টানা চতুর্থ দিন বাড়ল তেলের দাম, বিশ্ববাজারে শঙ্কা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০: ০১
জ্বালানি তেল। ছবি : সংগৃহীত

নতুন করে তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত। এতে আবারও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের ওপরে ছিল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উভয় সূচকই গত এক মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান স্পর্শ করেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই), ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর আগে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করা হয়। জবাবে, তেহরান এ পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানির বিকল্প পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালি এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক উত্তেজনায় লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে।

নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা তেল কেনার দিকে ঝুঁকছেন। যদিও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে পরিস্থিতির অবনতির ওপর নির্ভর করে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৮৭ ডলারে উঠতে পারে।’

বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিতে চলমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়াতে পারে। তবে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে উৎপাদন দ্রুত স্বাভাবিক হলে বছরের শেষ দিকে বেন্ট ক্রুডের দাম আবার ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলারের ঘরে নেমে আসতে পারে।

এদিকে, তেলের দাম বাড়ায় জ্বালানিনির্ভর কোম্পানিগুলোর ব্যয়ও বেড়েছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, চলতি বছরে তাদের জ্বালানি ব্যয় প্রাক্কলিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৬০০ কোটি ডলার বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইআইএ’র তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। বিশ্লেষকেরা, গত সপ্তাহে ২৬ লাখ ব্যারেল মজুত কমবে বলে সতর্ক করেছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত