leadT1ad

প্রতিবেদন পেশ: নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০০০০, সর্বোচ্চ ১৬০০০০ টাকা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৫১
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন হাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সরকারের ঊর্ধ্বতনরা। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মচারীদের জন্য গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে বর্তমান কাঠামোর ২০টি স্কেলে বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত।

নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগে আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয় বেতন কমিশন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিকেলে কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার, কমিশনের ২৩ পূর্ণকালীন সদস্যের পাশাপাশি খণ্ডকালীন সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কমিশনপ্রধান জানান, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে আরও এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে পুরো মাত্রায় নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে কার্যকর অষ্টম পে-স্কেল অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা বেতন পান। এটি বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করতে সুপারিশ করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন।

প্রতিবেদনে নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে— সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরগুলোতে ভাতা পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে অনধিক দুজনের জন্য ২,০০০ (দুই হাজার) টাকা ভাতা দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত ২০০ টাকা মাসিক টিফিন ভাতা ১ হাজার করা যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির মুখে গত বছরের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে সরকার। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন করা হয়। ছয় মাসের মধ্যে এই কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। সেই হিসাবে কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’

এ সময় কমিশনপ্রধান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বহুগুণ বেড়েছে। সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণ করে বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করেছে।

সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করে এবং ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করে বলেও জানান তিনি।

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যারা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত