আবু সাঈদ হত্যা

দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন তিনজনের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও অবলম্বনে প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন– বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন– সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তাঁরা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন। আর যাবজ্জীবন পাওয়া তিনজন হলেন– সাবেক পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। এ মামলায় মোট ৩০ আসামি ছিলেন। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই মামলার মোট ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার ছয়জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রায় শুনতে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরাও।

ট্রাইব্যুনালে ৬ আসামি

সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন– বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকের পাশাপাশি পটভূমির সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ ছাড়া প্রমাণ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন।

আবু সাঈদের মামলার ৩০ আসামির মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ২৪ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন– রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন, আর পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের।

সম্পর্কিত