
ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে বিষাদ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা।
ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর আনন্দের দিন হলেও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকা যেমন—শেবা, কাফারহামাম এবং মারজ আল-জুহুর গ্রামের মানুষদের ছিল না কোনো পারিবারিক মিলনমেলা বা আনন্দের কোলাহল।
উল্টো গোলার শব্দ আর ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় স্কুলগুলোতে গড়ে ওঠা জরুরি অস্থায়ী শিবিরে।
মারজ আল-জুহুরের শরণার্থী শিবিরে থাকা ৩৪ বছর বয়সী নাসরিন আব্দুল আল জানান, মারজায়ুন জেলার আইন আরব গ্রাম থেকে তিনবার বাস্তুচ্যুত হয়ে পরিবারসহ এই স্কুলের একটি ক্লাসরুমে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘কারও মনেই ঈদের আনন্দ নেই। এমনকি শিশুরাও ঈদের আমেজ ও পরিবেশ চিনতে পারছে না।’
বারবার বাস্তুচ্যুতির কারণে শিশুদের মনে মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত তৈরি হচ্ছে। চাষিরা তাঁদের ফসল ও জীবিকা হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
তবে হামলার মুখেও নিজ মাতৃভূমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কাফারহামামের ৬০ বছর বয়সী প্রবীণ নারী উম্মে নজিব ফারেস। তিনি বলেন, ‘রাতের বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ সত্ত্বেও আমরা ঘরেই আছি। প্রতিনিয়ত বিস্ফোরণ আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে।’
উৎসবের দিনগুলোতে যেখানে ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের কোলাহল থাকার কথা, সেখানে আজ কেবল শূন্যতা। কাফারহামামের মেয়র মুয়াদ রাহাল বলেন, ‘এই ঈদ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পরিবার ও স্বজনদের পুনরমিলনের বড় সামাজিক মাধ্যম। কিন্তু সহিংসতার ভয়ে ধর্মীয় ছুটির দিনেও অনেক পরিবার বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছে না।’
এমন পরিবেশেও শেবা এলাকার ৮৩ বছর বয়সী রাসমিয়া জোগবি ঐতিহ্যবাহী ঈদের পিঠা তৈরি করে সংস্কৃতির শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন খোদার কাছে দোয়া করেছি, যেন সবাই আবার নিজেদের ঘরে ফিরতে পারে।’
গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ৯ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ১ দশমিক ৬ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।
গত ১৭ এপ্রিল আমেরিকার মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রতিদিন লেবানন সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
.png)
-028855-256x144.webp)





