আলোচনায় অগ্রগতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির ভাগ্য ঝুলছে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা কাটছে না। এই শোনা যাচ্ছে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে তো পরের ঘণ্টাতেই প্রতিবেদন আসছে, বিশাল মতবিরোধ রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। খবর আল-জাজিরার।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ প্রস্তাবগুলো তারা এখনও পর্যালোচনা করছে। এরপর পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তারা জবাব পাঠাবে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি গত তিন দিন ধরেই তেহরানে অবস্থান করছেন এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত দৃষ্টিগ্রাহ্য উন্নতি হয়নি। এর মধ্যে গতকাল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান যাওয়ার কথা থাকলেও যাননি।

অনেকেই মনে করছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হলেই কেবল মুনির তেহরানে যাবেন। এটি হবে দেশটিতে তাঁর দ্বিতীয় সফর।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা মূল আটকে আছে গুটি কয়েক মূল শর্তের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায়। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজের নিয়ন্ত্রণ– আলোচনা চলছে মূলত এই তিন বিষয়ে।

ইরানিরা বলছে, প্রথম ধাপে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি ধাপে ধাপে করতে হবে এবং তা সম্পূর্ণভাবে আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

এ ছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বিস্তার করতে চাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক দেশগুলো এর বিরুদ্ধে। কারণ, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরু এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি জ্বালানি পরিবাহিত হয়।

পাশাপাশি তেহরানের কেন্দ্র ছাড়া বাকি সব পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিতে ইরানকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইরানের ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতেও বলা হয়েছে, অবশ্য ইরানিরা এতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জব্দ বা ফ্রিজ করা সম্পদ নিয়েও চলছে দ্বন্দ্ব। ইরান এমন সব সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর একটা নির্দিষ্ট অংশ নিজের কাছে রেখে দিতে চায়।

সম্পর্কিত