নেপালে বন্যার ১৩তম দিনে জাতীয় শোক দিবস পালন
স্ট্রিম ডেস্ক

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১৩ তম দিনে নিহতদের স্মরণে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে।
হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পর ১৩ দিনের শোককাল এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার ঐতিহ্য রয়েছে। এই রীতির সঙ্গে মিল রেখেই বন্যার ১৩তম দিনে দেশটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালিত হচ্ছে।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শোক দিবসের শেষ দিন উপলক্ষে সরকারি কার্যালয় এবং বিদেশে অবস্থিত মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ধসে পড়ে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপালের ভোতেকোশি-ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নেমে আসে প্রলয়। কাদাপানির তীব্র ঢলে বিধ্বস্ত হয় ঘরবাড়ি-অবকাঠামো, ভেসে যায় হাজারো মানুষ এবং গবাদিপশু।

নেপাল পুলিশের হিসাবে, এ দুর্যোগে ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলার পাহাড়েবেসি গ্রামটিতে এখন কেবলই কান্নার রোল। নিখোঁজ স্বজনদের কোনও খবর না পাওয়ায় মনকে মানিয়ে নিয়েই চূড়ান্ত শোক পালন করছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
বিপর্যয়ের ধাক্কার মাঝে শোক পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। শোক পালনের প্রথাগত নিয়ম সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় স্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুরোহিত পাওয়া যাচ্ছে না। পাহাড়েবেসি গ্রামের ২০টিরও বেশি পরিবার শেষকৃত্য ও শ্রাদ্ধ কর্মের জন্য কাঠমান্ডু এবং অন্যান্য শহরে পাড়ি জমিয়েছে।

চরম পরিস্থিতিতে হিন্দু ধর্মীয় প্রথা মেনে নিখোঁজ স্বজনদের উদ্দেশে ‘কুশপুতুল’ বানিয়ে প্রতীকী শেষকৃত্য সারতে বাধ্য হচ্ছে শতাধিক পরিবার।
ভয়াবহ বিপর্যয়ের দু’সপ্তাহ হতে চললেও এখনো কাউকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা আশা আলো জাগিয়ে রেখেছে। গত শনিবার নুয়াকোটের বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকেও (৬৪) জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরিবার তাকে মৃত ভেবে শোকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। পরে উদ্ধারকারীরা তাঁর ডাক শুনে প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে তাঁকে বের করে হাসপাতালে পাঠান।
সূত্র: বিবিসি, দ্য ওয়াল
.png)






