুরের ভয় থাকে। দ্বিতীয়টি হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ ভীতি। এখানে উচ্চতা, ঝড় বা পানির ভয় কাজ করে। এরপর হলো রক্ত, ইনজেকশন বা আঘাত ভীতি। অর্থাৎ রক্ত, সুচ বা কাটাছেঁড়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রতি ভয়। চতুর্থ ফোবিয়া হলো পরিস্থিতিগত ভীতি অর্থাৎ বিমানে ভ্রমণ বা লিফটে ওঠার ভয়। এর বাইরের ফোবিয়াগুলোকে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন কিছু ভয় থাকে যা ওপরের কোনোটিতে পড়ে না। যেমন দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় বা বমি করার ভয়।

অনেকে আবার একাধিক পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অর্থাৎ, যিনি মাকড়সা প্রচণ্ড ভয় পান, তিনি উচ্চতাকেও ভয় পেতে পারেন। কিংবা যিনি লিফটে আটকে পড়ার ভয়ে থাকেন, তিনি সাপ দেখার ভয়েও জড়সড় হয়ে থাকতে পারেন। এসব স্পেসিফিক কোনো ফোবিয়া নয়। একে বলা হয় অ্যাগোরাফোবিয়া।
ফোবিয়াকে সাধারণ ভয় ভাবলে ভুল হবে। এটা আরও বেশি কিছু। তাৎক্ষণিক কোনো বিপদের সময় ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ এই ভয় আমাদের শরীরকে আসন্ন বিপদের বিরুদ্ধে প্রস্তুত করে। তাই টিকে থাকার জন্য এটা জরুরি। একইভাবে মাঝারি মাত্রার উদ্বেগও স্বাভাবিক। যেমন চাকরির ইন্টারভিউয়ের আগে কিছুটা ভয় কাজ করা স্বাভাবিক।
সাধারণ ভয় বা উদ্বেগের সঙ্গে ফোবিয়ার পার্থক্য হলো, এখানে ভয় বা উদ্বেগ থাকে অতিরিক্ত। এই ভয় দীর্ঘস্থায়ী হয় আরমানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
ফোবিয়ায় আক্রান্ত কিছু মানুষের ভয়ের সঙ্গে প্রচণ্ড মাত্রায় বিরক্তি বা ঘৃণাও কাজ করে। ফোবিয়ায় আক্রান্ত কেউ ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে, তাঁর শরীরে বিশেষ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ফলে ব্যক্তির হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে থাকে। শরীরে ঘাম হওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দেয়। সঙ্গে এপিনেফ্রিন ও নর-এপিনেফ্রিনের মতো স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। রক্ত, ইনজেকশন বা আঘাত ভীতি যাদের আছে, শুরুতে তাঁদের হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। পরে তা হঠাৎ কমেও যেতে পারে। শরীরের এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে অনেকে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা ‘স্পেসিফিক’ ফোবিয়া নির্ণয়ের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা ব্যবহার করেন। আপনি ফোবিয়ায় আক্রান্ত কি-না তা নির্ণয়ের জন্য আপনাকে প্রথমেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে এর আগে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন। আপনার ভয় আর উদ্বেগ কি এতই তীব্র যে আপনি অনেক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলেন? এই কারণে কি আপনি জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছেন না? উত্তর হ্যাঁ হলে আপনার থেরাপিস্টের কাছে যাওয়া উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফোবিয়ার জন্য ‘এক্সপোজার থেরাপি’ সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা। এটা ‘কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি’র একটি রূপ। এখানে আপনাকে ধাপে ধাপে ভয়ের মুখোমুখি করা হয়। আপনার কাছে ভয় কমানোর জন্য ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার ধারণাটি ভীতিজনক মনে হতে পারে। তবে রোগীরা থেরাপিতে অংশ নিলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তাঁদের জন্য সহজ হয়ে ওঠে। কারণ সেখানে ভয়ের কারণগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
ভয়ের জিনিস এড়িয়ে চলাকে নিরাপত্তামূলক আচরণ বলা হয়। কুকুরে ফোবিয়া থাকলে রাস্তায় কুকুর এড়িয়ে চললে সাময়িক স্বস্তি মেলে। কিন্তু তা আপনার ফোবিয়াকে কিন্তু জিইয়ে রাখে। আপনি মেনে নিতে পারেন না যে কুকুর সাধারণত নিরাপদ। এই সামান্য অস্বস্তি আপনি সহ্য করতে সক্ষম, সেটাও ফোবিয়ার কারণে আপনি বুঝতে পারেন না।
এই সমস্যা সমাধানে এক্সপোজার থেরাপিতে ধাপে ধাপে ভয়ের মুখোমুখি হতে হয়। ইনজেকশনের ফোবিয়া থাকলে ধাপগুলো এমন হতে পারে—প্রথমে সুচের ছবি দেখা হয়। এরপর মুখ বন্ধ থাকা সুচ ধরা হয়। ইনজেকশন দেওয়ার ভিডিও দেখা হয়। রক্তের শিশি দেখানো হয়। নিজের হাতের কাছে ডামিকে ইনজেকশন দিতে দেখানো হয়। মুখ বন্ধ সুচ ব্যবহার করে নকল ইনজেকশন নেওয়া হয়। সবশেষে রক্তদানের জন্য রোগীকে রক্ত দেওয়ানো হয়।

এই ধাপগুলো প্রমাণ করে ভয়ের মুখোমুখি হলে সবসময় যে খারাপ কিছু ঘটবে এমন না। ফোবিয়ার চিকিৎসায় বেশ কয়েকটি সেশন লাগে। কারও ৬টি সেশন লাগতে পারে। আবার কারও ১২টি সেশন লাগতে পারে।
এক্সপোজার থেরাপি ফোবিয়া সারানোর সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। তবে কেউ কেউ এটাকে অস্বস্তিকর মনে করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কগনিটিভ থেরাপি একটি ভালো বিকল্প। এই পদ্ধতিতে নেতিবাচক বা ভয়ংকর চিন্তাভাবনাগুলোকে শনাক্ত করা হয়। যেমন লিফটে আমি দম আটকে মারা যাব এমন চিন্তা। এরপর যৌক্তিক প্রমাণের সাহায্যে এই চিন্তাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য ওষুধের সীমিত ব্যবহার হতে পারে। যেমন ফ্লাইটে ওঠার আগে ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে ফোবিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ওষুধের কার্যকারিতার প্রমাণ নেই। এ ছাড়া, বর্তমানে ইন্টারনেটভিত্তিক কার্যকরী চিকিৎসাসেবা রয়েছে। থেরাপিস্টের কাছে যাওয়ার বিষয়ে যদি দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে, এগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
যেমন জিরোফোবিয়া নামের একটি অ্যাপ। এটা উচ্চতা ও বিমান ভ্রমণের ভীতি কাটাতে সাহায্য করে। এই অ্যাপটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাহায্যে এক্সপোজার থেরাপি দেয়। আরেকটি অ্যাপ হলো ওভিআরকাম। এটা মাকড়সা, সুচ বা কুকুরের ভীতি কাটাতে সাহায্য করে।
লেখক: ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট

সামনেই ভ্যাপসা গরম পড়বে। আর এই গরমে স্টাইল ও আরাম—এই দুইয়ের সমন্বয়ের জন্য ঢোলা বা অভারসাইজড পোশাক খুব ভালো অপশন। এখন আবার এই স্টাইলটাও বেশ ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু স্বাস্থ্য উদ্ভাবন রয়েছে, যেগুলো শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিই ঘটায়নি, বরং কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়ে পৃথিবীর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিয়েছে। কখনো একটি টিকার আবিষ্কার মহামারি থামিয়েছে, তো কখনো একটি সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি লাখো মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও দূষণ একসঙ্গে তাদের স্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। এমনকি জলবায়ুর এই পরিবর্তন শিশুদের জন্মের আগ থেকে শুরু হয়ে শৈশবের প্রতিটি ধাপে বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যসংকট তৈরি করেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
আজ ৬ এপ্রিল সুচিত্রা সেনের জন্মদিন। পাবনার সাধারণ রমা দাশগুপ্ত থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কলকাতার বাংলা সিনেমার মহানায়িকা। তাঁর সেই মিষ্টি রহস্যময় হাসি, বড় লকেট দেওয়া গলার চেন, টানা করে বাঁধা খোঁপা আর মায়াবী চোখ আজও মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণী আজও শাড়ি পরার সময় সুচিত্রা সে
১ দিন আগে