জেনে অবাক হবেন যে ১০০ বছর আগেও বরিশাল শহরে চিতাবাঘের দেখা পাওয়া যেত। ১৫০ বছর আগেও গৌরনদীতে বাঘের এমন আনাগোনা ছিল যে তাদের মারার জন্য বিশেষ পুরস্কার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তৎকালীন বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল) জেলার বিস্তারিত বর্ননা পাওয়া যায় ১৯১৮ সালে প্রকাশিত জেমস চার্লস জ্যাক-এর বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ারে। বর্তমান পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালি এবং বরিশাল জেলা তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার অংশ ছিল। বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
তারেক অণু

আগে বাকেরগঞ্জ অঞ্চল (বরিশাল) বৃহৎ আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণীতে ভরপুর ছিল। স্থায়ী বন্দোবস্তের সময় গৌরনদীতে বাঘের এমন আনাগোনা ছিল যে তাদের মারার জন্য বিশেষ পুরস্কার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। উত্তর-পুর্বের জলাভূমিগুলো অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল, আর সেখানে বিরাট বুনো মহিষের পাল অবাধে ঘুরে বেড়াত।
পরবরর্তী সময়ে বাঘেরা ধীরে ধীরে জেলার দক্ষিণাংশের জঙ্গলে সরে যায়। সেখান থেকে তাদের ধারাবাহিকভাবে ফাঁদ পেতে মেরে ফেলা হয়েছে। ১৯১৮ সালের হিসাব মতে শাহাবাজপুরে (বর্তমানের ভোলা) তখন কোনো বাঘ ছিল না, যদিও ৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৭৮ সালে সেখানে অসংখ্য বাঘের দেখা মিলত। একসময় সুন্দরবনে এবং সম্ভবত বালেশ্বর নদীর তীরবর্তী এলাকাতেও গণ্ডার পাওয়া যেত। তবে এরপর বহু বছর ধরে এই জেলায় গণ্ডার আর দেখা যায়নি।
সুন্দরবন, মেঘনা মোহনার দ্বীপ এবং ভান্ডারিয়ার বিলগুলো বাদ দিলে অন্য সব জায়গা থেকে বুনো মহিষ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। চিত্রা হরিণ প্রচুর মেলে সুন্দরবন আর শাহাবাজপুর (ভোলা) দ্বীপে। জলাহরিণ বা বারশিঙ্গা দেখা যায় ভান্ডারিয়ার বিলে। সুন্দরবনে মায়াহরিণও দেখা যায়।
১৯১৮ সালে এসেও চিতাবাঘের দেখা পাওয়া যায় জেলার সর্বত্রই, এমনকি বরিশাল শহরেও। আরো যেসব প্রাণী জেলার প্রায় সব জায়গায় দেখা যায় তাদের মধ্যে রয়েছে শিয়াল, বনকুকুর, সজারু, ভোঁদড়, বেজি, ইঁদুর, বনবিড়াল, খাটাশ, কয়েক প্রজাতির বাদুড় এবং শুশুক। শাহবাজপুর (ভোলা) দ্বীপের সবখানেই ভোঁদড় এবং বুনোশুয়োরের দেখা মেলে। ফলখেকো-বাদুড় জেলার দক্ষিণে দেখা যায়, এছাড়াও অন্য বাদুড়ও এখানে আছে।

১৯১৮ সালে এসে এই জেলায় শিকারের উপযোগী পাখি খুব একটা মেলে না। চ্যাগাদের মাত্র অল্প কয়েক জায়গায় দেখা যায়। দক্ষিণে হাঁস খুব একটা দেখা দেয় না, যদিও শাহবাজপুরে রাজহাঁসের ঝাঁক নামে। আর সেখানে নানা জাতের জিরিয়া, বিশেষত প্রশান্ত-সোনাজিরিয়া অনেক দেখা যায়।
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) হলো মাছের ভান্ডার। এই অঞ্চল থেকে পাওয়া যায় এমন সব মাছকে উৎস অনুযায়ী চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। লোনাপানির মাছ: কোরাল, ইলিশ, খারসু, মেঈড, তাড়িয়া, তোপসে
২। মিঠাপানির মাছ: রুই, কাতল, আইড়, পাঙ্গাশ, ধাইন, চিতল, কান-মাগুর, মৃগয়া, শিলং, রীতা, চাপিলা, গাংকাই, কাজলী, নান্দু, বাছা, পোয়া, ভাটা, তুলাডান্ডি, ফাইসা, গালিসা, টেংরা, কাচকি, বাউস, শাপলাপাতা।
৩। আবদ্ধ পানির মাছ: বাইম, বাইলা, ফলি, পাবদা, ভেদা, বাতাসি, কাকিলা, চেলা, দাকিনা, মালিন্ধা, পুঁটি।
৪। বিলের মাছ: কই, মাগুর, শিং, গজার, খইলসা, চ্যাং, শোল।
সমুদ্র থেকে মাঝে মধ্যে হাঙর নদীতে চলে আসে। ১৮৭০-৭১ সালে শাহবাজপুর (বর্তমান ভোলা) দ্বীপের উপকূল থেকে একটি হাঙর ধরা পড়েছিল, যার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪৮ ফুট। পরে সেটি বরিশালে প্রদর্শন করা হয়েছিল।
অন্যান্য জলজ প্রাণীর মধ্যে রয়েছে মানুষখেকো মিঠাপানির কুমির, মেছো-কুমির, ঘড়িয়াল, গুইসাপ, তক্ষক, লম্বা এবং ছোট লেজের গিরগিটি, অজগর, শঙ্খিনী বা কালাচ সাপ, ধামান বা রাজসাপ, শাখামুটি সাপ, পানি সাপ, ঢোড়া সাপ, ৩ ফিট লম্বা সবুজ গ্রাস স্নেক। এছাড়াও অনেক লোনা এবং স্বাদু পানির সাপ রয়েছে যেগুলো যথাযথভাবে তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত অন্য কয়েকটি প্রাণীর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে, যেমন দুই ফিট লম্বা দুর্গন্ধযুক্ত চিংড়ি, চামুয়া চিংড়ি যা খাওয়া যায়না। সাধারণত দুই ধরনের কাঁকড়া দেখা যায় লাল রঙের যা সৈকতে দেখা যায়। আর কালচে বর্ণের যাদেরকে গাছে দেখা যায়। এছাড়াও স্থলচর কাঁকড়া এবং বিছা আছে। উভচরদের মধ্যে আছে কুনো ব্যাঙ, সোনা ব্যাঙ ইত্যাদি।
নানা ধরনের কীটপতঙ্গ পাওয়া যায়। যাদের মধ্যে প্রজাপতি, মথ, কালো ও সাদা পিপীলিকা, মশা, ঝিঁঝিঁ, তেলাপোকা, মাছি, ফড়িং, মৌমাছি, বোলতা ইত্যাদি প্রধান।

আগে বাকেরগঞ্জ অঞ্চল (বরিশাল) বৃহৎ আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণীতে ভরপুর ছিল। স্থায়ী বন্দোবস্তের সময় গৌরনদীতে বাঘের এমন আনাগোনা ছিল যে তাদের মারার জন্য বিশেষ পুরস্কার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। উত্তর-পুর্বের জলাভূমিগুলো অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল, আর সেখানে বিরাট বুনো মহিষের পাল অবাধে ঘুরে বেড়াত।
পরবরর্তী সময়ে বাঘেরা ধীরে ধীরে জেলার দক্ষিণাংশের জঙ্গলে সরে যায়। সেখান থেকে তাদের ধারাবাহিকভাবে ফাঁদ পেতে মেরে ফেলা হয়েছে। ১৯১৮ সালের হিসাব মতে শাহাবাজপুরে (বর্তমানের ভোলা) তখন কোনো বাঘ ছিল না, যদিও ৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৭৮ সালে সেখানে অসংখ্য বাঘের দেখা মিলত। একসময় সুন্দরবনে এবং সম্ভবত বালেশ্বর নদীর তীরবর্তী এলাকাতেও গণ্ডার পাওয়া যেত। তবে এরপর বহু বছর ধরে এই জেলায় গণ্ডার আর দেখা যায়নি।
সুন্দরবন, মেঘনা মোহনার দ্বীপ এবং ভান্ডারিয়ার বিলগুলো বাদ দিলে অন্য সব জায়গা থেকে বুনো মহিষ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। চিত্রা হরিণ প্রচুর মেলে সুন্দরবন আর শাহাবাজপুর (ভোলা) দ্বীপে। জলাহরিণ বা বারশিঙ্গা দেখা যায় ভান্ডারিয়ার বিলে। সুন্দরবনে মায়াহরিণও দেখা যায়।
১৯১৮ সালে এসেও চিতাবাঘের দেখা পাওয়া যায় জেলার সর্বত্রই, এমনকি বরিশাল শহরেও। আরো যেসব প্রাণী জেলার প্রায় সব জায়গায় দেখা যায় তাদের মধ্যে রয়েছে শিয়াল, বনকুকুর, সজারু, ভোঁদড়, বেজি, ইঁদুর, বনবিড়াল, খাটাশ, কয়েক প্রজাতির বাদুড় এবং শুশুক। শাহবাজপুর (ভোলা) দ্বীপের সবখানেই ভোঁদড় এবং বুনোশুয়োরের দেখা মেলে। ফলখেকো-বাদুড় জেলার দক্ষিণে দেখা যায়, এছাড়াও অন্য বাদুড়ও এখানে আছে।

১৯১৮ সালে এসে এই জেলায় শিকারের উপযোগী পাখি খুব একটা মেলে না। চ্যাগাদের মাত্র অল্প কয়েক জায়গায় দেখা যায়। দক্ষিণে হাঁস খুব একটা দেখা দেয় না, যদিও শাহবাজপুরে রাজহাঁসের ঝাঁক নামে। আর সেখানে নানা জাতের জিরিয়া, বিশেষত প্রশান্ত-সোনাজিরিয়া অনেক দেখা যায়।
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) হলো মাছের ভান্ডার। এই অঞ্চল থেকে পাওয়া যায় এমন সব মাছকে উৎস অনুযায়ী চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। লোনাপানির মাছ: কোরাল, ইলিশ, খারসু, মেঈড, তাড়িয়া, তোপসে
২। মিঠাপানির মাছ: রুই, কাতল, আইড়, পাঙ্গাশ, ধাইন, চিতল, কান-মাগুর, মৃগয়া, শিলং, রীতা, চাপিলা, গাংকাই, কাজলী, নান্দু, বাছা, পোয়া, ভাটা, তুলাডান্ডি, ফাইসা, গালিসা, টেংরা, কাচকি, বাউস, শাপলাপাতা।
৩। আবদ্ধ পানির মাছ: বাইম, বাইলা, ফলি, পাবদা, ভেদা, বাতাসি, কাকিলা, চেলা, দাকিনা, মালিন্ধা, পুঁটি।
৪। বিলের মাছ: কই, মাগুর, শিং, গজার, খইলসা, চ্যাং, শোল।
সমুদ্র থেকে মাঝে মধ্যে হাঙর নদীতে চলে আসে। ১৮৭০-৭১ সালে শাহবাজপুর (বর্তমান ভোলা) দ্বীপের উপকূল থেকে একটি হাঙর ধরা পড়েছিল, যার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪৮ ফুট। পরে সেটি বরিশালে প্রদর্শন করা হয়েছিল।
অন্যান্য জলজ প্রাণীর মধ্যে রয়েছে মানুষখেকো মিঠাপানির কুমির, মেছো-কুমির, ঘড়িয়াল, গুইসাপ, তক্ষক, লম্বা এবং ছোট লেজের গিরগিটি, অজগর, শঙ্খিনী বা কালাচ সাপ, ধামান বা রাজসাপ, শাখামুটি সাপ, পানি সাপ, ঢোড়া সাপ, ৩ ফিট লম্বা সবুজ গ্রাস স্নেক। এছাড়াও অনেক লোনা এবং স্বাদু পানির সাপ রয়েছে যেগুলো যথাযথভাবে তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত অন্য কয়েকটি প্রাণীর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে, যেমন দুই ফিট লম্বা দুর্গন্ধযুক্ত চিংড়ি, চামুয়া চিংড়ি যা খাওয়া যায়না। সাধারণত দুই ধরনের কাঁকড়া দেখা যায় লাল রঙের যা সৈকতে দেখা যায়। আর কালচে বর্ণের যাদেরকে গাছে দেখা যায়। এছাড়াও স্থলচর কাঁকড়া এবং বিছা আছে। উভচরদের মধ্যে আছে কুনো ব্যাঙ, সোনা ব্যাঙ ইত্যাদি।
নানা ধরনের কীটপতঙ্গ পাওয়া যায়। যাদের মধ্যে প্রজাপতি, মথ, কালো ও সাদা পিপীলিকা, মশা, ঝিঁঝিঁ, তেলাপোকা, মাছি, ফড়িং, মৌমাছি, বোলতা ইত্যাদি প্রধান।

সাহিত্য সমালোচকদের মতে, ফররুখ আহমদ কাব্যের মাধ্যমে ইসলামি ভাবধারাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি রাষ্ট্রের কোনো আনুকূল্য পাননি। বরং তাঁকে শিকার হতে হয়েছে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিহিংসার। তবুও ক্ষুরধার কলম থেমে থাকেনি।
১২ ঘণ্টা আগে
বরফভাঙা জাহাজে টানা আট দিনের এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় তাঁরা ৮২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ অতিক্রম করেন। উত্তাল সমুদ্র আর কনকনে ঠান্ডার মাঝে ‘বরফের জঙ্গল’ পেরিয়ে তাঁরা বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
আজ ৯ জুন, আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারকগুলো সংরক্ষণের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। মূলত প্রাচীন নথি, দলিলাদি এবং আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের মানুষের কাছে রাজনীতি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়। রাষ্ট্রের বিন্যাস আর গঠনকাঠামো বুঝতে চাওয়া পাঠকের সংখ্যা প্রচুর। এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়। তবে বিগত কয়েক দশকে রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই বিশেষ বিষয়কেন্দ্রিক বই প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক স
২ দিন আগে