জঙ্গল সলিমপুরে ২ ঘণ্টার অভিযানে শূন্য হাতে ফিরল যৌথবাহিনী
স্ট্রিম সংবাদদাতাচট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে শূন্য হাতে ফিরেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার পর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা এই অভিযান চালায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এসআরবি (সাবেক র্যাব) ও পুলিশ। তিনটি দলে ভাগ হয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে প্রকাশ্যে থাকা প্রথম ও দ্বিতীয় সারির পরিচিত সন্ত্রাসীদের কাউকে পাওয়া যায়নি জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, তাদের অনেকে আগে থেকেই আশপাশে পলাতক রয়েছে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ সারিতে থাকা এবং গোপনে কার্যক্রম চালানো ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলছে।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘যারা আগে শীর্ষ পর্যায়ে ছিল, তাদের পরের সারিতে যারা আছে, তারা নতুন করে গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু গড়ে ওঠার সুযোগ আমরা দেব না, দেওয়ার সুযোগও নেই। যখনই গড়ে উঠতে চাইবে, অঙ্কুরেই বিনষ্ট— যেটা বলে, আমরা সেখানেই কেটে দেব।’
অভিযান শেষে এসপি মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুর বড় ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে এখানে অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসপি মাসুদ বলেন, ‘আজকে একটা মহড়া দেওয়া হলো। তাদের কাছে একটা বার্তা দেওয়া হলো— যদি কেউ এখানে অপরাধ করার চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। প্রয়োজনে আমরা অলআউট অ্যাকশনে যাব।’
অভিযানের সময় এলাকার অনেক বাড়িতে নারী ও শিশুদের পাওয়া গেলেও পুরুষ সদস্যদের উপস্থিতি কম ছিল বলে জানান এসপি। বিষয়টি আতঙ্কের কারণেও হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। তবে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কেউ বিদেশে বা দেশের অন্যত্র অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ বা হয়রানি করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়নি বলেও জানান পুলিশ সুপার। এসপি বলেন, ‘এরকম কোনো সুযোগ নেই এবং আমরা এটা করতেও চাই না। তারা তাদের মতো সুন্দর করে থাকবে। বরং তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই আমরা এখানে এসেছি।’
অভিযানের পরও ওই এলাকায় পুলিশের তালিকা থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নামসহ পুরোনো কিছু সাইনবোর্ড ও স্থাপনার চিহ্ন রয়ে যাওয়া বিষয়ে এসপি বলেন, ‘এটা ওভারনাইট সবকিছু হবে না। মার্চ মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত হয়তো ছয়-সাত মাসের ঘটনা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখানে তিনটি রাস্তার কাজ করছে। এই তিনটি রাস্তা যখন হয়ে যাবে, তখন আমাদের একেবারে ফুল এক্সেস থাকবে। আমাদের এন্ট্রি-এক্সিট পয়েন্ট বেড়ে যাবে, মুভমেন্ট বাড়বে, ভিজিবিলিটি বাড়বে।’
এর আগে ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এতে সেনাবাহিনী, তৎকালীন র্যাব ও পুলিশসহ সাড়ে ৩ হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে ওই দিন বিকাল ৩টা পর্যন্ত চালানো অভিযানে ১২ জনকে আটক করে। এতে বেশ কয়েকটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. রাসেল।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় তৎকালীন ব্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। একই সময়ে আহত হন তিন র্যাব সদস্য। এ ঘটনায় ২৯ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়। এছাড়া গত ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। র্যা সদস্যদের সঙ্গে ওই সময় প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী গুলি বিনিময়ও হয়।
.png)


-40e58c.jpeg)







