জুলাইযোদ্ধাদের ক্ষোভ

খুনিরা ঘুরলেও ‘বৃষ্টির’ কারণে ধরছে না পুলিশ

জুলাইযোদ্ধাদের ক্ষোভ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান। স্ট্রিম গ্রাফিক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও, বৃষ্টি ও গাড়ি নষ্টের অজুহাতে পুলিশ তাদের ধরছে না–ভুক্তভোগীদের এমন অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রকাশ্যে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারে সাত দিনের সময় বেধে দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

উত্তরায় ‘শহীদ মুগ্ধ মঞ্চে’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভুক্তভোগী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের এক গণশুনানিতে পুলিশের বিরুদ্ধে এই গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে ২ আগস্ট উত্তরার আজমপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ডান চোখ হারানো তাহমিদ নামের এক তরুণ অভিযোগ করেন, তাঁকে যিনি গুলি করেছেন, তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাহমিদ বলেন, ‘গুলি করার প্রমাণ এবং ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে রয়েছে। আমাকে যিনি গুলি করেছেন, তিনি উত্তরা ১ নম্বর এলাকার তৎকালীন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খানের দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি। ৫ আগস্টের পর লম্বা সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। তবে সম্প্রতি তাঁকে গাড়ি নিয়ে এলাকায় এবং বোনের বাসায় যাতায়াত করতে দেখা গেছে।’

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, যে ব্যক্তি গুলি করেছে, তাঁকে আমরা চিনে রেখেছি। তিনি এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি। গাড়িতে ঘোরাফেরা করে, টিকটক ও রিলস বানান তিনি। অভিযুক্ত বাসায় আসার পর স্থানীয় থানাকে জানালে তারা বলে– ‘অফিশিয়ালি লেটার পাঠান, ডিসি স্যারকে বলেন’। এসব বলতে বলতে সময় পেরিয়ে যায়। পরে তারা আবার বলে– ‘বৃষ্টি বাড়ছে, গাড়ি নষ্ট। ধরা সম্ভব হচ্ছে না’। এমন নানা অজুহাতের কারণে আসামিরা ধরা পড়ছে না।

গণশুনানিতে আরেক শহীদ পরিবারের সদস্য বলেন, আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে। এতদিন একটু পালিয়ে ছিল, এখন বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। আমরা অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো কাজ করছে না। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

শুনানিতে পেটে গুলিবিদ্ধ ১০ বছর বয়সী এক শিশুও উপস্থিত ছিল। তার বাবা ছেলের ওপর হওয়া এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শোনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধী যদি প্রকাশ্যে থাকে এবং আপনাদের নোটিশে আসে, তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করবেন, তিনি যত বড় শক্তিশালী ব্যক্তি হোন না কেন। এটি আমাদের নির্দেশ। আপনারা যদি ব্যর্থ হন এবং আমাদের যদি লিখতে হয়, তবে আমরা সেটাই করব। অপরাধীর ব্যাপারে আমাদের কোনো আপস নেই।

ভুক্তভোগী তাহমিদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাঁকে এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য আমি পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছি।’ পাশাপাশি প্রতিটি শহীদ ও আহত পরিবারকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় ওসিকে নির্দেশ দেন চিফ প্রসিকিউটর।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত