স্ট্রিম ডেস্ক

পৃথিবীর জ্বালানি ভারসাম্য বর্তমানে রেকর্ড মাত্রায় বিঘ্নিত হয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ভারসাম্যহীনতা সমুদ্রের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে, আবহাওয়া আরও চরম করে তুলছে এবং মানবস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়টি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ ১১ বছর। তবে আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পৃথিবীর পৃষ্ঠে যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানুষ অনুভব করছে, তা পুরো পৃথিবীর সঞ্চিত অতিরিক্ত তাপের মাত্র ১ শতাংশ।
এই অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করছে সমুদ্র। গত বছর সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত দুই দশকে সমুদ্র উষ্ণ হওয়ার হার আগের ৪৫ বছরের গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
বিশ্ব জলবায়ু পরিস্থিতি বিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব কর্মকাণ্ডের কারণে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং বন ধ্বংসের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা গত ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
এতে পৃথিবীর জ্বালানি ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থায় পৃথিবীতে প্রবেশ করা ও বের হওয়া বিকিরণের পরিমাণ প্রায় সমান থাকে। কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত তাপ জমা হচ্ছে, যা অন্তত ১৯৬০ সাল থেকে বাড়তে শুরু করেছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা দ্রুত ত্বরান্বিত হয়েছে।
নতুন প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো এই জ্বালানি ভারসাম্যহীনতা পরিমাপ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২০০৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১১ জেটাজুল অতিরিক্ত তাপ জমা হয়েছে, যা মানবজাতির মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ১৮ গুণের সমান। গত বছর এই গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি তাপ জমা হয়েছে।
বর্তমানে এই অতিরিক্ত শক্তির ৯১ শতাংশ সমুদ্র শোষণ করছে, ৫ শতাংশ জমিতে যাচ্ছে, ১ শতাংশ বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ করছে এবং ৩ শতাংশ মেরু অঞ্চল ও পাহাড়ি বরফ গলাতে ভূমিকা রাখছে।
তবে এই সামান্য অংশও পৃথিবীর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত বছর রেকর্ড অনুযায়ী দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর ছিল। বিশ্বনেতারা বলছেন, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অন্তত সাময়িকভাবে অতিক্রম করা এখন প্রায় অনিবার্য।
এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে এবং তাপপ্রবাহ, দাবানল ও ঝড় আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “বিশ্বের জলবায়ু এখন জরুরি অবস্থায় রয়েছে। পৃথিবীকে তার সীমার বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ুর প্রতিটি সূচক এখন বিপদ সংকেত দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মানবজাতি টানা ১১টি উষ্ণতম বছর পার করেছে। ইতিহাস যদি ১১ বার নিজেকে পুনরাবৃত্ত করে, তা আর কাকতালীয় নয়। বরং এটি অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান।”
সমুদ্রের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে এবং সমুদ্রের বরফের পরিমাণ ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপ সমুদ্রের গভীরে ছড়িয়ে পড়ছে, যা স্রোতের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করছে এবং এর প্রভাব হাজার বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
সমুদ্রের উপরের স্তরে তাপপ্রবাহ ও অম্লতা বৃদ্ধির ফলে প্রবালসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে বরফ গলার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং পৃথিবীর সূর্যালোক প্রতিফলনের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বস্তির কোনো লক্ষণ নেই। প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা পর্যায় শেষের দিকে, যা সাধারণত কিছুটা শীতলতা আনে। তবে বছরের শেষে এল নিনো শুরু হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আবারও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক ড. জন কেনেডি বলেন, এল নিনো শুরু হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, বরং তা ইতোমধ্যেই বর্তমান বাস্তবতায় গভীর সংকট তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

পৃথিবীর জ্বালানি ভারসাম্য বর্তমানে রেকর্ড মাত্রায় বিঘ্নিত হয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ভারসাম্যহীনতা সমুদ্রের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে, আবহাওয়া আরও চরম করে তুলছে এবং মানবস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়টি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ ১১ বছর। তবে আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পৃথিবীর পৃষ্ঠে যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানুষ অনুভব করছে, তা পুরো পৃথিবীর সঞ্চিত অতিরিক্ত তাপের মাত্র ১ শতাংশ।
এই অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করছে সমুদ্র। গত বছর সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত দুই দশকে সমুদ্র উষ্ণ হওয়ার হার আগের ৪৫ বছরের গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
বিশ্ব জলবায়ু পরিস্থিতি বিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব কর্মকাণ্ডের কারণে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং বন ধ্বংসের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা গত ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
এতে পৃথিবীর জ্বালানি ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থায় পৃথিবীতে প্রবেশ করা ও বের হওয়া বিকিরণের পরিমাণ প্রায় সমান থাকে। কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত তাপ জমা হচ্ছে, যা অন্তত ১৯৬০ সাল থেকে বাড়তে শুরু করেছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা দ্রুত ত্বরান্বিত হয়েছে।
নতুন প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো এই জ্বালানি ভারসাম্যহীনতা পরিমাপ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২০০৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১১ জেটাজুল অতিরিক্ত তাপ জমা হয়েছে, যা মানবজাতির মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ১৮ গুণের সমান। গত বছর এই গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি তাপ জমা হয়েছে।
বর্তমানে এই অতিরিক্ত শক্তির ৯১ শতাংশ সমুদ্র শোষণ করছে, ৫ শতাংশ জমিতে যাচ্ছে, ১ শতাংশ বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ করছে এবং ৩ শতাংশ মেরু অঞ্চল ও পাহাড়ি বরফ গলাতে ভূমিকা রাখছে।
তবে এই সামান্য অংশও পৃথিবীর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত বছর রেকর্ড অনুযায়ী দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর ছিল। বিশ্বনেতারা বলছেন, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অন্তত সাময়িকভাবে অতিক্রম করা এখন প্রায় অনিবার্য।
এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে এবং তাপপ্রবাহ, দাবানল ও ঝড় আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “বিশ্বের জলবায়ু এখন জরুরি অবস্থায় রয়েছে। পৃথিবীকে তার সীমার বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ুর প্রতিটি সূচক এখন বিপদ সংকেত দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মানবজাতি টানা ১১টি উষ্ণতম বছর পার করেছে। ইতিহাস যদি ১১ বার নিজেকে পুনরাবৃত্ত করে, তা আর কাকতালীয় নয়। বরং এটি অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান।”
সমুদ্রের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে এবং সমুদ্রের বরফের পরিমাণ ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপ সমুদ্রের গভীরে ছড়িয়ে পড়ছে, যা স্রোতের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করছে এবং এর প্রভাব হাজার বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
সমুদ্রের উপরের স্তরে তাপপ্রবাহ ও অম্লতা বৃদ্ধির ফলে প্রবালসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে বরফ গলার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং পৃথিবীর সূর্যালোক প্রতিফলনের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বস্তির কোনো লক্ষণ নেই। প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা পর্যায় শেষের দিকে, যা সাধারণত কিছুটা শীতলতা আনে। তবে বছরের শেষে এল নিনো শুরু হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আবারও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক ড. জন কেনেডি বলেন, এল নিনো শুরু হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, বরং তা ইতোমধ্যেই বর্তমান বাস্তবতায় গভীর সংকট তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
.png)

পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ১০৭ জন নিহত এবং ৩৪৪ জন আহত হয়েছেন। জুনের শেষদিকে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার পর থেকে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
২ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে ‘অবৈধ ও অনিরাপদ’ পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ছয়টি জাহাজ আটকে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, নেভিগেশন ও ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে জাহাজগুলো ওই পথে চলাচলের চেষ্টা করছিল।
৭ ঘণ্টা আগে
এআই দিয়ে তৈরি করা একের পর এক ছবি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। যেখানে কোনো ছবিতে ট্রাম্পকে দেখা যাচ্ছে ইরানের তেলবাহী সুপার ট্যাংকারের নিয়ন্ত্রণ নিতে; আবার কোনো ছবিতে হরমুজে যুদ্ধজাহাজ চালাচ্ছেন তিনি।
৯ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের জনমত চীনের পক্ষে স্পষ্টভাবে ঝুঁকেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার। সংস্থাটির ২০২৪ ও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক জনমত জরিপের তুলনামূলক বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
২১ ঘণ্টা আগে