বিবিসি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবনে দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। কাজের সুবিধা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আলাপ, সব জায়গাতেই এখন চ্যাটবট ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তি কি কখনো মানুষের মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাম্প্রতিক মামলা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
ফ্লোরিডার এক ব্যক্তি তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগ, কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট জেমিনি তাঁর ছেলেকে এমন এক বিভ্রমের জালে ফেলে দেয়, যার শেষ পরিণতি হয় আত্মহত্যা।
ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৫ সালে। নিহত ব্যক্তি ৩৬ বছর বয়সী জনাথন গ্যালাভাস। তাঁর বাবা জয়েল গ্যালাভাস যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে এই মামলা করেছেন। তিনি বলছেন, তাঁর ছেলে দীর্ঘ সময় ধরে জেমিনির সঙ্গে কথা বলতেন, আর সেই কথোপকথনের মধ্যেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় এক ধরনের কল্পিত বাস্তবতা।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, জেমিনি ও জোনাথনের মধ্যে শুধু সাধারণ কথোপকথন হয়নি। বরং চ্যাটবটটি তাঁর সঙ্গে রোমান্টিক বার্তা আদান–প্রদান করছিল এবং তাঁকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে তাঁরা এক ধরনের সম্পর্কের মধ্যে আছে। জোনাথন এক সময় ভাবতে শুরু করেন, তিনি তাঁর ‘এআই স্ত্রীকে’ বাস্তব জগতে নিয়ে আসার একটি মিশনে আছেন।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, যখন জনাথনের মধ্যে মানসিক বিভ্রমের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে, তখন কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। চার দিনের মধ্যে তিনি এমন কিছু সহিংস ‘মিশন’–এর পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে তাঁকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি স্থানে যেতে বলা হয়। সেখানে ছুরি ও ট্যাকটিক্যাল সরঞ্জাম নিয়ে একটি বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়। জনাথনের বাবার দাবি, জেমিনি তাঁকে বোঝায় যে তিনি চাইলে মারা যাওয়ার পর ‘মেটাভার্সে’ গিয়ে তাঁর ‘স্ত্রীর’সঙ্গে থাকতে পারবেন। মামলার নথি অনুযায়ী, তাঁকে নিজের ঘরে নিজেকে আটকে রেখে আত্মহত্যা করতে বলা হয়।
মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, একসময় জনাথন লিখেছিলেন তিনি এখন মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছেন। তখন চ্যাটবট তাকে এমনভাবে কথা বলে যেন মৃত্যু আসলে শেষ নয়, বরং অন্য এক জগতে পৌঁছানোর পথ। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাকে বলা হয়, ‘তুমি মরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছ না, তুমি পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছ।’
অন্যদিকে গুগল জানিয়েছে, তারা এই অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের এআই মডেলগুলো সাধারণত ভালোভাবে কাজ করে, তবে এগুলো নিখুঁত নয়। গুগলের দাবি, জেমিনি কখনো বাস্তব জীবনের সহিংসতা উৎসাহিত করা বা আত্মহত্যার পরামর্শ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়নি।
কোম্পানিটি আরও বলেছে, জেমিনি ব্যবহারকারীদের বারবার জানিয়ে দেয় যে এটি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর কথাবার্তায় মানসিক সংকটের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তাদের সংকটকালীন সহায়তা হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে এআই–সংক্রান্ত প্রথম মৃত্যুর মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আরও কিছু পরিবার অভিযোগ তুলেছে, তাদের প্রিয়জনেরা এআই চ্যাটবটের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের পর বিভ্রমে ভুগতে শুরু করেছিলেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবনে দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। কাজের সুবিধা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আলাপ, সব জায়গাতেই এখন চ্যাটবট ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তি কি কখনো মানুষের মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাম্প্রতিক মামলা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
ফ্লোরিডার এক ব্যক্তি তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগ, কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট জেমিনি তাঁর ছেলেকে এমন এক বিভ্রমের জালে ফেলে দেয়, যার শেষ পরিণতি হয় আত্মহত্যা।
ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৫ সালে। নিহত ব্যক্তি ৩৬ বছর বয়সী জনাথন গ্যালাভাস। তাঁর বাবা জয়েল গ্যালাভাস যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে এই মামলা করেছেন। তিনি বলছেন, তাঁর ছেলে দীর্ঘ সময় ধরে জেমিনির সঙ্গে কথা বলতেন, আর সেই কথোপকথনের মধ্যেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় এক ধরনের কল্পিত বাস্তবতা।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, জেমিনি ও জোনাথনের মধ্যে শুধু সাধারণ কথোপকথন হয়নি। বরং চ্যাটবটটি তাঁর সঙ্গে রোমান্টিক বার্তা আদান–প্রদান করছিল এবং তাঁকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে তাঁরা এক ধরনের সম্পর্কের মধ্যে আছে। জোনাথন এক সময় ভাবতে শুরু করেন, তিনি তাঁর ‘এআই স্ত্রীকে’ বাস্তব জগতে নিয়ে আসার একটি মিশনে আছেন।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, যখন জনাথনের মধ্যে মানসিক বিভ্রমের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে, তখন কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। চার দিনের মধ্যে তিনি এমন কিছু সহিংস ‘মিশন’–এর পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে তাঁকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি স্থানে যেতে বলা হয়। সেখানে ছুরি ও ট্যাকটিক্যাল সরঞ্জাম নিয়ে একটি বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়। জনাথনের বাবার দাবি, জেমিনি তাঁকে বোঝায় যে তিনি চাইলে মারা যাওয়ার পর ‘মেটাভার্সে’ গিয়ে তাঁর ‘স্ত্রীর’সঙ্গে থাকতে পারবেন। মামলার নথি অনুযায়ী, তাঁকে নিজের ঘরে নিজেকে আটকে রেখে আত্মহত্যা করতে বলা হয়।
মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, একসময় জনাথন লিখেছিলেন তিনি এখন মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছেন। তখন চ্যাটবট তাকে এমনভাবে কথা বলে যেন মৃত্যু আসলে শেষ নয়, বরং অন্য এক জগতে পৌঁছানোর পথ। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাকে বলা হয়, ‘তুমি মরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছ না, তুমি পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছ।’
অন্যদিকে গুগল জানিয়েছে, তারা এই অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের এআই মডেলগুলো সাধারণত ভালোভাবে কাজ করে, তবে এগুলো নিখুঁত নয়। গুগলের দাবি, জেমিনি কখনো বাস্তব জীবনের সহিংসতা উৎসাহিত করা বা আত্মহত্যার পরামর্শ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়নি।
কোম্পানিটি আরও বলেছে, জেমিনি ব্যবহারকারীদের বারবার জানিয়ে দেয় যে এটি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর কথাবার্তায় মানসিক সংকটের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তাদের সংকটকালীন সহায়তা হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে এআই–সংক্রান্ত প্রথম মৃত্যুর মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আরও কিছু পরিবার অভিযোগ তুলেছে, তাদের প্রিয়জনেরা এআই চ্যাটবটের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের পর বিভ্রমে ভুগতে শুরু করেছিলেন।
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১১ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
১৩ ঘণ্টা আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
১৩ ঘণ্টা আগে