‘যতক্ষণ না আমি থামতে বলি, ইরানে হামলা চলবে’ : ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০: ২৪
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ ও নৌকা। ছবি: সংগৃহীত

তিনি নিজে হামলা বন্ধের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে আলোচনায় না বসলে আগামী সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর হামলা ‘যতক্ষণ না আমি বলছি যথেষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ চলবে।’ তাঁর দাবি, ইরানের এখনো কিছু লড়াই করার সক্ষমতা থাকলেও দ্রুত তা কমে আসছে। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি ইরানের জন্য আরও কঠিন হবে। তেহরান আলোচনায় না এলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্প আরও জানান, মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে আপাতত শেষ পর্যায়ের লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

নতুন দফায় মার্কিন হামলা

ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই ইরানে নতুন দফায় হামলার তথ্য জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রায় সাত ঘণ্টার অভিযানে হরমুজ প্রণালির আশপাশের অঞ্চল ও ইরানের দক্ষিণ উপকূলে কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি ও সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে- এমন ইরানি সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বন্দর আব্বাস, কেশম, হেঙ্গাম, সিরিক, আহভাজ ও বুশেহরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের দেহলোরানে একটি বোতলজাত পানি কারখানা ও খুজেস্তান প্রদেশের হোভেইজেহ কাউন্টিতে একটি গম সংরক্ষণাগার মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সিস্তান-বেলুচিস্তানের বাম্পুরের একটি সামরিক ঘাঁটিও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এসব হামলায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পাল্টা হামলার দাবি আইআরজিসির

মার্কিন হামলার জবাবে আঞ্চলিক বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, নৌ সহায়তা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, গুদাম এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এ ছাড়া জর্ডানের আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং কয়েকটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি। যদিও এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

জর্ডান ও কুয়েত থেকে মার্কিন ঘাঁটি অপসারণে সোচ্চার হতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীটি বলেছে, ‘ইসলামি দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটিতে পরিণত হতে আপনাদের পবিত্র ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দেবেন না।’ একই সঙ্গে তারা জর্ডানি ও কুয়েতিদের প্রতি ‘যে কোনো সুযোগে’ মার্কিন বাহিনীকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া এবং তাদের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার আহ্বান জানিয়েছে।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বাহিনীটির ভাষায়, ‘হয় সবার জন্য জ্বালানি রপ্তানি হবে, নয়তো কারও জন্যই হবে না।’

নৌ অবরোধ নিয়ে নতুন উত্তেজনা

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আবার কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানায়, অবরোধ কার্যকরের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির আশপাশে নতুন সামরিক অভিযানও চালানো হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ নিরাপত্তা ফি আরোপের ঘোষণা দিলেও, পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তিনি বলেন, এর পরিবর্তে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধা পাবে। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি জানায়, ‘আমেরিকার অশুভ তৎপরতা’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সত্ত্বেও কোনো জাহাজ ইরানের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেনি কিংবা মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতা করেনি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত