তৃণমূলের দুই অংশকে নতুন নাম-প্রতীক, উপনির্বাচন ঘিরে নাটকীয়তা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

নতুন নামে নতুন প্রতীকে দুইভাগে তৃণমূল, উপনির্বাচন ঘিরে আরও নাটকীয়তা। ছবি: সংগৃহীত
নতুন নামে নতুন প্রতীকে দুইভাগে তৃণমূল, উপনির্বাচন ঘিরে আরও নাটকীয়তা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আসার পর এতদিনের ক্ষমতাধর মমতা ব্যানার্জির দল ভাঙন এবং সর্বশেষ প্রতীক জটিলতায় পড়েছে। দলটির ভঙ্গুর অবস্থা এবং বিজেপির প্রচ্ছন্ন প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে আসন্ন নন্দীগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচনে। দুই কেন্দ্রেই মমতাপক্ষের তৃণমূল প্রার্থীরা উপনির্বাচন থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য হারানো মমতার তৃণমূল ভেঙে দুই ভাগ হয়ে গেছে। নির্বাচনের পর তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। অভ্যন্তরীণ নথিপত্রে সই জাল করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ১ জুন ঋতব্রত ব্যানার্জি ও সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত হলেও ঋতব্রতের নেতৃত্বে তৃণমূলের ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক একজোট হয়ে বিদ্রোহী শিবির গড়েন। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে এই বিদ্রোহী বিধায়করা বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন। স্পিকারও তাঁদের স্বীকৃতি দেন।

এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দল ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বিরোধ বাঁধে। পরে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক স্থগিত করে।

প্রতীক স্থগিতের পর শুক্রবার নির্বাচন কমিশন মমতা ও ঋতব্রত- দুই দলের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক অনুমোদন করে। মমতার ঘাঁটি কালীঘাটপন্থী পক্ষের নাম হয় ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ঋতব্রত শিবিরের নাম হয় ‘গণতান্ত্রিত তৃণমূল কংগ্রেস’। মমতার দল ‘ফুটবলার’ প্রতীক পেয়েছে, ঋতব্রতেরা পেয়েছেন খাম প্রতীক।

এরপরেই উপনির্বাচন কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে আরও নাটকীয়তা। নন্দীগ্রামে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর আগের দিনই তিনি গোপনে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী-বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। মমতা এরপর সাংবাদিকদের জানান, তিনি নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন দেবেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৯ বছরের পুরনো হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নন্দীগ্রামের পর উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন রেজিনগরের মমতা-তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। শনিবারই (১৯ সেপ্টেম্বর) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। নতুন করে আর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগও নেই। ফলে রবিউল সরে দাঁড়ানোয় রেজিনগর কেন্দ্রের ভোটও হবে মমতা তৃণমূলকে ছাড়া।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে রবিউল বলেন, ‘দলের নতুন প্রতীক হয়েছে। কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তা হলে আমরা ভোটে লড়ব কী করে? সেই কারণেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এর ফলে উপনির্বাচনে রাজ্যের দুই কেন্দ্রেই মমতার কোনো প্রতিনিধি রইলেন না।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত