সার্বিয়ায় রাতকো স্লাদিচের শেষকৃত্যে বীরোচিত সম্মান, ক্ষুব্ধ ইইউ
স্ট্রিম ডেস্ক

যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বসনিয়ান সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচের মরদেহকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদা দিয়েছে সার্বিয়া। এই মর্যাদা না দিতে দেশটিকে সতর্ক করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কিন্তু তা উপেক্ষা করে স্লাদিচের কফিন জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে কার্যত এর উল্টোটি করলো বলকান অঞ্চলের দেশটি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলগ্রেডের একটি সার্বিয়ান অর্থোডক্স গির্জায় রাতকো স্লাদিচের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে সেন্ট লুক গির্জায় সকাল থেকেই হাজারো মানুষ জড়ো হন। গির্জার বাইরে ভিড় জমানো মানুষের হাতে ছিল সার্বিয়ার পতাকা এবং সার্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী সামরিক টুপি পরা ম্লাদিচের ছবি। অনেক সার্ব এখনো ম্লাদিচকে জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচনা করেন। কফিনের ওপর রাখা ছিল তাঁর সামরিক টুপি ও তলোয়ার। পাশে সামরিক পোশাক পরা সদস্যরা দাঁড়ানো ছিলেন।

সার্বিয়ার সরকারপন্থী গণমাধ্যম জানিয়েছে, ম্লাদিচকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে।
ম্লাদিচ ২৭ আগস্ট ৮৪ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে মারা যান। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের বসনিয়া যুদ্ধের সময় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। ২০১৭ সালে তাঁকে ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ঘটনায় ৮ হাজারের বেশি বসনিয়াক মুসলিম পুরুষ ও কিশোর নিহত হন।
এ ছাড়া সারায়েভোতে টানা ৪৩ মাস ধরে চলা অবরোধে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায়ও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
পরিবারের উদ্যোগে ম্লাদিচের শেষকৃত্যের আয়োজন করা হলেও সার্বিয়া সরকার তাঁর মরদেহ দেশে আনতে উড়োজাহাজ পাঠায়। গত শনিবার দেশটির সেনাবাহিনীর একটি সরকারি স্থাপনাতেও তাঁর প্রতি সামরিক শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ব্লকে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলোর একটি। কিন্তু ম্লাদিচকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর ঘটনায় ইইউ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইইউ’র সম্প্রসারণ বিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস তাঁর নির্ধারিত সার্বিয়া সফর স্থগিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, ম্লাদিচের মৃত্যুকে ঘিরে তাকে যে মহিমান্বিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ইইউ-এর মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, সার্বরা কয়েক দশক ধরে নিপীড়িত-হয়রানির শিকার হয়ে আসলেও একপাক্ষিকভাবে কেবল তাঁদেরই দায়ী করা হয়।
.png)






