মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলো যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পারে: মেদভেদেভ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১: ০৯
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলোর জন্য একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ার আলোচনা করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তাঁর ভাষ্য, কয়েক বছর আগে ইরান এমন একটি প্রস্তাবে দিয়েছিল। এর ভিত্তিতে রাশিয়া, চীনসহ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠন করতে পারে।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন আয়োজনের ফাঁকে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে এ বৈঠক করেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে মস্কোর পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে এই সফরে গেছেন মেদভেদেভ।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মেদভেদেভ বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব দেশটির জন্য ‘পারমাণবিক অস্ত্রের’ মতো কৌশলগত শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাই ইরানের বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে ইরান বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি, পরিস্থিতি সেখানে গড়াবে না। তবে এ অঞ্চলে সংঘাত চায়, এমন সব দেশের বিষয়টি মনে রাখা উচিত।

সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলারও সমালোচনা করেন মেদভেদেভ। তিনি হামলাকে ‘সম্পূর্ণ অকারণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি ছিল না।

মেদভেদেভের ভাষ্য, ওই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের শান্তিপূর্ণ সমাধানে রাশিয়া আগে থেকেই একটি প্রস্তাব দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে মেদভেদেভ বলেন, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনা ভালো। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের পুনর্গঠনে অর্থায়নের মতো বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এর পর প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে টানা যুদ্ধ চলে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। পরে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

সূত্র: আনাদোলু, মিডল ইস্ট মনিটর ও ইয়েমেনের সংবাদ সংস্থা সাবা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত