
গণতান্ত্রিক কার্যক্রমের সাতটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। তবে একই সময়ে তিনটি সূচকে অবনতি হয়েছে। সুইডেনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্সের (ইন্টারন্যাশনাল আইডিইএ) ২০২৬ সালের বৈশ্বিক গণতন্ত্র প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
‘দ্য গ্লোবাল স্টেট অব ডেমোক্রেসি ২০২৬: ডেমোক্রেসি ইন অ্যান এজ অব কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করা হয়। এতে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৭৪টি দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিনিধিত্ব, অধিকার, আইনের শাসন ও জনগণের অংশগ্রহণ– চারটি প্রধান বিভাগের সূচকে বিভিন্ন দেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চলতি বছর একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হলেও গণতন্ত্র এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, নির্বাচিত সরকার ও কার্যকর সংসদের ক্ষেত্রে কিছুটা অবনতি হয়েছে। তবে আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সমতা, অনুমানযোগ্য আইন প্রয়োগ, ব্যক্তিগত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং দুর্নীতির অনুপস্থিতি– এই সাতটি গণতান্ত্রিক সূচকে অগ্রগতি হয়েছে।
প্রতিবেদনের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশে এক ধরনের স্থবিরতা জেঁকে বসেছে। আর অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন যা হচ্ছে, তা মূলত অবনতির দিকেই বেশি ঝুঁকে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে মূল্যায়ন করা দেশগুলোর মধ্যে ৯৮টি দেশে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক সূচকে অবনতি হয়েছে। এর বিপরীতে অন্তত একটি সূচকে উন্নতি হয়েছে ৫৫টি দেশে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে। ৪২টি দেশে এই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এরপর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারে অবনতি দেখা গেছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে সরকারের পতন হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। তরুণদের নেতৃত্বে সরকার পতনের পর দেশটির সংসদীয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, যা অতীতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক নবজাগরণের আশা জাগিয়ে তুলেছিল। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। দেশটিতে গণতন্ত্র এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক গণতান্ত্রিক সূচকে পরিবর্তন হয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, নির্বাচিত সরকার ও কার্যকর সংসদের ক্ষেত্রে কিছুটা অবনতি হলেও দুর্নীতি প্রতিরোধ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির বড় অংশ এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রতিবেদনে এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ২০২৪ সালের নির্বাচন এবং ওই একই বছরে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঘটনাপ্রবাহের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, নাগরিক স্বাধীনতা, আইনের শাসনের কিছু উপাদান, আইনের অনুমানযোগ্য প্রয়োগ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গণতান্ত্রিক সূচকে ৫২টি ক্ষেত্রে অবনতি এবং ৪৫টিতে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আফগানিস্তান ও মিয়ানমারকে হিসাব থেকে বাদ দিলে চিত্রটি বদলে যায়। তখন অগ্রগতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪, আর অবনতি ২৯।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে গত পাঁচ বছরে সামাজিক নিরাপত্তা ও জনসাধারণের চলাচলের স্বাধীনতায় অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অবনতির কথা বলা হয়েছে।
পাকিস্তানে সামরিক ও নির্বাহী ক্ষমতার প্রভাব, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং বিচার বিভাগের ওপর প্রভাবের মতো বিষয়গুলো গণতান্ত্রিক ভারসাম্যকে দুর্বল করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
.png)
-40e58c.jpeg)





