ফাবিহা বিনতে হক

আজ ঈদ। গতকাল রাত থেকে ফোনে টুংটাং শব্দ শুরু হয়ে গেছে অনেকের। আমার ইনবক্স ভরে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র আর কাজিনদের পাঠানো ‘ঈদ মুবারক’ মেসেজ। ভাবছেন, এ তো আনন্দের ব্যাপার! কিন্তু এখানে লুকিয়ে আছে অন্য রহস্য।
আপাতদৃষ্টিতে, এটাকে সাধারণ শুভেচ্ছাবার্তা মনে হলেও এই মেসেজগুলো আসলে সালামি চাওয়ার নিখুঁত ভণিতা মাত্র। আমার মতো যারা পড়াশোনা শেষ করে সিনিয়রের দলে নাম লিখিয়েছেন, এই গল্পটা আমাদের সবার।
একসময় ঈদের আগের দিন সিনিয়রদের ইনবক্সে ‘সালামি চেয়ে’ জ্বালাতন করতাম। তখন তো আর বুঝিনি, সালামি দেওয়ার দিন আমাদেরও ঘনিয়ে আসছে। একসময় ‘সালামি’ শব্দটার ভেতরে ‘লাভজনক ব্যবসা’-র একটা গন্ধ থাকলেও সময়ের বিবর্তনে এটি পরিণত হয়েছে মিষ্টি যন্ত্রণায়।
কারণ আজকের ‘সালামি গ্রহীতাই’ আগামীর ‘সালামি দাতা’।
কারণ আজকের ‘সালামি গ্রহীতাই’ আগামীর ‘সালামি দাতা’। সালামি চাওয়ার এবং দেওয়ার এই পালা চলতে থাকে ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত। শুধু অনলাইনে নয়, অফলাইনেও চলে সালামি দেওয়া-নেওয়ার কাজ।র দিন থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত। শুধু অনলাইনে নয়, অফলাইনেও চলে সালামি দেওয়া-নেওয়ার কাজ।
সালামির মধুর স্মৃতি
ঈদের আনন্দ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় সালামি। বিশেষ করে ছোটবেলায় বাড়ির বড়দের হাত থেকে সালামি পাওয়ার বিষয়টি আমাদের ঈদের একটি ঐতিহ্য। আমার মতো অনেকেই আছেন, যারা আগে দুই হাত ভরে সালামি পেতেন। মজার ব্যাপার হলো, সালামি পেতে যতটা ভালো লাগে, সালামি দিতে গেলে অনুভূতি ঠিক তার উল্টো হয়। তবু ছোট ভাইবোনদের হাসিমুখ দেখে সেই কষ্ট আবার দূর হয়ে যায়।
ছোটবেলার সালামি পাওয়ার মুহূর্তগুলো জীবনের সুন্দরতম স্মৃতিগুলোর একটি। আনন্দমাখা সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক প্রিয়জনের মুখ, যাঁরা আর এই পৃথিবীতে নেই। মনে পড়ে তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা। আমি ঈদের প্রথম সালামি পেতাম দাদার হাত থেকে। ঈদগাহে যাওয়ার আগে দাদা সালামি দিতেন। নতুন কড়কড়ে দশ বা বিশ টাকার নোট।
আমরা সব চাচাতো-ফুফাতো ভাইবোন মিলে আবার দাদাকে ঘিরে ধরতাম সালামির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কে কত পেল, তা নিয়ে চলত নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা।
এরপর শুরু হতো আমাদের আসল কাজ। সুন্দর করে সাজগোজ করে ছোট একটা ব্যাগ নিতাম। সেই ব্যাগ নিয়ে আত্মীয়স্বজন আর প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি ঘুরতাম। উদ্দেশ্য একটাই—সালামি সংগ্রহ করা। মুরুব্বিদের সালাম করে ব্যাগের ভেতর নতুন কিছু নোট জমানোই ছিল প্রধান লক্ষ্য। দিনশেষে কার ব্যাগে কত টাকা জমল, তা নিয়ে চলত তুমুল হিসাব।
কিন্তু সেই সালামির আনন্দটা খুব বেশিদিন স্থায়ী হতো না। কারণ, ছোটবেলার সেই সালামিগুলো কখনোই পরে আর আমাদের হাতে ফিরে আসত না। মা বলতেন, "টাকাগুলো হারিয়ে যাবে, আমার কাছে রেখে দাও।" এই বলে মা সব টাকা নিজের সংগ্রহে রেখে দিতেন। মায়ের সেই ‘নিরাপদ ব্যাংক’ থেকে টাকা আর কখনোই বের হতো না।
ঈদের কয়েকদিন পর সেই জমানো সালামির খোঁজ করতাম। তখন মা খুব স্বাভাবিকভাবে বলতেন, "এই সালামি দিয়ে তো ঘরের নতুন পর্দা বানিয়েছি।" কিংবা বলতেন, "তোমার জন্য নতুন বই কিনে দিয়েছি।"
আমাদের সবার জীবনের গল্পটাই বোধহয় এমন। মায়ের কাছে জমা রাখা সালামিগুলো আর ফিরে পাওয়া হয়নি। তবে সেই স্মৃতিগুলো আজও আমাদের মুখে হাসি ফোটায়।
হালের ডিজিটাল সালামি
যুগের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলেছে। আগে হাতে হাতে সালামি দেওয়ার চল এখনো আছে। তবে আগে অনেকেই একটা মজার অভিনয় করতেন। প্রিয়জনরা দূরে থাকলে আক্ষেপ করে বলতেন, "কাছে থাকলে সালামি দিতাম। দূরে আছি বলে দিতে পারলাম না।"
কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল সুবিধার কারণে সেই আক্ষেপের দিন শেষ। বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই ঈদ সালামি দেওয়া যাচ্ছে। এখন আর "দূরে আছি" বলে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ছোটরা এখন সরাসরি বিকাশ বা নগদের নম্বর ইনবক্সে পাঠিয়ে দেয়। অনেকেই আবার কিউআর কোড স্ক্যান করে সালামি দাবি করে বসে।
ডিজিটাল সালামির এই বিষয়টি এখন আমাদের ঈদ সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকাশের ট্যাগলাইনটি তো এখন সবার মুখে মুখে ঘোরে—"ঈদের চাঁদ আকাশে, সালামি দিন বিকাশে।"
যুগে যুগে সালামি দেওয়ার ধরনে এমন অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সালামি পাওয়ার যে আনন্দ তা হয়ত কমেনি। যে আনন্দ নিয়ে আমরা একসময় সালামি নিতাম, আজ অন্যকে সালামি দেওয়ার মাধ্যমে সেই আনন্দ ছোটদের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঈদ সালামির এই সুন্দর রীতি এভাবেই আমাদের ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তুলছে।

আজ ঈদ। গতকাল রাত থেকে ফোনে টুংটাং শব্দ শুরু হয়ে গেছে অনেকের। আমার ইনবক্স ভরে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র আর কাজিনদের পাঠানো ‘ঈদ মুবারক’ মেসেজ। ভাবছেন, এ তো আনন্দের ব্যাপার! কিন্তু এখানে লুকিয়ে আছে অন্য রহস্য।
আপাতদৃষ্টিতে, এটাকে সাধারণ শুভেচ্ছাবার্তা মনে হলেও এই মেসেজগুলো আসলে সালামি চাওয়ার নিখুঁত ভণিতা মাত্র। আমার মতো যারা পড়াশোনা শেষ করে সিনিয়রের দলে নাম লিখিয়েছেন, এই গল্পটা আমাদের সবার।
একসময় ঈদের আগের দিন সিনিয়রদের ইনবক্সে ‘সালামি চেয়ে’ জ্বালাতন করতাম। তখন তো আর বুঝিনি, সালামি দেওয়ার দিন আমাদেরও ঘনিয়ে আসছে। একসময় ‘সালামি’ শব্দটার ভেতরে ‘লাভজনক ব্যবসা’-র একটা গন্ধ থাকলেও সময়ের বিবর্তনে এটি পরিণত হয়েছে মিষ্টি যন্ত্রণায়।
কারণ আজকের ‘সালামি গ্রহীতাই’ আগামীর ‘সালামি দাতা’।
কারণ আজকের ‘সালামি গ্রহীতাই’ আগামীর ‘সালামি দাতা’। সালামি চাওয়ার এবং দেওয়ার এই পালা চলতে থাকে ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত। শুধু অনলাইনে নয়, অফলাইনেও চলে সালামি দেওয়া-নেওয়ার কাজ।র দিন থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত। শুধু অনলাইনে নয়, অফলাইনেও চলে সালামি দেওয়া-নেওয়ার কাজ।
সালামির মধুর স্মৃতি
ঈদের আনন্দ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় সালামি। বিশেষ করে ছোটবেলায় বাড়ির বড়দের হাত থেকে সালামি পাওয়ার বিষয়টি আমাদের ঈদের একটি ঐতিহ্য। আমার মতো অনেকেই আছেন, যারা আগে দুই হাত ভরে সালামি পেতেন। মজার ব্যাপার হলো, সালামি পেতে যতটা ভালো লাগে, সালামি দিতে গেলে অনুভূতি ঠিক তার উল্টো হয়। তবু ছোট ভাইবোনদের হাসিমুখ দেখে সেই কষ্ট আবার দূর হয়ে যায়।
ছোটবেলার সালামি পাওয়ার মুহূর্তগুলো জীবনের সুন্দরতম স্মৃতিগুলোর একটি। আনন্দমাখা সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক প্রিয়জনের মুখ, যাঁরা আর এই পৃথিবীতে নেই। মনে পড়ে তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা। আমি ঈদের প্রথম সালামি পেতাম দাদার হাত থেকে। ঈদগাহে যাওয়ার আগে দাদা সালামি দিতেন। নতুন কড়কড়ে দশ বা বিশ টাকার নোট।
আমরা সব চাচাতো-ফুফাতো ভাইবোন মিলে আবার দাদাকে ঘিরে ধরতাম সালামির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কে কত পেল, তা নিয়ে চলত নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা।
এরপর শুরু হতো আমাদের আসল কাজ। সুন্দর করে সাজগোজ করে ছোট একটা ব্যাগ নিতাম। সেই ব্যাগ নিয়ে আত্মীয়স্বজন আর প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি ঘুরতাম। উদ্দেশ্য একটাই—সালামি সংগ্রহ করা। মুরুব্বিদের সালাম করে ব্যাগের ভেতর নতুন কিছু নোট জমানোই ছিল প্রধান লক্ষ্য। দিনশেষে কার ব্যাগে কত টাকা জমল, তা নিয়ে চলত তুমুল হিসাব।
কিন্তু সেই সালামির আনন্দটা খুব বেশিদিন স্থায়ী হতো না। কারণ, ছোটবেলার সেই সালামিগুলো কখনোই পরে আর আমাদের হাতে ফিরে আসত না। মা বলতেন, "টাকাগুলো হারিয়ে যাবে, আমার কাছে রেখে দাও।" এই বলে মা সব টাকা নিজের সংগ্রহে রেখে দিতেন। মায়ের সেই ‘নিরাপদ ব্যাংক’ থেকে টাকা আর কখনোই বের হতো না।
ঈদের কয়েকদিন পর সেই জমানো সালামির খোঁজ করতাম। তখন মা খুব স্বাভাবিকভাবে বলতেন, "এই সালামি দিয়ে তো ঘরের নতুন পর্দা বানিয়েছি।" কিংবা বলতেন, "তোমার জন্য নতুন বই কিনে দিয়েছি।"
আমাদের সবার জীবনের গল্পটাই বোধহয় এমন। মায়ের কাছে জমা রাখা সালামিগুলো আর ফিরে পাওয়া হয়নি। তবে সেই স্মৃতিগুলো আজও আমাদের মুখে হাসি ফোটায়।
হালের ডিজিটাল সালামি
যুগের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলেছে। আগে হাতে হাতে সালামি দেওয়ার চল এখনো আছে। তবে আগে অনেকেই একটা মজার অভিনয় করতেন। প্রিয়জনরা দূরে থাকলে আক্ষেপ করে বলতেন, "কাছে থাকলে সালামি দিতাম। দূরে আছি বলে দিতে পারলাম না।"
কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল সুবিধার কারণে সেই আক্ষেপের দিন শেষ। বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই ঈদ সালামি দেওয়া যাচ্ছে। এখন আর "দূরে আছি" বলে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ছোটরা এখন সরাসরি বিকাশ বা নগদের নম্বর ইনবক্সে পাঠিয়ে দেয়। অনেকেই আবার কিউআর কোড স্ক্যান করে সালামি দাবি করে বসে।
ডিজিটাল সালামির এই বিষয়টি এখন আমাদের ঈদ সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকাশের ট্যাগলাইনটি তো এখন সবার মুখে মুখে ঘোরে—"ঈদের চাঁদ আকাশে, সালামি দিন বিকাশে।"
যুগে যুগে সালামি দেওয়ার ধরনে এমন অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সালামি পাওয়ার যে আনন্দ তা হয়ত কমেনি। যে আনন্দ নিয়ে আমরা একসময় সালামি নিতাম, আজ অন্যকে সালামি দেওয়ার মাধ্যমে সেই আনন্দ ছোটদের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঈদ সালামির এই সুন্দর রীতি এভাবেই আমাদের ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তুলছে।

মোহাম্মদপুরের পশ্চিমের এদিকটায় এখনো আকাশ দেখা যায়। ভোর-সকালে পাখির ডাক শোনা যায়। পর্দা সরিয়ে জানালা খুলে দিলে একঝলক ঠান্ডা হাওয়া ঘরময় ছড়িয়ে পড়ে। এমন সকালে আলস্য জড়িয়ে শুয়ে থাকতে ভালো লাগে।
১ ঘণ্টা আগে
আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ এলো ২০০৩ সালে। তখন আমার হাইস্কুল যাত্রা শেষের দিকে। কৈশোরের ওই সময়টার আগ পর্যন্ত আমাদের, মানে আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের ভাই-বোনদের ঈদ অভিজ্ঞতা খানিকটা অন্যরকম। স্মৃতি হাতড়ে যা মেলে, তা এ নিমিষেই গল্প করা সম্ভব। তবে সেই আবেগ হয়তো আরব্য রজনীর গল্পের চেয়েও টানটান।
৪ ঘণ্টা আগে
১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর, শনিবার। বর্ষপঞ্জির চিরায়ত নিয়মে অগ্রহায়ণের কুয়াশামাখা মেঘলা আকাশ আর ভয়ার্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে আকাশে উঠেছিল শাওয়ালের চাঁদ। মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে দিনটি ছিল এক পবিত্র উৎসবের, কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত বদ্বীপ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ওই এক ফালি চাঁদ কোনো আনন্দের বার্তা বয়ে আনেনি।
৪ ঘণ্টা আগে
সিকিউরিটি চিফ জানালো বিপদের সমূহ শঙ্কা। মানুষের কলোনিতে এক মশা-বিশেষজ্ঞের আবির্ভাব ঘটেছে—ড. বাশার। এই মশকবিজ্ঞানী পরামর্শ দিয়েছেন যেকোনো মূল্যে ইউনাইটেড স্টেটস অব মস্কোইটোকে ‘ডেস্ট্রয়’ করতে হবে।
৫ ঘণ্টা আগে