ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন
স্ট্রিম ডেস্ক

ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে একসময় পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একপ্রকার একঘরে করে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
যুদ্ধরত দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাতে ইতিমধ্যে ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মেও শেয়ার করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের গোপন চ্যানেলের মাধ্যমেই আমেরিকার ১৫-দফার শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে পাকিস্তানকে ‘অসৎ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।’ সেই পাকিস্তান কীভাবে আবার হোয়াইট হাউসের এত আস্থা অর্জন করল, তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। তিনি সুকৌশলে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং খনিজ সম্পদ চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। ট্রাম্প এমনকি তাঁকে পাকিস্তানের ‘সেরা ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবেও প্রশংসা করেছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে কাবুল বিমানবন্দরে বোমা হামলার পেছনের মূল অপরাধী খুঁজে বের করার শর্ত দেয় পাকিস্তানকে। পাকিস্তান সেই শর্ত পূরণ করলে ট্রাম্প কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে তাদের প্রশংসা করেন। এরপর পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সংঘাতে যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দেয় পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতেন, পাকিস্তান তাঁকে সেই পুরস্কারের জন্যও মনোনীত করে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি বলেন, ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই পাকিস্তান তাঁকে দুটি বড় রাজনৈতিক বিজয় উপহার দিয়েছে।’
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কও গড়ে তুলেছে পাকিস্তান। ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ভেঞ্চার ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’-এর সিইও জ্যাচ উইটকফ (স্টিভ উইটকফের ছেলে) গত বছর পাকিস্তানে গেলে তাঁকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মতো বরণ করা হয়। প্রথম বিদেশি রাষ্ট্র হিসেবে এই কোম্পানির সঙ্গে পাকিস্তান চুক্তিও স্বাক্ষর করে। এছাড়া নিউ ইয়র্কে পাকিস্তানের মালিকানাধীন লোকসানি রুজভেল্ট হোটেলের পুনর্নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, সেখানে তারা পাকিস্তানের ২০টি জাহাজ পারাপারের অনুমতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে ন্যাটোর আদলে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান মূলত সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করছে। চুক্তি হোক বা না হোক, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ একটি ‘উইন-উইন’ বা উভয় সংকুলান পরিস্থিতি। আগে তাদের যে একঘরে ভাবমূর্তি ছিল, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।’
ওমানে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ইমরান আলী বলেন, ‘পাকিস্তানকে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে অত্যন্ত জটিল একটি ‘কূটনৈতিক নৃত্য’ (ডিপ্লোম্যাটিক ড্যান্স) চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’
রোববার (২৯ মার্চ) ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পাকিস্তানের বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তুতি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তান হয়তো সরাসরি এই জটিল আলোচনায় জড়াতে চাইবে না, বরং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময় তারা যেমন পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছিল, এবারও তারা সেই ‘ব্যাক চ্যানেল’ ভূমিকাই পালন করতে বেশি আগ্রহী।

ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে একসময় পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একপ্রকার একঘরে করে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
যুদ্ধরত দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাতে ইতিমধ্যে ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মেও শেয়ার করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের গোপন চ্যানেলের মাধ্যমেই আমেরিকার ১৫-দফার শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে পাকিস্তানকে ‘অসৎ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।’ সেই পাকিস্তান কীভাবে আবার হোয়াইট হাউসের এত আস্থা অর্জন করল, তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। তিনি সুকৌশলে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং খনিজ সম্পদ চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। ট্রাম্প এমনকি তাঁকে পাকিস্তানের ‘সেরা ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবেও প্রশংসা করেছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে কাবুল বিমানবন্দরে বোমা হামলার পেছনের মূল অপরাধী খুঁজে বের করার শর্ত দেয় পাকিস্তানকে। পাকিস্তান সেই শর্ত পূরণ করলে ট্রাম্প কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে তাদের প্রশংসা করেন। এরপর পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সংঘাতে যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দেয় পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতেন, পাকিস্তান তাঁকে সেই পুরস্কারের জন্যও মনোনীত করে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি বলেন, ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই পাকিস্তান তাঁকে দুটি বড় রাজনৈতিক বিজয় উপহার দিয়েছে।’
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কও গড়ে তুলেছে পাকিস্তান। ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ভেঞ্চার ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’-এর সিইও জ্যাচ উইটকফ (স্টিভ উইটকফের ছেলে) গত বছর পাকিস্তানে গেলে তাঁকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মতো বরণ করা হয়। প্রথম বিদেশি রাষ্ট্র হিসেবে এই কোম্পানির সঙ্গে পাকিস্তান চুক্তিও স্বাক্ষর করে। এছাড়া নিউ ইয়র্কে পাকিস্তানের মালিকানাধীন লোকসানি রুজভেল্ট হোটেলের পুনর্নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, সেখানে তারা পাকিস্তানের ২০টি জাহাজ পারাপারের অনুমতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে ন্যাটোর আদলে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান মূলত সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করছে। চুক্তি হোক বা না হোক, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ একটি ‘উইন-উইন’ বা উভয় সংকুলান পরিস্থিতি। আগে তাদের যে একঘরে ভাবমূর্তি ছিল, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।’
ওমানে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ইমরান আলী বলেন, ‘পাকিস্তানকে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে অত্যন্ত জটিল একটি ‘কূটনৈতিক নৃত্য’ (ডিপ্লোম্যাটিক ড্যান্স) চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’
রোববার (২৯ মার্চ) ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পাকিস্তানের বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তুতি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তান হয়তো সরাসরি এই জটিল আলোচনায় জড়াতে চাইবে না, বরং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময় তারা যেমন পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছিল, এবারও তারা সেই ‘ব্যাক চ্যানেল’ ভূমিকাই পালন করতে বেশি আগ্রহী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই সময়ে দেশটির অন্তত ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
২ মিনিট আগে
আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ, বজ্রপাত, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও গোপনে ইরানের মাটিতে অভিযানের চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
৩ ঘণ্টা আগে
নেপালের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট সকল ছাত্র সংগঠন বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে গৃহীত ১০০ দফার প্রশাসনিক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে