বিধানসভা নির্বাচন
কাজী নিশাত তাবাসসুম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে চলছে জোর প্রস্তুতি। একদিকে নির্বাচন কমিশন যেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে, কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তেমনই রাজনৈতিক দলগুলোও প্রার্থী চূড়ান্ত করে নেমে পড়েছে প্রচারে। এই নির্বাচন কারও কাছে ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই, কারও কাছে ‘কুরসি’ দখলের, আবার কারো কাছে ‘অস্তিত্ব রক্ষার’। কে জিতবে আর কে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই।
যারা রাজনীতি নিয়ে চর্চা করেন তাদের প্রায়শই বলতে শোনা যায়, ভোটের অঙ্কে উত্তর মেলানো সব সময় সহজ নয়। কারণ নির্বাচন কখনো ইস্যুভিত্তিক, কখনো প্রার্থী-নির্ভর আবার কখনোবা একেবারে অন্য সমীকরণ কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁরা হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল কংগ্রেস), শুভেন্দু অধিকারী (বিজেপি) ও শ্রীজীব বিশ্বাস (সিপিআইএম)।
ভারতের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা এই নেত্রী শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানই নন, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন এবং এরপর টানা ক্ষমতায় আছেন।
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গের বিধান নির্বাচনেও তিনি আবার প্রার্থী হচ্ছেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আসন ভবানীপুর থেকে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু একটি সাধারণ নির্বাচন নয় বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের আরেকটি পরীক্ষা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতার উত্থান মূলত বামফ্রন্টবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। তিনি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। এরপর ধীরে ধীরে দলটি বামফ্রন্টের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।
২০০০ সালে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ঐতিহাসিক জয় পায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হন।
এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালেও তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন। এই ধারাবাহিক সাফল্য তাঁকে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী আঞ্চলিক নেত্রীতে পরিণত করেছে।
ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশুতোষ ভার্শনে মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো তৃণমূল আন্দোলন। তিনি বলেন, ‘ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষত্ব হলো তিনি আন্দোলনকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পেরেছেন। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মতো আন্দোলন তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে সংগ্রামী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, একজন নারী হয়েও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পেছনে কয়েকটি বিশেষ কারণ রয়েছে। যেমন— জনমুখী রাজনীতি, সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি, শক্তিশালী সংগঠন ও ব্যক্তিগত ইমেজ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে সাধারণ মানুষের নেত্রী হিসেবে তুলে ধরতে সফল হয়েছেন। সাধারণ পোশাক, সরল জীবনযাপন এবং সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। এছাড়া সরকারের নানা প্রকল্প যেমন ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘স্বাস্থ্য সাথী’ গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন তৈরি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। ফলে নির্বাচনে দলটি স্থায়ী ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পেরেছে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় উঠে এসেছে, রাজনৈতিক সমালোচনার মাঝেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সরল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসাম্প্রদায়িক ও সাধারণ মানুষের নেত্রী। যার ফলাফল পাওয়া যায় বিগত নির্বাচনগুলোতে। তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের নেপথ্যে যে মুসলমান ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে তা মনে করেন অনেকেই। এই কারণগুলোই আসন্ন ভোটেও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকেরা।
ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্থান টাইমস বলছে, কলকাতার দক্ষিণাংশে অবস্থিত ভবানীপুর আসনকে অনেকেই মমতার রাজনৈতিক ঘাঁটি বলে মনে করেন। তিনি এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে পরাজিত হলেও পরে ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার বিধানসভায় প্রবেশ করেন।
বর্তমানে তিনি এই আসনের বর্তমান বিধায়ক এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনেও এখান থেকেই প্রার্থী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবানীপুর থেকে তাঁর চতুর্থ নির্বাচনী লড়াই।
২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর আসনটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। কারণ এখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী; যিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। এই লড়াইকে অনেকেই ‘হাই-ভোল্টেজ’ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু একটি আসনের লড়াই নয়; বরং পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মর্যাদার লড়াই।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী কম ‘দিদি’ হিসেবে বেশি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর এই ইমেজ সাধারণ মানুষের সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করেছে। তবে বিরোধী দল অভিযোগ করে আসছে, রাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রশাসনিক পক্ষপাত রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে, তাদের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচিই তাদের জনপ্রিয়তার মূল কারণ।
এবারের নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জয়ী হন, তবে তিনি টানা চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে এগোবেন, যা ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। আর যদি ভবানীপুরে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, তাহলে তা শুধু একটি আসনের ফলাফলই নয়; বরং রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে চলছে জোর প্রস্তুতি। একদিকে নির্বাচন কমিশন যেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে, কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তেমনই রাজনৈতিক দলগুলোও প্রার্থী চূড়ান্ত করে নেমে পড়েছে প্রচারে। এই নির্বাচন কারও কাছে ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই, কারও কাছে ‘কুরসি’ দখলের, আবার কারো কাছে ‘অস্তিত্ব রক্ষার’। কে জিতবে আর কে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই।
যারা রাজনীতি নিয়ে চর্চা করেন তাদের প্রায়শই বলতে শোনা যায়, ভোটের অঙ্কে উত্তর মেলানো সব সময় সহজ নয়। কারণ নির্বাচন কখনো ইস্যুভিত্তিক, কখনো প্রার্থী-নির্ভর আবার কখনোবা একেবারে অন্য সমীকরণ কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁরা হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল কংগ্রেস), শুভেন্দু অধিকারী (বিজেপি) ও শ্রীজীব বিশ্বাস (সিপিআইএম)।
ভারতের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা এই নেত্রী শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানই নন, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন এবং এরপর টানা ক্ষমতায় আছেন।
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গের বিধান নির্বাচনেও তিনি আবার প্রার্থী হচ্ছেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আসন ভবানীপুর থেকে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু একটি সাধারণ নির্বাচন নয় বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের আরেকটি পরীক্ষা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতার উত্থান মূলত বামফ্রন্টবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। তিনি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। এরপর ধীরে ধীরে দলটি বামফ্রন্টের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।
২০০০ সালে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ঐতিহাসিক জয় পায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হন।
এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালেও তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন। এই ধারাবাহিক সাফল্য তাঁকে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী আঞ্চলিক নেত্রীতে পরিণত করেছে।
ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশুতোষ ভার্শনে মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো তৃণমূল আন্দোলন। তিনি বলেন, ‘ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষত্ব হলো তিনি আন্দোলনকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পেরেছেন। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মতো আন্দোলন তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে সংগ্রামী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, একজন নারী হয়েও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পেছনে কয়েকটি বিশেষ কারণ রয়েছে। যেমন— জনমুখী রাজনীতি, সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি, শক্তিশালী সংগঠন ও ব্যক্তিগত ইমেজ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে সাধারণ মানুষের নেত্রী হিসেবে তুলে ধরতে সফল হয়েছেন। সাধারণ পোশাক, সরল জীবনযাপন এবং সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। এছাড়া সরকারের নানা প্রকল্প যেমন ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘স্বাস্থ্য সাথী’ গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন তৈরি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। ফলে নির্বাচনে দলটি স্থায়ী ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পেরেছে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় উঠে এসেছে, রাজনৈতিক সমালোচনার মাঝেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সরল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসাম্প্রদায়িক ও সাধারণ মানুষের নেত্রী। যার ফলাফল পাওয়া যায় বিগত নির্বাচনগুলোতে। তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের নেপথ্যে যে মুসলমান ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে তা মনে করেন অনেকেই। এই কারণগুলোই আসন্ন ভোটেও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকেরা।
ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্থান টাইমস বলছে, কলকাতার দক্ষিণাংশে অবস্থিত ভবানীপুর আসনকে অনেকেই মমতার রাজনৈতিক ঘাঁটি বলে মনে করেন। তিনি এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে পরাজিত হলেও পরে ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার বিধানসভায় প্রবেশ করেন।
বর্তমানে তিনি এই আসনের বর্তমান বিধায়ক এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনেও এখান থেকেই প্রার্থী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবানীপুর থেকে তাঁর চতুর্থ নির্বাচনী লড়াই।
২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর আসনটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। কারণ এখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী; যিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। এই লড়াইকে অনেকেই ‘হাই-ভোল্টেজ’ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু একটি আসনের লড়াই নয়; বরং পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মর্যাদার লড়াই।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী কম ‘দিদি’ হিসেবে বেশি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর এই ইমেজ সাধারণ মানুষের সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করেছে। তবে বিরোধী দল অভিযোগ করে আসছে, রাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রশাসনিক পক্ষপাত রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে, তাদের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচিই তাদের জনপ্রিয়তার মূল কারণ।
এবারের নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জয়ী হন, তবে তিনি টানা চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে এগোবেন, যা ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। আর যদি ভবানীপুরে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, তাহলে তা শুধু একটি আসনের ফলাফলই নয়; বরং রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি কনটেইনার জাহাজে ইরানের গানবোট থেকে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক সংস্থা মেরিটাইম ট্রাফিক অর্গানাইজেশন (ইউকেএমটিও)। বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে। খবর সিএনএনের।
১ ঘণ্টা আগে
আঞ্চলিক হামলা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘটনায় ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এছাড়াও এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ইরানকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করার কথাও বলেছেন তাঁরা। খবর তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির।
২ ঘণ্টা আগে
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্লেজ-হ্যামার দিয়ে যিশুর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনাকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের যুদ্ধক্ষেত্রের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। খবর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
৫ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং সামরিক প্রস্তুতি বহাল থাকবে।
৬ ঘণ্টা আগে