স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে এসে শোক নয়, বরং প্রতিশোধের হুংকার দিয়েছেন লাখো ইরানি।
রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের সবচেয়ে বড় মসজিদ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনিকে শ্রদ্ধা জানানোর দ্বিতীয় দিনে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। গতকাল শনিবারের তুলনায় আজ উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি।
কালো পোশাক পরিহিত শোকার্ত মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং প্রতিশোধের প্রতীক ‘লাল পতাকা’। সাধারণত মৃত্যুর শোক বোঝাতে কালো পতাকার ব্যবহার করা হলেও, আজকের সমাবেশে চারদিকে শুধুই লাল পতাকার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো সমাবেশজুড়ে সমস্বরে স্লোগান উঠছিল— ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক, ইসরায়েল ধ্বংস হোক।’
মসজিদের দেওয়ালে ঝুলছে সাদা ব্যানার, যাতে লেখা— ‘বিশ্ব জেনে রাখুক, প্রতিশোধ অনিবার্য।’
সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ ইরানিদের মধ্যে দুঃখের চেয়ে ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন ছিল প্রবল। একটি মুদি দোকানের ২৯ বছর বয়সী কর্মী গোলামরেজা সাবুনি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি চিৎকার করতে এবং প্রতিশোধের দাবি জানাতে। তারা আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে, আমাদেরও উচিত তাদের নেতা ট্রাম্পকে হত্যা করা।’
আরেক শোকার্ত ইরানি নাগরিক মোহাম্মদ রেজা শরিফি সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, ‘এমন পররাষ্ট্রনীতি চাই না, যা আমাদের শহীদ নেতার রক্তকে অপমান করার সুযোগ দেয়। কোনো ধরনের শক্তিশালী জবাব ছাড়াই শত্রুরা পার পেয়ে যাবে—এ হতে পারে না।’
সমাবেশে উপস্থিত ৪২ বছর বয়সী নার্স জিবা নাদেরি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি প্রতিশোধের ডাক শুনেছি। তবে আমাদের নতুন নেতা আমাদের যা নির্দেশ দেন, আমরা তাই করব।’
জানাজার নামাজের আগে ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে কবি মোহাম্মদ রাসুলি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনো কেন বেঁচে আছে?’ তাঁর এই প্রশ্ন শোনার সঙ্গে সাথেই লাখো জনতা চিৎকার করে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দিতে থাকেন। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে দেওয়ালে দেওয়ালে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে অসংখ্য পোস্টার ও গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।
তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম মনে করেন, এই জনসমুদ্রের সুনির্দিষ্ট বার্তা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানিরা আলোচনা বা কোনো সমঝোতা স্মারকের ফাঁদে পা দেবে না। তারা জেগে উঠেছে। তারা জানে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াই কখনো শেষ হওয়ার নয়।’
অধ্যাপক খোশচেশম বলেন, মানুষ জানে যে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হোক বা না হোক, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুতা চলতেই থাকবে। তারা সাইবার হামলা, নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তহত্যা, নাশকতামূলক কার্যক্রম এবং সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে এই সংঘাত জারি রাখবে। তবে জানাজা অনুষ্ঠানে মানুষের এই অভূতপূর্ব উপস্থিতি প্রমাণ করে, জনগণ শেষ পর্যন্ত সরকারের পাশে থাকতে এবং সর্বোচ্চ নেতার লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, লক্ষাধিক মানুষের এই প্রতিশোধের দাবি এমন এক সময়ে আসছে যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়াধীন। এর আগে দুইবার আলোচনার টেবিলে থাকার সময়ই ইরানকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার শিকার হতে হয়েছিল। এই বিশ্বাসঘাতকতা ইরানিদের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে কূটনীতির পথ মোটেও সহজ হবে না।
আল জাজিরার আরেক প্রতিনিধি মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ জানান, যদিও এই জাতীয় শোকের মুহূর্তে মানুষের ঐক্যের আড়ালে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দলের মতো বিষয়গুলো ঢাকা পড়েছে, কিন্তু এই ঐক্য দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। ইরানে বহু রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শ রয়েছে। তবে সোমবারের মূল জানাজায় বিশ্বকে নিজেদের অখণ্ডতার বার্তা দিতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে এসে শোক নয়, বরং প্রতিশোধের হুংকার দিয়েছেন লাখো ইরানি।
রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের সবচেয়ে বড় মসজিদ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনিকে শ্রদ্ধা জানানোর দ্বিতীয় দিনে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। গতকাল শনিবারের তুলনায় আজ উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি।
কালো পোশাক পরিহিত শোকার্ত মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং প্রতিশোধের প্রতীক ‘লাল পতাকা’। সাধারণত মৃত্যুর শোক বোঝাতে কালো পতাকার ব্যবহার করা হলেও, আজকের সমাবেশে চারদিকে শুধুই লাল পতাকার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো সমাবেশজুড়ে সমস্বরে স্লোগান উঠছিল— ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক, ইসরায়েল ধ্বংস হোক।’
মসজিদের দেওয়ালে ঝুলছে সাদা ব্যানার, যাতে লেখা— ‘বিশ্ব জেনে রাখুক, প্রতিশোধ অনিবার্য।’
সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ ইরানিদের মধ্যে দুঃখের চেয়ে ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন ছিল প্রবল। একটি মুদি দোকানের ২৯ বছর বয়সী কর্মী গোলামরেজা সাবুনি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি চিৎকার করতে এবং প্রতিশোধের দাবি জানাতে। তারা আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে, আমাদেরও উচিত তাদের নেতা ট্রাম্পকে হত্যা করা।’
আরেক শোকার্ত ইরানি নাগরিক মোহাম্মদ রেজা শরিফি সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, ‘এমন পররাষ্ট্রনীতি চাই না, যা আমাদের শহীদ নেতার রক্তকে অপমান করার সুযোগ দেয়। কোনো ধরনের শক্তিশালী জবাব ছাড়াই শত্রুরা পার পেয়ে যাবে—এ হতে পারে না।’
সমাবেশে উপস্থিত ৪২ বছর বয়সী নার্স জিবা নাদেরি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি প্রতিশোধের ডাক শুনেছি। তবে আমাদের নতুন নেতা আমাদের যা নির্দেশ দেন, আমরা তাই করব।’
জানাজার নামাজের আগে ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে কবি মোহাম্মদ রাসুলি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনো কেন বেঁচে আছে?’ তাঁর এই প্রশ্ন শোনার সঙ্গে সাথেই লাখো জনতা চিৎকার করে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দিতে থাকেন। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে দেওয়ালে দেওয়ালে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে অসংখ্য পোস্টার ও গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।
তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম মনে করেন, এই জনসমুদ্রের সুনির্দিষ্ট বার্তা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানিরা আলোচনা বা কোনো সমঝোতা স্মারকের ফাঁদে পা দেবে না। তারা জেগে উঠেছে। তারা জানে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াই কখনো শেষ হওয়ার নয়।’
অধ্যাপক খোশচেশম বলেন, মানুষ জানে যে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হোক বা না হোক, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুতা চলতেই থাকবে। তারা সাইবার হামলা, নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তহত্যা, নাশকতামূলক কার্যক্রম এবং সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে এই সংঘাত জারি রাখবে। তবে জানাজা অনুষ্ঠানে মানুষের এই অভূতপূর্ব উপস্থিতি প্রমাণ করে, জনগণ শেষ পর্যন্ত সরকারের পাশে থাকতে এবং সর্বোচ্চ নেতার লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, লক্ষাধিক মানুষের এই প্রতিশোধের দাবি এমন এক সময়ে আসছে যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়াধীন। এর আগে দুইবার আলোচনার টেবিলে থাকার সময়ই ইরানকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার শিকার হতে হয়েছিল। এই বিশ্বাসঘাতকতা ইরানিদের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে কূটনীতির পথ মোটেও সহজ হবে না।
আল জাজিরার আরেক প্রতিনিধি মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ জানান, যদিও এই জাতীয় শোকের মুহূর্তে মানুষের ঐক্যের আড়ালে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দলের মতো বিষয়গুলো ঢাকা পড়েছে, কিন্তু এই ঐক্য দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। ইরানে বহু রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শ রয়েছে। তবে সোমবারের মূল জানাজায় বিশ্বকে নিজেদের অখণ্ডতার বার্তা দিতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
.png)

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদেইদাহ প্রদেশে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ সরকারি সেনা নিহত ও আরও ২৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্য ওয়ালিদ আল-কুদাইমি দাবি করেছেন, এই লড়াইয়ে ৫০ জনেরও বেশি হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার এসব আয়াতের প্রতিটিই ছিল ইঙ্গিতপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, একেক আয়াতের মাধ্যমে মঞ্চে থাকা দেশ বা সংগঠনের মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরান ও মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে কে, কী করেছে, তা ফুটে উঠেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
আতশবাজি, বিমান মহড়া এবং তীব্র তাপদাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দাবি করা আতশবাজির প্রদর্শনী হয়।
৯ ঘণ্টা আগে
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (৫ জুলাই) সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় খামেনির তিন ছেলে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইরানের প্রশাসনিক, সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।
১০ ঘণ্টা আগে