খামেনির জানাজায় লাখো মানুষ, ছিলেন ৩ ছেলে ও শীর্ষ নেতারা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৩: ৩৫
ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি : আইআরএনএ

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (৫ জুলাই) সকালে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এই জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন।

জানাজায় খামেনির তিন ছেলে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইরানের প্রশাসনিক, সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা। তবে আরেক ছেলে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি নিরাপত্তা শঙ্কায় জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজা উপলক্ষে আজ পুরো ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে সকাল থেকেই জানাজাস্থলে লাখো মানুষের ঢল নামে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় যোগ দিতে আসা মানুষের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করে তেহরান মেট্রো কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার বিকেল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত রেকর্ড ৭০ লাখের বেশি মানুষ মেট্রো ব্যবহার করে মোসাল্লায় পৌঁছেছেন।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই। এ ছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদি এবং কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানিও শরিক হন।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেন তাঁর তিন ছেলে—মাসউদ খামেনি, মেসাম খামেনি ও মোস্তফা খামেনি।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আলী খামেনির কফিনের পাশাপাশি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের অন্য চার সদস্যের কফিনও রাখা হয়। এর মধ্যে খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনি জোহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির ছোট কফিনটি সবাইকে আবেগাপ্লুত করে। ওই হামলায় জোহরা ও তার মা বুশরা খামেনি (খামেনির মেয়ে) দুজনেই নিহত হয়। জানাজায় জোহরার বাবা মোহাম্মদ জাভাদ মোহাম্মদী গোলপায়েগানিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগান দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ পদে আসীন হন আয়াতুল্লাহ খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই পদেই ছিলেন ৮৬ বছরের এই নেতা।

আজ সন্ধ্যায় প্রয়াত নেতার মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে স্থানান্তর করা হবে। সাত দিনের রাষ্ট্রীয় দাফন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকমিছিল হবে। এরপর মঙ্গলবার খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে ধর্মীয় শহর কোম নগরীতে।

বুধবার কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে; সেখান থেকে শোকযাত্রা হবে নাজাফ ও কারবালা শহরে। সবশেষে মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে এনে আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মশহর মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে দাফন করা হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত