রয়টার্সের প্রতিবেদন

হুতিদের কাছে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ২২: ০১
ইরানপন্থী এক হুতি অনুসারী। ছবি: রয়টার্স

ইরান চলতি জুলাইয়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কাছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র। লোহিত সাগরে হুতিদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন ইরানি কর্মকর্তা, ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী এবং একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

তাঁদের ভাষ্য, ১৩ জুলাই তেহরান থেকে ইয়েমেনগামী মাহান এয়ারের একটি ফ্লাইটে আইআরজিসির সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়। এর আগে এ তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

দুই ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানান, ওই ফ্লাইটে ১০ থেকে ২১ জন আইআরজিসি সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারও ছিলেন।

বিমানটি প্রথমে হুতি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় যাওয়ার কথা ছিল। তবে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের হামলায় সানা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিমানটি হুতি–নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী হোদেইদায় অবতরণ করে।

একটি সূত্রের দাবি, আইআরজিসির সদস্যরা হুতিদের সামরিক অভিযানে সহায়তা করতে ইয়েমেনে যান। নতুন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দিতেও তাঁরা সেখানে যান।

একই সঙ্গে হুতিদের কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য স্বর্ণ পাঠানো হয় বলেও সূত্রটি জানায়। নিরাপত্তার কারণে দুই ইরানি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, এই ঘটনাকে হুতিদের প্রতি ইরানের সমর্থন জোরদারের নতুন প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে হুতিরা। এর আগে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও হামলা চালিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

সংগঠনটির গণমাধ্যম কর্মকর্তা আবদেল রহমান আল-আহনোমি নিজেকে ওই ফ্লাইটের যাত্রী বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ইরান সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে—এমন দাবি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’। তাঁর ভাষ্য, বিমানের সব যাত্রীই ছিলেন বেসামরিক।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বরাবরের মতো হুথিদের অস্ত্র দিয়ে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন উত্তেজনা

ফ্লাইটটি ইয়েমেনে পৌঁছানোর তিন দিন পর ইরান জানায়, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন হামলা হলে বাব-আল-মান্দেব বন্ধ করে দিবে হুতিরা।

এরপর সোমবার হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়।

তাদের দাবি, ১৩ জুলাই সানা বিমানবন্দরে সৌদি আরব হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলার দাবি করে তারা।

এতে রিয়াদ ও হুতিদের মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

সৌদি–সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি রয়টার্সকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আইআরজিসির সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনে পৌঁছেছে।

তাঁর দাবি, এর উদ্দেশ্য ছিল হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ পরিবহনে হুমকি তৈরি করা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মজাহেম আলসালৌমও একই দাবি করেছেন। তিনি জানান, ওই ফ্লাইটে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ছিল।

তিনি দাবি করেন, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময়ও ইরান সোমালিয়ার মাধ্যমে ইয়েমেনে সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছিল। যদিও তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।

এদিকে হুতিরা এ মাসের শুরুতে সানা ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয়।

তাঁদের দাবি, এর মাধ্যমে ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের আরোপিত অবরোধের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ২০ জুলাই বলেন, ১৩ জুলাইয়ের ফ্লাইটটির উদ্দেশ্য ছিল তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া। একইসঙ্গে ইরানে চিকিৎসা নেওয়া ইয়েমেনি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা।

সূত্রগুলোর দাবি, ফেরার পথে ওই ফ্লাইটেই আইআরজিসির কমান্ডার ও সামরিক উপদেষ্টাদেরও ইয়েমেনে নেওয়া হয়।

তবে সানায় অবতরণের আগেই বিমানবন্দরে হামলা হয়। ফলে বিমানটি হোদেইদায় যেতে বাধ্য হয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত