আধুনিক কাতারের রূপকার শেখ হামাদ বিন খলিফা মারা গেছেন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১২: ১৮
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। ছবি : সংগৃহীত

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন। রোববার (১২ জুলাই) এক বিবৃতিতে কাতারের আমিরি দিওয়ান তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মহান আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরে অবিচল বিশ্বাস রেখে আমিরি দিওয়ান গভীর শোকের সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির কথা জানাচ্ছে। সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন।’

কাতারে ‘ফাদার আমির’ নামে পরিচিত শেখ হামাদ ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দেন। ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে তাঁর ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরল দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।

১৯৯৫ সালের জুনে রক্তপাতহীন প্রাসাদ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাবা শেখ খলিফা বিন হামাদ আল থানিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় আসেন শেখ হামাদ। তাঁর ১৮ বছরের শাসনামলে বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতকে কাজে লাগিয়ে কাতার বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে দেশটির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

তাঁর শাসনামলেই কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জ্বালানি খাতের আয় ব্যবহার করে সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, সম্পদ ও স্পোর্টস ক্লাবে বিনিয়োগ করে কাতারের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করে। তাঁর আমলেই কাতার ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পায়।

১৯৯৬ সালে শেখ হামাদ আল জাজিরা টেলিভিশন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাতারের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যমে নতুন মাত্রা যোগ করে। একই সময়ে কাতার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখার পাশাপাশি ইরান, হামাসসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পক্ষের সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রাখে।

১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া শেখ হামাদ যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টে পড়াশোনা করেন। পরে কাতারের সশস্ত্র বাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে তাঁকে যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে ১৯৯৫ সালে আমিরের দায়িত্ব নেন।

২০১৩ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি সক্রিয় রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও কাতারের শাসক পরিবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বেই কাতার একটি ছোট উপসাগরীয় রাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, বিনিয়োগ, কূটনীতি ও গণমাধ্যমে বৈশ্বিক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত