গাবতলী-নবীনগর

চালকদের খামখেয়ালিতে চার লেন সড়কের সুবিধা অধরা

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ২০: ৫৩
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আড়াআড়ি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক। স্ট্রিম ছবি

সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা। সকাল সাড়ে ৬টা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তখন কর্মস্থলগামীদের ভিড়। এর মধ্যে সড়কের বিরতিহীন লেনে (ঢাকা টু নবীনগর) আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে একটি ট্রাক। এতে কয়েক মিনিটেই তৈরি হয় গাড়ির জট।

কিছুটা এগিয়ে দেখা যায়, ট্রাকচালক ব্যস্ত পেছনের বাসচালকের সঙ্গে ঝগড়ায়। তার জন্য যে পেছনে শতাধিক গাড়ি আটকে গেছে সেদিকে নেই ভ্রুক্ষেপও।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গাবতলী থেকে নবীনগর পর্যন্ত এটি রোজকার ঘটনা। অথচ ভোগান্তি কমাতে কয়েক শ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়ক চার লেনে রূপান্তর করা হয়েছে। উভয় পাশে বিরতিহীন লেনও করা হয়েছে। তবে বিরতিহীন লেনে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ও পণ্য ওঠানো-নামানোয় চার লেন সড়কের সুবিধা মিলছে না। চালকদের খামখেয়ালিতে মহাসড়কে ২৪ ঘণ্টাই পোহাতে হয় যানজটের ভোগান্তি।

সাতসকালে এই বিশৃঙ্খলায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন সাভার, নবীনগর ও ধামরাই থেকে ঢাকায় কর্মস্থলগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বেসরকারি চাকরিজীবী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ভোরের দিকে ট্রাকচালকেরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিয়মকানুনের তোয়াক্কা নেই। মন চাইলেই রাস্তায় গাড়ি আটকে দিল! এদের খুঁটির জোর যে কোথায়!’

স্থানীয়রা জানান, ‘ডাইরেক্ট লেনে’ হুটহাট ব্রেক চেপে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। অথচ এর জন্য পাশে সার্ভিস লেন রয়েছে। কিন্তু বাসচালকেরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। আবার বিরতিহীন লেনে আচমকা ব্রেক করে যাত্রী তোলায় অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে।

কয়েকজনের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চালকেরা রাস্তার ওপর গাড়ি থামানোর পাশাপাশি যত্রতত্র পার্কিংও করেন। অথচ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) সেলিম মাতব্বর বলেন, ‘মহাসড়কের যানজট নিরসনে বাসস্ট্যান্ডের প্রতিনিধি ও কমিউনিটি পুলিশের সমন্বয়ে কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটির মাধ্যমেই যানজট নিরসন করা হবে।’

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ড প্রতিনিধি ও লাইনম্যানেরা চালকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন। ওই টাকা দেওয়ায় চালকেরা আর নিয়ম মানেন না। এটিই যানজটের মূল কারণ। কমিটিতে এদের রেখে নিয়ম মানানো সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সেলিম মাতব্বর বলেন, ‘কমিটির মাধ্যমে যানজট নিরসন সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাইওয়ে পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কে যত্রতত্র গাড়ি থামানো এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালান তারা। তবে চালকদের সচেতনতা এবং আইন মানার প্রবণতা না বাড়লে শুধু জরিমানা করে এই বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা কঠিন।

সম্পর্কিত