অনড় ককরোচরা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সময় চাইল সরকার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করে সিজেপি। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে দলটি জানায়, এ দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলবে। খবর এনডিটিভি

শুক্রবার (২৪ জুলাই) নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে সরকারের পক্ষে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। সিজেপির পক্ষে ছিলেন দলের জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কা।

বৈঠক শেষে অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। নীতিগতভাবে সরকার দুটি দাবি মেনে নিয়েছে। এর একটি আত্মহত্যা করা মেডিকেল পরীক্ষার্থীদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং অন্যটি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর ও অন্যান্য মামলা প্রত্যাহার।

এর আগে, সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং পরীক্ষার অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরই আলোচনায় বসতে রাজি হয় সিজেপি।

বৈঠক শেষে জেপি নাড্ডা বলেন, সিজেপি তিনটি মূল দাবি এবং পরীক্ষা সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনা করে শনিবার আবার বৈঠক হবে এবং তখন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভাঙেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাসের পর অনশন ভাঙেন তিনি। ওয়াংচুক জানান, শুধু মৌখিক আশ্বাসে রাজি না হয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি চাওয়ায় অনশন শেষ করতে দুই দিন দেরি হয়েছে।

বৈঠকের আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলনের কোনো সমাধান নেই।

এর আগে, ২০ জুলাই দুই পক্ষের প্রথম দফার বৈঠক হয়েছিল। সেদিন জেপি নাড্ডার বাসভবনে বৈঠকে অংশ নেন সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে তাঁরা অভিযোগ করেন, বৈঠকের সময় তাঁদের কার্যত ‘গৃহবন্দী’ করে রাখা হয়েছিল। এরপর থেকে তাঁরা নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আনা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই কেন্দ্র উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করেছে। পাশাপাশি স্কুল শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শীর্ষ পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত