ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সহিংসতা

ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীসহ ২৫ সেটেলারের ওপর ছয় দেশের নিষেধাজ্ঞা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৯: ৩১
গত ২৯শে সেপ্টেম্বর অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর পশ্চিমে অবস্থিত ফিলিস্তিনি গ্রামের বেইত উর আল-ফাউকার কাছে ইসরায়েলিদের জন্য নির্মাণাধীন নতুন রাস্তায় ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করে। ছবি: এএফপি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িত ও সহায়তাকারী নেটওয়ার্কের ওপর সমন্বিতভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) পৃথক বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমাগত সহিংসতার ঘটনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েল কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হতে পারে। খবর আল-জাজিরার।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও উপনিবেশ স্থাপনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তিনি জানান, পশ্চিম তীরে সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ, বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীর তিন নেতা এবং ২১ বসতি স্থাপনকারীর ফ্রান্সে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পরই এর তীব্র সমালোচনা করে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমরস্টেইন এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলি নাগরিক, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ ‘লজ্জাজনক’ এবং তা ইসরায়েল দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

তার দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সহিংসতা প্রতিরোধের আড়ালে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং ইহুদিদের বসতি স্থাপনের অধিকার নিয়ে একটি রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য দেশটির নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করেছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার পার্লামেন্টে বলেন, নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব অবৈধ বসতিতে কোনো আর্থিক কার্যক্রমে জড়ানো উচিত নয়।

তিনি বলেন, সহিংস বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো যেন ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে দখল করা জমি থেকে লাভবান হতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার নিন্দা করলেও জবাবদিহির ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলের প্রতি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দমন, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানায়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে নতুন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানালেও এটি যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে।

সংস্থাটির সংকট–প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপক ক্রিস্টিয়ান বেনেডিক্ট বলেন, বসতি স্থাপন এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা যদি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে কেবল অর্থায়নকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয়। তার মতে, এই নীতির জন্য দায়ী শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, মন্ত্রী ওরিত স্ট্রক, ইসরায়েল কাটজ এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইড বলেছে, অবৈধ বসতিগুলোতে ব্যবসা না করার জন্য কেবল পরামর্শ দেওয়া যথেষ্ট নয়। ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা উচিত।

ইসরায়েল বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে যে তাদের সেনারা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার সময় বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা দেয়। দেশটির দাবি, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন। এসব ঘটনা সামরিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং এগুলোর তদন্ত করা হয়।

তবে জাতিসংঘের এক তদন্তে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সরাসরি জড়িত ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনী হামলাকারীদের সুরক্ষা দিয়েছে।

লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে এবং কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্সও বাতিল করেছে। ফ্রান্সের মতো যুক্তরাজ্যও কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

সম্পর্কিত