যুক্তরাষ্ট্রে ৪ ডলার ছাড়াল গ্যাসের দাম, এক মাসে ৩৫%

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
সিএনএন

ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ফিলিং স্টেশনেজ্বালানি দামের বোর্ড ঝুলছে। ছবি: সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের (পেট্রোল) গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো এই নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত এক মাসে দেশটিতে জ্বালানির দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এএএ-এর রেকর্ড অনুযায়ী, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ০১৮ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের বাজারে এই মাসিক বৃদ্ধির হার ২০০৫ সালের হারিকেন ক্যাটরিনা কিংবা ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের চেয়েও বেশি।

ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে পেট্রোল তৈরি করা হয়। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়লে বা কমলে সাধারণত পেট্রোলের দামও সেই অনুযায়ী ওঠানামা করে।

মার্চের প্রথম সপ্তাহে ইরান ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ২০ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ১১ ও ১২ মার্চ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং হোয়াইট হাউস তাদের জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিলে দাম কিছুটা কমে ৯২ ডলারে নেমে আসে। এরপর ২৪ থেকে ২৬ মার্চের দিকে তেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ৯৮ ডলারে এসে টানা ছয় দিন স্থির ছিল।

তবে এই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। ২৯ ও ৩০ মার্চ শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলের খনি ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকির ফলে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আবারও ১১৭ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

সম্পর্কিত