আগুন-বিপদে ইন্দোনেশিয়া, একদিকে দাবানল অন্যদিকে অগ্ন্যুৎপাত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৩৫
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠায় ছাই ছড়িয়েছে আকাশের বহুদূর পর্যন্ত। ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠায় ছাই ছড়িয়েছে আকাশের বহুদূর পর্যন্ত। ছবি: সংগৃহীত

একদিকে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, অন্যদিকে বনভূমিতে দাবানলের থাবা— দুই তীব্র প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া ও কার্বন ঝুঁকিতে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটির 'আনাক ক্রাকাতাউ' আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আকাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ছাই ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, বোর্নিও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানল পরিবেশবিদদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী জাকার্তার কাছে সুন্দা প্রণালীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত 'আনাক ক্রাকাতাউ' আগ্নেয়গিরি থেকে বায়ুমণ্ডলে ১৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিষাক্ত ছাই ছড়িয়ে পড়ে।

এ কারণে ইন্দোনেশিয়ায় আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলো বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধী।

গত শুক্রবার গভীর রাতে আগ্নেয়গিরিটি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। রাজধানী জাকার্তা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার আকাশ আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া ছাইয়ে ঢেকে গেছে। এর ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই আটটি বিমানবন্দর একে একে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। প্রায় ৩ লাখ যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন। মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউয়ের আশপাশের ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত সর্বসাধারণ ও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

বোর্নিওর বনে প্রাচীনকালের পচাজৈবসহ পুড়ছে বনভূমি, প্রতিবেশী দেশগুলোর বাতাসেও দূষণ। ছবি: সংগৃহীত
বোর্নিওর বনে প্রাচীনকালের পচাজৈবসহ পুড়ছে বনভূমি, প্রতিবেশী দেশগুলোর বাতাসেও দূষণ। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে, দেশটির বোর্নিও ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার পচা জৈব স্তরের মাটিতে লাগা ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ভূগর্ভে হাজার বছর ধরে জমা হয়ে থাকা এই বিশাল কার্বন স্তর পুড়ে যাওয়ায় পরিবেশবিদরা একে 'কার্বন বোমা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। দাবানলের ফলে সৃষ্ট ঘন স্মগ বা ধোঁয়াশা শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই নয়, বরং সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এই অঞ্চলের বাতাস মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ একযোগে কাজ করছে। একদিকে বিমানের নিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরগুলো দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে দাবানল নেভাতে পর্যাপ্ত আধুনিক সরঞ্জাম না থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত